আজঃ বুধবার ২১ জানুয়ারি, ২০২৬

ঈদুল আজহায় ৩৭৯ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত ১১৮২ জন আহত।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র ঈদুল আজহায় সারাদেশে ৩৭৯ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত ১১৮২ জন আহত হয়েছে। একই সময়ে রেলপথে ২৫টি দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত, ১২ জন আহত হয়েছে। নৌ-পথে ১১টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত ও ০৬ জন নিখোঁজ রয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৪১৫ টি দুর্ঘটনায় ৪২৭ জন নিহত ও ১১৯৪ জন আহত হয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আজ সোমবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই তথ্য তুলে ধরে বলেন, সড়কে দুর্ঘটনা ও মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি কমিয়ে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে হলে ঈদের আগে কমপক্ষে ৪ দিনের সরকারি ছুটি থাকা দরকার। ঈদের যাতায়াত ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। সবার আগে আমাদের গণপরিবহন ও ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়াতে হবে, ছোট যানবাহন মহাসড়ক থেকে উচ্ছেদ করতে হবে। প্রশিক্ষিত দক্ষ চালক, ফিটনেস বিহীন যানবাহন, মানসম্মত সড়কের পাশাপাশি আইনের সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরী।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশের সড়ক-মহাসড়কের বৃষ্টির কারনে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে বেপরোয়া যানবাহন দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে। ঈদের পরে বেশিরভাগ দুর্ঘটনা বিরামহীন ও বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালাতে গিয়ে সংগঠিত হয়েছে।

ফলে এসব দুর্ঘটনায় সিংহভাগ খাদে পড়ে ও দাঁিড়য়ে থাকা ট্রাকের পেছনের লেগে যাওয়ার ঘটনা বেশি ঘটেছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য ও পথে পথে যাত্রী হয়রানি এবারের ঈদেও চরমে ছিল। গণপরিবহনগুলোতে ঈদকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যর কারনে বাসের ছাদে, ট্রেনের ছাদে, খোলা ট্রাকে, পণ্যবাহী পরিবহনে যাত্রী হয়ে জীবনের ঝুঁিক নিয়ে দরিদ্র লোকজনদের ঈদে বাড়ি যাতায়াত করতে হয়েছে।

ঈদযাত্রা শুরুর দিন ৩১ মে থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা ১৪ জুন পর্যন্ত বিগত ১৫ দিনে ৩৭৯ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত ১১৮২ জন আহত হয়েছে। বিগত ২০২৪ সালের ঈদুল আজহায় ৩০৯ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৩৬ জন নিহত ও ৭৬২ জন আহত হয়েছিল। বিগত ঈদুল আজহার সাথে তুলনা করলে সড়ক দুর্ঘটনা ২২.৬৫ শতাংশ, প্রাণহানী ১৬.০৭ শতাংশ, আহত ৫৫.১১ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। এবারের ঈদে ১৩৪ টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৪৭ জন নিহত, ১৪৮ জন আহত হয়েছে। যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৫.৩৫ শতাংশ। এই সময় সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ৬১ জন চালক, ৫০ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৮ জন পথচারী, ৪০ জন নারী, ৩০ জন শিশু, ৩২ জন শিক্ষার্থী, ০৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ০৫ জন শিক্ষক, ০১ জন চিকিৎসক, ০১ জন প্রকৌশলী, ০৮ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে।

সংগঠিত দুর্ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট যানবাহনের ২৬.৫৪ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৯.১১ শতাংশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান, ১৮.৫৮ শতাংশ বাস, ১৩.৬২ শতাংশ ব্যাটারীচালিত রিক্সা, ৭.৪৩ শতাংশ কার-মাইক্রো, ৭.৬১ শতাংশ নছিমন-করিমন ও ৭.০৭ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিক্সা এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।
দুর্ঘটনার ২৮.২৩ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৪০.৬৩ শতাংশ পথচারীকে গাড়ী চাপা দেয়ার ঘটনা, ২০.০৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রন হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনায়, ০.৭৯ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনে ও ১০.২৯ শতাংশ অন্যান্য অজ্ঞাত কারনে দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৩৭.২০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৮.২৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৮.৪৯ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়। এছাড়াও সারাদেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৪.৪৮ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৭৯ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০.৭৯ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাসুদ, সংগঠনের অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি মোহাম্মদ ইয়াছিন চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ রফিকা আফরোজ, ড্রাইভারস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোঃ বাদল আহমেদ, জিএম মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শাকসু নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদ ও অবিলম্বে নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এ সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা

‘শাকসু নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না’ , ‘হারার ভয়ে খেলে না, সেই কথা তো বলে না’, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান, শাকসু ব্যান’, ‘মব করে শাকসু, বন্ধ করা যাবে না’, ‘শাকসু আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’- এসব স্লোগান দেয়।

বিক্ষোবের সময় চবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম রনি বলেন, শাকসু নির্বাচন কয়েক দফা পেছালেও আজ একটি সুন্দর নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি ছাত্রসংগঠনের কারণে হাজারো শিক্ষার্থী এ নির্বাচনের উৎসব থেকে বঞ্চিত হল। ১৯৯০-৯১ সালেও তারা দায়িত্ব নিয়ে বিশ্ববিদ্যলয় ছাত্রসংসদগুলোর নির্বাচন বন্ধ করেছিল, এখন আবার একই চেষ্টা করছে। তারা সবচেয়ে বেশি ভয় পায় ছাত্রসংসদকে। নির্বাচন বন্ধ করতে যা করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে সবার প্রতিবাদ করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের সঙ্গে আমাদের আন্দোলনের অতীত ইতিহাস আছে। তারা একসময় আমাদের সঙ্গে ছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর তারা টেন্ডারবাজিতে জড়িয়েছে। আপনারা রাজনীতি করতে পারেন, কিন্তু কোনো সন্ত্রাসী বা স্বৈরাচারী শক্তিকে ক্যাম্পাসে জায়গা দিতে পারবেন না।

চবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, ৫ আগস্টের পর আমরা যে ত্যাগ স্বীকার করেছি, তা ছিল আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য। কিন্তু ছাত্রদল ও বিএনপি আবার পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে যাচ্ছে। আমরা ভেবেছিলাম তারা অপরাজনীতির পথে যাবে না, অথচ সুযোগ পেলেই চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও হামলায় জড়াচ্ছে।

তাদের অন্তর্কোন্দলে দুই শতাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রশ্ন হলো কারা আবার আওয়ামী সন্ত্রাসীদের রেজিম ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে ? প্রাতিষ্ঠানিক খুনের রাজনীতি তারাই শুরু করেছে। ডাকসুতে পরাজয়ের পর লজ্জা থাকলে তাদের ক্যাম্পাস ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তারা অপরাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। এ সময় তিনি অবিলম্বে শাকসু নির্বাচনের দাবি জানান।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এনসিপি চার সদস্যদের প্রতিনিধি দল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যদের প্রতিনিধি দল।১৯ জানুয়ারী সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এতে অংশ নেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা।

এসময় সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব উপস্থিত ছিলেন।বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন উদ্বেগ জানান এনসিপি নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, গণভোটে “হ্যাঁ” এর পক্ষে এনসিপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা প্রচারণা করছেন।

এনসিপির নেতৃবৃন্দ নির্বাচন সম্পর্কিত কয়েকটি বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং নির্বাচনে যেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয় সে ব্যাপারে সরকারকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচন সম্পর্কিত যেকোনো অভিযোগ ও পরামর্শ তাৎক্ষণিকভাবে সরকারকে জানাবেন। সরকারের পক্ষ থেকে যে ধরনের ব্যবস্থা নেয়া যায়, সরকার তা নেবে। কেউ যেন আইন অমান্য না করতে পারে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আলোচিত খবর

গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে প্রধান উপদেষ্টা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Oplus_131072

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গণভবনে তৈরি করা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

Oplus_131072

রাজনৈতিক দলের নেতা ও সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টাদের নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি ঘুরে দেখেন তিনি।


রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা ও সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ ঘুরে দেখেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
ছবি: পিআইডি

আরও পড়ুন

সর্বশেষ