আজঃ বুধবার ২১ জানুয়ারি, ২০২৬

সিভাসু’তে সুরিমি পণ্যের প্রদর্শনী ‘প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করবে সুরিমি পণ্য’

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মাছের পেস্ট বা কিমা থেকে তৈরি ‘সুরিমি’ পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে প্রোটিনের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) অনুষ্ঠিত একটি গবেষণা প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে গবেষকেরা এই তথ্য জানান। সকাল ১০টায় সিভাসু অডিটোরিয়ামে ‘ডেমোনেস্ট্রেশন ওয়ার্কশপ ও ফুড ফেয়ার’ শীর্ষক উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভাসু’র উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান।

অনুষ্ঠানে উৎপাদিত সুরিমিভিত্তিক বিভিন্ন খাদ্যপণ্য, যেমন: ফিশ বল, ফিশ কেক, ফিশ রোল, ফিশ নাগেট, ফিশ বার্গার এবং ফিশ কাবাব ইত্যাদি প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই সুরিমিভিত্তিক এই খাদ্যপণ্যসমূহ উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রকল্পের ওপর প্রেজেন্টেশন দেন সিভাসু’র কোষাধ্যক্ষ এবং প্রকল্পের প্রধান গবেষক প্রফেসর ড. মো: কামাল। প্রেজেন্টেশনে তিনি গবেষণা কার্যক্রম বিস্তারিত তুলে ধরেন। এই সময় তিনি বলেন, মাছের মাথা, কাটা ও আবর্জনা বাদ দিয়ে যে অংশ থাকে তা দিয়ে যে পেস্ট বা কিমা তৈরি হয় তাকে সুরিমি বলে।এই সুরিমি দিয়ে সিঙ্গারা, সমুচা, ফিশ বল, ফিশ কেক, ফিশ বার্গার, ফিশ রোল ইত্যাদি নানা মুখরোচক খাবার তৈরি করা যায়।

জাপান, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামের মতো দেশে এটি বহুদিন ধরে জনপ্রিয় হলেও, বাংলাদেশে এখনো এটি একটি নতুন ধারণা। তিনি আরও বলেন, মাছের পেস্ট বা কিমা থেকে তৈরি ‘সুরিমি’ পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে প্রোটিনের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব। এছাড়া, এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।

সিভাসু’র পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) প্রফেসর ড. মো: ইউসুফ এলাহী চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. শেখ আহমাদ আল নাহিদ, মৎস্য অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মো: আনোয়ার হোসেন এবং মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ দপ্তর, চট্টগ্রামের উপপরিচালক ড. মঈন উদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সিভাসু’র ফিশিং ও পোস্ট-হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মো: ফয়সাল। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রকল্পের সহকারী প্রধান গবেষক ও হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক চয়নিকা পন্ডিত।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিভাসু’র উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন,‘সিভাসু’তে ফিশারিজ অনুষদের যাত্রার শুরু থেকে আমরা অনবরত দেশের মৎস্য সেক্টরের উন্নয়নে শিক্ষা এবং গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। আমরা চাই এই দেশের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন। আমরা চাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং মানুষের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে। কারণ আমরা যদি সুষম প্রোটিন নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে আমরা কখনোই একটি সুস্থ, সবল এবং মেধাবী জাতি গঠন করতে পারবো না।’ বিশ্ববিদ্যালয়, মৎস্য অধিদপ্তর এবং ফিশিং ট্রলার মালিকদের সমন্বয়ে একযোগে কাজ করলে এই প্রকল্পের সুফল পাওয়া যাবে বলে উপাচার্য আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, মাছ ধরার ট্রলার ও সুপার চেইনের প্রতিনিধিবৃন্দ, মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা , সিভাসু’র শিক্ষক এবং প্রজেক্ট টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এবং উপকূলীয় অঞ্চলে স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে টেকসই উপকূলীয় এবং সামুদ্রিক মৎস্য প্রকল্প, মৎস্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে (ইউএপি) নিকাব পরা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার জেরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে দুই শিক্ষককে বহিষ্কার করার পর এবার অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের সই করা একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানাচ্ছে যে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য অনুকূল নয়।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডে অংশ নিল ৩৪৫ শিক্ষার্থী।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: তৃতীয়বারের মতো দেশব্যাপী লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড আয়োজন করেছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট। এরই ধারাবাহিকতায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো এই প্রতিযোগিতা। শনিবার চট্টগ্রামের জামালখানের ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বর্ণাঢ্য এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।পরবর্তীকালে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড চট্টগ্রাম অঞ্চল পর্বের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক, মাতৃভাষা গবেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক (উপসচিব) আবুল কালাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডের সদস্যসচিব ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক (প্রশাসন) প্রফেসর ড. খিলফাত জাহান যুবাইরাহ্। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মো. ফজলুল কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহ আলম, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক হাবিবুর রহমান ও ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাহেদা আক্তার।

এ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম অঞ্চল ষষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি (ক) ক্যাটাগরিতে ২৩৩ জন এবং দশম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি (খ) ক্যাটাগরিতে ১১২ জন শিক্ষার্থী এবং সর্বমোট ৩৪৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডের নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড-এর মূল্যায়ন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফলাফল ঘোষণা পর্বে ভাষাবিজ্ঞানী ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, মাতৃভাষা চর্চার মধ্য দিয়েই একটি জনগোষ্ঠী তার মনন, মেধা ও চিন্তা প্রকাশ করে। পৃথিবীতে অনেক মাতৃভাষা বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে এসব ভাষা সঠিকভাবে চর্চা না করলে তা মৃত্যুমুখে পতিত হবে। মাতৃভাষা হারিয়ে যাওয়া মানে ওই ভাষার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও সভ্যতা বিলীন হয়ে যাওয়া। কাজেই বিপন্ন ভাষা চর্চা, অনুশীলন, পুনরুজ্জীবন, নথিবদ্ধকরণ আবশ্যক। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট এ কাজটি করে যাচ্ছে।

সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীবৃন্দ ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও উত্তরপর্বে অংশগ্রহণ করে। আমন্ত্রিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর প্রদান করে ফলাফল ঘোষণা করেন এবং সভাপতি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ২০২৪ সালে প্রথমবার লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড আয়োজন করে। লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড দুটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয় ক-ক্যাটাগরি: ষষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি এবং খ-ক্যাটাগরি: ১০ম থেকে ১২শ শ্রেণি। লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড-২০২৬ অংশগ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইট িি.িরসষর.মড়া.নফ-এ প্রবেশ করে লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড ২০২৬ সেবাবক্স থেকে রেজিস্ট্রেশন লিংকে ক্লিক করে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে।

এ বছর লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা অঞ্চলসহ মোট ১০টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি অঞ্চল থেকে ক-ক্যাটাগরিতে ১০ জন করে মোট ১০০ জন এবং খ-ক্যাটাগরিতে ১০ জন করে মোট ১০০ জন চূড়ান্ত পর্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকায় অনুষ্ঠেয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে। চূড়ান্ত পর্বে ২ ক্যাটাগরিতে ৩ জন করে মোট ৬ জন প্রধান উপদেষ্টার নিকট থেকে একুশের অনুষ্ঠানমালায় পুরস্কার গ্রহণ করবে এবং ক ও খ ক্যাটাগরি থেকে প্রথম স্থান অধিকারী ২ জন এ বছর অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

আলোচিত খবর

গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে প্রধান উপদেষ্টা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Oplus_131072

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গণভবনে তৈরি করা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

Oplus_131072

রাজনৈতিক দলের নেতা ও সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টাদের নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি ঘুরে দেখেন তিনি।


রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা ও সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ ঘুরে দেখেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
ছবি: পিআইডি

আরও পড়ুন

সর্বশেষ