আজঃ বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামে জিকা ভাইরাসের ঝুঁকি বাড়ছে : ৬২টি বাড়িতে মিলল লার্ভা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে জিকা ভাইরাসের ঝুঁকি বাড়ছে। কয়েকদিন আগেই জানা গেছে প্রথমবারের মতো জিকা ভাইরাসের উপস্থিতির কথা। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) সাম্প্রতিক সরেজমিন তদন্তে ওঠে এসেছে এ ভাইরাসের অস্তিত্বের ভয়াবহ চিত্র।

আইইডিসিআর’র পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীনের স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়। প্রতিবেদনে একইসঙ্গে তিনটি সুপারিশ এবং চারটি পদেক্ষপ গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিস ইজিপ্টাই মশার আধিক্য চট্টগ্রামে জিকা ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত বহন করছে। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এটি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো বৃহত্তর স্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিতে পারে।

জরিপ সংশ্লিষ্টদের তথ্যে জানা যায়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৯, ১৩, ১৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়টি এলাকা এবং আটটি সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে জুলাই মাসে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জিকার তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে আইইডিসিআর’র গবেষণা দল। রোগতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে নিশ্চিত ও সন্দেহজনক জিকা রোগীদের বাসা এবং আশপাশের ৫০০ মিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় রোগীর নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়।

কীটতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে ছয়টি এলাকা- চট্টেশ্বরী রোড, ও আর নিজাম রোড, আগ্রাবাদ, পাহাড়তলী, হালিশহর ও ঝাউতলায় ১২৮টি বাড়ি পরিদর্শন করেন গবেষকরা। এরমধ্যে ৬২টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক বাড়িতেই এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পান গবেষকদল। এতে ‘ব্রুটো ইনডেক্স’ পাওয়া গেছে ৭৫ দশমিক ২৯ শতাংশ, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত ২০ শতাংশ ঝুঁকিসীমার তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি।

আইইডিসিআরের প্রতিবেদনে এই হারকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করে বলা হয়, এডিস মশার ঘনত্ব নগরীতে জিকা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের বিস্তারকে মারাত্মক রূপ দিতে পারে।এছাড়া ৪৩ দশমিক ০৪ বাড়িতে এডিস মশার উপস্থিতি পাওয়া যায়। যাকে পরিমাপের সূচক অর্থাৎ ‘হাউস ইনডেক্স’ বলা হয়। আর ৫১ দশমিক ০১ শতাংশ কনটেইনার বা পাত্রে পাওয়া যায় মশার লার্ভা। যাকে ‘কনটেইনার ইনডেক্স’ বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরীর ছয়টি এলাকা ও আট চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে গত এক সপ্তাহ ধরে পরিচালিত কীটতাত্ত্বিক জরিপে দেখা যায়, শহরের এডিস মশার মধ্যে ৬৫ শতাংশই জিকা বহনকারী এডিস ইজিপ্টাই প্রজাতির। যা প্রজননক্ষম এবং জিকা ভাইরাসের প্রধান বাহক হিসেবে পরিচিত। এটি জিকা ভাইরাস ছড়াতেও যথেষ্ট সক্ষম। শহরে জিকা ভাইরাসের সংক্রমণের উচ্চ শংকার ইঙ্গিত দেয় বলেও আইইডিসিআর এর পক্ষ থেকে বলা হয়।

চট্টগ্রাম মহানগরীর ওয়ার্ড ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টেশ্বরী এলাকায় মশার সংখ্যা নির্ধারণের সূচক ছিল ৪৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ, ও আর নিজাম রোডে ৪২ দশমিক ৮৬ শতাংশ, আগ্রাবাদে ১৩৪ দশমিক ৬২ শতাংশ, পাহাড়তলীতে ১১০ শতাংশ, হালিশহরে ৬৬দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ঝাউতলায় ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এসব মান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত ঝুঁকিপূর্ণ সীমার অনেক বেশি। যা এসব এলাকায় মশাবাহিত রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি অত্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, এমনটাই নির্দেশ করে।

অন্যদিকে, মশার লার্ভা পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৬৫ শতাংশ ছিল এডিস ইজিপ্টাই প্রজাতির মশার লার্ভা, যা জিকা ভাইরাস বহনে বিশেষভাবে সক্ষম। আর ৩২ দশমিক ৬৪ শতাংশ ছিল এডিস আলবোপিকটাস প্রজাতির এবং ছোট অংশে উভয় প্রজাতির মিশ্র লার্ভাও পাওয়া গেছে। এডিস ইজিপ্টাই মশার আধিক্য এই এলাকায় জিকা ভাইরাস দ্রুত ছড়ানোর আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আইইডিসিআর’র পক্ষ থেকে সরেজমিনে তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দিয়েছেন। প্রতিবেদনটি আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সাপ্তাহিক বাণিজ্যিক রাজধানী পত্রিকার ইফতার মাহফিল ও “বাণিজ্যিক রাজধানী—প্রহসন নয়, বাস্তবায়ন চাই” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য এবং “বাণিজ্যিক রাজধানী—প্রহসন নয়, বাস্তবায়ন চাই” শীর্ষক এক আলোচনা সভা শনিবার ১৪ মার্চ বিকেল ৪টায় নগরীর মোমিন রোডস্থ চট্টগ্রাম একাডেমির ফয়েজ নুর নাহার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পত্রিকার উপদেষ্টা ও টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব মোঃ নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নির্ধারিত প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: মঞ্জুরুল কিবরিয়া।

নগরীতে একাধিক ইফতার মাহফিল ও তীব্র যানজটের অনিবার্য কারণে নির্ধারিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত হতে না পারায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়ন পর্ষদ এর কার্যকরী সভাপতি আলহাজ্ব শাহসূফি শাহজাদা সৈয়দ সিরাজুদ্দৌলা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়ন পর্ষদ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী গোলাপ রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন উদ্যোক্তা, গবেষক ও সংগঠক সিআরবির সমন্বয়ক জিয়াউল হক খন্দকার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ সিরাজুদ্দৌলা বলেন, মাহে রমজান সংযম, আত্মশুদ্ধি ও মানবিকতার মাস। এই মাস মানুষের ভেতরের নৈতিক শক্তিকে জাগ্রত করে এবং সমাজে ন্যায়, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক রাজধানীর দাবিটি অনেক সময় কেবল কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। এখন সময় এসেছে বাস্তব উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করার।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যানজট নিরসন এবং বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নতির মাধ্যমে নগরীর অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে অত্র সংগঠন ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে আগ্রহী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সাপ্তাহিক বাণিজ্যিক রাজধানী পত্রিকার সম্পাদক ও দৈনিক ঘোষণা পত্রিকার বোয়ালখালী প্রতিনিধি আলমগীর রানার সঞ্চালনে অনুষ্ঠিত এ সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক আবদুল্লাহ মজুমদার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক সোনার বাংলার চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ইমরান হোসেন। দৈনিক বর্তমান বাংলার প্রধান সমন্বয়কারী সিরাজুল মনির। মানবাধিকারকর্মী শাহজালাল।
উপস্থিত ছিলেন দৈনিক দেশবার্তার ব্যুরোচীফ মো: আনিসুর রহমান ফরহাদ, দৈনিক ঘোষণার বিশেষ প্রতিনিধি এস এম সামজাত, সূফি কথার বার্তা সম্পাদক আল সিরাজ ভাণ্ডারী, হাফিজুল মোর্শেদ, মো: রাশেদ, আলমগীর, আবুল বাশার, আবদুল্লাহ আল হাবিব, মো: রানা, শাফায়েত উদ্দিন, মো: নাছির, নুরুল আবসার, আবদুল মাবুদ, সুমাইয়া, জান্নাতুল ফেরদৌস, মো; সাঈদ, মো: ইভান প্রমুখ।

পবিত্র কোরআন তেলোয়াত করেন লেখক ও গবেষক এস এম ওসমান। নাতে রাসুল(দ:) পরিবেশন করেন এইচ এম নিজামুদ্দীন চৌধুরী আলিফ। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন আদনান লাভলু, আরফাত শাওন, আবিদুর মাহিন, নিজামুদ্দিন আলিফ, আতিকুর আবির প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ্ব মোঃ নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। দেশের আমদানি-রপ্তানির বড় অংশই এই নগরীর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই “বাণিজ্যিক রাজধানী” শব্দটি যেন শুধু স্লোগান না হয়ে বাস্তবে রূপ পায়, সে লক্ষ্যে সরকার, সিটি কর্পোরেশন ও ব্যবসায়ী সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, মাহে রমজান আমাদের সংযম, সততা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। এই শিক্ষাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারলে সমাজে ন্যায় ও সাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও সততা ও নৈতিকতার চর্চা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

আলোচনা সভায় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে সমাজে নৈতিকতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে চট্টগ্রামকে সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভা শেষে দেশ, মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া, মোনাজাত ও ইফতারের আয়োজন করা হয়।

চট্টগ্রামে ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন না করায় জরিমানা গুনল ৪ বাস কাউন্টার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের বাস কাউন্টারগুলোতে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে এ অভিযান চালানো হয়। সোমবার মহানগরীর গরিবুল্লাশাহ মাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন তীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান, মাহমুদা আক্তার ও রানা দেবনাথ।

মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ বলেন, গরীবুল্লাহশাহ মাজার এলাকায় বাস কাউন্টারগুলোতে অভিযান চালিয়েছি। এসময় ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন না করায় সেন্টমার্টিন পরিবহনেকে ৫ হাজার টাকা, রিলাক্স পরিবহনকে ৩ হাজার, দেশ ট্রাভেলস ৩ হাজার ও রয়েল মত্রি সার্ভিসকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ঈদে যাতে কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে সে লক্ষ্যে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ