নগর উন্নয়নে কানাডার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভায় কানাডা সফর প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এই সফর আমাকে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা দিয়েছে।

টরন্টো ও মন্ট্রিয়লে বিভিন্ন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন কার্যক্রম, আধুনিক ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলার পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেছি। কানাডা সফর শেষে নগরের সার্বিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে রোববার মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। মেয়র জানান, কানাডার কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটি ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যৌথ সহযোগিতার জন্য একটি চুক্তি হয়েছে। এতে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও শিক্ষার্থী বিনিময়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

টরেন্টোর বাংলা টাউনের ড্যানফোর্থ এলাকায় অন্টারিও প্রদেশের এমপিপি মেরি-মার্গারেট ম্যাকমাহনের সঙ্গে বৈঠকে জলবায়ু সহনশীলতা, স্টার্ট-আপ উন্নয়ন এবং নার্সিং খাতে দক্ষ জনশক্তি গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
চসিক মেয়র বলেন, টরন্টো সিটি হলে মেয়র অলিভিয়া চৌ ও এমপিপি ডলি বেগমের সঙ্গে যৌথ বৈঠকে নগর উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও স্বাস্থ্যখাতে প্রশিক্ষিত জনবল বিনিময়ের সম্ভাবনা নিয়েও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের জন্য আন্তর্জাতিক সিটি-টু-সিটি সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টরন্টো সিটির সঙ্গে একটি সহযোগিতা চুক্তি (সিস্টার সিটি) স্বাক্ষরের বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এটি বাস্তবায়িত হলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

কানাডা সফরে মেয়র বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপিপি ডলি বেগম, সালমা জাহিদসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। লেদার পণ্য রপ্তানি, নার্সিং ও হেলথকেয়ার সেবা, গ্রিন এনার্জি এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে কানাডার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একাধিক বৈঠক করেন চসিক মেয়র।

পুলিশ প্রশাসন সংস্কার প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, কানাডার পুলিশ জনবান্ধব। তারা ভদ্রভাবে জনগণের সঙ্গে কথোপকথন করে তারপর আইন প্রয়োগ করে। এই মডেল থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের পুলিশ ব্যবস্থাও সংস্কারের প্রয়োজন।
চসিক মেয়র বলেন, শহরের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জনসচেতনতা বাড়াতে আমাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আমরা ১০০ দিনের বিশেষ মশক নিধনের লক্ষ্যে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু করেছি, যা আগামী তিন মাস চলবে।তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।

তবে চিকুনগুনিয়ার প্রভাব এই বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর তুলনায় বেশি। এজন্য আমরা প্রতিটি হটস্পট এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছি। মেয়র সকল নাগরিককে আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, যদি কোথাও মশার প্রাদুর্ভাব বা সমস্যার অভিযোগ থাকে, সিটি কর্পোরেশনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সরাসরি জানাতে পারবেন। আমি নিজেও সব সময় নাগরিক সেবার জন্য প্রস্তুত আছি।

নালায় পড়ে শিশু মৃত্যুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হালিশহরের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রতিবন্ধী, শিশু এবং বয়স্কদের জন্য বিশেষ সতর্কতা ও সচেতনতার প্রয়োজন। আমরা পরিবার ও কেয়ারটেকারদের দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি এবং সিটি কর্পোরেশন থেকেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
শিশুদের নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীলতা প্রসঙ্গে চসিক মেয়র বলেন, একটি শিশু কখনোই স্বাধীন নয়, সে সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। গার্মেন্টস বা অন্য কোনো কর্মস্থলে শিশুকে সঙ্গে নিয়ে গেলেও তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কর্মীরই। শিশুকে যদি সামলে রাখা সম্ভব না হয়, তবে গেটকিপার বা অন্য কারও কাছে দায়িত্ব দিয়ে যেতে হবে। এই দায়িত্ব অবহেলা করা যায় না। সিটি কর্পোরেশন কিংবা অন্য কোনো সংস্থার পক্ষে সব শিশুদের তদারকি করা সম্ভব নয়।

এ দায়িত্ব পরিবার বা অভিভাবকের। আর সব নালা ঢেকে দেওয়াও সম্ভব নয়। কিছু নালা সার্ভিস লাইন হিসেবে খোলা রাখতে হয়। তবে পাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও স্ল্যাব বসানো থাকে। যেখানে গার্মেন্টস নিজস্ব উদ্যোগে কাজ করেছে, সেটি আমাদের নয়। মূলত পরিবার বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বই শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে ডা. শাহাদাত বলেন, শহর পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব শুধু সিটি কর্পোরেশনের নয়, নাগরিকদেরও রয়েছে। আমরা ডোর-টু-ডোর ময়লা সংগ্রহ প্রকল্প চালু করেছি। প্রতি পরিবার মাসে ৬০ টাকা প্রদান করছে।
কানাডার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, সেখানে ধনী-গরিব সবাই নিজ হাতে ডাস্টবিনে ময়লা ফেলে। আমাদেরও এই অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ৬০ টাকা খরচ করেও যদি শহরকে সুন্দর রাখতে না পারি, সেটা দুঃখজনক।
চসিক কর্মচারীদের শৃঙ্খলার বিষয়ে মেয়র জানান, আমরা অনুপস্থিত ও দায়িত্বহীন কর্মচারীদের ছাঁটাই করেছি, এখন পর্যন্ত ৪৮-৫০ জনকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পূর্বে নিয়ম কানুন না থাকলেও এখন নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে। সিটি করপোরেশন জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়। ডোর-টু-ডোর সেবার ক্ষেত্রে ৬০ টাকার বেশি দাবি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা জাপান, কোরিয়া, কানাডা, চীন ও নেদারল্যান্ডসের বিনিয়োগকারীদের সাথে ওয়েস্ট-টু-এনার্জি প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা করেছি। চট্টগ্রাম শহরে প্রতিদিন যে বিপুল বর্জ্য উৎপাদন হয় তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে শহরের পরিবেশ ও অর্থনীতি উন্নত করা সম্ভব হবে। এছাড়া সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ড্রেনেজ সিস্টেম মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, চট্টগ্রামবাসীর সুবিধার্থে নাগরিক অভিযোগ সমাধানে অ্যাপস চালু করছি খুব শিগগিরই।

‘আমার চট্টগ্রাম’ নামের একটি অ্যাপ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা যে কোনো সমস্যা সরাসরি জানাতে পারবেন এবং আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী (অ. দাঃ) মো. ফরহাদুল আলম, ম্যালেরিয়া ও মশক নিধন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি, উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মেয়রের একান্ত সহকারী মারুফুল হক চৌধুরী ও জিয়াউর রহমান জিয়া।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কর বিরোধ, উচ্চ আদালতে যাবে চট্টগ্রাম বন্দর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) হোল্ডিং ট্যাক্স বা পৌরকর ১৫ শতাংশ কমিয়েছেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) দাবি করা ২৬৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বিপরীতে এই কর ২২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত সোমবার (২ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত দেন। সিটি করপোরেশন এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করবে।

রায়ের বিষয়ে চসিকের আইনজীবী মঈনুদ্দিন সোহেল বলেছেন, দাবি করা কর ১৫ শতাংশ কমিয়ে ২২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি একটি ঐতিহাসিক রায়। সিটি করপোরেশন এই রায়ে সন্তুষ্ট।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত সাজ্জাদ বলেছেন, হোল্ডিং ট্যাক্সের আপিল আংশিক মঞ্জুর হয়েছে। মোট মূল্যায়ন ১ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা থেকে ২৩৩ কোটি কমানো হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর এই রায়ে সংক্ষুব্ধ। এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করা হবে।

জানা গেছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চসিক ও বন্দরের একটি যৌথ দল ১ কোটি ৯৭ লাখ বর্গফুট জায়গার ওপর মূল্যায়ন সম্পন্ন করে। এর ভিত্তিতে বন্দরের ওপর ২৬৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স ধার্য করা হয়। এই মূল্যায়নের বিরুদ্ধে বন্দর কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করে। তবে আইন অনুযায়ী আপিল করার শর্ত হিসেবে মোট দাবির ৭৫ শতাংশ, অর্থাৎ ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ টাকা চসিকের তহবিলে জমা দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। চসিকের ইতিহাসে আগে কখনো একক কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে একসঙ্গে এত বড় অঙ্কের টাকা জমা হয়নি।তবে এই জমা দেওয়া অর্থ চূড়ান্ত পৌরকর নয় বলে আগেই জানিয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দর।

বন্দরের মুখপাত্র ও ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন জানিয়েছিলেন, আপিলের আইনি বাধ্যবাধকতা রক্ষার্থে ওই টাকা ‘জামানত’ হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার শুনানিতে যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন, সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য উচ্চাভিলাষী নয় : জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য কোনো উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি নয়, সম্মিলিত উদ্যোগ ও জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। বৃক্ষরোপণকে শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরীর জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদ ঈদগাহ প্রাঙ্গণে সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের আওতায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কর্তৃক ১ দিনে ১ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচিতে বৃক্ষরোপণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, এটি শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো কর্মসূচি নয়, দেশে ইতোমধ্যে সামাজিকভাবে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ ও কাঠামো বিদ্যমান রয়েছে।সেই বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার মাধ্যমে বৃক্ষরোপণকে একটি ব্যাপক সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।

উপদেষ্টা উল্লেখ করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যা অঙ্গীকার করে, তা বাস্তবায়নে বিশ্বাসী, এটি শুধু কাগজে-কলমে কোনো পরিকল্পনা নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় থেকেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনে কী করণীয়, কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন এসব বিষয়ে পরিকল্পনা, গবেষণা ও কাজ চলেছে এবং তারই একটি অংশ নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিফলিত হয়েছে।গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর সরকার গঠনের সুযোগ পেলে জনগণের জন্য কী কী করা হবে, সে বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নির্ধারণ করেই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দিন থেকেই নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছেন।

প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার কৃষকদের জন্য ফার্মার্স কার্ড, পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেছে। পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, বিদেশে কর্মসংস্থান, ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব ও ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান প্ল্যান্টসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। উপদেষ্টা আরো বলেন পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণের অঙ্গীকার করা হয়েছে। গত জুলাই পর্যন্ত নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২ কোটি ৬৩ লাখ ৯৪ হাজার ৪২৬টি গাছ রোপণ করা হয়েছে।বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিচ্ছিন্ন উদ্যোগগুলো যথাযথভাবে হিসাবের আওতায় আনা গেলে অর্জনের পরিমাণ আরও বেশি হবে।

চট্টগ্রামের পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, পাহাড়, সমতল ও সমুদ্রবেষ্টিত চট্টগ্রাম একটি অনন্য ভূপ্রকৃতির অঞ্চল। তবে পাহাড় ধসসহ বিভিন্ন পরিবেশগত ঝুঁকি এখানে রয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’ দুর্যোগ বা দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন জলবায়ু পরিবর্তন শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটি বিশ্বব্যাপী একটি সংকট। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল থেকে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত মাত্রায় উপকৃত হয়নি। এই অবস্থায় বিশ্বনেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জলবায়ু তহবিল বরাদ্দের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিতে হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন এর সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ,১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান,সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম এরিয়া সদর দপ্তরের এসপিপি কর্নেল খলিল উল্লাহ, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম,সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী, সিডিএ এর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান, পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম, এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আগত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ