আজঃ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে ইলিশ এক কেজির দাম ২০০০-২৫০০ টাকা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালি ইলিশ জেলেদের জালে ধরা পড়লেও দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বাজারে পর্যাপ্ত ইলিশের সরবরাহ থাকার পরও দর বেশি থাকায় হতাশ ক্রেতারা। চট্টগ্রামের পাঁচটি উপজেলায় ও মহানগরীর একাধিক ঘাট এখন ইলিশে সরগরম। এর মধ্যে রয়েছে ফিশারি ঘাট, রাসমনি ঘাট, আনন্দবাজার ঘাট, উত্তর কাট্টলি, দক্ষিণ কাট্টলি, আকমল আলী ঘাট। এসব ঘাটে ইলিশ বিক্রির ধুম পড়েছে। এছাড়াও জেলার বাঁশখালী, মিরসরাই, আনোয়ারা, সন্দ্বীপ ও সীতাকুণ্ডের উপকূল এলাকায় প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে।

দেওয়ান বাজারের মাছ ব্যবসায়ী রিদোয়ান বলেন, ইলিশ মাছ আনলেও মানুষ ইলিশ মাছ নেয় না। কারণ দাম বেশি হওয়ায় তারা কিনতে পারে না। আমরাও আড়ত থেকে বেশি দামে কিনে আনি, তাই কম বিক্রি করা যায় না।
মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, একটি ট্রলার পাঠাতে অনেক খরচ। জ্বালানি তেলের দাম বেশি। একটি ট্রিপে যে খরচ হয়, সে তুলনায় ইলিশই পাওয়া যায় না। ফলে দাম কমছে না। তবে দু’এক সময় কোনো ট্রলারে হয়তো অনেক বেশি মাছ পাওয়া যায়। যদি কোনো ইলিশের ঝাঁক একবারে জালের নিচে পড়ে, তাহলেই হয়তো লাভের মুখ দেখা যায়। কিন্তু সেটা সার্বিক চিত্র না। আর তা দিয়ে বাজারে দাম কমে না।
নগরীর কয়েকটা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম এখন ২০০০-২৫০০ টাকা, দেড় কেজি ২৫০০-৩০০০টাকা। ছোট ইলিশের মধ্যে ৮০০ গ্রামের ইলিশের দাম ১৫০০-২০০০ টাকা, ৭০০ গ্রাম ১২০০-১৫০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ ১০০০-১২০০ এবং ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রামের ইলিশের কেজি ৮০০-১০০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। বাজার অনুযায়ী মাছের দাম ভিন্ন হতে পারে।

এদিকে বাজারে ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া মাছের কেন এত দাম হবে? এ মাছে চাষের খরচ নেই। নেই ফিড বা মেডিসিনের। তারপরও নদী বা সমদ্র থেকে জাল টেনে ধরে আনা ইলিশের দাম মাংস থেকেও অনেক বেশি। তাহলে তা কি আমাদের মতো মধ্যবিত্তের পক্ষে কেনা সম্ভব? এটা হয়তো আমাদের এক সপ্তাহের মাছ-মাংসের খরচ। তাই ইলিশ খেতে হলে এখন আয়োজন করে খেতে হয়। এভাবে চললে হয়তো আমাদের জাতীয় মাছ যে ইলিশ, তা আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ভুলে যাবে।
ইয়াসিন আরাফাত নামে বেসরকারি ব্যাংকের আরেক ক্রেতা বলেন, এ বছর মাছের দাম বাড়তি দেখা যাচ্ছে। ইলিশের দাম বাড়তি দেখে অন্য মাছ নিয়েছি। তবে ইলিশ বুঝি সত্যিই এবার মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেল। বষা মৌসুমে এসে ইলিশের এত দাম।
মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র জানা যায়, পৃথিবীর দুই-তৃতীয়াংশের অধিক ইলিশ উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইলিশের দেশ হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেছে। ‘বাংলাদেশ ইলিশ’ শীর্ষক ভৌগোলিক নিবন্ধন সনদ (জিআই সনদ) প্রাপ্তিতে নিজস্ব পরিচয় নিয়ে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ইলিশ সমাদৃত। বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত মাছের ১২ শতাংশ আসে শুধু ইলিশ থেকে, যা দেশের জিডিপির এক শতাংশের অধিক। ২০২১-২২ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৫ দশমিক ৬৭ লাখ টন। যা গত ২০১০-১১ অর্থবছরের (৩.৪০ লাখ টন) চেয়ে ৬৬.৭৬ শতাংশ বেশি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, এ বছর অন্য যে কোনো বছরের চেয়ে বেশি ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। জাটকা শিকার, মা ইলিশ ধরা নিষিদ্ধের কারণে এবার বড় সাইজের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। আর বাজারে দর ভালো থাকায় খুশি তারা। গেল কয়েক বছর ধরে সাড়ে ৫ লাখ টন ইলিশ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এবার ৬ লাখ টন হবে বলে তারা আশা করছেন। চলতি অর্থবছরে শুধু ইলিশ থেকে কয়েকশ কোটি টাকারও বেশি আয় করা যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

আড়তদাররা বলছেন, ইলিশ ভারতে রপ্তানি করায় এবং মোকামে পর্যাপ্ত ইলিশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। নগরীর ফিরিঙ্গীবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসহ পুরো ফিশারি ঘাট এলাকা ইলিশে সয়লাব। জেলেরা সাগর থেকে মাছ ধরে বিক্রির জন্য এখানে নিয়ে আসছেন। এখান থেকেই রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ইলিশ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন না করায় জরিমানা গুনল ৪ বাস কাউন্টার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের বাস কাউন্টারগুলোতে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে এ অভিযান চালানো হয়। সোমবার মহানগরীর গরিবুল্লাশাহ মাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন তীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান, মাহমুদা আক্তার ও রানা দেবনাথ।

মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ বলেন, গরীবুল্লাহশাহ মাজার এলাকায় বাস কাউন্টারগুলোতে অভিযান চালিয়েছি। এসময় ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন না করায় সেন্টমার্টিন পরিবহনেকে ৫ হাজার টাকা, রিলাক্স পরিবহনকে ৩ হাজার, দেশ ট্রাভেলস ৩ হাজার ও রয়েল মত্রি সার্ভিসকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ঈদে যাতে কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে সে লক্ষ্যে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

সিএমপির নতুন কমিশনার মো. শওকত আলী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডিআইজি হাসান মো. শওকত আলী।

সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিআইজি) হাসান মো. শওকত আলীকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজকে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) বদলি করা হয়েছে।বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার (সদর), অতিরিক্ত দায়িত্বে সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ।

এছাড়া বিশেষ শাখা (এসবি) ঢাকার ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আহসান হাবীব পলাশকে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি দিয়ে মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজিপি) হিসেবে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র‌্যাব) পদায়ন করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ