আজঃ সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিদর্শন করেছেন নৌবাহিনী প্রধান

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিদর্শন করেছেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। বুধবার সকালে নৌবাহিনী প্রধান এনসিটি-২ জেটিতে গিয়ে কনটেইনার হ্যান্ডলিং, কনটেইনার থেকে খালাস কিংবা জাহাজীকরণের জন্য রাখা পণ্য পরীক্ষা ও স্বয়ংক্রিয় টার্মিনাল অপারেশন সিস্টেম পরিদর্শন করেন। নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এর কার্যক্রম দেখতে এলেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নৌবাহিনী প্রধান এনসিটিতে কর্মরত চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। এ সময় চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়াল অ্যাডমিরাল এম মনিরুজ্জামানসহ ড্রাইডকের কর্মকর্তারা ছিলেন।
রোববার (৬ জুলাই) রাত ১২টা থেকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সামরিক জাহাজ মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড, যেটি বন্দরের সীমানায় অবস্থিত। এর আগে, প্রায় ১৫ বছর ধরে এনসিটি পরিচালনা করে আসছিল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড। ৬ জুলাই তাদের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর সরকার মেয়াদ আর না বাড়িয়ে ড্রাইডকের মাধ্যমে আপাতত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এনসিটি চট্টগ্রাম বন্দরে প্রথম নির্মিত ও সবচেয়ে বড় টার্মিনাল, যাতে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য কী গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ আরও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি আছে। টার্মিনালটি পরিচালনার জন্য একসঙ্গে অন্তত ৭৭ জন আরটিজি অপারেটর, ৩০ জন কিউজিসি অপারেটর, ৩২ জন স্ট্র্যাডাল ক্যারিয়ার অপারেটর, ১২ জন এম্পটি হ্যান্ডলার অপারেটর, ৬ জন হারবার ক্রেন অপারেটর ছাড়াও ১৪টি গ্যান্ট্রি ক্রেন চালানোর অপারেটর প্রয়োজন হয়। চট্টগ্রাম বন্দরে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে হ্যান্ডলিং হওয়া ৩২ লাখ টিইইউস কনটেইনারের মধ্যে ৪৪ শতাংশ এককভাবে পরিচালনা হয়েছে এনসিটি থেকেই।

২০০৭ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষ এক হাজার মিটার দৈর্ঘ্যের এ টার্মিনালটি নির্মাণ করে। এরপর বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেরাই প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করে। শুরু থেকেই বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবি ছিল, এনসিটি বন্দরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করার। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর এনসিটি পরিচালনার ভার তুলে দেয় বেসরকারি সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের হাতে। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার রুহুল আমিন তরফদার আওয়ামী লীগের ক্ষমতাধর মন্ত্রী-এমপিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এর ফলে শুধুমাত্র এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েই তরফদার চট্টগ্রাম বন্দরে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে অভিযোগ আছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাইফ পাওয়ারটেকের মেয়াদ শেষের পর এনসিটি পরিচালনার ভার দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার প্রাক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় তারা সে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যেতে পারেনি।

এরপর অন্তর্র্বতীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসে এনসিটি পরিচালনার ভার ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখে। গত ১৪ মে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনে এসে বন্দর ব্যবস্থাপনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদেশি সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করার অভিমত জানান। তিনি বক্তব্যে বলেন, ‘বন্দর ব্যবস্থাপনায় পৃথিবীর সেরা যারা তাদের হাতে ছেড়ে দিতে হবে, যেভাবেই হোক। মানুষ রাজি না থাকলে তাদের রাজি করাতে হবে। মানুষকে গররাজি করিয়ে করার দরকার নেই, রাজি করিয়েই করতে হবে।’

অন্তবর্তী সরকারের মতামত প্রকাশ্য হওয়ার পর চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা এর বিরোধিতা শুরু করেন। বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সহযোগী শ্রমিক সংগঠনগুলো গত একমাস ধরে বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে মিছিল-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। বামপন্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ‘সাম্রাজবাদবিরোধী দেশপ্রেমিক জনগণ’ ব্যানারে ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডমার্চ করেছে গত ২৭ ও ২৮ জুন। তবে এত বিরোধিতার মধ্যেও সরকার ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে এনসিটির পরিচালনার ভার দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটুট আছে, এমন ইঙ্গিত মিলেছে সম্প্রতি নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেনের কথায়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের কারচুরি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সদ্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের কারচুরি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনির। তবে অভিযোগপত্র পাঠ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে একের পর এক প্রশ্নের জবাব দিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত দ্রুত সংবাদ সম্মেলন শেষ করে বেরিয়ে যান তিনি।

১৫ ফেব্রুয়ারি সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভবনের এস রহমান হলে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৭টায় দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনির বলেন, ভোট গ্রহণ সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঠিকঠাক চলছিল। তবে দুপুরের পর কারচুপি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। কিন্তু এবিষয়ে তিনি ওইদিন অভিযোগের প্রমাণপত্র দেখাতে পারেননি তিনি।

ভোটের কারচুরি ও অনিয়ম নিয়ে থানায় বা আদালতে কোনো প্রতিকার চেয়েছেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রার্থী বলেন, এখনও পর্যন্ত থানায় কিংবা আদালতে অভিযোগ করা হয়নি। দলীয় সিদ্ধান্তের পর অভিযোগ করা হবে।

১৪৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ক্যান্টনমেন্টের দুটি কেন্দ্র ছাড়া বাকি প্রায় সব কেন্দ্রে তিনি হেরে গেছেন। এমনকি নিজের কেন্দ্র চারিয়াতেও তিনি পরাজিত হয়েছেন। এ অবস্থায় এত ব্যাপক ব্যবধানে পরাজয়ের পর ভোট কারচুপির অভিযোগ কতটা যুক্তিযুক্ত, এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এছাড়া, ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে সরব ছিল। কেন্দ্রে কোথাও অনিয়ম হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। তাহলে ভোটের দিন আপনি কোনো অভিযোগ না করে তিন দিন পর সংবাদ সম্মেলনে এসে কেন অভিযোগ তুলছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা তার বিরুদ্ধে চার থেকে পাঁচটি চেক প্রতারণা মামলার অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরেন। জবাবে প্রার্থী বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, চেক প্রতারণার বিষয়ে কাগজ দেখান আমাকে, কে এই তথ্য দিয়েছে তা জানান। এরপর উপস্থিত সাংবাদিকরা বলেন, সোর্সের নাম প্রকাশ করতে তারা বাধ্য নন।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগের দিনই তাকে জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এরপর তিনি খেলাফত আন্দোলনের ‘রিকশা’ প্রতীকে প্রচারণা চালান। পাশাপাশি হেফাজতের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার কারণে হেফাজত অধ্যুষিত এলাকায় ওই সংগঠন তার পক্ষে মাঠে নামেনি, এমন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নির্বাচনের একদিন আগে বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে তার লোকজনকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল। ফলে তার কর্মীরা মাঠে কাজ করতে পারেনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ ওঠে, তিনি ব্যারিস্টার আনিসের টাকায় নির্বাচন করেছেন। আলোচনায় থাকার উদ্দেশ্যে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে নানা অভিযোগ আছে বলে প্রশ্ন করা হলে এসব প্রশ্নের জবাব না দিয়েই এক পর্যায়ে দ্রুত সংবাদ সম্মেলন শেষ করে সেখান থেকে চলে যান মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনির।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম, এনসিপির নেতা কে আই সাগর, আনোয়ার হোসাইন রব্বানী, মাওলানা মো. ঈসা ও মুফতি সিহাবুদ্দিন সহ অনেকে।

চরফ্যাশনে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় রসুলপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম ভুট্টোকে (৪৫) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১০টার দিকে উপজেলার নজরুলনগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কলেরহাট সড়কের মাথায় এ ঘটনা ঘটে।

আলোচিত খবর

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে তার বাসায় ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে তার বাসায় যান।এ সময় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে জামায়াত আমিরের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায় পৌঁছান তিনি। এ সময় তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।বাসায় জামায়াতের নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উপস্থিত রয়েছেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ