আজঃ বুধবার ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫

চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন খাতে ট্যারিফ বাড়ানো মানে ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

  1. চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন সেবা খাতের মাশুল বা ট্যারিফ দীর্ঘদিন পর উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হচ্ছে। যা সরকারি গেজেট জারির অপেক্ষায় রয়েছে। নৌপরিবহন উপদেষ্টা চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিদর্শনে এসে বন্দরের ট্যারিফ বাড়ানোর কথা বলেন। তবে কত শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে সে বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলেননি তিনি। তবে বন্দর ব্যবহারকারীদের মতে ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা‘।
  2. বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, তাদের প্রস্তাবের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মাশুল নির্ধারণ করা হচ্ছে। এটি তাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। বন্দর ব্যবহারকারীরা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মাশুল বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। একবার আলোচনার পর আর এ বিষয়ে তাদের সাথে বসা হয়নি।এক লাফে অনেক বেশি হারে মাশুল বাড়ানোর খবর শুনে বন্দর ব্যবহারকারীরা আশঙ্কা করছেন এর প্রভাব দেশের সামগ্রিক ব্যবসা খাতে পড়বে। সবশেষে মোটাদাগে এর প্রভাব ভোক্তা পর্যায়েই পড়বে বলে মত তাদের।
  3. শিপিং এজেন্টস অ্যাসেসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ বলেন, বন্দরে বিভিন্ন লাইনে (খাতে) মাশুল বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে সেসবের সঙ্গে একমত নই। এখন মাশুল বাড়ানোর সময়ও নয় বলে মনে করি। সবমিলিয়ে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মাশুল নতুন করে বিবেচনা করা উচিত বলে আমি মনে করি। মূলত দেশের সামুদ্রিক জলসীমায় পণ্য বা কন্টেইনারবাহী জাহাজ আসার পর থেকে সেগুলোকে দেওয়া সেবার বিপরীতে ট্যারিফ বা মাশুল নিয়ে থাকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
  4. মূলত জাহাজ পরিচালনাকারী কোম্পানি, কন্টেইনার পরিচালনাকারী কোম্পানি এবং আমদানি ও রপ্তানিকারকরা এসব মাশুল দিয়ে থাকে। জাহাজ মালিকদের পক্ষ থেকে শিপিং এজেন্ট এবং আমদানিকারকদের পক্ষ হয়ে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা এসব মাশুল পরিশোধ করে থাকেন।
    চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ট্যারিফ বা মাশুল বাড়ানোর বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তির পর সেটি আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। অনুমোদনের পর গেজেট হবে এবং কখন থেকে সেটি কার্যকর হবে তা গেজেটে বলা থাকবে। ১৯৮৬ সালে সর্বশেষ চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন সেবার মাশুল বাড়ানো হয়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, এরপর আর বাড়েনি। সবমিলিয়ে গড়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের মত বাড়ছে। এর মধ্যে কোনটির কমছে বা কোনটির বাড়ছে।তার দাবি, দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানকে হিসাবে নিলে মাশুল ‘খুব বেশি’ বাড়ছে না।
  5. বন্দর সচিব ওমর ফারুক আরো বলেন, বন্দরের সেবার মান বাড়ানোর জন্য মাশুল বাড়ানো হচ্ছে। বন্দরের সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধাও বেড়েছে। এটি একটি সরকারি সংস্থা। সুযোগ-সুবিধা ও সেবার মান বাড়ানোর জন্য মাশুল বাড়ছে।
  6. বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনের এক নেতা বলেন, গত ২ জুন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে বন্দরের মাশুল (ট্যারিফ) হালনাগাদ করার জন্য সভা হয়েছিল। সেখানে বন্দর ব্যবহারকারীরা তাদের মত দিয়েছেন। কিন্তু আর কোনো আলোচনা না করেই চট্টগ্রাম বন্দরের ট্যারিফ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, এটা দু:খজনক। বর্তমান পরিস্থিতিতে মাশুল বাড়ানো মানে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং এর প্রভাব গিয়ে ভোক্তা পর্যায়ে পড়বে।
    চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বন্দরের আদায় করা সবধরণের মাশুল ১৯৮৬ সালে নির্ধারণ করা। এরপর ৪০ বছরে নতুন করে মাশুল বাড়ানো হয়নি। শুধু ২০০৭-০৮ অর্থবছরে অত্যাবশ্যকীয় বিবেচনায় পাঁচটি মূল ট্যারিফ আইটেম বাড়ানো হয়। এর আগে ১৯৯৬ এবং পরে ২০১২ সালে দুই দফা তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হলেও কার্যকর হয়নি। ২০২০ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন করে মাশুল বাড়ানোর কাজ শুরু করে এবং স্পেনভিত্তিক একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ট্যারিফ হালনাগাদ করে বন্দরের কাছে ২০২২ সালে জমা দেয়। বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপ আলোচনার পর মাশুল বাড়ানোর প্রস্তাব চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
  7. চট্টগ্রাম বন্দরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, বন্দরে ৫২টি খাতে মাশুল আদায় করা হয়ে থাকে। আদায়ের সামঞ্জস্য এনে সেটি ২৩ টিতে আনা হয়েছে।
    বন্দর ব্যবহারকারীদের হিসাবে, ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ বর্তমানে ৪৩ ডলারের মত। প্রস্তাবিত নতুন মাশুলে তা হবে ৭০ ডলারের কিছু বেশি। এছাড়া আমদানি করা পণ্যভর্তি কন্টেইনার বন্দরের ইয়ার্ডে প্রথম চার দিন বিনা মাশুলে রাখা যায়। পরের একদিনে কন্টেইনার প্রতি মাশুল দিতে হয় ৬ ডলার, নতুন হারে তা পড়বে ৬ দশমিক ৯ ডলার।
  8. শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, বন্দরের ট্যারিফ বাড়ানোর ফলে দেশের শিল্পায়ন, বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। উন্নয়ন অবশ্যই কাম্য, কিন্তু সেই উন্নয়ন হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই এবং দেশের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিতকারী।চট্টগ্রাম বন্দর এমনিতেই লাভজনক প্রতিষ্ঠান। এটির আয়ের অর্থ ব্যয় করে বন্দরের আধুনিকায়ন থেকে শুরু করে সকল ব্যয়ের পরও বিপুল অর্থ সঞ্চিত থাকে। ট্যরিফ বাড়ানোর সিদ্ধান্তে বাণিজ্যে ও শিল্পে মন্দা এবং সামস্টিক অর্থনীতিতে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে।
  9. তিনি বলেন, ট্যারিফ বাড়ানোর অর্থ হল আমদানি-রপ্তানির খরচ বাড়বে, যা সরাসরি প্রভাব পড়বে পণ্যের বাজারমূল্যে এবং পরোক্ষভাবে এই চাপ গিয়ে পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর। বিশেষত যেসব কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্য আমদানিনির্ভর সেগুলোর মূল্যবৃদ্ধি দেশের সাধারণ জনগণের ওপর চাপ তৈরি করবে।
    বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি এস এম আবু তৈয়ব বলেন, এমনিতেই ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই নানামুখী চাপে রয়েছে এবং ব্যবসা আগের চেয়ে অনেক প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন কারণে পণ্যের উৎপাদন খরচ আগের চেয়ে অনেক বেশি হচ্ছে। এর মধ্যে বন্দরের বিভিন্ন খাতে ট্যারিফ বাড়ানো হবে ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা‘।
  10. অপর এক ব্যবসায়ী বলেন, তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল খাত ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে লড়াই করছে। এই অবস্থায় ট্যারিফ বাড়ালে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং রপ্তানিপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।মাশুল বাড়লে ব্যবসার খরচ বাড়বে এবং এর প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ে পড়বে এমন অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চান্দগাঁও থানার নতুন দুই মামলায় গ্রেফতার শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন প্রকাশ ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্নাকে গ্রেফতার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) আদেশ দিয়েছেন আদালত। চান্দগাঁও থানার নতুন দুই মামলায় সোমবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা আদালত এ আদেশ দেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংশ্লিষ্ট মামলায় দুই মামলায় সাজ্জাদ হোসেন প্রকাশ ছোট সাজ্জাদ ও তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্নাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করেন। শুনানির সময় আসামিরা কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
এর আগে গত রোববার (১৪ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন প্রকাশ ছোট সাজ্জাদ এবং তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্নার বিরুদ্ধে দুটি মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় নগরের চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলায় শহীদ ফজলে রাব্বী নিহত হন। এ ছাড়া নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর বাড়ির সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় সাজ্জাদ ও তাঁর স্ত্রী তামান্নার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

এসব মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফজলে রাব্বী হত্যা মামলায় খোরশেদ নামের আরও এক আসামিকেও গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ। বর্তমানে সাজ্জাদ সিলেট কারাগারে এবং তামান্না ফেনী কারাগারে বন্দী আছেন। গত ১৫ মার্চ ঢাকা থেকে ‘ছোট সাজ্জাদকে’ গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পরে তার স্ত্রী তামান্না ‘কাড়ি কাড়ি টাকা দিয়ে আদালত ও জামিন’ কিনে নেওয়ার কথা বলে দেশের আইন ও নিরাপত্তা সংস্থাকে অপমান করেন। তার একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক) ভাইরাল হয়।

ভিডিওটিতে তামান্নাকে বলতে শোনা যায়, আমরা কাঁড়ি কাঁড়ি, বান্ডিল বান্ডিল টাকা ছেড়ে আমার জামাইকে নিয়ে আসব। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।’ গত ১০ মে নগরের চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট বাড়ইপাড়া এলাকা থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন প্রকাশ ‘ছোট সাজ্জাদের’ স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্নাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

চট্টগ্রামের দুই আসনে বিএনপির প্রার্থী নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দুই দফায় চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে ১৪টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। দুই আসনে প্রার্থী ঘোষণা দেয়নি দলটি। এ দুই আসনের প্রার্থী নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। আসন দুটি হচ্ছে- চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর, পতেঙ্গা, ডবলমুরিং, ইপিজেড ও সদরঘাট) এবং চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া-আংশিক)।শেষ মুহূর্তে চট্টগ্রামের এই দুই আসনে বিএনপির প্রার্থিতা নিয়ে কী চমক অপেক্ষা করছে- এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই রাজনৈতিক অঙ্গনে। এদিকে আগামী সপ্তাহখানেকের মধ্যে যেকোন সময় বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা হতে পারে এ দুই নির্বাচনী আসনে। এ নিয়ে চুলচেড়া বিশ্লেষণ চলছে। হিসাব মেলাতে ব্যস্তসময় পার করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারাও।

জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গত ৩ নভেম্বর ২৩৬টি এবং ৪ ডিসেম্বর ৩৬টিসহ দুই ধাপে ২৭২ আসনে সম্ভাব্য একক প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ১০টি এবং দ্বিতীয় দফায় ৪টি মিলে মোট ১৪ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি।ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন- চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) সরোয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) মোস্তফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) কাজী সালাউদ্দিন, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ) ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও, বোয়ালখালী ও পাঁচলাইশ-আংশিক) এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-হালিশহর-খুলশী) আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) এনামুল হক এনাম, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) সরওয়ার জামাল নিজাম, চট্টগ্রাম-১৫

(সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) নাজমুল মোস্তাফা আমিন এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা।
বিএনপির একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর, পতেঙ্গা, ডবলমুরিং, ইপিজেড ও সদরঘাট) আসনটি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নিজের আসন। তবে তিনি এবার মনোনয়ন পান চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-হালিশহর-খুলশী) আসনে। তাই এবার এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেন- বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু ও নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান। তাছাড়া চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া-আংশিক) আসনটি বিএনপির শরিক এলডিপিকে ছেড়ে দিতে পারে বলে জানা গেছে। এক্ষেত্রে এলডিপির প্রার্থী হতে পারেন এলডিপির সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম অথবা তার ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুক। তিনি এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য। তবে এ আসন থেকে বিএনপির

মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন বেশ কয়েকজন। তারা হলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ডা. মহসিন জিল্লুর করিম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুরুল আনোয়ার চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এবং বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম রাহী।

আলোচিত খবর

আরব আমিরাতে ভিসা সংকটে বড় হুমকির মুখে বাংলাদেশি শ্রমবাজার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যের  অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা জটিলতায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। নতুন ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকা এবং অভ্যন্তরীণ ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও কবে ভিসা উন্মুক্ত হবে— সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারছে না বাংলাদেশ মিশন। বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আমিরাত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

ভিসা জটিলতা শ্রমবাজারের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রভাব পড়ছে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান, আয়-রোজগার এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে বসবাস, লিঙ্গ পরিবর্তন, সনদ জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ ওঠায় ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি করেছে আমিরাত সরকার। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশিরা।

এদিকে দুবাইয়ে স্কিল ভিসা চালু থাকলেও সেখানেও কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। গ্র্যাজুয়েশন সনদ ছাড়া বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। সনদকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন, পরে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের যাচাই এবং শেষে আমিরাতের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ ও জটিল এ প্রক্রিয়ায় হতাশ কর্মপ্রত্যাশীরা।

বাংলাদেশ মিশনের তথ্যানুসারে, স্কিল ভিসায় সনদ জালিয়াতি ঠেকাতে তিন মাস আগে চালু করা হয়েছিল বারকোড ব্যবস্থা। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটিও জাল করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ইউএই সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযোগ আসছে। রাষ্ট্রদূতের মতে, বাংলাদেশিদের মানসিকতা না বদলালে ভিসা সংকট নিরসন সম্ভব নয়।

আবুধাবি বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বলেন, “গত সাত মাস ধরে ভিসা ইস্যুতে চেষ্টা চালিয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি।কবে হবে সেটিও অনিশ্চিত। আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, তবে বিষয়টি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ”

 

জনশক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা পরিবর্তনের জটিলতা দ্রুত সমাধান না হলে অনেক বাংলাদেশি কর্মীকে দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। অনেকেই জানেন না, ভিসা বাতিল হলে কী পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে প্রবাসীদের মানসিক চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে বর্তমানে যারা আমিরাতে অবস্থান করছেন, তারা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।

বাংলাদেশি প্রবাসী সংগঠকরা মনে করেন, এ অচলাবস্থা কাটাতে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসীদেরও ভিসা নীতিমালা মেনে চলা জরুরি। নইলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজারে বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ