আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিকডা’র মতবিরোধ আইসিডিতে প্রায় ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি চার্জ আদায় শুরু।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের আইসিডি ব্যবহারকারী ও অংশীজন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বেসরকারি ডিপো মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। বেসরকারি অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোগুলোতে (আইসিডি) প্রায় ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি চার্জ আদায় শুরু হওয়ায় এ বিরোধ তৈরী হয়। আইসিডি ব্যবহারকারীরা বাড়তি চার্জ নিয়ে কঠোরভাবে আপত্তি তুলেছেন।এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ চার্জ বাড়ানোর বিরুদ্ধে নৌপরিবহণ উপদেষ্টার কাছে চিঠি দিয়েছে।

উল্লেখ্য, আমদানি-রফতানি ও খালি কনটেইনার মিলিয়ে বছরে মোট ২২ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে বেসরকারি ডিপোগুলো। প্রায় ৬৫ ধরনের আমদানি পণ্য এবং শতভাগ রফতানি পণ্য হ্যান্ডলিং করা হয় এসব আইসিডিতে। আইসিডি ব্যবহারকারীদের মতে, বিশ্ববাজারে শুল্ক নিয়ে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। শিল্প কারখানায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এ অবস্থায় আইসিডিতে একলাফে ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ বাড়ানোর ফলে পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়বে অন্তঃত ৫০ শতাংশ। এর ফলে রফতানিতে খরচ বেড়ে যাবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে রফতানিমুখী শিল্প কারখানাগুলোতে।

জানতে চাইলে বিকডা’র মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, চার্জ বাড়ানো নিয়ে মতবিরোধ হয়েছে। কেন এই মতবিরোধ, সেটা আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। আবার চার্জ বাড়ানো ছাড়া আমাদের কাছে বিকল্পও নেই। আমরা সবসময় দেখি যে, আইসিডিতে চার্জ নিয়েই যত বাদ-প্রতিবাদ শুরু হয়। পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে আমাদের জন্য যে খরচ হয়, তা মোট খরচের মাত্র তিন শতাংশের মতো। বাকি ৯৭ শতাংশের চার্জ নিয়ে কিন্তু কোনো মাতামাতি নেই।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমেরিকায় একটি কনটেইনার পাঠাতে খরচ হয় ৬ লাখ টাকা। সেখানে আমাদের জন্য অর্থাৎ আইসিডি খাতে চার্জ আদায় হয় মাত্র ১০ হাজার টাকা, অর্থাৎ মোট খরচের এক শতাংশেরও কম। আমরা মনে করি, যে পরিমাণ চার্জ বাড়ানো হয়েছে, তাতে রফতানি ব্যয়ের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। অহেতুক বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধ কাম্য নয়।
এদিকে আইসিডি ব্যবহারকারী রফতানিকারকরা বলছেন, বিকডা’র এ সিদ্ধান্তের ফলে পণ্য পরিবহণ ও রফতানি খরচ বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়বে দেশীয় কারখানাগুলোতে। দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এ সিদ্ধান্ত একেবারেই অনুপযুক্ত বলে তাদের মত।

অন্যদিকে বিকডা’র সিদ্ধান্তে গত সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে ২১টি আইসিডিতে একযোগে রফতানি পণ্য ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের বিভিন্ন খাতে বাড়তি চার্জ আদায় করা হচ্ছে। বিকডা ১৫ জুলাই এ বিষয়ে তাদের সদস্যদের চিঠি দিয়ে বাড়তি চার্জের বিষয়ে নির্দেশনা দেয়।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আইসিডিগুলোতে ২০ ফুট এককের একটি রফতানি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্যাকেজ চার্জ ছিল ৬ হাজার ১২৭ টাকা। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে সেটা বাড়িয়ে ৯ হাজার ৯০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। ৪০ ফুট দীর্ঘ কনটেইনারের চার্জ ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩ হাজার ২০০ টাকা। সব মিলিয়ে অন্তত ২০টি খাতে বর্ধিত চার্জ আদায় করছেন আইসিডি মালিকরা, যা সর্বোচ্চ ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত।

সূত্রমতে, বর্ধিত চার্জ আদায়ের ঘোষণা আসার পর পরই বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ আইসিডি ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠন আপত্তি তোলে। সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে বিকডাকে বর্ধিত চার্জ আরোপ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা হয়। তবে বিকডা বিষয়টি আমলে নেয়নি।
এদিকে আইসিডিতে বাড়তি চার্জ আরোপ নিয়ে গত ৩১ আগস্ট নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক। চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি ডিপোগুলোতে শিপার কনসাইনি, এমএলও, শিপিং এজেন্ট, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারদের কাছ থেকে বর্ধিত হারে ট্যারিফ আদায় করা বেসরকারি আইসিডি নীতিমালার ১১.১ ও ১১.২ ধারা অনুযায়ী নিয়মবর্হিভূত। ২০১৯ সালে গঠিত ট্যারিফ নির্ধারণী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিটিই আদায়যোগ্য ট্যারিফ নির্ধারণ করবে যা মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেওয়ার পর কার্যকর করবে।

কিন্তু আইসিডিগুলো ট্যারিফ বাড়ানোর আগে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত অনুসরণ করেনি। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দরসহ সকল অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে বর্ধিত ট্যারিফ আদায় বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠিতে অনুরোধ করা হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, আইসিডির ট্যারিফ নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে একটা মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। আইসিডিগুলো যাতে নিয়ম বর্হিভূতভাবে ট্যারিফ আদায় করতে না পারে, সেজন্য নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছিল। তবে মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো জানানো হয়নি।

বিকডা মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার আরো বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ কেন একটা পক্ষভুক্ত হয়ে গেল, সেটা বুঝতে পারছি না। উনারা যে ট্যারিফ নির্ধারণী কমিটির কথা বলছেন, সেটা তো আমরা হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছি। সেটার সুরাহা এখন হয়নি। তাহলে কমিটির বৈঠকের মাধ্যমে ট্যারিফ নির্ধারণের বিষয়টি এখনও বাধ্যতামূলক নয়।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষও সম্প্রতি কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও তাদের অন্যান্য পরিসেবার ওপর ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। এ নিয়ে বন্দর ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় গত ২৫ আগস্ট বন্দর ব্যবহারকারীদের সঙ্গে বৈঠক করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি তারা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমী ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমীতে উৎসব মূখর পরিবেশে ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া, নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ-২০২৬ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুজ্জামান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এমন আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আলহাজ্ব মোঃ হেদায়েতুল তিনি অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।আরো উপস্থিত ছিলেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল ছাত্র-ছাত্রী,অভিভাবক এবং শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ