আমদানি কার্গো অপারেশন কার্যত অচল আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য প্রবেশের ঝুঁকি চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চোরাচালান কিংবা আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য প্রবেশের ঝুঁকি বাড়ছে। এসব ঝুকি এড়াতে বিদেশ থেকে আসা যাত্রী এবং ব্যবসায়ীদের লাগেজ ও ব্যাগেজ স্ক্যানিং করে আসলেও আমদানি কার্গো অপারেশন কার্যত অচল হয়ে পড়ায় ঝুঁকির পাশাপাশি যাত্রী, ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভিউ পয়েন্ট সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের স্বত্ত্বাধিকারী মো. আবুল বশর বলেন, দীর্ঘদিন স্ক্যানার অচল থাকায় কার্গো হাউসে কাজের দীর্ঘসূত্রতা হচ্ছে। প্রবাসীরাও তাদের ব্যাগ পেতে বিড়ম্বনায় পড়ছেন। এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এভাবে চলতে থাকলে আন্তর্জাতিক মান ক্ষুন্ন হবে। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিক।

সরেজমিনে দেখা যায়, কার্গো শেডে পড়ে থাকা বেশ কয়েকটি কার্টন কেটে কেটে চেক করছেন কাস্টমসের কর্মীরা। এসময় তারা কার্টনের ভেতরে থাকা বিভিন্ন পণ্যগুলো বের করে করে রেখে পুনরায় আবার তা বন্ধ করে ছাড় দিয়ে দিচ্ছেন। এসময় সিএন্ডএফ এজেন্টের লোকজনকেও অদূরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এমনভাবে কার্টনগুলো চেক করা হচ্ছে- যাত্রীদের জন্য এটি যেমন বিভ্রান্তিকর ও অস্বস্তিকর। তেমনি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি বিমানবন্দরে এ ধরনের পদ্ধতি দৃষ্টিকটূ বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীরা একদিকে যেমন বিড়ম্বনায় পড়ছেন, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেনআমদানিকারক ব্যবসায়ীরাও। প্রবাসী শ্রমিকরা বলছেন, ব্যাগ কেটে পরীক্ষার কারণে তাদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কার্গো খালাসে সময় বাড়ায় ডেমারেজসহ অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের।

এ বিষয়ে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টম হাউসের দায়িত্বে থাকা (সদ্য বদলি হওয়া) সহকারী কমিশনার প্রদীপ দাশ বলেন, একটি স্ক্যানার বিকল হলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আরেকটি স্ক্যানার দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছিল। কিন্তু সেটিও বিকল হয়ে গেছে। যার কারণে চেক করেই পণ্য খালাস দেয়া হচ্ছে। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি।

এদিকে, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) মো. এমদাদুল ইসলাম বলেন, স্ক্যানিং মেশিন অচল থাকায় শুধু যাত্রীসেবার মান ক্ষুন্ন হচ্ছে না বরং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। স্ক্যানিং এড়ানো মানে চোরাচালান বা নিষিদ্ধ পণ্য সহজেই প্রবেশের সুযোগ পেয়ে যাওয়া। একই সঙ্গে প্রবাসী ও আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের ভোগান্তিও বাড়ছে বহুগুণ। এ সুযোগে আন্তর্জাতিক চক্রগুলোও সুযোগ নিতে পারে। যা দেশের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিবে। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন হবে বলে তিনি জানান।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বন্দর দিয়ে বিদেশ থেকে আসা যাত্রী এবং ব্যবসায়ীদের লাগেজ ও ব্যাগেজ স্ক্যানিং করে কাস্টম্স কর্তৃপক্ষ। গত ২৯ মে অকেজো হয়ে যায় বিমানবন্দরের কার্গো শেডের একমাত্র স্ক্যানারটি। এরপর স্ক্যানিং কার্যক্রম সচল রাখতে তৎকালীন কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার চপল কুমার চাকমা চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের অব্যবহৃত একটি রপ্তানি স্ক্যানিং মেশিন চান। বিমানবন্দর পরিচালকও কার্গো অপারেশন চালু রাখার জন্য স্ক্যানিং মেশিনটি কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে দেন। কথা ছিল ২৯ মে থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত তা ব্যবহার করা হবে এবং এক মাসের মধ্যে কাস্টমসের নিজস্ব স্ক্যানার সচল করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্ধারিত সময় শেষ হলেও অদ্যাবধি স্ক্যানার সচল হয়নি। শুধু তাই নয়, বিমানবন্দর থেকে নেয়া স্ক্যানার মেশিনটিও গত ১৭ জুলাই থেকে বিকল হয়ে পড়ে। সেই থেকে থেকে অদ্যাবধি কোন ধরনের স্ক্যানিং ছাড়াই, কেবলমাত্র নিজস্ব জনবল দিয়ে ব্যাগ কেটে পরীক্ষা করে মালামাল খালাস দেওয়া হচ্ছে।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নিধারিত ভাড়া না মানলে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যবস্থা: ইউএনও

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সিএনজি অটোরিকশায় নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট না থাকলে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উপজেলার সব সিএনজি অটোরিকশায় দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার চার্ট টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বোয়ালখালী উপজেলা অডিটোরিয়ামে সিএনজির ভাড়া, যাত্রীসেবা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক।

সভায় যাত্রীদের স্বার্থ, চালক ও মালিকদের ন্যায্যতা এবং সিএনজি পরিবহনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে সিএনজিতে যাত্রী উঠানামার ভাড়া ৫ টাকা এবং ইউএনও কার্যালয় থেকে ফুলতল পর্যন্ত ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এ ছাড়া স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে ইউনিফর্ম পরিহিত কিংবা বৈধ পরিচয়পত্রধারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিটি সিএনজি অটোরিকশায় নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব গাড়িতে ভাড়ার চার্ট লাগানো নিশ্চিত করতে হবে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ভাড়ার চার্ট না থাকা গাড়ির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায় না করা এবং যাত্রীদের সঙ্গে শালীন, ভদ্র ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে চালকদের নির্দেশ দেওয়া হয়। যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কিংবা সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, বোয়ালখালীর পাঁচটি স্টেশনে পূর্বের নির্ধারিত ভাড়ার সঙ্গে ৫ টাকা করে বৃদ্ধি করা হবে। অন্য স্টেশনগুলোর ভাড়া আগের মতোই বহাল থাকবে।

সভায় বোয়ালখালী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কানিজ ফাতেমা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল হক চেয়ারম্যান, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ইসহাক চৌধুরী, বিএনপি নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা মুজাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সভাপতি অধীর বড়ুয়া ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন দুলালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, এস এম মোদাচ্ছের, বোয়ালখালী সিএনজি অটোরিকশা টেম্পু শ্রমিক ও মালিক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মো. ইদ্রিস, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাবিবুর রহমান, শ্রমিকনেতা আবদুল সাত্তার এবং কালুরঘাট-ফুলতল, শাকপুরা, সিও অফিস, জোটপুকুর, কানুনগোপাড়া, দাশেরদীঘি, বেংগুরাসহ বিভিন্ন এলাকার সিএনজি চালক ও সমিতির প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।সভায় উপস্থিত বিভিন্ন পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে যাত্রীবান্ধব, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ সিএনজি পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

ইঞ্জিন দ্রুত মেরামতে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের নির্দেশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমি (আরটিএ), লোকোসেড, সিজিপিওয়াই, কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ (সিসিবিএল) ও পদ্মা অয়েল সাইডিং লাইন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলাম। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এসব স্থাপনা পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শনকালে রেলওয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী (সিই), চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (সিওপিএস), চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (সিসিএম), চট্টগ্রামের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) এবং পাহাড়তলীর ডিএসডব্লিউসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথমে রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমি (আরটিএ) পরিদর্শন করেন মহাব্যবস্থাপক। এ সময় তিনি একাডেমির একাডেমিক ভবন, প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ কক্ষ, ডরমেটরি ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে বিভাগীয় প্রধানদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।এরপর তিনি সিজিপিওয়াই, টার্ন টেবিল, ট্রায়াঙ্গেল লাইন, ইয়ার্ড লাইন ও লোকোসেড পরিদর্শন করেন। লোকোসেড পরিদর্শনকালে ইঞ্জিন দ্রুত মেরামত ও সচল রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন পরামর্শ ও নির্দেশনা দেন।

পরে সিজিপিওয়াই এলাকায় কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ (সিসিবিএল) পরিদর্শন করেন মহাব্যবস্থাপক। এ সময় সিসিবিএলের সঙ্গে রেলওয়ের বিভিন্ন চুক্তি, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সীমানা নির্ধারণসংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া দ্মা অয়েল সাইডিং লাইন পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ