চলচ্চিত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব

মার্শাল আর্ট : বাংলাদেশের ইতিহাসে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলম একটি অধ্যায় ।

কে এম রাজীব, চট্টগ্রাম।

বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ছোটবেলা থেকে মার্শাল আর্টের প্রতি খুব আগ্রহ ছিলো মনে। বুকে আশা আর স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে উঠতে লাগলো জীবন। একটা সময় নিজেকে তৈরি করার লক্ষ্য স্বপ্ন দেখে মার্শাল আর্ট শিখতে বার্মা ( বর্তমানে মিয়ানমার)  যাওয়ার। সে স্বপ্নকে বাস্তবে রুপান্তর করতে চলে গেলেন বার্মাতে ( বর্তমানে মিয়ানমার)। খোঁজ নেন মার্শাল আর্ট শেখানোর পাঠশালার। খোঁজ নিতে নিতে পরিচয় হয় মিয়ং অন ও মিয়ং টিন নামের দুই প্রশিক্ষকের যারা ছিলেন মার্শাল আর্ট নামে আত্নরক্ষার কৌশলের কৌশলী। শুরু হয় তাঁর স্বপ্ন পূরণের সূচনা। এতক্ষণ বলছিলাম বাংলাদেশে মার্শাল আটের জনক ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলম এর কথা। ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলম ১৯৫৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলার রাউজান এলাকার হাজী বদরুল আলম ও কক্সবাজার জেলার উকিয়া এলাকার চৌধুরী পরিবারের মেয়ে সুফুরা খাতুন দম্পতির ঘরে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি উকিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তিনি বাংলাদেশের একজন মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষক, চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনেতা। ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলম বাংলাদেশের মার্শাল আর্টের জনক হিসেবে পরিচিত এবং দেশজুড়ে এই ক্রীড়াটির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পের একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। যিনি অসংখ্য এ্যাকশন চলচ্চিত্রে অভিনয়, পরিচালনা ও প্রযোজনা করেছেন এবং বাংলাদেশ ফাইটার কারাতে ক্লাব ও বাংলাদেশ ফাইটার কারাতে অ্যাসোসিয়েশন নামের দুটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলম। যা অল্প সময়ে বর্ননা করা  সম্ভব নয় । নিন্মে তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরা হলো।

মার্শাল আর্ট জীবন :

,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

তাঁর মার্শাল আর্ট জীবনের সূচনা ঘটে কৈশোরে, যখন তিনি তার পিতার সাথে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে মিয়ানমার (তৎকালীন বার্মা) ভ্রমণ করেন। তিনি ইয়াংকিং ফাইটার কারাতে ক্লাবে মিয়ং-অন ও মিয়ং-টিন নামক প্রশিক্ষকের অধীনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং ফাইটার কারাতে-তে ৮ম ড্যান ব্ল্যাক বেল্ট অর্জন করেন।

তিনি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ফাইটার কারাতে ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন কক্সবাজার সরকারি কলেজে। ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত সেখানেই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন। এরপর চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যান। ১৯৭৯ সালে তিনি বাংলাদেশ জুডো-কারাতে ফেডারেশন কর্তৃক দেশের প্রথম জাতীয় কারাতে কোচ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন, যা ছিল বাংলাদেশের মার্শাল আর্ট ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। ২’হাজার সালে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ ফাইটার কারাতে অ্যাসোসিয়েশন যেখানে তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৫ সাল পর্যন্ত সংগঠনটির অধীনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দুইশরও বেশি ক্লাব পরিচালিত হচ্ছে, যেগুলো তার শিষ্যদের দ্বারা পরিচালিত। প্রতি বছর জাতীয় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশের তরুণদের মধ্যে মার্শাল আর্ট ছড়িয়ে দিতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। জনপ্রিয় অভিনেতা ও মার্শাল আর্টিস্ট মাসুম পারভেজ রুবেল সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

চলচ্চিত্রে আগমন :

“””””””””””””””””””””””'”””

প্রথমে চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রবেশ করেন মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষক হিসেবে, বিভিন্ন তারকাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে। তাঁর প্রশিক্ষণে দক্ষতা অর্জন করেন:- মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা), মাসুম পারভেজ রুবেল, মিশা সওদাগর, রোজিনা, ইলিয়াস কাঞ্চন, সোহেল চৌধুরী, খালেদ মোহাম্মদ,খালেদ মনসুর, ববিতা, জুলিয়া। তাঁর কৌশলী প্রশিক্ষণের কারণে তিনি বহু চলচ্চিত্রে অ্যাকশন ডিরেক্টর হিসেবে কাজের সুযোগ পান। পরবর্তীতে তিনি নিজেই অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে আবির্ভূত হন।

উল্লেখযোগ্য কাজসমূহ :

+++++++++++++++

তিনি বহু চলচ্চিত্রে বিভিন্ন ভূমিকায় কাজ করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রসমূহের মধ্যে রয়েছে- মার্শাল হিরো, যেখানে তিনি প্রথম প্রধান অভিনেতা ও প্রযোজক হিসেবে নিজেকে আত্মপ্রকাশ করেন। মাস্টার সামুরাই, যেটি তাঁর ব্লকবাস্টার অ্যাকশন ফিল্ম ছিলো। সেখানে তিনি দোয়েলের বিপরীতে প্রধান চরিত্রে এবং খালেদ মোহাম্মদ ও সুচরিতা অভিনীয় করেন।

মরণ লড়াই, ছবিটিতে তিনি নিজেই পরিচালক, প্রযোজক ও প্রধান অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং সহশিল্পী হিসেবে রোজিনা, সোহেল রানা, সাবিহা, মিজু আহমেদ ও রাজীব অভিনয় করেন। এছাড়া তিনি যেসব চলচ্চিত্রগুলোর অ্যাকশন নির্দেশনা  ও অভিনয়ও করেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো- যাদু নগর, শরীফ বদমাশ, লড়াকুবিদ্রোহী, হুম সে জামানা (আন্তর্জাতিক), হিমালয়ের বুকে (আন্তর্জাতিক), জীবন জ্যোতি (আন্তর্জাতিক)।

নির্বাচিত চলচ্চিত্র তালিকা :

★★★★★★★★★★★

কারাতে মাস্টার, বিদ্রোহী মস্তান, সুন্দরী মিস বাংলাদেশ, কুংফু নায়ক, প্রেমিক রংবাজ, ডাইরেক্ট অ্যাকশন, জ্বলন্ত বিস্ফোরণ, হুমকির মুখে, পেশাদার খুনি, ওস্তাদের ওস্তাদ, সাহসী সন্তান, কুংফু কন্যা, নারীরাও প্রতিবাদী, মরণ নিশান, লাল চোখ, বিজলি তুফান ও মৃত্যুর ঘণ্টা

ব্যবসায়িক উদ্যোগ :

*****************

চলচ্চিত্র ও মার্শাল আর্টের পাশাপাশি তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। তার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক উদ্যোগসমূহ- ওস্তাদ জাহাঙ্গীর রিসোর্ট, ওস্তাদের হিলভিউ রেস্টুরেন্ট ও কনভেনশন হল ও বাংলাদেশ ফাইটার কারাতে জিম। এই প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যটন, আতিথেয়তা ও ফিটনেস খাতে অবদান রাখছে।

ব্যক্তিগত জীবন :

———————

ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলম ২০০১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মাশুকা নাসরিন রাকা তাঁর সহধর্মিণী হিসেবে রয়েছে। রাকা ছিলেন একজন অভিনেত্রী, মডেল, উপস্থাপিকা, সাংবাদিক, মাইম আর্টিস্ট ও আবৃত্তিকার। এই দম্পতির দুটি সন্তান- তাজওয়ার আলম ও রেজওয়ার আলমতাঁ তার পূর্ববর্তী বিয়ে থেকেও দুটি সন্তান রয়েছে।

ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলম বাংলাদেশের মার্শাল আর্ট এর জনক হিসেবে এবং  চলচ্চিত্রে মার্শাল আর্টের অসামান্য অবদানের জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহু সম্মাননা ও পুরস্কার  পেয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সম্মাননা ও পুরস্কার :

★*★*★*★*★*★*★*★*★*★

নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র (২০০৫) বাংলাদেশে মার্শাল আর্টের জনক হিসেবে সম্মাননা, স্টার ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড (২০০৫) নিউ জার্সির বাংলাদেশি আমেরিকান অর্গানাইজেশন দ্বারা প্রদানকৃত, সিটি অফ প্যাটারসন, USA (২০০৫) বিশেষ সম্মাননা, সানরাইজ ইউকে রেডিও অ্যাওয়ার্ড (২০০৫, লন্ডন) মার্শাল আর্ট ও চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য পুরস্কৃত হন।

জাতীয় পুরস্কারসমূহ :

$$$$$$$$$$$$$$

বাচসাস পুরস্কার, বাবিসাস পুরস্কার, ট্রাব পুরস্কার, ফিল্ম ক্লাব অ্যাওয়ার্ড, সাংস্কৃতিক সাংবাদিক ইউনিটি পুরস্কার ও প্রযোজক সমিতির পুরস্কার সহ অন্যান্য পুরস্কার।

উত্তরাধিকার :

±±±±±±±±±

বাংলাদেশের মার্শাল আর্ট সম্প্রদায়ের পথিকৃৎ এবং চলচ্চিত্র ইতিহাসে একজন সম্মানীয় ব্যক্তিত্ব। কয়েক দশকের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি হাজারো শিক্ষার্থীকে অনুপ্রাণিত করেছেন, দেশজুড়ে আত্মরক্ষামূলক ক্রীড়াকে জনপ্রিয় করেছেন এবং সমাজ ও চলচ্চিত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখেছেন ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলম।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

একটি মহল ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করে দেশের সম্প্রীতি নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে-মীর্জা ফখরুল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এ দেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদার দেশ। ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভেদ সৃষ্টি করে কেউ যেন সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে৷ সরকার সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
মির্জা
শুক্রবার ৩১ জুলাই রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদের আয়োজনে ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। তাই ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে বিভক্ত করার কোনো সুযোগ নেই। আমি কখনোই আপনাদের সংখ্যালঘু মনে করি না। আপনারা এ দেশের সন্তান, এ দেশের নাগরিক।

তিনি বলেন- মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল সব মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম। সেই চেতনা ধারণ করেই একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। ধর্মীয় পরিচয় নয়, নাগরিক পরিচয়ই হবে রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।

একটি মহল ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করে দেশের সম্প্রীতি নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। বাংলাদেশে উগ্রবাদ ও মৌলবাদের কোনো স্থান নেই। আমরা একটি উদার, গণতান্ত্রিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ প্রমুখ।

সুকন্ঠ সংগীত বিদ্যার্থী পরিষদ সংগীত ভূবণকে সমৃদ্ধ করার এক নতুন সংযোজন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


সুকন্ঠ সংগীত বিদ্যার্থী পরিষদ সংগীত ভূবণকে
সমৃদ্ধ করেছে।চট্টগ্রামের সংগীত ভান্ডারে এসংঠনের অগ্রযাত্রা সংস্কৃতি জগতের জন্য আনন্দলোক।
বন্দর নগরীর চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউটে ৩১ জুলাই শুক্রবার সন্ধ্যায় সুকন্ঠ সংগীত বিদ্যার্থী পরিষদ বাংলাদেশ আয়োজিত প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তাগনের বক্তব্যে এক উঠে আস। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ টিভি ও বেতার শিল্পী বিদ্যার্থী পরিষদের প্রধান উপদেষ্ঠা সুব্রত দাশ অনুজ।

বাচিক শিল্পী সুপ্রিয়া চৌধুরীর সঞ্চালনায় বিদ্যার্থী পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক অরুণ নাথ এর সভাপতিত্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান -কিরন শর্মা, ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম এর নির্বাহী পরিচালক উৎপল বড়ুয়া, তবলা শিল্পী লিটন মিত্র।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যার্থী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো: লোকমান হোসেন, প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিদ্যার্থী পরিষদের উপদেষ্টা লিটন সরকার, অঞ্জনা পারিয়াল, প্রণব দাশ গুপ্ত,সুবর্না দাশ,পরিষদের কর্মকর্তাদের শুভেচ্ছা জানান গৌরী ললিত কলা একাডেমির পরিচালক নাসরিন সুলতানা খানম, উদ্বোধনী বক্তব্যে বিদ্যার্থী পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা শিল্পী সুব্রত দাশ অনুজ বলেন সুর,তাল প্রতিটি মানুষের আছে কেউ উপলব্ধি করতে পারে কেউ পারে না। সুরের ছোঁয়ায় মানব জীবনে পরিবর্তন হয়।

সম্মানিত অতিথি সাংবাদিক কিরণ শর্মা তাঁর বক্তব্য বলেন – সঙ্গীত বাঙ্গালি সংস্কৃতিতে ওতপ্রোতভাবে জড়িত সঙ্গীত মানুষের মনকে বিকশিত করে।
চট্টগ্রামের শিল্প ও সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বৈচিত্র্যময় লোকসংগীত, মাইজভাণ্ডারী গান, কবিয়াল গান জনপদের অনন্য ঐতিহ্য বহন করে চলেছে।
সুকন্ঠ বিদ্যার্থী পরিষদ সেধারার সাথে সংযোজিত হয়ে চট্টগ্রামের সংগীত ভান্ডারকে আরো সমৃদ্ধ করবে।তিনি সুকন্ঠ বিদ্যার্থী পরিষদের সাফল্য কামনা করে পাশে সবসময় থাকবেন ব্যক্ত করেন।


ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম এর নির্বাহী পরিচালক সংস্কৃতি প্রেমী উৎপল বড়ুয়া বলেন শুদ্ধ সংগীতের বিকল্প নেই, সঙ্গীতর চর্চা মানুষের মন পরিশুদ্ধ করে তোলে। সভাপতির সমাপনি বক্তব্যে সাংবাদিক অরুণ নাথ বলেন চরাউৎরায় দেশের বৈরী পরিস্থিতিতে সংস্কৃতি কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে যারা সহযোগিতা করছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্যদের পরিবেশনায় দলীয় সঙ্গীতের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয় এর পর দেশের গান পরিবেশন করেন নরেন্দ্র বিশ্বাস ,

দ্বৈত গান পরিবেশন করেন কান্তা বিশ্বাস ও টুম্পা দাশ, লিজা দাশ ও সজীব চৌধুরী, একক গান পরিবেশন করেন কৌশিক দত্ত, অনিন্দিতা ভট্টাচার্য, উর্বশী চক্রবর্তী, তন্দ্রা সিংহ মৌ,জয়শ্রী ধর,মো: লোকমান হোসেন, রুবেল চৌধুরী, আনিকা দাশ, নীলাদ্রি সেন গুপ্ত, প্রণয় ধর,আবৃত্তি পরিবেশন করেন বাচিক শিল্পী লিটন সরকার, নৃত্য পরিবেশন করেন হিতৈষী দাশ কৃতি, এর পর গান পরিবেশন করেন কৃষ্ণ চৌধুরী, দীপান্ত ভট্টাচার্য, অর্ঘ্যদ্বীপ সরকার,অভ্রনীল দে,

অর্চিতা দে,অণ্বেষা ধর,স্মৃতি দে, প্রিয়ম বিশ্বাস, প্রমা অবন্তী বিশ্বাস, ঋতু সাহা,আশিষ চৌধুরী, প্রমুখ। দর্শক শ্রোতাদের উপস্থিতি কানায় কানায় হল ভর্তি হয়ে দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে হয়েছে। সঙ্গীত প্রেমীদের অনুরোধে গানে গানে রাত দশটা অবধি চলে অনুষ্ঠান। যন্ত্রানুসঙ্গে ছিলেন কী বোর্ডে পঙ্কজ নাথ, তবলায় রাজু দাশ,সানি দে, সায়ন দে, অক্টোপেডে প্রণব দাশ,গিটারে মো: সেলিম।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ