আজঃ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬

আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সব স্টেকহোল্ডারকে এক প্ল্যাটফর্মে আনতে হলে পোর্ট ইউজারস ফোরাম কার্যকর করা জরুরি

চট্টগ্রাম বন্দরকে ব্যবসাবান্ধব করতে হবে:চসিক মেয়র।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে ব্যবসাবান্ধব করতে হবে। দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের সিংহভাগ পরিচালিত হয় এই বন্দর ঘিরে। তাই বন্দরকে ঘিরে যারা ব্যবসা করছেন, তাদের যথাযথ সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। চট্টগ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। তিনি

চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাথে আগ্রাবাদ সিএন্ডএফ টাওয়ারস্থ এসোসিয়েশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘আমদানি রপ্তানি সংক্রান্ত সিএন্ডএফ কার্যক্রমে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতাসমূহ নিরসন’ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।সভায় সভাপতিত্ব করেন এসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোঃ শফিউল আজম খান।

সভাপতি এস এম সাইফুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির হৃদপিন্ড। দুই হাজার আট শতাধিক সিএন্ডএফ এজেন্ট ও তাদের আট হাজারের বেশি কর্মচারী আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের সাথে সরাসরি যুক্ত থেকে নিরলসভাবে কাজ করে রাজস্ব আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সিএন্ডএফ এজেন্টদের বিরূদ্ধে যেসব কালো আইন করা হয়েছে তা বাতিলে মেয়রের সহযোগিতা চান। তিনি মেয়রের কাছে সিএন্ডএফ এজেন্টদের ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নের জন্য এসোসিয়েশন কার্যালয়ে একটি সিটি কর্পোরেশন বুথ স্থাপনের দাবী জানান।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সব স্টেকহোল্ডারকে এক প্ল্যাটফর্মে আনতে হলে পোর্ট ইউজারস ফোরাম কার্যকর করা জরুরি। এ লক্ষ্যে তিনি মেয়রকে পোর্ট ইউজারস ফোরামের দায়িত্ব গ্রহণের আহবান জানান, যেন মেয়রের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে বন্দর সংক্রান্ত সমস্যা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়।

এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী বলেন, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নগরের নালা-নর্দমা ও খালসমূহ পরিষ্কারে ত্বরিত পদক্ষেপের ফলে এ বছর নগরবাসী জলাবদ্ধতার কষ্ট থেকে রেহাই পেয়েছে। এজন্য তিনি মেয়রকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা

জানান। তিনি আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত সিএন্ডএফ কার্যক্রমে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতাসমূহ তুলে ধরে বন্দরের চারগুন হারে স্টোররেন্ট কমানো, অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভার সমস্যা, বাজেটে বিভিন্ন এইচ.এস.কোড পরিবর্তনে শুল্কায়ন সমস্যা, স্টীভিডোরদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ, শ্রমিক সরবরাহে অনিয়ম ও বকশিস দাবী, বন্দর গেইট এলাকায় যানজট নিরসন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ওজন স্কেল সমস্যা ইত্যাদি বিষয়ে মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানে বাংলাদেশের উন্নয়ন।

মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেন বলেন, এ শহরকে ক্লিন, গ্রীন, হেলদি ও সেইফ সিটিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। মনোরেল, ওয়ান সিটি টু টাউন, ইকো সিটি, পর্যটন জোন, ৪১টি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ, ওয়াকওয়ে নির্মাণ, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, আবর্জনাকে সম্পদে রূপান্তর, স্কুল শিক্ষার্থীদের পরিস্কার-পরিচ্ছনতা
বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ নানা উন্নয়নমুখী

পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বন্দর গেইট এলাকায় যানজট নিরসনে পুলিশের এডিসি ট্রাফিক ও ডিসি পোর্টকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহবান জানান। বন্দরের অস্বাভাবিক স্টোররেন্ট কমাতে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন। ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নে সিএন্ডএফ এজেন্টদের তাৎক্ষণিক সেবা দিতে এসোসিয়েশন কার্যালয়ে সিটি কর্পোরেশনের বুথ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওজন স্কেল সমস্যার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বন্দরকে ব্যবসাবান্ধব করার জন্য যা যা পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন, তা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার মো. রুহুল আমিন, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, বিজিএমইএ পরিচালক এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচি, বাফা’র সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট খায়রুল আলম সুজন। উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের জয়েন্ট কমিশনার মোঃ মারুফুর রহমান ও চপল চাকমা, বিজিএমইএ এর পরিচালক এনামুল আজিজ চৌধুরী, উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) মোঃ আমিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব আলহাজ্ব মোরশেদুল আলম কাদেরী, বিসিএসআইআর এর সায়েন্টিক অফিসার সম্রাট মোহাইমিনুল ইসলাম ও মোঃ রিফাত হোসেন সহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, এসোসিয়েশনের উপদেষ্টামন্ডলী ও কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, সিএন্ডএফ কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন না করায় জরিমানা গুনল ৪ বাস কাউন্টার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের বাস কাউন্টারগুলোতে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে এ অভিযান চালানো হয়। সোমবার মহানগরীর গরিবুল্লাশাহ মাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন তীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান, মাহমুদা আক্তার ও রানা দেবনাথ।

মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ বলেন, গরীবুল্লাহশাহ মাজার এলাকায় বাস কাউন্টারগুলোতে অভিযান চালিয়েছি। এসময় ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন না করায় সেন্টমার্টিন পরিবহনেকে ৫ হাজার টাকা, রিলাক্স পরিবহনকে ৩ হাজার, দেশ ট্রাভেলস ৩ হাজার ও রয়েল মত্রি সার্ভিসকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ঈদে যাতে কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে সে লক্ষ্যে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

সিএমপির নতুন কমিশনার মো. শওকত আলী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডিআইজি হাসান মো. শওকত আলী।

সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিআইজি) হাসান মো. শওকত আলীকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজকে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) বদলি করা হয়েছে।বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার (সদর), অতিরিক্ত দায়িত্বে সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ।

এছাড়া বিশেষ শাখা (এসবি) ঢাকার ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আহসান হাবীব পলাশকে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি দিয়ে মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজিপি) হিসেবে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র‌্যাব) পদায়ন করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ