আজঃ বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬

সিভাসু’তে সুরিমি পণ্যের প্রদর্শনী ‘প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করবে সুরিমি পণ্য’

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মাছের পেস্ট বা কিমা থেকে তৈরি ‘সুরিমি’ পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে প্রোটিনের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) অনুষ্ঠিত একটি গবেষণা প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে গবেষকেরা এই তথ্য জানান। সকাল ১০টায় সিভাসু অডিটোরিয়ামে ‘ডেমোনেস্ট্রেশন ওয়ার্কশপ ও ফুড ফেয়ার’ শীর্ষক উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভাসু’র উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান।

অনুষ্ঠানে উৎপাদিত সুরিমিভিত্তিক বিভিন্ন খাদ্যপণ্য, যেমন: ফিশ বল, ফিশ কেক, ফিশ রোল, ফিশ নাগেট, ফিশ বার্গার এবং ফিশ কাবাব ইত্যাদি প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই সুরিমিভিত্তিক এই খাদ্যপণ্যসমূহ উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রকল্পের ওপর প্রেজেন্টেশন দেন সিভাসু’র কোষাধ্যক্ষ এবং প্রকল্পের প্রধান গবেষক প্রফেসর ড. মো: কামাল। প্রেজেন্টেশনে তিনি গবেষণা কার্যক্রম বিস্তারিত তুলে ধরেন। এই সময় তিনি বলেন, মাছের মাথা, কাটা ও আবর্জনা বাদ দিয়ে যে অংশ থাকে তা দিয়ে যে পেস্ট বা কিমা তৈরি হয় তাকে সুরিমি বলে।এই সুরিমি দিয়ে সিঙ্গারা, সমুচা, ফিশ বল, ফিশ কেক, ফিশ বার্গার, ফিশ রোল ইত্যাদি নানা মুখরোচক খাবার তৈরি করা যায়।

জাপান, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামের মতো দেশে এটি বহুদিন ধরে জনপ্রিয় হলেও, বাংলাদেশে এখনো এটি একটি নতুন ধারণা। তিনি আরও বলেন, মাছের পেস্ট বা কিমা থেকে তৈরি ‘সুরিমি’ পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে প্রোটিনের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব। এছাড়া, এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।

সিভাসু’র পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) প্রফেসর ড. মো: ইউসুফ এলাহী চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. শেখ আহমাদ আল নাহিদ, মৎস্য অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মো: আনোয়ার হোসেন এবং মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ দপ্তর, চট্টগ্রামের উপপরিচালক ড. মঈন উদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সিভাসু’র ফিশিং ও পোস্ট-হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মো: ফয়সাল। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রকল্পের সহকারী প্রধান গবেষক ও হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক চয়নিকা পন্ডিত।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিভাসু’র উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন,‘সিভাসু’তে ফিশারিজ অনুষদের যাত্রার শুরু থেকে আমরা অনবরত দেশের মৎস্য সেক্টরের উন্নয়নে শিক্ষা এবং গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। আমরা চাই এই দেশের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন। আমরা চাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং মানুষের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে। কারণ আমরা যদি সুষম প্রোটিন নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে আমরা কখনোই একটি সুস্থ, সবল এবং মেধাবী জাতি গঠন করতে পারবো না।’ বিশ্ববিদ্যালয়, মৎস্য অধিদপ্তর এবং ফিশিং ট্রলার মালিকদের সমন্বয়ে একযোগে কাজ করলে এই প্রকল্পের সুফল পাওয়া যাবে বলে উপাচার্য আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, মাছ ধরার ট্রলার ও সুপার চেইনের প্রতিনিধিবৃন্দ, মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা , সিভাসু’র শিক্ষক এবং প্রজেক্ট টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এবং উপকূলীয় অঞ্চলে স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে টেকসই উপকূলীয় এবং সামুদ্রিক মৎস্য প্রকল্প, মৎস্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

হাল্ট প্রাইজ জুনিয়র্স: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নবপ্রজন্মের উদ্ভাবনী মিলনমেলা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিসারিজ অডিটোরিয়ামে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে হাল্ট প্রাইজ জুনিয়র্স অনুষ্ঠান। হাল্ট প্রাইজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত এই আয়োজনটি  স্কুল-কলেজের তরুণ উদ্ভাবক ও নেতৃত্বকে একত্রিত করে সৃজনশীলতা ও সামাজিক উদ্ভাবন উদযাপনের এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুর রশিদ সোহাগ, প্রতিষ্ঠাতা, সিইও ও চেয়ারম্যান, পিউপিল স্কুল বাস লিমিটেড; সারফুদ্দিন, সিনিয়র এরিয়া ম্যানেজার, রবি আজিয়াটা লিমিটেড; মো. মুফিদুর রহমান, প্রভাষক, ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; এবং মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন, হাল্ট প্রাইজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা;অধ্যাপক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও পরিচালক;আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দপ্তর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল নার্গিস ফাতেমা-এর মূল বক্তব্য, যেখানে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু হওয়া নিজের অনুপ্রেরণামূলক যাত্রার গল্প তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য প্রমাণ করে যে, প্রভাবশালী ধারণার সূচনা যেকোনো বয়সেই হতে পারে।

এ বছর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট ২০টি দল নিবন্ধন করে, যার মধ্যে নির্বাচিত কয়েকটি দল অনুষ্ঠানে তাদের উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করে। প্রতিযোগিতায় টিম “ইকোজিরকন (EcoZircon)” সেরা দল নির্বাচিত হয়, টিম “টম অ্যান্ড জেরি (Tom & Jerry)”  প্রথম রানার-আপ এবং টিম “অ্যাকোয়া ফাইবার (Aqua Fiber)” দ্বিতীয় রানার-আপ নির্বাচিত হয়।

অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয় হাল্ট প্রাইজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ অনিক (২০২৫–২৬)-এর নেতৃত্বে। এতে কাজী মুহাইমিনুল ইসলাম মুনাজ চিফ অব স্টাফ এবং কারিন সাফফানা চিফ স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পুরো আয়োজনের সফল বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেন কমিউনিটি এনগেজমেন্ট টিম-এর প্রধান নিশাত তাহসিন চৌধুরী লামিয়া ও তানজিফ হাসান, পাশাপাশি জাজেস অ্যান্ড পার্টিসিপ্যান্টস ম্যানেজমেন্ট টিম-এর প্রধান শাজিয়া রহমান ও রাহবার করিম।

হাল্ট প্রাইজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবারও প্রমাণ করেছে যে এটি তরুণ নেতৃত্ব বিকাশ এবং সাহসী চিন্তা ও সীমাহীন স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণাদায়ক একটি কার্যকরী প্ল্যাটফর্ম।

গ্রন্থাগার সমাজ উন্নয়নের এক শক্তিশালী বাহন ঃ চুয়েট ভিসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া মহোদয় বলেছেন, গ্রন্থাগার কেবল বই সংরক্ষণের স্থান নয় বরং এটি সমাজ উন্নয়নের এক শক্তিশালী বাহন। যে জাতির গ্রন্থাগার যত সমৃদ্ধ, সে জাতি তত উন্নত ও অগ্রসর। একটি জাতির মেধা, মনন, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির ধারক ও লালনকারী হিসেবে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অপরিসীম। সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রন্থাগারের ভূমিকা সুদূরপ্রসারী এবং দীর্ঘস্থায়ী।

বৃহস্পতিবার চুয়েটের একাডেমিক কাউন্সিল কক্ষে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির উদ্যোগে “জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস-২০২৬”-এর আলোচনা সভা ও “অনলাইন এসডিআই সার্ভিস এন্ড অনলাইন মেম্বারশীপ সিস্টেম ইন সেন্ট্রাল লাইব্রেরি” শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুর ও পরিবেশ কৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. আসিফুল হক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু কাউছার। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন চুয়েটের সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল আজিজ আবির। চীফ লাইব্রেরিয়ান মোঃ আব্দুল খালেক সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান জনাব মোহাঃ নাসিরুজ্জামান।

এতে সঞ্চালনা করেন সহকারী লাইব্রেরিয়ান শারমিন সুলতানা তমা।উল্লেখ্য, “জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস-২০২৬” উপলক্ষে এক বণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। বিকালে অনলাইন এসডিআই সার্ভিস এন্ড অনলাইন মেম্বারশীপ সিস্টেম ইন সেন্ট্রাল লাইব্রেরির উপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন চীফ লাইব্রেরিয়ান মোঃ আব্দুল খালেক সরকার।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ