আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শহীদদের বিভিন্ন স্মৃতি সংগ্রহ করেছেন উপদেষ্টা ফারুকী।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের বাড়িতে গিয়ে তাদের ব্যবহৃত পোশাক ও ব্যবহার্য বিভিন্ন সামগ্রী সংগ্রহ করেছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। রোববার সকালে উপদেষ্টা নগরীর লালখান বাজারে শহিদ ফয়সাল আহমেদ শান্ত’র বাসায় যান। এসময় সেখানে তার মায়ের কান্নায় বেদনাবিধূর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শান্ত’র মা উপদেষ্টার হাতে ছেলের পোশাক ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র তুলে দিয়ে ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেন।
এসময় সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

বলেন,জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদদের ব্যবহৃত জিনিস স্মৃতি আকারে সংগ্রহ করা শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে এটা শুরু হয়েছে। এটার জন্য বড় টিম তৈরি হয়েছে। যারা সারা দেশজুড়ে আগামী দেড় মাস কাজগুলো করবে। এটার জন্য কমিটি হয়েছে, অনেকগুলো সাব কমিটি হয়েছে। আশা করি, আগামী দেড় মাসের মধ্যে কাজগুলো শেষ করে ৫ অগাস্টের মধ্যে জুলাই জাদুঘর ওপেন করতে পারব।

শান্ত’র মাকে সান্ত্বনা দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, প্রত্যেকটা ফ্যামিলিতে কিন্তুৃ. তাদের চোখের দিকে তাকালে এটা আপনি সহ্য করতে পারবেন না। এই যে তাদের বেদনাটা আমরা এখানে দেখলাম। আমাদের কাজ হবে জুলাই জাদুঘর যে ভিজিট করবে তার কাছে সেটা ট্রান্সফার করা। এ ট্রান্সফার করার মাধ্যমে আমরা যে ১৬ বছর দুঃশাসনের মধ্যে ছিলামৃ জুলাই শুধু বীরত্বের নয়, একই সঙ্গে বেদনারও গল্প। সে গল্প যেন একই পরিমাণ বেদনা নিয়ে যেন জাদুঘরের ভিজিটরের কাছে যায়। এটা আমাদের কাজ। এ কাজ করার জন্য আমরা শহিদদের কিছু অবজেক্ট কালেক্ট করছি।

শুধু অবজেক্ট না, যে শূন্যতা উনি (শান্তর মা) ফিল করছেন সে শূণ্যতা যেন আমাদের ফটো ডকুমেন্টশন সিরিজে উঠে আসে সেটার জন্য কাজ শুরু হয়েছে। অবজেক্ট নেওয়া এবং এ শূণ্যতাকে কিভাবে ধারণ করা যায় সে কাজটা আমরা চট্টগ্রাম থেকে শুরু করলাম। তবে এ ধরনের কাজ করতে সময় লাগে। কিন্তু আমাদের হাতে সময় কম। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।

হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতি উপদেষ্টা বলেন, সরকার বিচারের ব্যাপারে সবচাইতে ফোকাসড। আমি নিজেতো সরকারের বাইরে ছিলাম। এখন সরকারে ঢোকার পর বুঝতে পারি নিয়মতান্ত্রিক জটিলতা কত ভয়াবহ। ধরেন আমি দৌঁড়ায় ১০০ মিটার গতিতে। নিয়ম আমাকে টেনে ধরে বলে দৌড়াও স্লো ম্যারাথনের গতিতে। এটা বাস্তবতা। সে বাস্তবতার মধ্যেই আপনারা জানেন যে আজ থেকে একটা মামলার বিচার কাজ শুরু হয়েছে। এটা লাইভ বর্ডকাস্ট করা হচ্ছে টেলিভিশনে। যাতে করে সবাই জানতে পারে এখানে কী হচ্ছে। আমরা কোনো অন্যায় বিচার চাই না।

কারণ বাংলাদেশে জুলাইতে যে জুলুম হয়েছে এবং আগের ১৬ বছর যা হয়েছে এটা কোনটা বানোয়াট ঘটনা না, আমাদের চোখের সামনে ঘটেছে। আমরা একটা শক্ত বিচার চাই। সেই ন্যায় বিচার হলে আপনারা দেখবেন অপরাধী তার প্রাপ্য শাস্তি পাবে। আজকে প্রসেসটা শুরু হয়েছে। আমি নিশ্চিত প্রত্যেকটা মামলার বিচার হবে।
তিনি বলেন, খুনী এখনও বলছে সে কোনো খুন করেনি। তাদের মধ্যে ন্যুনতম অনুশোচনা নাই। জুলাই জাদুঘরের কাজ হবে খুনীর সব অপরাধ জাতির সামনে তুলে ধরা। যেন ৫০ বছর পর আমরা যখন কেউ থাকব না, তখনকার প্রজন্ম তারা যেন জাদুঘরে গিয়ে দেখতে পায় আসলে কী হয়েছিল।

শান্ত’র বাসা থেকে সার্কিট হাউজে ফিরে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী শহীদ শহিদুল ইসলাম ও মো. ফারুকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের ব্যবহার্য সামগ্রী গ্রহণ করেন। এর আগে, শনিবার তিনি কক্সাবাজারের চকরিয়ায় চট্টগ্রামে নিহত ওয়াসিম আকরামের বাড়িতে গিয়েও তার ব্যবহার্য জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

নাড়ির টানে বন্দর নগরী ছাড়ছে মানুষ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

:পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নাড়ির টানে গন্তব্যে ছুড়ছে মানুষ। পথে পথে ভোগান্তি এড়াতে মানুষ আগ থেকে বন্দর নগরী ছাড়তে শুরু করেছে। শনিবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম রেল ষ্টেশন, বাস টার্মিনালগুলোতে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। এর আগে শুক্রবার থেকে তাদের এই ঈদ যাত্রা শুরু হয়।

চট্টগ্রাম মহানগরের এ কে খান মোড়, অলংকার ও চট্টগ্রাম রেলস্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দূরপাল্লার বাস ও ট্রেনে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন অনেকে। কেউ যাচ্ছেন কুমিল্লা, কেউ ঢাকা, কেউ সিলেট বা রাজশাহীর দিকে। যাত্রীর সংখ্যা এখনো খুব বেশি না হলেও ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে বলে জানান পরিবহন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সম্ভাব্য ঈদের তারিখ ধরা হচ্ছে আগামী ২১ মার্চ। ফলে এখনো কয়েক দিন সময় থাকলেও অনেকেই বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছেন।মূলত ঈদের আগমুহূর্তে বাড়তি যাত্রী চাপের ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আগেভাগে শহর ছাড়ছেন।

পরিবহন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, দিন দিন ঈদযাত্রা আরও জমে উঠবে। বিশেষ করে সরকারি ও বেসরকারি অফিসে ছুটি শুরু হলে নগর ছাড়ার মানুষের ঢল নামতে পারে। তখন এ কে খান, অলংকার, কদমতলী বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশন এলাকায় যাত্রীদের বড় ভিড় দেখা যাবে।

এদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের পূর্বাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষের ট্রেনযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে নানামুখী প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ বছর চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে ১০৫টি অতিরিক্ত কোচ প্রস্তুত করা হয়েছে। বাড়তি যাত্রী পরিবহনে এসব কোচ বিভিন্ন ট্রেনে সংযোজন করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিশেষ ট্রেন, বাড়তি ইঞ্জিন যুক্ত করাসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, যাত্রীর চাপ বাড়ায় পূর্বাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনে ১০৫টি অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হচ্ছে। চলমান ৭৫টি ইঞ্জিনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে আরও ১০টি ইঞ্জিন। এ ছাড়া চালানো হবে আটটি বিশেষ ট্রেন। এরমধ্যে চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-১ ও ২ চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর আসা-যাওয়া করবে। এর যাত্রী ধারণক্ষমতা ৬৬৮ জন। এছাড়া ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে স্টেশন এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে এ কে খান এলাকায় ঢাকাগামী যাত্রী আবুল কালামের সঙ্গে কথা হলো। তিনি বলেন, তিনি নগরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এবার একটু আগেভাগেই বাড়ি যাচ্ছেন। কারণ, বাড়িতে একজন অসুস্থ আত্মীয় রয়েছেন।

ঈদের সময় পরিবারের সঙ্গে থাকতে চান বলেই আগে বেরিয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে নোয়াখালীগামী একটি বাসে উঠেছিলেন সায়েরা আক্তার। দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি গ্রামে ফিরছেন। সায়মা বলেন, পরে গেলে খুব ভিড় থাকে। বাচ্চাদের নিয়ে যাতায়াত কষ্ট হয়। তাই আগেই চলে যাচ্ছি। তবে তাঁর স্বামী হায়দার আলী এখনই যেতে পারছেন না। তিনি জানান, তাঁর স্বামীর এখনো ছুটি হয়নি। ঈদের আগের দিন তিনি বাড়ি যাবেন।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, এবারের ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের মাঝে প্রতিদিন পূর্বাঞ্চলের ১৬টি ট্রেনের ৮ হাজারের বেশি অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। গত ৩ মার্চ থেকে ট্রেনে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছিল। ৯ মার্চ শেষ হয়েছে। অগ্রিম টিকিটের যাত্রীরা যেতে শুরু করেছেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ