আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

আমদানি কার্গো অপারেশন কার্যত অচল আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য প্রবেশের ঝুঁকি চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চোরাচালান কিংবা আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য প্রবেশের ঝুঁকি বাড়ছে। এসব ঝুকি এড়াতে বিদেশ থেকে আসা যাত্রী এবং ব্যবসায়ীদের লাগেজ ও ব্যাগেজ স্ক্যানিং করে আসলেও আমদানি কার্গো অপারেশন কার্যত অচল হয়ে পড়ায় ঝুঁকির পাশাপাশি যাত্রী, ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভিউ পয়েন্ট সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের স্বত্ত্বাধিকারী মো. আবুল বশর বলেন, দীর্ঘদিন স্ক্যানার অচল থাকায় কার্গো হাউসে কাজের দীর্ঘসূত্রতা হচ্ছে। প্রবাসীরাও তাদের ব্যাগ পেতে বিড়ম্বনায় পড়ছেন। এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এভাবে চলতে থাকলে আন্তর্জাতিক মান ক্ষুন্ন হবে। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিক।

সরেজমিনে দেখা যায়, কার্গো শেডে পড়ে থাকা বেশ কয়েকটি কার্টন কেটে কেটে চেক করছেন কাস্টমসের কর্মীরা। এসময় তারা কার্টনের ভেতরে থাকা বিভিন্ন পণ্যগুলো বের করে করে রেখে পুনরায় আবার তা বন্ধ করে ছাড় দিয়ে দিচ্ছেন। এসময় সিএন্ডএফ এজেন্টের লোকজনকেও অদূরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এমনভাবে কার্টনগুলো চেক করা হচ্ছে- যাত্রীদের জন্য এটি যেমন বিভ্রান্তিকর ও অস্বস্তিকর। তেমনি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি বিমানবন্দরে এ ধরনের পদ্ধতি দৃষ্টিকটূ বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীরা একদিকে যেমন বিড়ম্বনায় পড়ছেন, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেনআমদানিকারক ব্যবসায়ীরাও। প্রবাসী শ্রমিকরা বলছেন, ব্যাগ কেটে পরীক্ষার কারণে তাদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কার্গো খালাসে সময় বাড়ায় ডেমারেজসহ অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের।

এ বিষয়ে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টম হাউসের দায়িত্বে থাকা (সদ্য বদলি হওয়া) সহকারী কমিশনার প্রদীপ দাশ বলেন, একটি স্ক্যানার বিকল হলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আরেকটি স্ক্যানার দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছিল। কিন্তু সেটিও বিকল হয়ে গেছে। যার কারণে চেক করেই পণ্য খালাস দেয়া হচ্ছে। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি।

এদিকে, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) মো. এমদাদুল ইসলাম বলেন, স্ক্যানিং মেশিন অচল থাকায় শুধু যাত্রীসেবার মান ক্ষুন্ন হচ্ছে না বরং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। স্ক্যানিং এড়ানো মানে চোরাচালান বা নিষিদ্ধ পণ্য সহজেই প্রবেশের সুযোগ পেয়ে যাওয়া। একই সঙ্গে প্রবাসী ও আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের ভোগান্তিও বাড়ছে বহুগুণ। এ সুযোগে আন্তর্জাতিক চক্রগুলোও সুযোগ নিতে পারে। যা দেশের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিবে। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন হবে বলে তিনি জানান।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বন্দর দিয়ে বিদেশ থেকে আসা যাত্রী এবং ব্যবসায়ীদের লাগেজ ও ব্যাগেজ স্ক্যানিং করে কাস্টম্স কর্তৃপক্ষ। গত ২৯ মে অকেজো হয়ে যায় বিমানবন্দরের কার্গো শেডের একমাত্র স্ক্যানারটি। এরপর স্ক্যানিং কার্যক্রম সচল রাখতে তৎকালীন কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার চপল কুমার চাকমা চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের অব্যবহৃত একটি রপ্তানি স্ক্যানিং মেশিন চান। বিমানবন্দর পরিচালকও কার্গো অপারেশন চালু রাখার জন্য স্ক্যানিং মেশিনটি কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে দেন। কথা ছিল ২৯ মে থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত তা ব্যবহার করা হবে এবং এক মাসের মধ্যে কাস্টমসের নিজস্ব স্ক্যানার সচল করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্ধারিত সময় শেষ হলেও অদ্যাবধি স্ক্যানার সচল হয়নি। শুধু তাই নয়, বিমানবন্দর থেকে নেয়া স্ক্যানার মেশিনটিও গত ১৭ জুলাই থেকে বিকল হয়ে পড়ে। সেই থেকে থেকে অদ্যাবধি কোন ধরনের স্ক্যানিং ছাড়াই, কেবলমাত্র নিজস্ব জনবল দিয়ে ব্যাগ কেটে পরীক্ষা করে মালামাল খালাস দেওয়া হচ্ছে।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

কিউলেক্স মশার প্রকোপ বেড়েছে: মেয়র ডা. শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নালা-নর্দমা ও ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে স্থির পানিতে মশার বংশবিস্তার ঘটছে। তাই নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।’শনিবারের অঙ্গীকার, বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’—এই স্লোগান সামনে রেখে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানের উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও এর আশপাশের এলাকায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচিটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সারা দেশে পরিচালিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামেও শুরু হয়েছে।মেয়র বলেন, নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান, কারণ প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন।তাই মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে এই এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে টব, ডাবের খোসা, নির্মাণাধীন ভবনের সামগ্রী বা প্লাস্টিকের পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নেয়, যা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার জন্য দায়ী। তবে বর্তমানে কিউলেক্স মশার বিস্তার বেশি দেখা যাচ্ছে, যার প্রধান উৎস নোংরা ড্রেন ও জমে থাকা বর্জ্য। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।তিনি জানান, নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে এই পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে এবং ওয়ার্ডভিত্তিক তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও অতিরিক্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ১৬০ জনের একটি বিশেষ দল কাজ করছে।মেয়র বলেন, চকবাজার, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, ফিরিঙ্গিবাজার, হালিশহর, পাহাড়তলীসহ কয়েকটি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষভাবে মশক নিধন ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

কার্যকর ওষুধ ব্যবহারের কারণে বর্তমানে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ অনেকটাই কমেছে। আমেরিকা থেকে আনা কার্যকর লার্ভিসাইড ব্যবহার করায় ডেঙ্গুর লার্ভা ধ্বংসে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহর শুধু সিটি করপোরেশনের নয়—এটি সবার শহর। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসা-বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখলে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তোলা সম্ভব।তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সব সময় উন্নয়ন ও উদ্যোগে পথ দেখিয়েছে। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

উদ্বোধনের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেইন গেট, কেবি ফজলুল কাদের সড়ক এবং প্রবর্তক মোড় এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার করা হয় এবং মশক নিধনে লার্ভিসাইড ওষুধ ছিটানো হয়। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা ফগার মেশিন ও স্প্রে মেশিন ব্যবহার করে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম প্রমুখ।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ