আজঃ বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

নগর উন্নয়নে কানাডার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভায় কানাডা সফর প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এই সফর আমাকে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা দিয়েছে।

টরন্টো ও মন্ট্রিয়লে বিভিন্ন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন কার্যক্রম, আধুনিক ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলার পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেছি। কানাডা সফর শেষে নগরের সার্বিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে রোববার মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। মেয়র জানান, কানাডার কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটি ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যৌথ সহযোগিতার জন্য একটি চুক্তি হয়েছে। এতে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও শিক্ষার্থী বিনিময়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

টরেন্টোর বাংলা টাউনের ড্যানফোর্থ এলাকায় অন্টারিও প্রদেশের এমপিপি মেরি-মার্গারেট ম্যাকমাহনের সঙ্গে বৈঠকে জলবায়ু সহনশীলতা, স্টার্ট-আপ উন্নয়ন এবং নার্সিং খাতে দক্ষ জনশক্তি গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
চসিক মেয়র বলেন, টরন্টো সিটি হলে মেয়র অলিভিয়া চৌ ও এমপিপি ডলি বেগমের সঙ্গে যৌথ বৈঠকে নগর উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও স্বাস্থ্যখাতে প্রশিক্ষিত জনবল বিনিময়ের সম্ভাবনা নিয়েও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের জন্য আন্তর্জাতিক সিটি-টু-সিটি সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টরন্টো সিটির সঙ্গে একটি সহযোগিতা চুক্তি (সিস্টার সিটি) স্বাক্ষরের বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এটি বাস্তবায়িত হলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

কানাডা সফরে মেয়র বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপিপি ডলি বেগম, সালমা জাহিদসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। লেদার পণ্য রপ্তানি, নার্সিং ও হেলথকেয়ার সেবা, গ্রিন এনার্জি এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে কানাডার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একাধিক বৈঠক করেন চসিক মেয়র।

পুলিশ প্রশাসন সংস্কার প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, কানাডার পুলিশ জনবান্ধব। তারা ভদ্রভাবে জনগণের সঙ্গে কথোপকথন করে তারপর আইন প্রয়োগ করে। এই মডেল থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের পুলিশ ব্যবস্থাও সংস্কারের প্রয়োজন।
চসিক মেয়র বলেন, শহরের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জনসচেতনতা বাড়াতে আমাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আমরা ১০০ দিনের বিশেষ মশক নিধনের লক্ষ্যে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু করেছি, যা আগামী তিন মাস চলবে।তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।

তবে চিকুনগুনিয়ার প্রভাব এই বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর তুলনায় বেশি। এজন্য আমরা প্রতিটি হটস্পট এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছি। মেয়র সকল নাগরিককে আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, যদি কোথাও মশার প্রাদুর্ভাব বা সমস্যার অভিযোগ থাকে, সিটি কর্পোরেশনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সরাসরি জানাতে পারবেন। আমি নিজেও সব সময় নাগরিক সেবার জন্য প্রস্তুত আছি।

নালায় পড়ে শিশু মৃত্যুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হালিশহরের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রতিবন্ধী, শিশু এবং বয়স্কদের জন্য বিশেষ সতর্কতা ও সচেতনতার প্রয়োজন। আমরা পরিবার ও কেয়ারটেকারদের দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি এবং সিটি কর্পোরেশন থেকেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
শিশুদের নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীলতা প্রসঙ্গে চসিক মেয়র বলেন, একটি শিশু কখনোই স্বাধীন নয়, সে সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। গার্মেন্টস বা অন্য কোনো কর্মস্থলে শিশুকে সঙ্গে নিয়ে গেলেও তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কর্মীরই। শিশুকে যদি সামলে রাখা সম্ভব না হয়, তবে গেটকিপার বা অন্য কারও কাছে দায়িত্ব দিয়ে যেতে হবে। এই দায়িত্ব অবহেলা করা যায় না। সিটি কর্পোরেশন কিংবা অন্য কোনো সংস্থার পক্ষে সব শিশুদের তদারকি করা সম্ভব নয়।

এ দায়িত্ব পরিবার বা অভিভাবকের। আর সব নালা ঢেকে দেওয়াও সম্ভব নয়। কিছু নালা সার্ভিস লাইন হিসেবে খোলা রাখতে হয়। তবে পাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও স্ল্যাব বসানো থাকে। যেখানে গার্মেন্টস নিজস্ব উদ্যোগে কাজ করেছে, সেটি আমাদের নয়। মূলত পরিবার বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বই শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে ডা. শাহাদাত বলেন, শহর পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব শুধু সিটি কর্পোরেশনের নয়, নাগরিকদেরও রয়েছে। আমরা ডোর-টু-ডোর ময়লা সংগ্রহ প্রকল্প চালু করেছি। প্রতি পরিবার মাসে ৬০ টাকা প্রদান করছে।
কানাডার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, সেখানে ধনী-গরিব সবাই নিজ হাতে ডাস্টবিনে ময়লা ফেলে। আমাদেরও এই অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ৬০ টাকা খরচ করেও যদি শহরকে সুন্দর রাখতে না পারি, সেটা দুঃখজনক।
চসিক কর্মচারীদের শৃঙ্খলার বিষয়ে মেয়র জানান, আমরা অনুপস্থিত ও দায়িত্বহীন কর্মচারীদের ছাঁটাই করেছি, এখন পর্যন্ত ৪৮-৫০ জনকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পূর্বে নিয়ম কানুন না থাকলেও এখন নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে। সিটি করপোরেশন জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়। ডোর-টু-ডোর সেবার ক্ষেত্রে ৬০ টাকার বেশি দাবি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা জাপান, কোরিয়া, কানাডা, চীন ও নেদারল্যান্ডসের বিনিয়োগকারীদের সাথে ওয়েস্ট-টু-এনার্জি প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা করেছি। চট্টগ্রাম শহরে প্রতিদিন যে বিপুল বর্জ্য উৎপাদন হয় তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে শহরের পরিবেশ ও অর্থনীতি উন্নত করা সম্ভব হবে। এছাড়া সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ড্রেনেজ সিস্টেম মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, চট্টগ্রামবাসীর সুবিধার্থে নাগরিক অভিযোগ সমাধানে অ্যাপস চালু করছি খুব শিগগিরই।

‘আমার চট্টগ্রাম’ নামের একটি অ্যাপ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা যে কোনো সমস্যা সরাসরি জানাতে পারবেন এবং আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী (অ. দাঃ) মো. ফরহাদুল আলম, ম্যালেরিয়া ও মশক নিধন কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি, উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মেয়রের একান্ত সহকারী মারুফুল হক চৌধুরী ও জিয়াউর রহমান জিয়া।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম মহানগরের ৫ স্থানে হচ্ছে ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার: চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীতে মোট ৫টি ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। মা ও শিশুবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার স্থাপন করা হবে বলে তিনি জানান। মঙ্গলবার নতুন ব্রিজ পুলিশ বক্স এলাকায় ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

মেয়র বলেন, একজন কর্মজীবী বা বাইরে অবস্থানরত মায়ের জন্য শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নগরের গুরুত্বপূর্ণ ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এর মাধ্যমে মায়েরা স্বাচ্ছন্দ্যে এবং মর্যাদার সঙ্গে তাদের শিশুদের প্রয়োজনীয় যত্ন নিশ্চিত করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি সদস্য আব্দুল করিম ভুট্টো, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন শাহেদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এন. মোহাম্মদ রিমন, হালিশহর বিএনপি সিনিয়র সহ সভাপতি শেখ মেহেদী, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য নোমান সিকদার সোহাগ। এসময় ডাকবাক্স ফাউন্ডেশন ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়কারী সাফরাশ নুরী সিজ্জি প্রকল্পের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বর্ণনা দেন।

ডাকবাক্স ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশ এর নেতৃত্বে বাস্তবায়নাধীন এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় নগরের নতুন ব্রিজ, পতেঙ্গা, কদমতলী কারখানা এলাকা, আগ্রাবাদ এবং রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় মোট ৫টি ব্রেস্ট ফিডিং ফিডিং সেন্টার স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৬ লাখ টাকা, যা যৌথভাবে অর্থায়ন করছে ডাকবাক্স ফাউন্ডেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।
চসিক মেয়র আরও বলেন, শিশুর সুস্বাস্থ্য ও মায়ের মর্যাদা রক্ষায় ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার একটি যুগোপযোগী উদ্যোগ।এটি শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং মানবিক নগর গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাইলট প্রকল্পটি সফল হলে ভবিষ্যতে চট্টগ্রামের আরও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে একটি স্বাস্থ্যবান্ধব, মানবিক ও আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা জলাবদ্ধতা নিরসন, খাল পুনরুদ্ধার, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্কুল হেলথ প্রোগ্রাম, খেলাধুলার মাঠ আধুনিকায়ন এবং নাগরিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণসহ একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি।

ফের কর্ম চঞ্চল্য চট্টগ্রাম বন্দর, ধর্মঘট স্থগিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার ধর্মঘট এক সপ্তাহের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারী সংগঠন ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। এর ফলে আজ সোমবার সকাল থেকে বন্দর সচল হয়েছে, ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। এর আগে রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেয়ার চুক্তি হবে না বলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ঘোষণা দেওয়ায় ধর্মঘট স্থগিতের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের দুই সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহিম খোকনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজানে পণ্য খালাসের স্বার্থে ধর্মঘট কর্মসূচি সোমবার সকাল ৮টা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। তবে বন্দর কর্মচারীদের গ্রেফতার, হয়রানিমূলক বদলি, সাময়িক বরখাস্তসহ পাঁচটি সমস্যা সমাধান না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি আবার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

গত সপ্তাহে দফায় দফায় কর্মবিরতির কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার অচলাবস্থার পর গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু করে সংগ্রাম পরিষদ। এ অবস্থায় রোববার বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপিওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা নেই।

এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে তিনদিন কর্মবিরতির পর ৩ ফেব্রুয়ারি ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। ৪ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি শুরু করেন। এতে চট্টগ্রাম বন্দর পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রমের পাশাপাশি বন্দরে জাহাজ আসা-যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

এ অচলাবস্থার মধ্যে ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে এসে শ্রমিক-কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়েন নৌপরিবহন উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন। আন্দোলনকারী শ্রমিক-কর্মচারীরা বন্দর ভবনে প্রবেশের পথে উপদেষ্টার গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাদের ‘ডিপি ওয়ার্ল্ডের দালালেরা- হুঁশিয়ার সাবধান, গো ব্যাক অ্যাডভাইজার গো ব্যাক, মা মাটি মোহনা- বিদেশিদের দেব না’- এমন নানা স্লোগান দিতে শোনা যায়। অনেকে উপদেষ্টার গাড়ির সামনে গিয়ে ‘ভুয়া ভুয়া, দালাল দালাল’ বলে স্লোগান দেন।কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে প্রবেশ করে নৌ উপদেষ্টা বন্দরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, আন্দোলনকারী শ্রমিক-কর্মচারী প্রতিনিধি দল এবং বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকে পরিষদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল। দাবিগুলো হচ্ছে- নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব-আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার চুক্তির প্রক্রিয়া বাতিল ঘোষণা, বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের বদলি আদেশ প্রত্যাহার করে আগের পদে ফিরিয়ে নেওয়া, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের মামলা-হয়রানি না করা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করা।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের দাবি, বৈঠকে নৌ উপদেষ্টা বদলি ও মামলা সংক্রান্ত দাবি নৌ মন্ত্রণালয় থেকে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। বাকি দুটি দাবি সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করবেন বলে জানান।

শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠকের পর তাদের দাবির বিষয়ে নৌ উপদেষ্টা বলেছিলেন, দাবিগুলো তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। তবে চুক্তি ঠেকানো যাবে না জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, চট্টগ্রাম বন্দর সচল করার কাজে কেউ বাধা দিলে সরকার হার্ডলাইনে যাবে।
এরপর সংগ্রাম পরিষদ ৪৮ ঘণ্টা জন্য কর্মবিরতি স্থগিত ঘোষণা করে। ৬ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে কাজে যোগ দেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। তবে এর মধ্যে সরকার দাবি মেনে নেওয়ার সুস্পষ্ট ঘোষণা না দিলে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরুর ঘোষণা দিয়ে রেখেছিল সংগঠনটি। সেই ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে লাগাতার ধর্মঘট শুরু করে সংগ্রাম পরিষদ।

এর আগে, কর্মবিরতি চলাকালে সংগ্রাম পরিষদের দুই সমন্বয়কসহ ১৫ জনকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বদলি করা হয়। কিন্তু তারা কেউই বদলি করা কর্মস্থলে যোগ দেননি। যেদিন নৌ উপদেষ্টা বৈঠক করেন, সেদিনই ১৫ কর্মচারীর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তাদের সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য চিঠি দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে আন্দোলনকারীরা আরও ক্ষুব্ধ হন। সর্বশেষ লাগাতার ধর্মঘট কর্মসূচি ঘোষণার পর পুলিশ পাঁচ কর্মচারীকে আটক করে। এছাড়া বদলি হওয়া ১৫ কর্মচারীর সরকারি বাসার বরাদ্দ বাতিল করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে তিনি মন্ত্রিপরিষদের নতুন সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এই শ্রদ্ধা জানান।

জানা যায়, এরপর প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার কথা রয়েছে। এ সময় তারা উভয় নেতার মাজার জিয়ারতও করবেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ