নেত্রকোনায় পাহাড় না কেটেই রাস্তায় উন্নয়ন।

মোঃ নুর উদ্দিন মন্ডল দুলাল নেত্রকোনা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেংঙ্গুরা ইউনিয়নের একটি পুরোনো পাহাড়ি পথকে চলাচলযোগ্য করতে গিয়ে বন ও পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগ উঠলেও স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে কোনো পাহাড় কাটা হয়নি, কাটা হয়নি গাছও। সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছগুলো সরিয়েই রাস্তাটি সংস্কারের কাজ চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লেংঙ্গুরা ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়ী সুবেন ঘাঘড়ার টিলা থেকে চৈতানগর মহসিন মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ১২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথ কয়েক দশক ধরে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এবং পর্যটকদের যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বর্ষায় কাঁদায় মাখা পিচ্ছিল এই পথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে স্থানীয় প্রশাসন কাবিখা প্রকল্পের আওতায় রাস্তাটির সমতলকরণ ও মাটি ফেলার কাজ শুরু করেছে।

লেংঙ্গুরা ইউপি চেয়ারম্যান ও কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “এটি বহু পুরোনো চলাচলের রাস্তা। এখানে কোনো নতুন পাহাড় কাটা হয়নি। ঝড়ে ভেঙে পড়া কিছু গাছ রাস্তা থেকে সরিয়ে সংস্কারকাজ চলছে। এলাকাবাসীর বহুদিনের চাওয়া ছিল এই পথটি উন্নয়ন করার—এখন সেটিই বাস্তবায়ন হচ্ছে।”

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পাহাড়ের গা ঘেঁষা পুরোনো এই পথে মাটি ফেলে সমান করা হয়েছে। আশপাশে পাহাড় কাটা বা গাছ কাটার কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, এটি পুরোনো পথ, নতুন করে কিছুই ধ্বংস করা হয়নি।

এই পথে হেঁটে যাচ্ছিলেন নব্বই বছরের ক্ষুদ্র নৃ-জাতিগোষ্ঠীর সদস্য সুবেন মানখিন। তিনি বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকে এই রাস্তা দিয়ে বাবা-দাদার সঙ্গে চলাফেরা করেছি। অনেক কষ্ট করে চলতে হতো। এখন রাস্তা সংস্কার হওয়ায় আমরা খুব খুশি।”

স্থানীয়রা—তপন সাংমা, চুহিন হাজং, জুই ঘ্রা, পীযূষ বণিক ও রফিকুল ইসলাম—সবাই বলেন, “এটি পুরোনো রাস্তা, নতুন করে কিছুই কাটা হয়নি। বরং আমাদের চলাচলের সুবিধার জন্য যেই পথে আমরা আগে চলতাম, সেটাই উন্নয়ন করা হচ্ছে। এজন্য আমরা উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।” একইসঙ্গে তারা রাস্তা পাকাকরণের দাবি জানান সরকারের কাছে।

এ বিষয়ে লেংঙ্গুরা বনবিভাগের বিট অফিসে কর্মরত বনরক্ষী আখতারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাইযুল ওয়াসীমা নাহাত বলেন, “এই রাস্তা পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও পর্যটকদের যাতায়াতের একমাত্র পথ। পুরোনো রাস্তাটিকে কাবিখা প্রকল্পের আওতায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন করে কোনো পাহাড় কাটা হয়নি।”

স্থানীয়দের অভিমত, উন্নয়ন প্রকল্পে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনগণের স্বার্থ—উভয়কেই সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এই প্রকল্পে সেই ভারসাম্য বজায় রেখেই কাজ হচ্ছে বলে তারা মত দিয়েছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পণ্যের দাম বেড়েছে কেজিতে ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত নজরদারি বাড়ানো জরুরি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে পরিবহন খরচ বাড়ায় কয়েকটি পণ্যের দাম ইতোমধ্যে কেজিতে ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সড়ক ও নৌপথে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। ডিজেলের দাম এক লাফে লিটারে ২০ টাকা বাড়ার ধাক্কা পড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের বাজারে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পণ্যের দাম বাড়ার পেছনে প্রধান কারণগুলোর একটি পরিবহন ব্যয়। শুধু সড়কপথ নয়, নৌপথেও বেড়েছে পরিবহন খরচ। খাতুনগঞ্জ থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পণ্য পাঠাতে লাইটারেজ জাহাজ ব্যবহার করা হয়। ডিজেলের দাম বাড়ায় এসব জাহাজের পরিচালন ব্যয়ও বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে পণ্যের দামে।
খাতুনগঞ্জের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, আগে যে ট্রাকটি চট্টগ্রামে পণ্য আনতে ২৫ হাজার টাকা ভাড়া নিত, ডিজেলের দাম বাড়ার পর সেই ভাড়া প্রায় ১০ হাজার টাকা বেড়েছে। অর্থাৎ ২৫ হাজার টাকার ভাড়া এখন প্রায় ৩৫ হাজার টাকা হয়েছে। বাড়তি এই পরিবহন ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবু বক্কর বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ভাড়া ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। আগে বগুড়া থেকে ট্রাকে করে পণ্য আনতে আমাদের সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা খরচ হতো। এখন সেটি প্রায় ১০ হাজার টাকা বেড়ে গেছে। একইভাবে নৌপথেও ভাড়া বেড়েছে। শুধু দেশের ভেতরে নয়, বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্য পরিবহনেও ব্যয় বেড়েছে।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা, আদা ৩ টাকা বেড়ে ৯৫ টাকা এবং রসুন ৪ টাকা বেড়ে ১২২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় লাল মরিচ ৫ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩৫০ টাকা এবং ভারতীয় মিষ্টি মরিচ ৫ টাকা বেড়ে ৪৪০ টাকা হয়েছে। চিনির দামও কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ টাকায়।
এ ছাড়া মোটা মসুর ডালের দাম ২ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা, মুগ ডাল ৮ টাকা বেড়ে ১৫০ টাকা, মটর ডাল ২ টাকা বেড়ে ৫৪ টাকা এবং সাদা মটর ৩ টাকা বেড়ে ৫৪ টাকা হয়েছে। চিকন মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৫৭ টাকা কেজি দরে। তবে ছোলার দাম এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান ছোলা ৯৫ টাকা এবং ভারতীয় ছোলা ৯৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এর পাশাপাশি বেড়েছে ভোজ্যতেলের দামও।
এক ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ডিজেলের প্রভাবে স্বাভাবিকভাবেই পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে যে হারে পরিবহন ভাড়া বেড়েছে, সে তুলনায় পণ্যের দাম এখনো স্থিতিশীলই আছে। কিন্তু মানুষের আয় না বাড়ায় কেনাকাটা কমেছে।
বাজারে যাতে অপ্রত্যাশিতভাবে কোনো পণ্যের দাম বাড়ানো না হয়, সেজন্য নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন। তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে এর প্রভাব শুরু হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত বাড়তি খরচের চাপ ক্রেতার ওপরেই পড়ছে। সেজন্য বাজারে নজরদারি বাড়ানো জরুরি।

চট্টগ্রামে নকল ঘি বিক্রি, ২ লাখ টাকা জরিমানা গুনল এম আর কনজিউমারস

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে নকল ঘি বিক্রি করার অপরাধে এম আর কনজিউমারস প্রোডাক্টসকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করাসহ নানা অপরাধে আরও তিন প্রতিষ্ঠানকে ২১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) নগরীর বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিকার অধিদপ্তর চট্টগ্রাম।

অভিযানে নকল ঘি উৎপাদনের দায়ে এম আর কনজিউমারস প্রোডাক্টস নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ টাকা, মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং ক্রয় বিক্রয় ভাউচার যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করায় আরিফের ফল বিতানকে ১ হাজার টাকা, পারভিন ট্রেডার্সকে ১০ হাজার টাকা, এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিকার অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ বলেন, ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ