আজঃ বুধবার ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

রাজশাহীতে ৭ মামলার আসামি বিপ্লব গ্রেপ্তার।

:মোঃ গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

৭ মামলার আসামি হিসেবে আত্মগোপনে থাকা রাজশাহীর বাঘা উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ফকরুল হোসেন বিপ্লব (৩২)–কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পাকুড়িয়া ইউনিয়নের জোতনশী এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিপ্লব ওই গ্রামের মহসিন আলীর জামাতা এবং বাঘা পৌরসভার মিলিক বাঘা (পন্ডিতপাড়া) এলাকার বাসিন্দা আলতাফ হোসেনের ছেলে।

পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে নাশকতা, অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ, হামলা, ভাঙচুর, চাঁদা দাবি এবং মারধরের অভিযোগে বিএনপির পক্ষ থেকে চারটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা হওয়ার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সিফাত রেজা জানান, বিপ্লবের বিরুদ্ধে বিএনপির করা চারটি মামলার পাশাপাশি অস্ত্র ও মাদকসহ আরও তিনটি মামলা রয়েছে, যার সংখ্যা মোট সাতটি। রিমান্ড চাওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে আবেদন করা হবে।

বাঘা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুরুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, বিপ্লব স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদ পাওয়ার আগেই তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকের মামলা ছিল। পরবর্তীতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর আস্থাভাজন হয়ে তিনি এ পদ লাভ করেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে দাপট দেখাতে থাকেন।

তিনি আরও জানান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কারাগারে থাকাকালীন সময়ে তার মুক্তির দাবিতে পোস্টার লাগানোর সময় বিপ্লবসহ আওয়ামী লীগের নেতা সামিউল ইসলাম নয়ন, আনোয়ার হোসেন মিল্টন এবং তাদের সহযোগীরা তাকে ও অন্যান্য পোস্টার লাগানো কর্মীদের মারধর করে এবং পোস্টার লাগাতে বাধা দেয়। এরপর পুলিশ ডেকে তাদের গ্রেপ্তার করিয়ে মামলা করে। পুলিশ বিষয়টি জানলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি।

বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ. ফ. ম. আসাদুজ্জামান বলেন, বিপ্লব আত্মগোপনে থেকে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছিলেন। এমন খবরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।এ বিষয়ে আরও অধিক তদন্ত চলছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামের আবাসিক হোটেলে অভিযানে গ্রেফতার-১১

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকলিয়া থানার রাজাখালী এলাকায় মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে রাজাখালীর ইউনিপার্ক হোটেলে এ অভিযান চালানো হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো. শাহীন (২০), মো. কামাল উদ্দীন (২৫), মো. নয়ন (২৬), শারমিন আক্তার (১৯), রিনা আক্তার (৩৮), বিউটি আক্তার (২০), শারমিন আক্তার (২০), মো. ইউসুফ (৩২), মনি আক্তার (২৫), মো. শাহাদাত হোসেন (২৫) এবং মনি আক্তার (১৯)।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, এদের বিরুদ্ধে সিএমপি অধ্যাদেশের ৭৬ ধারায় নন-এফআইআর প্রসিকিউশন নম্বর মূলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদেরকে বিধি মোতাবেক আদালতে সোপর্দ করা হয়।

চট্টগ্রামে অভিমানে ঘরছাড়া কিশোর, নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি পেয়ে টাকা দাবি প্রতারক চক্রের

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে ঘর ছেড়েছিল কিশোর মুহিন। নিখোঁজ ছেলের সন্ধানে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দেয় তার পরিবার। আর এই বিজ্ঞপ্তির সুযোগ নিয়ে অজ্ঞাত পরিচয়ে এক মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে বসে একটি প্রতারক চক্র!

এরপর থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে চট্টগ্রাম নগরের রেলস্টেশন এলাকার একটি কুলিং কর্নার থেকে ওই কিশোরকে উদ্ধার করা হয়।উদ্ধার হওয়া কিশোর মো. মুহিন (১৫) চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মুনছুর আলীর ছেলে। সে নগরের কালামিয়া বাজার এলাকায় একটি কার ও মাইক্রো গ্যারেজে কাজ করত।এর আগে, গত ১৯ এপ্রিল সকালে চরলক্ষ্যা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় মুহিন।

জানতে চাইলে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ওই কিশোরকে উদ্ধার করা হয় এবং পরে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মুক্তিপণ দাবি করা প্রতারক চক্রটিকে শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্ত চলছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, কিশোর মুহিন একসময় মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। এক বছর আগে পড়াশোনা ছেড়ে সে গ্যারেজে কাজ শুরু করে। কিন্তু গ্যারেজে নিয়মিত না যাওয়ায় মায়ের সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়। এর জেরেই অভিমান করে সে বাড়ি থেকে চলে যায়। পরে সে নগরের চট্টেশ্বরী রোডের একটি চায়ের দোকানে কাজ করত বলে জানতে পারে পরিবার।

এদিকে, মুহিন নিখোঁজ হওয়ার পর তার সন্ধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তি দেখে অজ্ঞাত পরিচয়ে এক মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি চক্র। এমনকি ফোনে কিশোরের কণ্ঠস্বরও শোনানো হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে উদ্ধারের পর জানা যায়, অপহরণের ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এটি একটি প্রতারণা।

কিশোরের মামা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, মুহিন মূলত অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে নগরের ভেড়া মার্কেট এলাকায় কয়েক দিন অবস্থান করে রেলস্টেশন-সংলগ্ন একটি কুলিং কর্নারে আশ্রয় নেয় সে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ নিয়ে একটি প্রতারক চক্র ফোন করে নিজেদের ‘অপহরণকারী’ পরিচয় দিয়ে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এমনকি সর্বশেষ অন্য একটি নম্বর থেকে ২ হাজার ২০০ টাকাও দাবি করা হয়।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ