আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন খাতে ট্যারিফ বাড়ানো মানে ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

  1. চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন সেবা খাতের মাশুল বা ট্যারিফ দীর্ঘদিন পর উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হচ্ছে। যা সরকারি গেজেট জারির অপেক্ষায় রয়েছে। নৌপরিবহন উপদেষ্টা চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিদর্শনে এসে বন্দরের ট্যারিফ বাড়ানোর কথা বলেন। তবে কত শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে সে বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলেননি তিনি। তবে বন্দর ব্যবহারকারীদের মতে ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা‘।
  2. বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, তাদের প্রস্তাবের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মাশুল নির্ধারণ করা হচ্ছে। এটি তাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। বন্দর ব্যবহারকারীরা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মাশুল বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। একবার আলোচনার পর আর এ বিষয়ে তাদের সাথে বসা হয়নি।এক লাফে অনেক বেশি হারে মাশুল বাড়ানোর খবর শুনে বন্দর ব্যবহারকারীরা আশঙ্কা করছেন এর প্রভাব দেশের সামগ্রিক ব্যবসা খাতে পড়বে। সবশেষে মোটাদাগে এর প্রভাব ভোক্তা পর্যায়েই পড়বে বলে মত তাদের।
  3. শিপিং এজেন্টস অ্যাসেসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ বলেন, বন্দরে বিভিন্ন লাইনে (খাতে) মাশুল বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে সেসবের সঙ্গে একমত নই। এখন মাশুল বাড়ানোর সময়ও নয় বলে মনে করি। সবমিলিয়ে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মাশুল নতুন করে বিবেচনা করা উচিত বলে আমি মনে করি। মূলত দেশের সামুদ্রিক জলসীমায় পণ্য বা কন্টেইনারবাহী জাহাজ আসার পর থেকে সেগুলোকে দেওয়া সেবার বিপরীতে ট্যারিফ বা মাশুল নিয়ে থাকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
  4. মূলত জাহাজ পরিচালনাকারী কোম্পানি, কন্টেইনার পরিচালনাকারী কোম্পানি এবং আমদানি ও রপ্তানিকারকরা এসব মাশুল দিয়ে থাকে। জাহাজ মালিকদের পক্ষ থেকে শিপিং এজেন্ট এবং আমদানিকারকদের পক্ষ হয়ে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা এসব মাশুল পরিশোধ করে থাকেন।
    চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ট্যারিফ বা মাশুল বাড়ানোর বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তির পর সেটি আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। অনুমোদনের পর গেজেট হবে এবং কখন থেকে সেটি কার্যকর হবে তা গেজেটে বলা থাকবে। ১৯৮৬ সালে সর্বশেষ চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন সেবার মাশুল বাড়ানো হয়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, এরপর আর বাড়েনি। সবমিলিয়ে গড়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের মত বাড়ছে। এর মধ্যে কোনটির কমছে বা কোনটির বাড়ছে।তার দাবি, দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানকে হিসাবে নিলে মাশুল ‘খুব বেশি’ বাড়ছে না।
  5. বন্দর সচিব ওমর ফারুক আরো বলেন, বন্দরের সেবার মান বাড়ানোর জন্য মাশুল বাড়ানো হচ্ছে। বন্দরের সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধাও বেড়েছে। এটি একটি সরকারি সংস্থা। সুযোগ-সুবিধা ও সেবার মান বাড়ানোর জন্য মাশুল বাড়ছে।
  6. বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনের এক নেতা বলেন, গত ২ জুন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে বন্দরের মাশুল (ট্যারিফ) হালনাগাদ করার জন্য সভা হয়েছিল। সেখানে বন্দর ব্যবহারকারীরা তাদের মত দিয়েছেন। কিন্তু আর কোনো আলোচনা না করেই চট্টগ্রাম বন্দরের ট্যারিফ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, এটা দু:খজনক। বর্তমান পরিস্থিতিতে মাশুল বাড়ানো মানে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং এর প্রভাব গিয়ে ভোক্তা পর্যায়ে পড়বে।
    চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বন্দরের আদায় করা সবধরণের মাশুল ১৯৮৬ সালে নির্ধারণ করা। এরপর ৪০ বছরে নতুন করে মাশুল বাড়ানো হয়নি। শুধু ২০০৭-০৮ অর্থবছরে অত্যাবশ্যকীয় বিবেচনায় পাঁচটি মূল ট্যারিফ আইটেম বাড়ানো হয়। এর আগে ১৯৯৬ এবং পরে ২০১২ সালে দুই দফা তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হলেও কার্যকর হয়নি। ২০২০ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন করে মাশুল বাড়ানোর কাজ শুরু করে এবং স্পেনভিত্তিক একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ট্যারিফ হালনাগাদ করে বন্দরের কাছে ২০২২ সালে জমা দেয়। বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপ আলোচনার পর মাশুল বাড়ানোর প্রস্তাব চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
  7. চট্টগ্রাম বন্দরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, বন্দরে ৫২টি খাতে মাশুল আদায় করা হয়ে থাকে। আদায়ের সামঞ্জস্য এনে সেটি ২৩ টিতে আনা হয়েছে।
    বন্দর ব্যবহারকারীদের হিসাবে, ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ বর্তমানে ৪৩ ডলারের মত। প্রস্তাবিত নতুন মাশুলে তা হবে ৭০ ডলারের কিছু বেশি। এছাড়া আমদানি করা পণ্যভর্তি কন্টেইনার বন্দরের ইয়ার্ডে প্রথম চার দিন বিনা মাশুলে রাখা যায়। পরের একদিনে কন্টেইনার প্রতি মাশুল দিতে হয় ৬ ডলার, নতুন হারে তা পড়বে ৬ দশমিক ৯ ডলার।
  8. শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, বন্দরের ট্যারিফ বাড়ানোর ফলে দেশের শিল্পায়ন, বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। উন্নয়ন অবশ্যই কাম্য, কিন্তু সেই উন্নয়ন হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই এবং দেশের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিতকারী।চট্টগ্রাম বন্দর এমনিতেই লাভজনক প্রতিষ্ঠান। এটির আয়ের অর্থ ব্যয় করে বন্দরের আধুনিকায়ন থেকে শুরু করে সকল ব্যয়ের পরও বিপুল অর্থ সঞ্চিত থাকে। ট্যরিফ বাড়ানোর সিদ্ধান্তে বাণিজ্যে ও শিল্পে মন্দা এবং সামস্টিক অর্থনীতিতে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে।
  9. তিনি বলেন, ট্যারিফ বাড়ানোর অর্থ হল আমদানি-রপ্তানির খরচ বাড়বে, যা সরাসরি প্রভাব পড়বে পণ্যের বাজারমূল্যে এবং পরোক্ষভাবে এই চাপ গিয়ে পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর। বিশেষত যেসব কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্য আমদানিনির্ভর সেগুলোর মূল্যবৃদ্ধি দেশের সাধারণ জনগণের ওপর চাপ তৈরি করবে।
    বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি এস এম আবু তৈয়ব বলেন, এমনিতেই ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই নানামুখী চাপে রয়েছে এবং ব্যবসা আগের চেয়ে অনেক প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন কারণে পণ্যের উৎপাদন খরচ আগের চেয়ে অনেক বেশি হচ্ছে। এর মধ্যে বন্দরের বিভিন্ন খাতে ট্যারিফ বাড়ানো হবে ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা‘।
  10. অপর এক ব্যবসায়ী বলেন, তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল খাত ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে লড়াই করছে। এই অবস্থায় ট্যারিফ বাড়ালে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং রপ্তানিপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।মাশুল বাড়লে ব্যবসার খরচ বাড়বে এবং এর প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ে পড়বে এমন অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চট্টগ্রামে ৪০ মিনিটের বৃষ্টিতেই নিচু এলাকা প্লাবিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে মাত্র ৪০ মিনিটের বৃষ্টিতে অনেক নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। রাস্তা প্লাবিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরীর নিচু এলাকার বাসিন্দারা। বিশেষ করে চকবাজার ও কাতালগঞ্জ এলাকাতে সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। এসব এলাকার রাস্তাগুলো নোংরা পানিতে ডুবে আছে। ফলে চলাচল করা কঠিন হয়ে উঠে। কোথাও হাঁটু, কোথাওবা কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি। ছুটির দিনেও জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষ এবং খেটে খাওয়া শ্রমজীবীদের পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে চট্টগ্রামে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী এই বৃষ্টিতেই নগরীর চকবাজার, কাতালগঞ্জসহ আশপাশের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়।

এসব এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সকালের মাত্র আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতেই চকবাজার ও কাতালগঞ্জ এলাকার সড়কগুলো দ্রুত পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটু সমান পানি জমে যাওয়ায় যানবাহনগুলো মাঝপথেই আটকে যাচ্ছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া সাধারণ মানুষের গন্তব্যে পৌঁছাতে যেমন দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে, তেমনি চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাস্তায় জমে থাকা হাঁটু সমান পানি মাড়িয়েই পথচারীদের কষ্ট করে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

তবে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার জন্য চিরচেনা এলাকা প্রবর্তক মোড়ে অবশ্য এবার কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। মেগা প্রকল্পের আওতায় সেখানকার হিজড়া খালের মুখে বাঁধ দিয়ে চলমান কাজের সুবাদে প্রবর্তক মোড়ে আগের মতো পানি জমেনি। তবে প্রবর্তক মোড় রক্ষা পেলেও এর আশপাশের নিচু এলাকা ও সংযোগ সড়কগুলো ঠিকই পানিতে ডুবে ছিল। ফলে সামগ্রিক ভোগান্তি খুব একটা কমেনি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের বিএফও মাহবুবুল আলম বলেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে মাত্র ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে মেঘের ঘনত্বের কারণে অল্প সময়ে তীব্র বৃষ্টি হওয়ায় নিচু এলাকায় পানি জমেছে। দিনভর আকাশ মেঘলা থাকবে এবং থেমে থেমে আরও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সঠিক তদারকি ও খালগুলোর সংস্কার কাজ সময়মতো শেষ না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই চট্টগ্রামকে এখনো ডুবতে হচ্ছে।

কাতালগঞ্জের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, বহু বছর ধরে আমরা একটু বৃষ্টি হলেই পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছি। একের পর এক মেগা প্রকল্প আসে, কিন্তু আমাদের কষ্টের কোনো শেষ নেই। আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতে যদি এই অবস্থা হয়, সামনের দিনগুলোতে কী হবে?
ভোগান্তিতে পড়া রিকশাচালক মো. জলিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বহুদিন ধরে আমরা এ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। ছুটির দিন হলেও আমাদের তো আয়ের আশায় বের হতে হবে। কিন্তু রাস্তায় পানি উঠে যাওয়ায় রিকশা চালানো যাচ্ছে না। আমাদের এই কষ্ট দেখার কেউ নেই।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ