চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিকডা’র মতবিরোধ আইসিডিতে প্রায় ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি চার্জ আদায় শুরু।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের আইসিডি ব্যবহারকারী ও অংশীজন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বেসরকারি ডিপো মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। বেসরকারি অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোগুলোতে (আইসিডি) প্রায় ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি চার্জ আদায় শুরু হওয়ায় এ বিরোধ তৈরী হয়। আইসিডি ব্যবহারকারীরা বাড়তি চার্জ নিয়ে কঠোরভাবে আপত্তি তুলেছেন।এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ চার্জ বাড়ানোর বিরুদ্ধে নৌপরিবহণ উপদেষ্টার কাছে চিঠি দিয়েছে।

উল্লেখ্য, আমদানি-রফতানি ও খালি কনটেইনার মিলিয়ে বছরে মোট ২২ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে বেসরকারি ডিপোগুলো। প্রায় ৬৫ ধরনের আমদানি পণ্য এবং শতভাগ রফতানি পণ্য হ্যান্ডলিং করা হয় এসব আইসিডিতে। আইসিডি ব্যবহারকারীদের মতে, বিশ্ববাজারে শুল্ক নিয়ে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। শিল্প কারখানায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এ অবস্থায় আইসিডিতে একলাফে ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ বাড়ানোর ফলে পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়বে অন্তঃত ৫০ শতাংশ। এর ফলে রফতানিতে খরচ বেড়ে যাবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে রফতানিমুখী শিল্প কারখানাগুলোতে।

জানতে চাইলে বিকডা’র মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, চার্জ বাড়ানো নিয়ে মতবিরোধ হয়েছে। কেন এই মতবিরোধ, সেটা আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। আবার চার্জ বাড়ানো ছাড়া আমাদের কাছে বিকল্পও নেই। আমরা সবসময় দেখি যে, আইসিডিতে চার্জ নিয়েই যত বাদ-প্রতিবাদ শুরু হয়। পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে আমাদের জন্য যে খরচ হয়, তা মোট খরচের মাত্র তিন শতাংশের মতো। বাকি ৯৭ শতাংশের চার্জ নিয়ে কিন্তু কোনো মাতামাতি নেই।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমেরিকায় একটি কনটেইনার পাঠাতে খরচ হয় ৬ লাখ টাকা। সেখানে আমাদের জন্য অর্থাৎ আইসিডি খাতে চার্জ আদায় হয় মাত্র ১০ হাজার টাকা, অর্থাৎ মোট খরচের এক শতাংশেরও কম। আমরা মনে করি, যে পরিমাণ চার্জ বাড়ানো হয়েছে, তাতে রফতানি ব্যয়ের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। অহেতুক বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধ কাম্য নয়।
এদিকে আইসিডি ব্যবহারকারী রফতানিকারকরা বলছেন, বিকডা’র এ সিদ্ধান্তের ফলে পণ্য পরিবহণ ও রফতানি খরচ বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়বে দেশীয় কারখানাগুলোতে। দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এ সিদ্ধান্ত একেবারেই অনুপযুক্ত বলে তাদের মত।

অন্যদিকে বিকডা’র সিদ্ধান্তে গত সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে ২১টি আইসিডিতে একযোগে রফতানি পণ্য ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের বিভিন্ন খাতে বাড়তি চার্জ আদায় করা হচ্ছে। বিকডা ১৫ জুলাই এ বিষয়ে তাদের সদস্যদের চিঠি দিয়ে বাড়তি চার্জের বিষয়ে নির্দেশনা দেয়।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আইসিডিগুলোতে ২০ ফুট এককের একটি রফতানি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্যাকেজ চার্জ ছিল ৬ হাজার ১২৭ টাকা। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে সেটা বাড়িয়ে ৯ হাজার ৯০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। ৪০ ফুট দীর্ঘ কনটেইনারের চার্জ ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩ হাজার ২০০ টাকা। সব মিলিয়ে অন্তত ২০টি খাতে বর্ধিত চার্জ আদায় করছেন আইসিডি মালিকরা, যা সর্বোচ্চ ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত।

সূত্রমতে, বর্ধিত চার্জ আদায়ের ঘোষণা আসার পর পরই বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ আইসিডি ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠন আপত্তি তোলে। সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে বিকডাকে বর্ধিত চার্জ আরোপ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা হয়। তবে বিকডা বিষয়টি আমলে নেয়নি।
এদিকে আইসিডিতে বাড়তি চার্জ আরোপ নিয়ে গত ৩১ আগস্ট নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক। চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি ডিপোগুলোতে শিপার কনসাইনি, এমএলও, শিপিং এজেন্ট, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারদের কাছ থেকে বর্ধিত হারে ট্যারিফ আদায় করা বেসরকারি আইসিডি নীতিমালার ১১.১ ও ১১.২ ধারা অনুযায়ী নিয়মবর্হিভূত। ২০১৯ সালে গঠিত ট্যারিফ নির্ধারণী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিটিই আদায়যোগ্য ট্যারিফ নির্ধারণ করবে যা মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেওয়ার পর কার্যকর করবে।

কিন্তু আইসিডিগুলো ট্যারিফ বাড়ানোর আগে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত অনুসরণ করেনি। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দরসহ সকল অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে বর্ধিত ট্যারিফ আদায় বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠিতে অনুরোধ করা হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, আইসিডির ট্যারিফ নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে একটা মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। আইসিডিগুলো যাতে নিয়ম বর্হিভূতভাবে ট্যারিফ আদায় করতে না পারে, সেজন্য নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছিল। তবে মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো জানানো হয়নি।

বিকডা মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার আরো বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ কেন একটা পক্ষভুক্ত হয়ে গেল, সেটা বুঝতে পারছি না। উনারা যে ট্যারিফ নির্ধারণী কমিটির কথা বলছেন, সেটা তো আমরা হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছি। সেটার সুরাহা এখন হয়নি। তাহলে কমিটির বৈঠকের মাধ্যমে ট্যারিফ নির্ধারণের বিষয়টি এখনও বাধ্যতামূলক নয়।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষও সম্প্রতি কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও তাদের অন্যান্য পরিসেবার ওপর ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। এ নিয়ে বন্দর ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় গত ২৫ আগস্ট বন্দর ব্যবহারকারীদের সঙ্গে বৈঠক করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি তারা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সাংবাদিকের কাজ ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা -কাদের গনি চৌধুরী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেছেন- রাষ্ট্র ও ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা এবং তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা সাংবাদিকতার কাজ। এটি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনগণের অধিকার রক্ষা করে এবং সমাজে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।২ আগস্ট রোববার দুপুরে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আয়োজিত সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব বলেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও স্থানীয়দের সংঘর্ষে ২০ জন আহত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজধানীতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। নেপচুন এক্সেসরিজ নামে একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হয়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালায়।ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন এক জরুরি বার্তায় গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

জানা যায়, উত্তর সিটির ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরখান রাজাবাড়ি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।ডিএনসিসির তথ্য অনুযায়ী, হামলায় চারজন গুরুতর আহতসহ ১৫ থেকে ২০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত হন। গুরুতর আহত চারজনকে উত্তরা বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ