আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র বিএনপির হাতেই নিরাপদ।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

বাকলিয়া চকবাজার ও কোতোয়ালি থানা যুবদলের সভায় ডা. শাহাদাত হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, গণতন্ত্র পুন:রুদ্ধারের জন্য বিএনপি বার বার লড়াই করেছে। বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাজনীতি করে না। জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য রাজনীতি করে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একমাত্র উপাদান হলো নির্বাচন। বিএনপির জন্মই হয়েছে, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য।দেশে যত সংস্কার হয়েছে সব বিএনপি করেছে। বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি চায় না। বিএনপি সব গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গঠন করতে চায়। তাই নেতাকর্মীদের জনগণের কাছে যেতে হবে। জনগণের মতামত নিতে হবে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র বিএনপির হাতেই নিরাপদ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীতে ভোটের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে বিএনপি জনগণের রায় নিয়েই ক্ষমতায় আসবে।

তিনি মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোড়ের মৌসুমী আবাসিক মাঠে বিএনপির ৪৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাকলিয়া, চকবাজার, ও কোতোয়ালি থানা যুবদলের আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বারবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষের পাশে থেকেছেন। তিনি কখনো আপোষ করেননি। জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এমনকি জেল খেটেছেন, কিন্তু জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার আন্দোলন থেকে একচুলও পিছিয়ে আসেননি। প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তিনি সাহসিকতার সাথে জনগণকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার আপোষহীন ভূমিকার কারণেই বিএনপি জনগণের আস্থা অর্জন করে ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসে। গত ১৬ বছরে একমাত্র নেত্রী যাকে জোরপূর্বক জেলে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০০৭ সালের এক এগারোর সময় যখন শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন, তখন খালেদা জিয়া স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন, বাংলাদেশের মানুষকে ফেলে বিদেশে যাব না। তার আপোষহীন অবস্থানের কারণেই বিদেশি মহল চাপ সৃষ্টি করেও মাইনাস টু ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। গত ১৬ বছর এত নির্যাতনের পরও খালেদা জিয়া দেশ ছাড়েননি কিন্তু স্বৈরশাসক হাসিনা ঠিকই পালিয়েছে।

বাকলিয়া থানা যুবদলের সাবেক আহবায়ক ইসমাইল হোসেন লেদুর সভাপতিত্বে ও যুবদল নেতা মো. সেলিম, মো. হাসান ও মো. সোহেলের পরিচালনায় এতে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, বিশেষ আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক আবু সুফিয়ান, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরীর লিটন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মান্নান, আহবায়ক কমিটির সদস্য গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ, মো. কামরুল ইসলাম, সাবেক পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আমিন মাহমুদ, মহানগর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা। উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী নাছিম, সহ অর্থ সম্পাদক জিয়াউল হক মিন্টু, বাগমনিরাম ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আবু ফয়েজ, ১৭ ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম ডিউক, বিএনপি নেতা খোরশেদ আলম, মহানগর যুবদলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন, সহ সমবায় সম্পাদক ইদ্রিস সবুজ, সহ প্রযুক্তি সম্পাদক শেখ কামাল আলম, মনসুর সওদাগর, সদস্য সাব্বির ইসলাম ফারুক, কোতোয়ালি থানা যুবদলের সাবেক সি. যুগ্ম আহবায়ক আবদুল জলিল, মহানগর যুবদল নেতা আমিনুল্লাহ, জাবেদুল হক, বাকলিয়া থানা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব মো. মুসা, যুবদল নেতা জাকির হোসেন, আবদুল মালেক, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক মহসিন কবির আপেল, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক সালাউদ্দিন কাদের আসাদ, মো. আনাছ, বাকলিয়া থানা মহিলা দলের সভাপতি রিজিয়া বেগম মুন্নী, সাধারণ সম্পাদিকা কামরুন্নেছা, নাসরিন আক্তার, নাজমা আক্তার, যুবদল নেতা সাদ্দামুল হক সাদ্দাম, সফিউল বসর সাজু, মো. বাবুল, মো. জাহেদ, রহিম মিনু প্রমূখ।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রাজনীতি, নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের রাজনীতি আজ এক গভীর বিশ্বাস সংকটে উপনীত। রাজনীতি কি সত্যিই জনগণের কল্যাণের জন্য, নাকি ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার কৌশল—এই প্রশ্নটি এখন আর তাত্ত্বিক নয়, এটি বাস্তব ও জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ দেখছে, নির্বাচনের নামে প্রক্রিয়া আছে, কিন্তু ভোটাধিকার নিয়ে আস্থা নেই; রাষ্ট্র আছে, কিন্তু জবাবদিহিতা দুর্বল।এই বাস্তবতায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল একটি সাংবিধানিক আয়োজন নয়, বরং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রশ্নে একটি বড় পরীক্ষা।

একটি নির্বাচন তখনই গ্রহণযোগ্য হয়, যখন জনগণ সেখানে স্বাধীনভাবে অংশ নিতে পারে, বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ পায় এবং ভোটের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন থাকে না। ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের কাঠামোতে অনুষ্ঠিত নির্বাচন জনগণের প্রকৃত রাজনৈতিক মতামত কতটা প্রতিফলিত করবে—এই প্রশ্নের স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য উত্তর এখনো মেলেনি।

গণতন্ত্রের মূল শক্তি অংশগ্রহণ। অথচ অংশগ্রহণহীন বা সীমিত অংশগ্রহণের নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না; বরং তা সংকটকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। এই বাস্তবতায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। কিন্তু দেশের ভেতরের রাজনৈতিক বাস্তবতা আন্তর্জাতিক সুনামের চেয়েও কঠিন। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা এবং নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা—এই তিনটি বিষয়ের ওপরই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করছে।

প্রশ্ন হলো, তিনি কি রাজনৈতিক চাপের ঊর্ধ্বে উঠে একটি সত্যিকার অর্থে নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারবেন? নাকি এই নির্বাচনও অতীতের মতোই ‘প্রক্রিয়াগত’ নির্বাচনের তালিকায় যুক্ত হবে? এই প্রশ্নের উত্তর শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সদিচ্ছায় নয়, রাষ্ট্রযন্ত্রের সম্মিলিত আচরণের ওপর নির্ভর করছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ড. ইউনুস যদি দৃঢ় অবস্থান নিয়ে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে পারেন, তবে নির্বাচন একটি গ্রহণযোগ্য পথে এগোতে পারে। অন্যদিকে সমালোচকদের প্রশ্ন—তিনি কি রাজনৈতিক চাপ, দলীয় প্রভাব এবং ক্ষমতাকেন্দ্রিক বাস্তবতা সামাল দিতে পারবেন?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়; এটি একটি দীর্ঘ আন্দোলনের প্রতীক। গত প্রায় ১৭ বছর ধরে দলটি নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে রয়েছে। এই আন্দোলনের কেন্দ্রে ছিল একটি মৌলিক দাবি—ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার।

সমালোচকরা বিএনপির আন্দোলন নিয়ে নানা প্রশ্ন তুললেও একটি বাস্তবতা অস্বীকার করার উপায় নেই—দেশে আজ যে নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক, আস্থাহীনতা ও আন্তর্জাতিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তা বিএনপির দীর্ঘদিনের দাবিকেই প্রমাণ করে। বিএনপির আন্দোলন ক্ষমতার জন্য নয়—এটি একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবি।

অতীতে নির্বাচন না হওয়ার দাবিতে আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হলেও বাস্তবতা হলো, সেই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যও ছিল অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা। গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপস না করার রাজনৈতিক অবস্থানই বিএনপির মূল শক্তি।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই সহজ নয়। এই লড়াইয়ে দমন, মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক চাপ এসেছে বারবার। তবুও বিএনপি রাজপথ ছাড়েনি। কারণ গণতন্ত্র কোনো দল বা ব্যক্তির সম্পত্তি নয়—এটি জনগণের অধিকার।

আজ যারা বিএনপির আন্দোলনকে ‘দ্বন্দ্বের রাজনীতি’ বলে আখ্যা দেন, তাদের মনে রাখা দরকার—গণতন্ত্রের ইতিহাস কখনোই নির্বিঘ্ন ছিল না। গণতন্ত্র এসেছে সংগ্রামের মধ্য দিয়েই। প্রশ্ন হলো, সেই সংগ্রামকে রাষ্ট্র কি স্বীকৃতি দেবে, নাকি দমন করবে?

দেশের তরুণ ভোটাররা আজ সবচেয়ে বেশি হতাশ। তারা চায় একটি ভোট, যার মূল্য থাকবে; একটি সরকার, যার কাছে জবাবদিহিতা থাকবে। বিএনপির আন্দোলন এই তরুণ সমাজের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গেই যুক্ত—কারণ ভোটাধিকার ছাড়া কোনো ভবিষ্যৎ নিরাপদ নয়।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে পারত। কিন্তু অংশগ্রহণ, আস্থা ও নিরপেক্ষতা ছাড়া কোনো নির্বাচনই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ খুলে দিতে পারে না।

এই বাস্তবতায় বিএনপির আন্দোলন কোনো দলীয় স্বার্থের নয়—এটি রাষ্ট্র ও জনগণের অধিকারের প্রশ্ন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, গণতন্ত্র কখনো দানে আসে না, তা আদায় করে নিতে হয়।এই নির্বাচন কি সত্যিই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ খুলবে, নাকি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে আরও দীর্ঘ করবে?
jahangirfa@yahoo .com

ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেয়ায় আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি’ সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবীরা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেয়ায় কোন প্রকার আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি। আইনের সকল বিধিবিধান মেনে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন। একটি গোষ্ঠী এনিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে যা আইনসঙ্গত নয়।বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন সরওয়ার আলমগীরের আইনজীবী এডভোকেট রেজাউল করিম রণি।

তিনি বলেন, হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ মঙ্গলবার সরওয়ার আলমগীরের রিট শুনানী শেষে তাঁর প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করে অবিলম্বে প্রতীক বরাদ্দের জন্য রিটার্নিং অফিসারকে নির্দেশ দেন। আদেশ অনুযায়ী আইনজীবী প্রত্যয়ণপত্রের মাধ্যমে প্রতীক বরাদ্দ দেন রিটার্নিং অফিসার। সুপ্রীম কোর্টের ৪৪ ডিএলআর (এডি) ২১৯ পৃষ্টার আদেশ অনুযায়ী আইনজীবী প্রত্যয়ণপত্রের ভিত্তিতে অর্ডার কার্যকর করা বৈধ। এটা মানতে সকলে বাধ্য।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হাসান আলী চৌধুরী বলেন, রিটার্নিং অফিসার সরওয়ার আলমগীরকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ সম্পূর্ণ আইনের মধ্য দিয়েছেন। তিনি কোন বেআইনি কাজ করেননি।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন আপিল আদেশে সকালে সরওয়ার আলমগীের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করলেও বিকালে অবৈধ ঘোষণা করে। সেটাও আইনজীবী প্রত্যয়ণপত্রের মাধ্যমেই করা হয়েছে।

এডভোকেট রেজাউল করিম রণি বলেন, সরওয়ার আলমগীরের প্রার্থীতা ঠেকাতে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন নানাভাবে চেষ্টা করেছেন। একের পর এক মামলা করেছেন। তিনি ঋণখেলাপি ছিলেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধি অনুযায়ী তিনি ৫টি ব্যাংকের ঋণ রিসিউল করেছেন। কোন কোন ব্যাংকে অনেক আগেই ঋণ পরিশোধ করেছেন। তারপরও ব্যাংকের পক্ষ হয়ে নুরুল আমিন মামলা করেছেন। অথচ যারা পাওনাদার তারা কোন মামলা করেনি। ব্যাংক এশিয়া ও প্রিমিয়ার লিজিং তাদের মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের আপিল বোর্ড ফটিকছড়ি  (চট্টগ্রাম -২) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে। একইদিন বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি ছাড়াই লয়ার সার্টিফিকেট জমা দিয়ে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে এক সপ্তাহ ভোটের প্রচারণার মাঠের বাইরে থাকার পর মঙ্গলবার হাইকোর্টের আদেশে বিএনপির প্রার্থী  সরওয়ার আলমগীর তার প্রার্থীতা ফিরে পান। কিন্তু একটি গোষ্ঠী লয়ার সার্টিফিকেট ও হাইকোর্টের অনলাইন ডকুমেন্টস অনুযায়ী বিএনপির প্রার্থীকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেবার কারণে চট্টগ্রামের  জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মিঞাকে নিয়ে অপপ্রচার শুরু করে ।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক  এডভোকেট হাসান আলী বলেন, ‘ লয়ার সার্টিফিকেটকে গুরুত্ব দেবার জন্য সুপ্রিম কোর্টের অবজারভেশন আছে। মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও আসিফ হাসানের বেঞ্চ বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা ও প্রতীক ফিরিয়ে দেবার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার লয়ার সার্টিফিকেট ও  অনলাইনে কোর্ট অর্ডারের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মিঞা সরওয়ার আলমগীরকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন। এখানে আইনের কোন ব্যত্যয় ঘটেনি। ‘
আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, গত ১৮ জানুযারী নির্বাচন কমিশনের আপিল বোর্ড একই দিন দুই ধরনের আদেশ দিয়েছেন। একবার সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছিলেন।

পরে আবার চেম্বার জজের স্থগিতাদেশ সামনে এনে মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন। গত ১৮ জানুয়ারী জামাতের প্রার্থী নুরুল আমিনের পক্ষে নির্বাচন কমিশনে লয়ার সার্টিফিকেট ও অনলাইনের স্কিনশট উপস্থাপন করা হয়েছিলো, চেম্বার জজের স্বাক্ষরিত কোন নির্দেশনা নির্বাচন কমিশনে না পৌঁছার পরও সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিলো। তখন বিষয়টি নিয়ে কথা না তুললেও হাইকোর্টের রায়ে বিএনপির প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেবার পর এই বিষয়ে  বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে একটি গোষ্ঠী। তারা আসলে নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করছেন। ‘
আইনজীবীরা বলেন, ব্যাংকের একটি মামলায় জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন চেম্বার জজ আদালতে ৮ সপ্তাহের স্থগিতাদেশ আদেশ দিলে বিকাল সাড়ে চারটার দিকে আইনজীবী প্রত্যয়ণপত্র জমা দেন তারা। এটার ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করে। আইনজীবী প্রত্যয়ণপত্র তাদের বেলায় বৈধ হলে আমাদের বেলায় অবৈধ হবে কেন? এক দেশে কি দুই আইন হয়?

প্রিমিয়ার লিজিং লিমিটেডের সাথে সরওয়ার আলমগীরের মালিকানাধীন এনএফজেড টেরি টেক্সটাইলের পুরোনো আইনী লড়াইকে পূঁজি করে জামাতের প্রার্থী নুরুল আমিন নির্বাচনে মাঠের বাইরে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানটি চেম্বার জজ আদালতে  তাদের পিটিশন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এছাড়া বিবদমান এনএফজেড টেরি টেক্সটাইলের ঋন রিসিডিউল করেছেন। চট্টগ্রাম জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা  সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার করার দিন বিএনপির প্রার্থীন সব ঋন রিসিডিউল করা ছিলো । তিনি ঋণ খেলাপী ছিলেন না, এখন ঋণ খেলাপী নন। এবিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আদেশ রয়েছে। এতকিছুর পর প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে  অপপ্রচার করা, গণমাধ্যমকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত ছাড়া আর কিছু নয়। ‘
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হাসান আলী, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট  এনামুল হক, এডভোকেট  রেজাউল করিম রনি, এডভোকেট ইউসুফ আলম মাসুদ, এডভোকেট হাসান উদ্দিন প্রমুখ ।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ