আজঃ শুক্রবার ১৩ মার্চ, ২০২৬

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ করছে – পার্বত্য উপদেষ্টা।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত (অবঃ) সুপ্রদীপ চাকমা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আমরা কোন বৈষম্য চাইনা। পাহাড়ে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়কে সাথে নিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে চাই, সবাইকে উন্নয়নের মূলস্রোতে সম্পৃক্ত করতে চাই। তাই, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই এ সরকার কাজ করছে। শনিবার রাঙ্গামাটির চিং হ্লা মং মারি স্টেডিয়ামে সাংগ্রাই জলকেলি উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আসামবস্তির মারমা সাংস্কৃতিক সং¯’া আয়োজিত সাংগ্রাই উৎসব- ২০২৫ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, আমরা প্রত্যেক কমিউনিটির আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে চাই। এজন্য সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, উন্নয়নের পাশাপাশি প্রয়োজন এডুকেশন বেইজড ডেভেলপমেন্ট এবং ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ-যা গড়ে তোলা খুব জরুরি। তিনি বলেন, পাহাড়ে এডুকেশন সিস্টেমকে উন্নতি করার জন্য স্যাটেলাইট এডুকেশন প্রক্রিয়া চালু করতে চাই। পাহাড়ের দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীরা প্রাইমারি ধাপ শেষ করার পর পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারে না। তাদের এ অব¯’ার উন্নতি করার কিছু প্রক্রিয়া সরকার হাতে নিয়েছে। আমরা উপজেলা পর্যায়ে হোস্টেল সুবিধা চালু করে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক ধাপ শেষে হোস্টেলে নিয়ে আসতে চাই। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হোস্টেলে রেখে বিনামূল্যে খাবারের ব্যব¯’া রাখতে চাই। পরে তাদের উ”চ শিক্ষার জন্য জেলা পর্যায়ে এ সুবিধা চালু রাখার পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে।

পাহাড়ের পরিবেশ রক্ষা বিষয়ে জনাব সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের অপর সৌন্দর্য অক্ষুন্ন রাখতে হবে। প্রকল্পের উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ও পরিবেশের কোন ক্ষতি না করে পাহাড়ের ঝোপ-ঝাড়, বন জঙ্গল ও প্রাণিকূলের আবাসস্থল টিকিয়ে রেখে বাঁশ বেত ও ঝোপ-ঝাড়ের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ বাড়াতে হবে।
জলকেলি উৎসবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও তার স্ত্রী-কন্যা, ইতালীয় অ্যাম্বাসেডর, নেদারল্যান্ডস অ্যাম্বাসেডর ও ডাচেস আইনবিদ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা ফিতা কেটে ও পানি ছিটিয়ে জলকেলি শুরু করেন। এর পর ছোট ডিঙ্গি নৌকায় রাখা পানি দিয়ে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে তরুন-তরুনীরা একে অপরকে পানি ছিটিয়ে জলকেলি উৎসবে মেতে ওঠেন।

জলকেলির পাশাপাশি চলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে শিল্পীরা গান ও নৃত্য পরিবেশন করে। নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সমুন্নত রাখার প্রত্যয়ে প্রতি বছর এ উৎসব পালিত হয়ে আসছে। মারমা সাংস্কৃতিক সংস্থা- মাসাস’র সভাপতি বাবু থোয়াই সুই খই মারমার সভাপতিত্বে জলকেলি অনুষ্ঠানে উপ¯ি’ত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব প্রদীপ কুমার মহোত্তম, যুগ্ম সচিব কঙ্কন চাকমা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু, সাধারন সম্পাদক এ্যাড. মামুনুর রশীদ মামুন প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গাউসিয়া হক ভাণ্ডারী খানকাহ্ শরিফের ব্যবস্থাপনায় আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

১১ মার্চ, বুধবার গাউসিয়া হক ভাণ্ডারী খানকাহ্ শরিফের ব্যবস্থাপনায় প্রতি বছরের ন্যায় এই বছরও হযরত শেরে খোদা মওলা আলী (র.), খাতুনে জান্নাত মা ফাতেমা (রহ.) উরশ মোবারক ও শহীদ বদর দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, মিলাদ শরিফ ও ইফতার মাহফিল খানকাহ্ শরিফ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা কাজী হাবিবুল হোসাইন, মাওলানা মোঃ মুজিবুল হক, হাফেজ মাওলানা মোখতার হোসাইন, মাওলানা হাফেজ হারুণ রশীদ, মাওলানা একরামুল হক, কেন্দ্রীয় পর্ষদ সদস্য মোহাম্মদ আলী, ফজলুল হক, মকসেদুর রহমান হাসনু, মীর শফিউল আলম নিজাম, মহানগর সমন্বয়কারী মেজবাহ উদ্দীন, শফিকুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসাইন, ওমর ফারুক, শামসুল আলম, খানকাহ্ সভাপতি মুহাম্মদ শওকত হোসাইন রুবেল, সাধরাণ সম্পাদক খুরশিদ আলম। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জুয়েল, রাজা, রিপন, ওসমান, পারভেজ, ইকবাল, রানা, বিজয়, নূর মিয়া, হাকিম প্রমুখ।

নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন: চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নগরবাসীর জন্য নিরাপদ পানি ও কার্যকর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা এবং কমিউনিটির সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।চট্টগ্রামে আয়োজিত “ওয়াশ ফর আরবান পুওর” প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের ফেইজ আউট ওয়ার্কশপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গত মঙ্গলবার তিনি এ কথা বলেন। ওয়াটারএইড বাংলাদেশের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় এবং দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে)-এর বাস্তবায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পটি ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে শুরু হয়ে চলতি বছরের মার্চ মাসে সমাপ্ত হচ্ছে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করার কারণে নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আমাদের একটি সমন্বিত সিস্টেম গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সিটি কর্পোরেশন, প্রশাসন, উন্নয়ন সংস্থা ও সাধারণ জনগণ সবাই একসাথে কাজ করবে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, নগরের স্টেডিয়াম এলাকায় এবং পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় নাগরিকদের জন্য টয়লেট নির্মিত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্ভব হচ্ছে।

এভাবে জনবহুল এলাকাগুলোতে টয়লেট নির্মাণ করা হলে মানুষ উপকৃত হবে এবং পরিবেশ উন্নত হবে।
মেয়র বলেন, নগরের জনসাধারণের সুবিধার্থে সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জনস্বাস্থ্যবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তুলছে। ইতোমধ্যে নগরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপন করা হয়েছে, যাতে মায়েরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে শিশুদের দুধ পান করাতে পারেন। কর্ণফুলী সেতুর পাশসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নগরের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে জনগণের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়ন সংস্থা ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো একসঙ্গে কাজ করলে নগরবাসীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা ও স্যানিটেশন সুবিধা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, নগরীর এখনও অনেক এলাকায় নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। এ ক্ষেত্রে কমিউনিটিকে সচেতন হয়ে নিজেদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে হবে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করতে হবে। এমন গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা আয়োজনের জন্য তিনি ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও ডিএসকে কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।কর্মশালায় ওয়াটারএইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম লিড বাবুল বালা প্রকল্পের অর্জন ও কার্যক্রম নিয়ে একটি উপস্থাপনা প্রদান করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিব আশরাফুল আমিন বলেন, ডিএসকে ও ওয়াটারএইডের কাজের গুণগত মান ও নান্দনিকতা দেখে বোঝা যায় প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। ভবিষ্যতে পাহাড়ি এলাকা বাদ দিয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কাজ করলে সাধারণ মানুষ আরও বেশি উপকৃত হবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী বলেন, আজকের উপস্থাপনাটি অত্যন্ত তথ্যবহুল। সমাজে এখনও নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ব্যক্তি সচেতনতার পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সিনিয়র আর্কিটেক্ট বলেন, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও ডিএসকে গত তিন বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কাজের গুণগত মান অত্যন্ত ভালো এবং ভবিষ্যতে নিজেদের কার্যক্রমে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ রয়েছে।

ডিএসকে ঢাকার ওয়াশ বিভাগের পরিচালক এম. এ. হাকিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে)-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক আরেফাতুল জান্নাত।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম ওয়াসা, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সমাজসেবা অধিদপ্তর, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, থানা শিক্ষা অফিস, পুলিশ প্রশাসন, ফার্মেসি প্রতিনিধি, স্কুল ও মাদ্রাসা প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, সিবিও প্রতিনিধি, হাইজিন হকার এবং স্বেচ্ছাসেবকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ