আজঃ বুধবার ২১ জানুয়ারি, ২০২৬

৬৫ তম জন্মদিনে প্রকাশিত হলো কবি কায়সার আহমেদ দুলালের ৩ টি অনন্য কাব্যগ্রন্থ ।

রিপন শান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দক্ষিণ বাংলার বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ , সাংবাদিক, কবি কায়সার আহমেদ দুলালের আজ ৬৫ তম জন্মদিন । দিনটির সৌরভকে ধারণ করে দেশের নান্দনিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাধুর্য প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে কবির আরো ৩ টি কাব্যগ্রন্থ- মন ফির যায় মাটির কাছে, মনের গহীনে লুকানো জীবন এবং গাঁয়ের ছড়া । নানাবিধ লোকজ উপাদান ও বিচিত্র বিষয়ে ভরপুর আকর্ষণীয় প্রচ্ছদের বই তিনটি পাঠক মহলে দারুন সাড়া ফেলবে বলে বিশ্বাস করেন কবির ভক্তসমাজ ।

চরফ্যাসন সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, জাতীয় কবিতা পরিষদ ভোলার সভাপতি বহুমাত্রিক লেখক গবেষক সাংবাদিক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কবি কায়সার আহমেদ দুলাল মাটিবর্তি মানুষের জীবনবোধ, গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধের অনিমিখ চেতনা ও সমকালীন সাহিত্য সংস্কৃতির মানবতাবাদী আদর্শে উজ্জীবিত একজন সাদামনের মানুষ । কবি কায়সার আহমেদ দুলাল ১৯৬০ সালের ৯ জুলাই দ্বীপজেলা ভোলার উপকূলীয় জনপদ চরফ্যাসন উপজেলার আমিনাবাদ গ্রামের এক শিক্ষামনস্ক পরিবারে জন্মগ্রহন করেন । সরকারি প্রাইমারি স্কুলের ছাত্রপ্রিয় সাবেক শিক্ষক পিতা আব্দুস সোবহান মিয়া ও গৃহিণী মাতা হালিমা খাতুনের আদরের ‘দুলাল’ বাবার একান্ত আগ্রহে বাংলা সাহিত্যে সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন ।
তিনি ১৯৮৭ সালে চরফ্যাসন সরকারি কলেজে বাংলা বিষয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন। ছাত্রজীবন থেকেই সাংবাদিকতা, সামাজিক সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন কায়সার আহমেদ দুলাল । ১৯৯১ সালে জননেতা অধ্যক্ষ এম এম নজরুল ইসলাম (সাবেক এমপি) সাপ্তাহিক উপকূল পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করলে তিনি সেখানে সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন এবং দীর্ঘদিন সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রজীবনে কবি আহসান হাবীব, কবি সুফিয়া কামাল, কবি শামসুর রাহমান, কবি আসাদ চৌধুরী, কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ, অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী , কবি নাসির আহমেদসহ দেশবরেণ্য লেখক সাহিত্যিকদের নিবিড় সান্নিধ্য পেয়েছেন তিনি । তাঁর রকমারি স্বাদ ও গন্ধের বই- পথের পান্ডুলিপি, পলিমাটির পদবাচ্য, করোনাবন্দির জবানবন্দি, উপকূল সম্পাদকীয় এবং চরফ্যাসনে মুক্তিযুদ্ধে’র মোড়ক উন্মোচন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ। কোরক মুক্তির যন্ত্রণা, হৃদয়ের জলছাপ, আশার অরুণ আলো, বিষন্ন পাথর কবি কায়সার আহমেদ দুলাল রচিত অনন্য কাব্যগ্রন্থ।
কায়সার আহমেদ দুলাল চরফ্যাসন প্রেসক্লাবের একটানা পাঁচবছর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতীয় কবিতা পরিষদ ভোলার সভাপতি। ভোলা দক্ষিণ প্রেসক্লাবের সিনিয়র উপদেষ্টা। তিনি ওসমানগঞ্জ আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব কলেজ এবং বেগম রহিমা ইসলাম কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ছিলেন । কায়সার আহমেদ দুলাল সাহিত্য সংস্কৃতিতে নিরন্তর অবদানের জন্য লালমোহন মিডিয়া ক্লাব পুরস্কার ২০২০ ভূষিত হয়েছেন । কবি ও নাট্যকার কায়সার আহমেদ দুলাল বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের অধিভুক্ত নাট্য সংগঠন মালঞ্চ নাট্যম চরফ্যাসনের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৮৪ সালে তিনি মালঞ্চ নাট্যম প্রতিষ্ঠা করেন । একই বছর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ভোরের পাখি সাহিত্য আসর । তাঁর জন্মগ্রাম আমিনাবাদ থেকে সাহিত্য সংগঠনটির শুভযাত্রা । সেসময় তাঁর সম্পাদনায় ভোরের পাখি শীর্ষক সাহিত্য ম্যাগাজিন নিয়মিত প্রকাশ হতো । তাঁর রচিত ‘ঝড় ও জীবন’ , ‘ লাল সূর্যের নীচে’ , ‘বেড়ির পাড়ের মানুষ ‘ মালঞ্চ নাট্যম কর্তৃক একাধিকবার মঞ্চায়িত হয় ।
চরফ্যাসন সরকারি কলেজের অধ্যাপনা থেকে অধ্যক্ষ জীবনে আধুনিক মননশীল ও যুগোপযোগী শিক্ষাবিস্তারে অধ্যক্ষ কায়সার আহমেদ দুলালের অবদান উপকূলীয় জনজীবনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে ।

জাতীয় কবিতা পরিষদ ভোলার সভাপতি কবি কায়সার আহমেদ দুলালকে ৬৫ তম জন্মদিনে হিজল বরুণ কদমের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন- জাতীয় কবিতা পরিষদ ভোলার উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান কবি নাসির আহমেদ, উপদেষ্টা কবি হাসান মাহমুদ, কবি শাহ মতিন টিপু, কবি আনজামুল আলম মুনীর, সহ-সভাপতি কবি দিলরুবা জ্যাসমিন, কবি মিলি বসাক, কবি ফিরোজ মাহমুদ, কবি মহিউদ্দিন মহিন, সাধারণ সম্পাদক কবি রিপন শান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবি আল মনির, কবি গাজী তাহের লিটন , সাংগঠনিক সম্পাদক কবি নীহার মোশারফ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক কবি জুলফিকার আলী, নির্বাহী সদস্য কবি ইমরান মাঝি,কবি ফারজানা স্নিগ্ধা, সঞ্চিতা দেবনাথ, নজরুল ইসলাম জামাল প্রমুখ ।
ভোলা দক্ষিণ প্রেসক্লাবের সিনিয়র উপদেষ্টা বিশিষ্ট সাংবাদিক শিক্ষাবিদ কায়সার আহমেদ দুলালকে লালগোলাপ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন-দৈনিক বাংলা খবর সম্পাদক কিরণ শর্মা, দৈনিক মাতৃজগত সম্পাদক খান সেলিম রহমান, দৈনিক অমৃতালোক সম্পাদক আহাদ চৌধুরী তুহিন, দৈনিক বাংলাদেশ বাণীর সম্পাদক আযাদ আলাউদ্দিন, ভোলা দক্ষিণ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম আকাশ, হেলাল উদ্দিন নয়ন, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম রণি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিব ইশতিয়াক আহমদ,মিজান পাটোয়ারী, সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান মোর্শেদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এসএম মামুন হোসাইন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইস্রাফিল নাঈম, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক নুরুল্লাহ আরিফ,নির্বাহী সদস্য মোঃ রাকিব হোসেন, আখতার হোসেন শাকিল , সদস্য মনির আসলামী, তামীম সাদী মান্নান , ইলিয়াস সানি প্রমুখ ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম অঞ্চলের লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডে অংশ নিল ৩৪৫ শিক্ষার্থী।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: তৃতীয়বারের মতো দেশব্যাপী লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড আয়োজন করেছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট। এরই ধারাবাহিকতায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো এই প্রতিযোগিতা। শনিবার চট্টগ্রামের জামালখানের ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বর্ণাঢ্য এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।পরবর্তীকালে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড চট্টগ্রাম অঞ্চল পর্বের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক, মাতৃভাষা গবেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক (উপসচিব) আবুল কালাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডের সদস্যসচিব ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক (প্রশাসন) প্রফেসর ড. খিলফাত জাহান যুবাইরাহ্। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মো. ফজলুল কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহ আলম, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক হাবিবুর রহমান ও ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাহেদা আক্তার।

এ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম অঞ্চল ষষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি (ক) ক্যাটাগরিতে ২৩৩ জন এবং দশম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি (খ) ক্যাটাগরিতে ১১২ জন শিক্ষার্থী এবং সর্বমোট ৩৪৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডের নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড-এর মূল্যায়ন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফলাফল ঘোষণা পর্বে ভাষাবিজ্ঞানী ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, মাতৃভাষা চর্চার মধ্য দিয়েই একটি জনগোষ্ঠী তার মনন, মেধা ও চিন্তা প্রকাশ করে। পৃথিবীতে অনেক মাতৃভাষা বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে এসব ভাষা সঠিকভাবে চর্চা না করলে তা মৃত্যুমুখে পতিত হবে। মাতৃভাষা হারিয়ে যাওয়া মানে ওই ভাষার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও সভ্যতা বিলীন হয়ে যাওয়া। কাজেই বিপন্ন ভাষা চর্চা, অনুশীলন, পুনরুজ্জীবন, নথিবদ্ধকরণ আবশ্যক। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট এ কাজটি করে যাচ্ছে।

সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীবৃন্দ ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও উত্তরপর্বে অংশগ্রহণ করে। আমন্ত্রিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর প্রদান করে ফলাফল ঘোষণা করেন এবং সভাপতি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ২০২৪ সালে প্রথমবার লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড আয়োজন করে। লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড দুটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয় ক-ক্যাটাগরি: ষষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি এবং খ-ক্যাটাগরি: ১০ম থেকে ১২শ শ্রেণি। লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড-২০২৬ অংশগ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইট িি.িরসষর.মড়া.নফ-এ প্রবেশ করে লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড ২০২৬ সেবাবক্স থেকে রেজিস্ট্রেশন লিংকে ক্লিক করে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে।

এ বছর লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা অঞ্চলসহ মোট ১০টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি অঞ্চল থেকে ক-ক্যাটাগরিতে ১০ জন করে মোট ১০০ জন এবং খ-ক্যাটাগরিতে ১০ জন করে মোট ১০০ জন চূড়ান্ত পর্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকায় অনুষ্ঠেয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে। চূড়ান্ত পর্বে ২ ক্যাটাগরিতে ৩ জন করে মোট ৬ জন প্রধান উপদেষ্টার নিকট থেকে একুশের অনুষ্ঠানমালায় পুরস্কার গ্রহণ করবে এবং ক ও খ ক্যাটাগরি থেকে প্রথম স্থান অধিকারী ২ জন এ বছর অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

যুদ্ধের গর্ভে জন্ম, মানবতার নেতা শাইখুল আজহার ড. আহমেদ তৈয়ব হাফি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইতিহাস কোনো কোনো মানুষকে শুধু জন্ম দেয় না—তাদের নির্মাণ করে সময়ের নিষ্ঠুর হাতুড়িতে। যুদ্ধ, উদ্বাস্তুতা, স্মৃতি ও সাধনার দীর্ঘ পথে হাঁটিয়ে তারা হয়ে ওঠে একটি যুগের নৈতিক প্রতিনিধি। শাইখুল আজহার, ইমামুল আকবর ড. আহমেদ তৈয়ব (হাফিযাহুল্লাহ্) তেমনই এক বিরল ব্যক্তিত্ব, যাঁর জীবন আধুনিক মুসলিম বিশ্বের ব্যথা, প্রতিরোধ ও বিবেকের এক গভীর ভাষ্য।

ড. আহমেদ তৈয়ব জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৬ সালের ৬ জানুয়ারি, মিশরের ঐতিহাসিক লুক্সুর অঞ্চলের এক প্রাচীন গ্রামে। নীলনদের তীরঘেঁষা এই ভূমি শুধু ফেরাউনদের নয়, বরং নবুয়তের স্মৃতি, আলেমদের সাধনা ও সভ্যতার দীর্ঘ উত্তরাধিকার বহন করে। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বংশধর—একটি পরিচয় যা তাঁর জীবনে গৌরবের অলংকার হয়ে নয়, বরং দায়িত্বের ভার হয়ে উপস্থিত ছিল। এই বংশপরিচয় তাঁকে শিখিয়েছে বিনয়, ন্যায়বোধ এবং মানুষের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা।

তাঁর শৈশব কেটেছে অস্থির সময়ের গর্ভে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত তখনো শুকায়নি, আর মধ্যপ্রাচ্য প্রবেশ করছিল নতুন সংঘাতের যুগে। ১৯৫৬ সালের আরব–ইসরায়েল যুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন এক শিশু। বোমার শব্দ আর বিস্ফোরণের ভয় থেকে বাঁচতে তাঁকে আশ্রয় নিতে হয়েছিল পাহাড়ের গুহায়। সেই গুহা ছিল না কোনো কাব্যিক রূপক; ছিল যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতা, যেখানে একটি শিশুর চোখে সহিংসতা প্রথমবারের মতো তার নগ্ন রূপ মেলে ধরেছিল।

এই অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনকে ভেঙে দেয়নি—বরং ভিত গড়ে দিয়েছে। সেখান থেকেই তাঁর মনে জন্ম নেয় এই উপলব্ধি যে, অস্ত্র দিয়ে মানুষকে পরাস্ত করা যায়, কিন্তু ন্যায় ও জ্ঞান ছাড়া মানবতাকে রক্ষা করা যায় না। এই উপলব্ধিই তাঁকে আল-আজহারের পথে নিয়ে যায়—যেখানে ইসলামকে তিনি খুঁজে পান ভারসাম্য, প্রজ্ঞা ও মানবিকতার ধর্ম হিসেবে।

দীর্ঘ অধ্যয়ন, আত্মসংযম ও সাধনার মধ্য দিয়ে ড. আহমেদ তৈয়ব নিজেকে গড়ে তোলেন এমন এক আলেম হিসেবে, যিনি ঐতিহ্যকে ধারণ করেন কিন্তু সময়কে অস্বীকার করেন না। তাঁর চিন্তায় কুরআন ও সুন্নাহর গভীরতা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে আধুনিক বিশ্বের জটিল বাস্তবতা বোঝার সক্ষমতা। এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে আল-আজহারের শীর্ষ নেতৃত্বে নিয়ে আসে—এক হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো এই প্রতিষ্ঠানের কণ্ঠকে তিনি সমকালীন বিশ্বের সঙ্গে সংলাপে যুক্ত করেন।

শাইখুল আজহার হিসেবে তাঁর অবদান কেবল প্রশাসনিক নয়; তা নৈতিক ও ঐতিহাসিক। তিনি ধর্মের নামে সহিংসতা, চরমপন্থা ও বিকৃত ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর কণ্ঠে ইসলাম কখনো প্রতিশোধের ভাষায় কথা বলে না; কথা বলে ন্যায়, দয়া ও সহাবস্থানের ভাষায়। আন্তধর্মীয় সংলাপ, মানবিক সহনশীলতা এবং বিশ্বশান্তির প্রশ্নে তিনি আজ মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নৈতিক কণ্ঠস্বর।

আজ, যখন তিনি ৮০ বছরে পদার্পণ করেছেন, ড. আহমেদ তৈয়ব কেবল আল-আজহারের শাইখ নন—তিনি এক সময়ের বিবেক। যুদ্ধের গুহায় আশ্রয় নেওয়া সেই শিশুটি আজ আল-আজহারের মিনার থেকে বিশ্বমানুষের উদ্দেশে শান্তি ও মানবতার আহ্বান জানান।

তাঁর জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃত নেতৃত্ব জন্ম নেয় না ক্ষমতার করিডরে। তা জন্ম নেয় স্মৃতির ভার, সহনশীলতার সাধনা এবং মানুষের জন্য কিছু করার নিঃশব্দ প্রতিজ্ঞা থেকে। ইতিহাস তাই তাঁকে শুধু একজন আলেম হিসেবে নয়, এক যুগের নৈতিক কণ্ঠস্বর হিসেবেই স্মরণ করবে।

আলোচিত খবর

গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে প্রধান উপদেষ্টা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Oplus_131072

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গণভবনে তৈরি করা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

Oplus_131072

রাজনৈতিক দলের নেতা ও সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টাদের নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি ঘুরে দেখেন তিনি।


রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা ও সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ ঘুরে দেখেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
ছবি: পিআইডি

আরও পড়ুন

সর্বশেষ