আজঃ মঙ্গলবার ২৩ জুন, ২০২৬

সমাজে ক্রমশ নীতি-নৈতিকতাহীন অমানুষের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।

জাহাঙ্গীর আলম

নীতিহীন সমাজ যে উচ্ছৃঙ্খল, বিভ্রান্তিকর, অনিশ্চিত ও অসহিষ্ণু হয়, তার ভুরিভুরি উদাহরণ আছে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মানুষকে বলা হয় সৃষ্টির সেরা জীব। সেটা তার বিবেকবোধ বা আচরণগত কারণের জন্যই। মানুষের যে গুণটি সবার আগে থাকা উচিত সেটি হচ্ছে মানবিকতা। মানুষকে মানুষ বলা হয় কারণ তার মধ্যে মানবিকতা আছে, বোধ-বিবেক আছে, হিতাহিত জ্ঞান আছে, ভালো-মন্দ যাচাই করার সক্ষমতা আছে যা অন্য কোনো প্রাণী বা জীবের মধ্যে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।

প্রত্যেক সমাজে তার সদস্যদের আচরণ পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট নীতি থাকে। নীতিহীন সমাজ হয় উচ্ছৃঙ্খল, বিভ্রান্তিকর ও অনিশ্চিত। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় হলে সমাজে নেমে আসে অধঃপতন। তখন মানুষের ভেতর ভর করে পশুত্ব। চারপাশে ঘটে যাওয়া এমন সব ঘটনা আমাদের অবলোকন করতে হয় যে মাঝে মাঝে প্রশ্ন জাগে- মানুষের বিবেকবোধ কি বিলুপ্ত হয়ে গেল?

নীতিহীন সমাজ যে উচ্ছৃঙ্খল, বিভ্রান্তিকর, অনিশ্চিত ও অসহিষ্ণু হয়, তার ভুরিভুরি উদাহরণ আছে আমাদের চারপাশে। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে মানুষের মধ্যে দেখা দেয় নানা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন। সমাজ ও পরিবারে বেজে উঠছে ভাঙনের সুর। নষ্ট হচ্ছে পবিত্র সম্পর্কগুলো। চাওয়া-পাওয়ার ব্যবধান বেশি হয়ে যাওয়ার ফলে বাড়ছে আত্মহত্যাসহ নানা অপরাধপ্রবণতা।

মা-বাবা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবসহ সম্পর্কের এমন নির্ভেজাল জায়গাগুলোতে ফাটল ধরেছে। ঢুকে পড়েছে অবিশ্বাস। ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধুর সম্পর্কেও সৃষ্টি হচ্ছে আস্থার সংকট। সমাজে প্রায় প্রতিটি সম্পর্কই নড়বড়ে হয়ে গেছে। ভালোবাসা, স্নেহ, মমতা, শ্রদ্ধাবোধের বদলে সম্পর্কগুলোতে প্রাধান্য পাচ্ছে বৈষয়িক নানা বিষয়। সাম্প্রতিক সময়ের শিশুহত্যা, ধর্ষণ, ছিনতাই, সন্ত্রাস, নকলপ্রবণতা, খাদ্যে ভেজাল, নকল ওষুধ ইত্যাদি সমাজের করুণ রূপ। সমাজের মানুষ কেউ যেন কারো বন্ধু নয়। প্রত্যেকে পরোক্ষভাবে একে-অপরের ক্ষতিসাধনে মগ্ন।

যে মানুষের ভিতরে মনুষ্যত্ব নেই সে মানুষ পশুর সমান। মানুষগৃহে জন্মগ্রহণ করলেই মনুষ্যত্বের অধিকারী হওয়া যায় না। এজন্য প্রয়োজন হয় কঠোর সাধনার। জ্ঞান আহরণ, সংস্কৃতি চর্চা ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষ নিজের বুদ্ধি ও বিবেককে বৃদ্ধি ও বিকশিত করতে পারে। অন্য কোনো প্রাণী বা বৃক্ষলতা তা পারে না। জন্মের পর তাদের শুধু দৈহিক বৃদ্ধি হয়, কিন্তু মনের বিকাশ হয় না। কিন্তু তরুলতা ও পশুপাখির তুলনায় মানুষ সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। জন্মের সময় মানুষ পশু প্রবৃত্তি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। জন্ম পরবর্তী সময়ে বিদ্যা–শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করে মানবিক গুণসম্পন্ন হয়।

এ মানবিক গুণই তাকে তরুলতা ও পশুপাখি থেকে আলাদা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করে। তাছাড়া জীবন চলার পথে মানুষের অনেক কিছুর প্রয়োজন হয়। এ প্রয়োজন মিটানোর জন্য মানুষকে একে একে অনেক কিছুই আবিষ্কার করতে হয়; যা তরুলতা কিংবা পশুপাখির বেলায় কল্পনাও করা যায় না। এ আবিষ্কারের জন্যও মানুষকে দীর্ঘ গবেষণা করতে হয়। প্রকৃতির নিয়মে জন্মলাভ করেই তরুলতা ও পশুপাখি তরুলতা ও পশুপাখি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। কিন্তু মানুষ হওয়ার জন্যে মানুষকে মনুষ্যত্ব অর্জন করতে হয়। কিন্তু মনুষ্যত্ব অর্জন করা খুবই কঠিন। প্রাণপণ চেষ্টা ও নিরবচ্ছিন্ন সাধনার মধ্য দিয়ে মনুষ্যত্ব অর্জন করতে হয়।

সম্প্রতি হোমনা থেকে মুরাদনগরে বাবার বাড়ি বেড়াতে আসা এক নারীকে পাঁচকিত্তা গ্রামের শহিদ মিয়ার ছেলে ফজর আলী কৌশলে ঘরের দরজা খুলে ধর্ষণ করেন। ঘটনার সময় আশপাশের কয়েকজন লোকজন ঘটনাস্থলে এসে ভুক্তভোগী নারীকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখে ভিডিও ধারণ করে এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। ধর্ষণ ও ভিডিও ছড়ানোর ঘটনায় প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার করেন পুলিশ ৫ জনকে।

এমন আরো অনেক অপরাধই সমাজে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। এমন সব সংবাদ আমরা গণমাধ্যমে দেখি, তাতে আমাদের শিউরে উঠতে হয়। এসব ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, সমাজে ক্রমশ নীতি-নৈতিকতাহীন অমানুষের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে, আর আমরা হারিয়ে ফেলছি সামাজিক মূল্যবোধ।

সামাজিক মূল্যবোধ তথা ধৈর্য, উদারতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলা, শিষ্টাচার সৌজন্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, অধ্যবসায়, নান্দনিক সৃষ্টিশীলতা, দেশপ্রেম, কল্যাণবোধ, পারস্পরিক মমতাবোধ ইত্যাদি নৈতিক গুণাবলি লোপ পাওয়ার কারণেই সামাজিক অবক্ষয় দেখা দেয়, মানুষের মধ্যে বেড়ে যায় নানা অপরাধপ্রবণতা। যা বর্তমান সমাজে প্রকট। সামাজিক নিরাপত্তা আজ ভূলুণ্ঠিত। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে, আমরা কি এ থেকে মুক্তি পাব না?

মানুষ কি মানুষের প্রতি সহনশীল হবে না? এসব প্রশ্নের জবাব পাওয়া কঠিন হলেও এর প্রতিকারের উপায় আমাদের বের করতে হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা আশা করি, মানুষের বিবেক জাগ্রত হবে। সমাজে ফিরে আসবে নীতি-নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পানিতে পড়ে নিখোঁজ মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের লাশ উদ্ধার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

তাহিরপুর উপজেলার বড়দল গ্রামের খাল ভাঙনে ঘর ধসে রুবেল মিয়া (৩০) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রায় ৭ ঘণ্টা পর ভেঙে পড়া ঘরের নিচ থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বড়দল পুরানহাটি এলাকার মাঝের খালে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়দল পুরানহাটি এলাকার বাসিন্দা বশিরুল হকের ছেলে রুবেল মিয়া(৩০)দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাকে ঘরের ভেতরে রশি দিয়ে সবসময় বেঁধে রাখতেন। সোমবার সকালে পাহাড়ি ঢলের পানি বড়দল মাঝের খাল দিয়ে প্রবল বেগে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানির প্রবল স্রোতে খালের পাড় ভেঙে গেলে পাশেই থাকা বশিরুল হকের ঘর খালে ধসে পড়ে। এ সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা দ্রুত ঘর থেকে বের হতে সক্ষম হলেও রুবেল মিয়া বের হতে পারেননি। ঘরের একটি কুটিরের সঙ্গে বাঁধা থাকায় ঘরসহ তিনি পানিতে তলিয়ে যান।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পর বিকাল ৪টার পর দুর্ঘটনাস্থলে ভেঙে পড়া ঘরের কুটিরের নিচ থেকে রুবেল মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেন। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পর নিখোঁজ রুবেল মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মোঃ ইফতেকারুল আলম সায়েম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন বুড়িশ্চর ইউনিয়নের কৃতি সন্তান মোঃ ইফতেকারুল আলম সায়েম। তাঁর এই অর্জনে এলাকায় আনন্দ ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।দীর্ঘদিন ধরে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসা ইফতেকারুল আলম সায়েম সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়ে নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জন করেছেন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা, নিষ্ঠা ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করেছেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন।

তাঁর মূল্যানের খবরে বুড়িশ্চর ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন দায়িত্বে তিনি ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার পাশাপাশি তরুণ সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ