কুরবে ইলাহী ও হজরত শাহে চরণদ্বীপি (কঃ)।

লেখক : শাইখ সাইফুল্লাহ ফারুকী চরণদ্বীপি ইসলামী লেখক ও গবেষক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আর অগ্রবর্তীগণইতো অগ্রবর্তী। তারাই মুকাররাবিন তথা নৈকট্য প্রাপ্ত।’ (সুরা ওয়াকিয়াহ, আয়াত ১০-১১)। পবিত্র কোরআনুল কারিমের অত্র আয়াতে আল্লাহ তায়ালার বাণী ‘মুকাররাবীন’ শব্দ হতে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনকে আরবীতে তাক্বাররোব ইলাল্লাহ এবং উর্দু ও ফার্সী ভাষায় ‘কুরবে ইলাহী’ বলা হয়। আল্লাহ তায়ালার প্রিয়ভাজন বান্দায় পরিণত হওয়ার পথপরিক্রমায় ‘মাকামে কুরবে ইলাহী’ অর্জন পূর্বক ‘মাকামে মাহবুবিয়ত’ অর্জানান্তে আল্লাহর প্রিয়ভাজন বান্দা তথা অলি আল্লাহ হিসাবে পরিগণিত হন। ইসলামের অন্তর্নিহিত দিক তরিকতের পরিভাষায় ‘কুরবে ইলাহী’ হলো পরম প্রেমাস্পদ আল্লাহর সাথে মিলনের প্রত্যাশায় রুহানী পরিভ্রমণের সবিশেষ অবস্থা যা সালিকের হৃদয়ের আল্লাহর প্রেমকে অধিকতর জাগ্রত রাখে এবং স্রষ্টার নৈকট্য হতে সামান্যতম দূরত্ব ব্যক্তিকে বিচ্ছেদের যাতনায় ব্যথিত করে তোলে। চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলাধীন চরণদ্বীপ গ্রামে আবির্ভূত আরবের বিখ্যাত কোরাইশ বংশধর কুতুবুল আকতাব হজরত মাওলানা শাহসুফী শাইখ অছিয়র রহমান ফারুকী কোরাইশী চরণদ্বীপি (কঃ) ছিলেন খোদা প্রেমে বিভোর কুরবে ইলাহী তথা আল্লাহর নৈকট্য প্রাপ্ত বিখ্যাত অলি আল্লাহ। ছাত্রাবস্থায় বিকেলে সহপাঠিদের সাথে খেলাধুলা না করে নদীর তীরে কিংবা নির্জন স্থানে একাকী তন্ময় হয়ে ভাবনা, গভীর রাতে মসজিদে তাহাজ্জুদ আদায়পূর্বক মোরাকাবা-মোশাহাদা রত থাকা, দিবসে নিয়মিত রোজা পালন হজরত শাহে চরণদ্বীপি (কঃ)’কে কুরবে ইলাহী তথা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে পরম মাকাম শিখরে উন্নীত করে।

পবিত্র কোরআনুল কারিমের কুরবে ইলাহী তথা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের ব্যাপারে বিভিন্ন স্থানে আলোকপাত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আর গ্রামবাসীদের মধ্যে কতিপয় লোক এমনও আছে যারা আল্লাহর প্রতি এবং কিয়ামাত দিনের প্রতি পূর্ণ ঈমান রাখে, আর যা কিছু ব্যয় করে তা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের উপকরণ ও রাসূলের দু‘আ লাভের উপকরণ রূপে গ্রহণ করে। স্মরণ রেখ, তাদের এই ব্যয় কার্য নিঃসন্দেহে তাদের জন্য (আল্লাহর) নৈকট্য লাভের (কুরবে ইলাহী) কারণ; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে নিজের রহমতে দাখিল করে নিবেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ হচ্ছেন অতি ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়। (সুরা তাওবাহ, আয়াত : ৯৯) । মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালা আরো ইরশাদ করেন, ‘অবশ্যই পুণ্যবানদের আমলনামা ইল্লিয়্যীনে থাকবে। ইল্লিয়্যীন কি তা আপনি জানেন? (তা হচ্ছে) লিখিত পুস্তক। আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তরা (কুরবে ইলাহী প্রাপ্তগণ) এটা প্রত্যক্ষ করবেন। (সুরা মুতাফফিফীন, আয়াত : ১৮ – ২১)। পবিত্র হাদীস শরীফেও কুরবে ইলাহী সম্পর্কে সবিস্তার বর্ণনা রয়েছে যা ব্যক্তিকে পার্থিব সৌন্দর্য পরিহারপূর্বক সৌন্দর্যের আধার পরম প্রেমাস্পদ আল্লাহর দিকে আকৃষ্ট করে । আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর প্রতিপালক আল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমার বান্দা যখন আমার দিকে এক বিঘত নিকটবর্তী (তাকাররোব , কুরবত) হয়, আমি তখন তার দিকে এক হাত নিকটবর্তী (তাকাররোব , কুরবত) হই। আর সে যখন আমার দিকে এক হাত নিকটবর্তী হয়, আমি তখন তার দিকে দু‘হাত নিকটবর্তী (তাকাররোব , কুরবত) হই। সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে আমি তার দিকে দৌড়ে যাই। (সহীহ বুখারী, অধ্যায় : জাহমিয়াদের মতের খন্ডন ও তাওহীদ প্রসঙ্গ।)
অত্র হাদীসে পাকে আল্লাহর প্রতি বান্দার নৈকট্য তথা কুরবে ইলাহীর বিনিময়ে আল্লাহর নৈকট্য প্রদানের কথা বিধৃত হয়েছে।

কুরবে ইলাহী প্রাপ্ত ব্যক্তির মর্যাদাগত অবস্থান সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জিত হয় সহীহ বুখারী শরীফে বর্ণিত হাদীসে পাকে। হজরত আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্‌ বলেন, যে ব্যক্তি আমার কোন ওলীর সঙ্গে দুশমনি রাখবে, আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করব। আমি যা কিছু আমার বান্দার উপর ফরয করেছি, তা দ্বারা কেউ আমার নৈকট্য লাভ করবে। আমার বান্দা সর্বদা নফল ইবাদাত দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকবে। এমন কি অবশেষে আমি তাকে আমার এমন প্রিয় পাত্র বানিয়ে নেই যে, আমিই তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শুনে। আমিই তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আর আমিই তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমিই তার পা হয়ে যাই, যা দ্বারা সে চলে। সে যদি আমার কাছে কিছু চায়, তবে আমি নিশ্চয়ই তাকে তা দান করি। আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে অবশ্যই আমি তাকে আশ্রয় দেই। আমি কোন কাজ করতে চাইলে তা করতে কোন দ্বিধা করি না, যতটা দ্বিধা করি মু’মিন বান্দার প্রাণ নিতে। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তার বেঁচে থাকাকে অপছন্দ করি। (সহিহ বুখারী, অধ্যায় : কোমল হওয়া।) নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের প্রকৃষ্ট উদাহরণ পরিলক্ষিত হয় কুতুবুল আকতাব হজরত মাওলানা শাহসুফী শাইখ অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (কঃ) এর জীবন চরিতে। বর্ণিত রয়েছে, একদা এক ব্যক্তি গভীর রজনীতে হজরত শাহে চরণদ্বীপি (কঃ) এর পাশ্ববর্তী মহল্লায় পাকা আম চুরি উদ্দেশ্য আম গাছে উঠে। গাছে উঠার সাথে সাথে সে অন্ধ হয়ে যায়। হাতড়িয়ে হাতড়িয়ে কোন রকম গাছ থেকে নেমে সে চিৎকার করে কান্না করতে থাকে। চিৎকার আর কান্নার আওয়াজ শুনে ঘুমন্ত পাড়া প্রতিবেশী জাগ্রত হয়ে তার করুণ অবস্থার কারণ জানতে জিজ্ঞাসিত হলে উপস্থিত লোকজনকে চুরি ও তার শাস্তির কথা উল্লেখ পূর্বক হজরত শাহে চরণদ্বীপি (কঃ) কদমে নিয়ে যাওয়ার অনুনয় বিনয় করতে থাকে। তন্মধ্যে উপস্থিত একজন বলেন, ফকির মাওলানা সাহেব (হজরত শাহ চরণদ্বীপি) দরবারে নেই। তিনি তাহাজ্জুদ ও মোরাকাবার নিমিত্তে ফকিরাখালী জামে মসজিদে গেছেন। ইচ্ছা করলে সেখানে যেতে পারেন। চোর লোকটি উপস্থিত একজনকে নিয়ে অন্ধত্ব হতে মুক্তি পাওয়ার প্রত্যাশায়‌ হজরত শাহে চরণদ্বীপি (কঃ) দোয়ার জন্য ছুটে গেলেন উক্ত মসজিদে। মসজিদের নিকটবর্তী হতেই সঙ্গী লোকটি প্রত্যক্ষ করলো, মসজিদে অনেক নুরানী ব্যক্তির সমাবেশ। জুব্বা ও পাগড়ী পরিহিত নুরানী ব্যক্তিবর্গের চেহেরায় নুরের আলো বিকিরণ হচ্ছে। হজরত শাহে চরণদ্বীপি (কঃ) সম্মুখে আর সবাই তারই পেছনে আস্তে আস্তে মসজিদ হতে বের হচ্ছে। অনুমিত হয় যে নুরানী ব্যক্তিগুলো জমিনে পরিভ্রমণরত আল্লাহর ফেরেস্তাগণ যাদের সাথে হজরত শাহে চরণদ্বীপি (কঃ) নামাজ আদায় করেন। সবাই মোলাকাতপূর্বক প্রস্থানের পর দূর হতে প্রত্যক্ষকারী সঙ্গী ব্যক্তি সর্বশেষে হজরত শাহে চরণদ্বীপি (কঃ)’র নিকট এসে চুরের করুণ কাহিনী অন্ধত্বের বর্ণনাপূর্বক তা দূরীকরণের দোয়া আরজি করেন। হজরত শাহে চরণদ্বীপি চোরের দিকে নজর দেয়ার সাথে সাথে তার অন্ধত্ব বিদূরীত হয়। সঙ্গী লোকটি নুরানী ব্যক্তিগণ সম্পর্কে পুনরায় জিজ্ঞাস করলে তিনি এ সম্পর্কে লোক সমাজে বর্ণনা না করার জন্য হুকুম দিয়ে প্রস্থান করেন।’ এ ঘটনায় অনুমিত হয় যে, হজরত শাহে চরণদ্বীপি আল্লাহ তায়ালার এমন নৈকট্যপ্রাপ্ত তথা কুরবে ইলাহী প্রাপ্ত আল্লাহর অলি যিনি নুরানী ফেরেস্তার সাথে ইবাদত ও বিচরণ করেন।

কুরবে ইলাহী অর্জনে কুতুবুল আকতাব হজরত অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (কঃ) ছিলেন অনন্য‌ ও বেলায়ত গগণে অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র। বোয়ালখালী উপজেলার গোমদন্ডী নিবাসী মোহাম্মদ ছদর আলী ফকির ছাহেব হজরত অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (ক.) এর ফয়েজ প্রাপ্ত ভক্ত শিষ্য ও খলিফা ছিলেন। তিনি বর্ণনা করেন, ‘আমি লোক পরম্পরায় হজরত অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (ক.) এর অলৌকিক কারামত ও আধ্যাত্মিক শক্তির বিষয় অবগত আছি। গোমদন্ডী নিবাসী জান আলী ফকির ও মুন্সী মিঞাজি তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছেন। তারা হজরত শাহে চরণদ্বীপি (ক.) এর হাতে বায়াত হওয়ার জন্য আমাকে বলেন। উত্তরে আমি বললাম, তিনি যদি সত্য কামেল অলি আল্লাহ হয়ে থাকেন, তবে তাঁর আধ্যাত্মিক শক্তির প্রভাবে আমাকে তাঁর খেদমতে পৌঁছাতে পারেন। একদা মেরাজ রজনীতে নামাজ সমাপণ করতঃ নিদ্রিত হয়েছি, স্বপ্নে দেখলাম, কেহ বলতেছে, অদ্য রজনীতে বহু লোক ফয়েজ নেয়ামত লাভ করবেন। তৎপর দেখলাম একখানা মণিমুক্তা খচিত জ্যোতির্ময় সিংহাসনে হজরত অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (ক.)। চতুস্পার্শ্বে অসংখ্যক লোক তাঁর যশঃ কীর্তন করতঃ গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী, হজতর শাহ চরণদ্বীপির জয় ঘোষণার সহিত তকবির ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনিতে দিগমন্ডল প্রকম্পিত করেছেন। এই দৃশ্য দেখে আমার হৃদকম্প হল। ‘আল্লাহ’ ‘আল্লাহ’ জপনা করছি। এমন সময় একজন লোক আমার হাত ধরে জনতার মধ্য দিয়ে হজরত অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (ক.) এর সামনে উপস্থিত করল। আমি ভয়ে জড়সড় হয়ে পুন:পুন: ভূমি চুম্বন করছি। হজরত অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (ক.) আমার প্রতি দৃষ্টিপাত করতঃ বলেন-‘মিঞা হুঁশিয়ার হও, গাফেল থাকিও না, আমি তোমাকে পথ দেখাচ্ছি। আমার নির্দেশিত পথে চল।’ এই বলে আমাকে তাঁর সামনের বদনা হতে জল পান করালেন। মুহূর্তের মধ্যে আমার অজ্দ ও রোখছ হতে লাগল। নিদ্রা হতে জাগরিত হয়ে বেখুদী অবস্থায় জিকিরের সহিত অজ্দ করতে থাকি।” (জীবনী ও কেরামত, অধ্যায় : কারামত ও তাছাররোফ)। কুরবে ইলাহীর মাকাম অর্জনান্তে মাকামে মাহবুবিয়ত অর্জনে হজরত অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (ক.) বেলায়ত জগতে এমন মর্তবার অধিকারী হন। আল্লাহ তায়ালার বেলায়ত ও নৈকট্য তথা কুরবে ইলাহী প্রাপ্ত কুতুবুল আকতাব হজরত মাওলানা শাহসুফী শেখ অছিয়র রহমান ফারুকী চরণদ্বীপি (কঃ)’র ওফাত শরীফ স্মরণে আসন্ন ১২ ভাদ্র বেসাল বার্ষিকী ওরশ শরীফে উনার নুরানী সত্তায় অগণিত সালাম আরজ করছি।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটি (বাগীশিক) ভূজপুর ইউনিয়ন সংসদের অভিষেক সম্পন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সত্যনিষ্ঠ আদর্শ মানব জীবন গঠনে গীতা শিক্ষার বিকল্প নেই। আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটি (বাগীশিক)’র গীতা ও নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি আর্তমানবতার সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মন্দির ভিত্তিক বিবাহ, ধর্মান্তরন রোধ, বাল্য বিবাহ, অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের মোবাইল ব্যবহার ও অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরছে কিনা সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে সকল অভিভাবকের দ্বায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

গত ৩১ জুলাই ২০২৬খ্রি. শুক্রবার ভূজপুর কেন্দ্রীয় সার্বজনীন শ্রীশ্রী হরি, দূর্গা, কালী ও গীতা মন্দিরে বাগীশিক ভূজপুর ইউনিয়ন সংসদের অভিষেক অনুষ্ঠানে আগত অতিথিবৃন্দ বক্তব্যে উপরোক্ত কথা গুলো বলেন।
সংগঠনের সভাপতি অসিম মহাজন’র সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক রাজিব বনিক’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুভ উদ্ভোধন করেন শ্রী রনজিৎ পাল। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে আশীর্বাণী প্রদান করেন শ্রীমৎ সিদ্ধ রসিক ব্রহ্মচারী ও শ্রীমৎ উজ্জ্বল ব্রহ্মচারী। প্রধান অতিথি ছিলেন বাগীশিক চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সংসদের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক রাজীব বিশ্বাস। প্রধান বক্তা ছিলেন বাগীশিক চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক লায়ন বাসু চৌধুরী। মহান অতিথি ছিলেন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এইচ এম শাহজাহান চৌধুরী (শিপন) ৪নং ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদ। আলোকিত অতিথি ছিলেন এড. উত্তম কুমার মহাজন, আয়কর উপদেষ্টা টিটু কুমার দে, লিংকন চক্রবর্তী, রাসকিন চৌধুরী, প্রিয়াশীষ চক্রবর্তী।

শপথ বাক্য পাঠ করেন বাগীশিক ফটিকছড়ি উপজেলা সংসদের সভাপতি মাষ্টার মানস চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাষ্টার সন্তোষ কুমার শীল, রনজিৎ কুমার শীল, এড. জনি কান্তি দে, আদিত্য দাশ সৈকত, রাসেল দে, আকাশ চৌধুরী নান্টু, বিজয় মজুমদার, সুভাষ দেব, মাষ্টার দেবাশীষ দেব। বক্তব্য রাখেন টিটু মহাজন, প্রবীর আচার্য্য, সুজন কান্তি দে, ছোটন শীল, রুপসী বনিক অন্তরা, মুন্নী দেবী প্রমূখ। এতে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন সংসদ, ভূজপুর পূজা উদযাপন পরিষদ, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ’র নেতৃবৃন্দ।

মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পর্ষদ ঘোষিত ফটিকছড়ি খ জোনের সাংগঠনিক সংলাপ অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ কেন্দীয় পর্ষদ ঘোষিত সাংগঠনিক সংলাপের অংশ হিসাবে ফটিকছড়ি উপজেলা (খ) জোনের আওতাধীন শাখা কমিটি সমূহের সাথে বারৈয়ারহাটস্থ একটি কমিউনিটি সেন্টারে গত ৩১ জুলাই ২০২৬খ্রি. শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়। (খ) জোনের সাংগঠনিক সমন্বয়কারী মাহাবুবুল আলম সওদাগর এর সভাপতিত্বে মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ’র পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ কেন্দীয় পর্ষদ এর সভাপতি রেজাউল আলী জসিম চৌধুরী।

এতে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি সৈয়দ ফরিদ উদ্দীন, সাধারন সম্পাদক দিদারুল আলম, কেন্দীয় সদস্য শেখ মজিবুর রহমান, শাহেদ আলী চৌধুরী, সামসুল আলম, কাজী নেজামুল ইসলাম, এস,এম,মোরশেদুল আমিন, জয়নাল আবেদীন জুলু, কাজী হারেছ, আবুল হাসেম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন (খ) জোনের সমন্বয়কারী আহমদ হোসেন। আরো উপস্থিত ছিলেন মাস্টার নাসির উদ্দীন, আখতারুজ্জামান বাবর, মাস্টার আজিম উদ্দীন, আলমগীর আলম, মাস্টার দিদারুল আলম, আলাউদ্দিন, নুরুল হুদা প্রমূখ।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ