আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

নগর উন্নয়নে কানাডার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভায় কানাডা সফর প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এই সফর আমাকে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা দিয়েছে।

টরন্টো ও মন্ট্রিয়লে বিভিন্ন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন কার্যক্রম, আধুনিক ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলার পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেছি। কানাডা সফর শেষে নগরের সার্বিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে রোববার মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। মেয়র জানান, কানাডার কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটি ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যৌথ সহযোগিতার জন্য একটি চুক্তি হয়েছে। এতে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও শিক্ষার্থী বিনিময়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

টরেন্টোর বাংলা টাউনের ড্যানফোর্থ এলাকায় অন্টারিও প্রদেশের এমপিপি মেরি-মার্গারেট ম্যাকমাহনের সঙ্গে বৈঠকে জলবায়ু সহনশীলতা, স্টার্ট-আপ উন্নয়ন এবং নার্সিং খাতে দক্ষ জনশক্তি গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
চসিক মেয়র বলেন, টরন্টো সিটি হলে মেয়র অলিভিয়া চৌ ও এমপিপি ডলি বেগমের সঙ্গে যৌথ বৈঠকে নগর উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও স্বাস্থ্যখাতে প্রশিক্ষিত জনবল বিনিময়ের সম্ভাবনা নিয়েও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের জন্য আন্তর্জাতিক সিটি-টু-সিটি সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টরন্টো সিটির সঙ্গে একটি সহযোগিতা চুক্তি (সিস্টার সিটি) স্বাক্ষরের বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এটি বাস্তবায়িত হলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

কানাডা সফরে মেয়র বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপিপি ডলি বেগম, সালমা জাহিদসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। লেদার পণ্য রপ্তানি, নার্সিং ও হেলথকেয়ার সেবা, গ্রিন এনার্জি এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে কানাডার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একাধিক বৈঠক করেন চসিক মেয়র।

পুলিশ প্রশাসন সংস্কার প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, কানাডার পুলিশ জনবান্ধব। তারা ভদ্রভাবে জনগণের সঙ্গে কথোপকথন করে তারপর আইন প্রয়োগ করে। এই মডেল থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের পুলিশ ব্যবস্থাও সংস্কারের প্রয়োজন।
চসিক মেয়র বলেন, শহরের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জনসচেতনতা বাড়াতে আমাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আমরা ১০০ দিনের বিশেষ মশক নিধনের লক্ষ্যে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু করেছি, যা আগামী তিন মাস চলবে।তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।

তবে চিকুনগুনিয়ার প্রভাব এই বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর তুলনায় বেশি। এজন্য আমরা প্রতিটি হটস্পট এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছি। মেয়র সকল নাগরিককে আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, যদি কোথাও মশার প্রাদুর্ভাব বা সমস্যার অভিযোগ থাকে, সিটি কর্পোরেশনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সরাসরি জানাতে পারবেন। আমি নিজেও সব সময় নাগরিক সেবার জন্য প্রস্তুত আছি।

নালায় পড়ে শিশু মৃত্যুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হালিশহরের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রতিবন্ধী, শিশু এবং বয়স্কদের জন্য বিশেষ সতর্কতা ও সচেতনতার প্রয়োজন। আমরা পরিবার ও কেয়ারটেকারদের দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি এবং সিটি কর্পোরেশন থেকেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
শিশুদের নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীলতা প্রসঙ্গে চসিক মেয়র বলেন, একটি শিশু কখনোই স্বাধীন নয়, সে সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। গার্মেন্টস বা অন্য কোনো কর্মস্থলে শিশুকে সঙ্গে নিয়ে গেলেও তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কর্মীরই। শিশুকে যদি সামলে রাখা সম্ভব না হয়, তবে গেটকিপার বা অন্য কারও কাছে দায়িত্ব দিয়ে যেতে হবে। এই দায়িত্ব অবহেলা করা যায় না। সিটি কর্পোরেশন কিংবা অন্য কোনো সংস্থার পক্ষে সব শিশুদের তদারকি করা সম্ভব নয়।

এ দায়িত্ব পরিবার বা অভিভাবকের। আর সব নালা ঢেকে দেওয়াও সম্ভব নয়। কিছু নালা সার্ভিস লাইন হিসেবে খোলা রাখতে হয়। তবে পাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও স্ল্যাব বসানো থাকে। যেখানে গার্মেন্টস নিজস্ব উদ্যোগে কাজ করেছে, সেটি আমাদের নয়। মূলত পরিবার বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বই শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে ডা. শাহাদাত বলেন, শহর পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব শুধু সিটি কর্পোরেশনের নয়, নাগরিকদেরও রয়েছে। আমরা ডোর-টু-ডোর ময়লা সংগ্রহ প্রকল্প চালু করেছি। প্রতি পরিবার মাসে ৬০ টাকা প্রদান করছে।
কানাডার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, সেখানে ধনী-গরিব সবাই নিজ হাতে ডাস্টবিনে ময়লা ফেলে। আমাদেরও এই অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ৬০ টাকা খরচ করেও যদি শহরকে সুন্দর রাখতে না পারি, সেটা দুঃখজনক।
চসিক কর্মচারীদের শৃঙ্খলার বিষয়ে মেয়র জানান, আমরা অনুপস্থিত ও দায়িত্বহীন কর্মচারীদের ছাঁটাই করেছি, এখন পর্যন্ত ৪৮-৫০ জনকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পূর্বে নিয়ম কানুন না থাকলেও এখন নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে। সিটি করপোরেশন জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়। ডোর-টু-ডোর সেবার ক্ষেত্রে ৬০ টাকার বেশি দাবি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা জাপান, কোরিয়া, কানাডা, চীন ও নেদারল্যান্ডসের বিনিয়োগকারীদের সাথে ওয়েস্ট-টু-এনার্জি প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা করেছি। চট্টগ্রাম শহরে প্রতিদিন যে বিপুল বর্জ্য উৎপাদন হয় তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে শহরের পরিবেশ ও অর্থনীতি উন্নত করা সম্ভব হবে। এছাড়া সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ড্রেনেজ সিস্টেম মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, চট্টগ্রামবাসীর সুবিধার্থে নাগরিক অভিযোগ সমাধানে অ্যাপস চালু করছি খুব শিগগিরই।

‘আমার চট্টগ্রাম’ নামের একটি অ্যাপ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা যে কোনো সমস্যা সরাসরি জানাতে পারবেন এবং আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী (অ. দাঃ) মো. ফরহাদুল আলম, ম্যালেরিয়া ও মশক নিধন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি, উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মেয়রের একান্ত সহকারী মারুফুল হক চৌধুরী ও জিয়াউর রহমান জিয়া।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৪০ মিনিটের বৃষ্টিতেই নিচু এলাকা প্লাবিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে মাত্র ৪০ মিনিটের বৃষ্টিতে অনেক নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। রাস্তা প্লাবিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরীর নিচু এলাকার বাসিন্দারা। বিশেষ করে চকবাজার ও কাতালগঞ্জ এলাকাতে সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। এসব এলাকার রাস্তাগুলো নোংরা পানিতে ডুবে আছে। ফলে চলাচল করা কঠিন হয়ে উঠে। কোথাও হাঁটু, কোথাওবা কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি। ছুটির দিনেও জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষ এবং খেটে খাওয়া শ্রমজীবীদের পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে চট্টগ্রামে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী এই বৃষ্টিতেই নগরীর চকবাজার, কাতালগঞ্জসহ আশপাশের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়।

এসব এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সকালের মাত্র আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতেই চকবাজার ও কাতালগঞ্জ এলাকার সড়কগুলো দ্রুত পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটু সমান পানি জমে যাওয়ায় যানবাহনগুলো মাঝপথেই আটকে যাচ্ছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া সাধারণ মানুষের গন্তব্যে পৌঁছাতে যেমন দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে, তেমনি চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাস্তায় জমে থাকা হাঁটু সমান পানি মাড়িয়েই পথচারীদের কষ্ট করে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

তবে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার জন্য চিরচেনা এলাকা প্রবর্তক মোড়ে অবশ্য এবার কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। মেগা প্রকল্পের আওতায় সেখানকার হিজড়া খালের মুখে বাঁধ দিয়ে চলমান কাজের সুবাদে প্রবর্তক মোড়ে আগের মতো পানি জমেনি। তবে প্রবর্তক মোড় রক্ষা পেলেও এর আশপাশের নিচু এলাকা ও সংযোগ সড়কগুলো ঠিকই পানিতে ডুবে ছিল। ফলে সামগ্রিক ভোগান্তি খুব একটা কমেনি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের বিএফও মাহবুবুল আলম বলেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে মাত্র ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে মেঘের ঘনত্বের কারণে অল্প সময়ে তীব্র বৃষ্টি হওয়ায় নিচু এলাকায় পানি জমেছে। দিনভর আকাশ মেঘলা থাকবে এবং থেমে থেমে আরও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সঠিক তদারকি ও খালগুলোর সংস্কার কাজ সময়মতো শেষ না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই চট্টগ্রামকে এখনো ডুবতে হচ্ছে।

কাতালগঞ্জের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, বহু বছর ধরে আমরা একটু বৃষ্টি হলেই পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছি। একের পর এক মেগা প্রকল্প আসে, কিন্তু আমাদের কষ্টের কোনো শেষ নেই। আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতে যদি এই অবস্থা হয়, সামনের দিনগুলোতে কী হবে?
ভোগান্তিতে পড়া রিকশাচালক মো. জলিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বহুদিন ধরে আমরা এ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। ছুটির দিন হলেও আমাদের তো আয়ের আশায় বের হতে হবে। কিন্তু রাস্তায় পানি উঠে যাওয়ায় রিকশা চালানো যাচ্ছে না। আমাদের এই কষ্ট দেখার কেউ নেই।

আদালতে জামিন চাইতে এসে প্রতারণার মামলায় কারাগারে গেলেন শিক্ষক দম্পতি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার ৫৫নং রহমতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দক্ষিণা রঞ্জন মজুমদার (৪২) ও তার স্ত্রী হ্যাপী রানী নন্দী (৩৫) নামের শিক্ষক দম্পতি জাল জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলায় জামিন চাইতে এসে আত্মসমর্পন করলে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানার আদেশ থাকায় শুনানী শেষে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ আদালত। বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ৬ষ্ঠ আমলী আদালতের বিজ্ঞ বিচারক এস.এম আলাউদ্দিন মাহমুদ এই আদেশ দেন। শিক্ষক দক্ষিণা রঞ্জন মজুমদার সন্দ্বীপ উপজেলার রহমতপুর ৩নং ওয়ার্ডের মৃত ধীরেন্দ্র মজুমদারের ছেলে।

আদালত সূয়ত্রে জানা যায়, বিগত ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখে সন্দ্বীপ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ৪৪২৯ নং পাওয়ার অব অ্যাটর্নিমূলে জমি রেজিস্ট্রি করেন এবং ২০২৩ সালের ৯ মে তারিখে ১৯৫৭ নং রেজিস্ট্রিকৃত সাফ কবলা ও একই সালের ৮ জুন তারিখে ২৩৩১ ও ২৫৩২ নং সাফ কবলা রহমতপুরের একটি জায়গার রেজিস্ট্রি করান শিক্ষক দক্ষিণা রঞ্জন মজুমদার গং। তারা প্রতারণার মাধ্যমে জাল দলিলকে বৈধ দলিল হিসেবে ব্যবহার করে সন্দ্বীপ সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে আবেদন কওে ৪৩১০ নং বি.এস খতিয়ান সৃজন করেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট জমি বিক্রি করতে থাকেন। এর প্রতিবাদ করায় ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সকালে চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর হাউজিং সোসাইটি এলাকার আই-্ব্লক এলাকায় একা পেয়ে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রতন কান্তি দাশের উপর হামলা করেন শিক্ষক দক্ষিণা রঞ্জন মজুমদার গং।

এ ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রতন দাশ বাদী হয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন, যাহার মামলা নং-৭২৪/২৫ (হালিশহর)। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্টোকে নির্দেশ দেন। পিবিআই নিরপেক্ষ দীর্ঘ তদন্তে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ও মারধরের ঘটনা প্রমাণিত হয় এবং পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। পরে আদালত মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক দম্পতি সহ

অপরাপর আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর পর সন্দ্বীপ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে ম্যানেজ করে শিক্ষক দক্ষিণা রঞ্জন মজুমদার চিকিৎসাজনিত দুই বার ছুটিতে থাকেন। গত ১৭ জুন শিক্ষক দম্পতি আদালতে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে জামিন চাইলে, আদালত শুনানী শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন। এ মামলার অপরাপর আসামীরাও কারাভোগ করেছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ