আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শহীদদের বিভিন্ন স্মৃতি সংগ্রহ করেছেন উপদেষ্টা ফারুকী।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের বাড়িতে গিয়ে তাদের ব্যবহৃত পোশাক ও ব্যবহার্য বিভিন্ন সামগ্রী সংগ্রহ করেছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। রোববার সকালে উপদেষ্টা নগরীর লালখান বাজারে শহিদ ফয়সাল আহমেদ শান্ত’র বাসায় যান। এসময় সেখানে তার মায়ের কান্নায় বেদনাবিধূর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শান্ত’র মা উপদেষ্টার হাতে ছেলের পোশাক ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র তুলে দিয়ে ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেন।
এসময় সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

বলেন,জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদদের ব্যবহৃত জিনিস স্মৃতি আকারে সংগ্রহ করা শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে এটা শুরু হয়েছে। এটার জন্য বড় টিম তৈরি হয়েছে। যারা সারা দেশজুড়ে আগামী দেড় মাস কাজগুলো করবে। এটার জন্য কমিটি হয়েছে, অনেকগুলো সাব কমিটি হয়েছে। আশা করি, আগামী দেড় মাসের মধ্যে কাজগুলো শেষ করে ৫ অগাস্টের মধ্যে জুলাই জাদুঘর ওপেন করতে পারব।

শান্ত’র মাকে সান্ত্বনা দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, প্রত্যেকটা ফ্যামিলিতে কিন্তুৃ. তাদের চোখের দিকে তাকালে এটা আপনি সহ্য করতে পারবেন না। এই যে তাদের বেদনাটা আমরা এখানে দেখলাম। আমাদের কাজ হবে জুলাই জাদুঘর যে ভিজিট করবে তার কাছে সেটা ট্রান্সফার করা। এ ট্রান্সফার করার মাধ্যমে আমরা যে ১৬ বছর দুঃশাসনের মধ্যে ছিলামৃ জুলাই শুধু বীরত্বের নয়, একই সঙ্গে বেদনারও গল্প। সে গল্প যেন একই পরিমাণ বেদনা নিয়ে যেন জাদুঘরের ভিজিটরের কাছে যায়। এটা আমাদের কাজ। এ কাজ করার জন্য আমরা শহিদদের কিছু অবজেক্ট কালেক্ট করছি।

শুধু অবজেক্ট না, যে শূন্যতা উনি (শান্তর মা) ফিল করছেন সে শূণ্যতা যেন আমাদের ফটো ডকুমেন্টশন সিরিজে উঠে আসে সেটার জন্য কাজ শুরু হয়েছে। অবজেক্ট নেওয়া এবং এ শূণ্যতাকে কিভাবে ধারণ করা যায় সে কাজটা আমরা চট্টগ্রাম থেকে শুরু করলাম। তবে এ ধরনের কাজ করতে সময় লাগে। কিন্তু আমাদের হাতে সময় কম। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।

হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতি উপদেষ্টা বলেন, সরকার বিচারের ব্যাপারে সবচাইতে ফোকাসড। আমি নিজেতো সরকারের বাইরে ছিলাম। এখন সরকারে ঢোকার পর বুঝতে পারি নিয়মতান্ত্রিক জটিলতা কত ভয়াবহ। ধরেন আমি দৌঁড়ায় ১০০ মিটার গতিতে। নিয়ম আমাকে টেনে ধরে বলে দৌড়াও স্লো ম্যারাথনের গতিতে। এটা বাস্তবতা। সে বাস্তবতার মধ্যেই আপনারা জানেন যে আজ থেকে একটা মামলার বিচার কাজ শুরু হয়েছে। এটা লাইভ বর্ডকাস্ট করা হচ্ছে টেলিভিশনে। যাতে করে সবাই জানতে পারে এখানে কী হচ্ছে। আমরা কোনো অন্যায় বিচার চাই না।

কারণ বাংলাদেশে জুলাইতে যে জুলুম হয়েছে এবং আগের ১৬ বছর যা হয়েছে এটা কোনটা বানোয়াট ঘটনা না, আমাদের চোখের সামনে ঘটেছে। আমরা একটা শক্ত বিচার চাই। সেই ন্যায় বিচার হলে আপনারা দেখবেন অপরাধী তার প্রাপ্য শাস্তি পাবে। আজকে প্রসেসটা শুরু হয়েছে। আমি নিশ্চিত প্রত্যেকটা মামলার বিচার হবে।
তিনি বলেন, খুনী এখনও বলছে সে কোনো খুন করেনি। তাদের মধ্যে ন্যুনতম অনুশোচনা নাই। জুলাই জাদুঘরের কাজ হবে খুনীর সব অপরাধ জাতির সামনে তুলে ধরা। যেন ৫০ বছর পর আমরা যখন কেউ থাকব না, তখনকার প্রজন্ম তারা যেন জাদুঘরে গিয়ে দেখতে পায় আসলে কী হয়েছিল।

শান্ত’র বাসা থেকে সার্কিট হাউজে ফিরে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী শহীদ শহিদুল ইসলাম ও মো. ফারুকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের ব্যবহার্য সামগ্রী গ্রহণ করেন। এর আগে, শনিবার তিনি কক্সাবাজারের চকরিয়ায় চট্টগ্রামে নিহত ওয়াসিম আকরামের বাড়িতে গিয়েও তার ব্যবহার্য জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিএসএফের টাকার টোপে সীমান্তের দরিদ্ররা সহযোগিতা করছেন পুশ-ইনে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সীমান্তজুড়ে পুশ-ইন ইস্যু নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলা দিয়ে নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে কড়া নজরদারির কারণে অনেক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও এ কাজে সীমান্ত এলাকার কিছু দরিদ্র মানুষকে অর্থের প্রলোভনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিজিবির টহলের সময় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, এমনকি সুবিধাজনক রুট দেখিয়ে দেওয়ার মতো কাজেও কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা আরও সংগঠিতভাবে চালানো হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্তে গিয়ে জানা গেছে, সীমান্তঘেঁষা নদীপথগুলো এখন নতুন কৌশলের অংশ হয়ে উঠেছে। আগে যেসব এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া কিংবা স্থলপথে কড়াকড়ি ছিল, এখন সেখানে নদীপথকে ব্যবহার করে রাতের অন্ধকার কিংবা ভোরের সময় পুশ-ইনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন একাধিক ঘটনার তথ্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও এসেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী দরিদ্র কিছু বাংলাদেশিকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এসব কাজে ব্যবহার করছে বিএসএফ।

সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইন কার্যক্রমে কিছু বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী- একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিএসএফের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এসব পুশইনে সহায়তা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিজিবির টহলের সময় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, এমনকি সুবিধাজনক রুট দেখিয়ে দেওয়ার মতো কাজেও কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একজনকে পুশ-ইন করতে পারলে দেওয়া হচ্ছে ১০ হাজার টাকা। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা আরও সংগঠিতভাবে চালানো হচ্ছে।

তবে সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের চেষ্টা ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং যেকোনো পুশ-ইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

যশোরের চাড়াভিটায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


যশোরে বাঘারপাড়ার চাড়াভিটা ও তার পার্শ্বতি এলাকায়  হঠাৎ নেমে আসে কালবৈশাখী ঝড়। আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেলা ২টার দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘে ডেকে   মেঘা আচ্ছন্ন হয়ে ঝড় বাতাসের সাথে বজ্র বূষ্টি শুরু হয়ে

টানা আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় চলে এই ঝড়।চাড়াভিটা বাজারে পাশেই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটলে ও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি উপ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঝড়ের কারণে দুপুরের পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।, গত কয়েক দিন ধরে যশোর অঞ্চলে  তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল। বিশেষ করে খেটেখাওয়া মানুষ গরমে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। দুপুরের পর আকাশ কালো মেঘে গুমোট আকার ধারণ করে শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়। সেই সঙ্গে বজ্রপাত।

বাঘারপাড়া  উপজেলার বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের চাড়াভিটা বাজার সহ কয়েকটি  এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে তীব্র আঘাত হানে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেকের ঘরের চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন গাছ ভেঙ্গে আঁচড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির উপরে।যে কারণে  বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় কয়েকটি এলাকায় ভূতুড়ে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে এবং অসংখ্য স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।এলাকাবাসী জানান, এ ধরনের ঝড় অনেক দিন দেখা যায়নি।। একই সঙ্গে এলাকার কৃষকদের আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ