আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিকডা’র মতবিরোধ আইসিডিতে প্রায় ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি চার্জ আদায় শুরু।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের আইসিডি ব্যবহারকারী ও অংশীজন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বেসরকারি ডিপো মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। বেসরকারি অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোগুলোতে (আইসিডি) প্রায় ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি চার্জ আদায় শুরু হওয়ায় এ বিরোধ তৈরী হয়। আইসিডি ব্যবহারকারীরা বাড়তি চার্জ নিয়ে কঠোরভাবে আপত্তি তুলেছেন।এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ চার্জ বাড়ানোর বিরুদ্ধে নৌপরিবহণ উপদেষ্টার কাছে চিঠি দিয়েছে।

উল্লেখ্য, আমদানি-রফতানি ও খালি কনটেইনার মিলিয়ে বছরে মোট ২২ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে বেসরকারি ডিপোগুলো। প্রায় ৬৫ ধরনের আমদানি পণ্য এবং শতভাগ রফতানি পণ্য হ্যান্ডলিং করা হয় এসব আইসিডিতে। আইসিডি ব্যবহারকারীদের মতে, বিশ্ববাজারে শুল্ক নিয়ে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। শিল্প কারখানায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এ অবস্থায় আইসিডিতে একলাফে ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ বাড়ানোর ফলে পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়বে অন্তঃত ৫০ শতাংশ। এর ফলে রফতানিতে খরচ বেড়ে যাবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে রফতানিমুখী শিল্প কারখানাগুলোতে।

জানতে চাইলে বিকডা’র মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, চার্জ বাড়ানো নিয়ে মতবিরোধ হয়েছে। কেন এই মতবিরোধ, সেটা আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। আবার চার্জ বাড়ানো ছাড়া আমাদের কাছে বিকল্পও নেই। আমরা সবসময় দেখি যে, আইসিডিতে চার্জ নিয়েই যত বাদ-প্রতিবাদ শুরু হয়। পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে আমাদের জন্য যে খরচ হয়, তা মোট খরচের মাত্র তিন শতাংশের মতো। বাকি ৯৭ শতাংশের চার্জ নিয়ে কিন্তু কোনো মাতামাতি নেই।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমেরিকায় একটি কনটেইনার পাঠাতে খরচ হয় ৬ লাখ টাকা। সেখানে আমাদের জন্য অর্থাৎ আইসিডি খাতে চার্জ আদায় হয় মাত্র ১০ হাজার টাকা, অর্থাৎ মোট খরচের এক শতাংশেরও কম। আমরা মনে করি, যে পরিমাণ চার্জ বাড়ানো হয়েছে, তাতে রফতানি ব্যয়ের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। অহেতুক বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধ কাম্য নয়।
এদিকে আইসিডি ব্যবহারকারী রফতানিকারকরা বলছেন, বিকডা’র এ সিদ্ধান্তের ফলে পণ্য পরিবহণ ও রফতানি খরচ বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়বে দেশীয় কারখানাগুলোতে। দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এ সিদ্ধান্ত একেবারেই অনুপযুক্ত বলে তাদের মত।

অন্যদিকে বিকডা’র সিদ্ধান্তে গত সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে ২১টি আইসিডিতে একযোগে রফতানি পণ্য ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের বিভিন্ন খাতে বাড়তি চার্জ আদায় করা হচ্ছে। বিকডা ১৫ জুলাই এ বিষয়ে তাদের সদস্যদের চিঠি দিয়ে বাড়তি চার্জের বিষয়ে নির্দেশনা দেয়।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আইসিডিগুলোতে ২০ ফুট এককের একটি রফতানি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্যাকেজ চার্জ ছিল ৬ হাজার ১২৭ টাকা। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে সেটা বাড়িয়ে ৯ হাজার ৯০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। ৪০ ফুট দীর্ঘ কনটেইনারের চার্জ ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩ হাজার ২০০ টাকা। সব মিলিয়ে অন্তত ২০টি খাতে বর্ধিত চার্জ আদায় করছেন আইসিডি মালিকরা, যা সর্বোচ্চ ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত।

সূত্রমতে, বর্ধিত চার্জ আদায়ের ঘোষণা আসার পর পরই বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ আইসিডি ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠন আপত্তি তোলে। সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে বিকডাকে বর্ধিত চার্জ আরোপ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা হয়। তবে বিকডা বিষয়টি আমলে নেয়নি।
এদিকে আইসিডিতে বাড়তি চার্জ আরোপ নিয়ে গত ৩১ আগস্ট নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক। চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি ডিপোগুলোতে শিপার কনসাইনি, এমএলও, শিপিং এজেন্ট, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারদের কাছ থেকে বর্ধিত হারে ট্যারিফ আদায় করা বেসরকারি আইসিডি নীতিমালার ১১.১ ও ১১.২ ধারা অনুযায়ী নিয়মবর্হিভূত। ২০১৯ সালে গঠিত ট্যারিফ নির্ধারণী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিটিই আদায়যোগ্য ট্যারিফ নির্ধারণ করবে যা মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেওয়ার পর কার্যকর করবে।

কিন্তু আইসিডিগুলো ট্যারিফ বাড়ানোর আগে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত অনুসরণ করেনি। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দরসহ সকল অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে বর্ধিত ট্যারিফ আদায় বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠিতে অনুরোধ করা হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, আইসিডির ট্যারিফ নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে একটা মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। আইসিডিগুলো যাতে নিয়ম বর্হিভূতভাবে ট্যারিফ আদায় করতে না পারে, সেজন্য নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছিল। তবে মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো জানানো হয়নি।

বিকডা মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার আরো বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ কেন একটা পক্ষভুক্ত হয়ে গেল, সেটা বুঝতে পারছি না। উনারা যে ট্যারিফ নির্ধারণী কমিটির কথা বলছেন, সেটা তো আমরা হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছি। সেটার সুরাহা এখন হয়নি। তাহলে কমিটির বৈঠকের মাধ্যমে ট্যারিফ নির্ধারণের বিষয়টি এখনও বাধ্যতামূলক নয়।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষও সম্প্রতি কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও তাদের অন্যান্য পরিসেবার ওপর ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। এ নিয়ে বন্দর ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় গত ২৫ আগস্ট বন্দর ব্যবহারকারীদের সঙ্গে বৈঠক করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি তারা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চট্টগ্রামে ৪০ মিনিটের বৃষ্টিতেই নিচু এলাকা প্লাবিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে মাত্র ৪০ মিনিটের বৃষ্টিতে অনেক নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। রাস্তা প্লাবিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরীর নিচু এলাকার বাসিন্দারা। বিশেষ করে চকবাজার ও কাতালগঞ্জ এলাকাতে সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। এসব এলাকার রাস্তাগুলো নোংরা পানিতে ডুবে আছে। ফলে চলাচল করা কঠিন হয়ে উঠে। কোথাও হাঁটু, কোথাওবা কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি। ছুটির দিনেও জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষ এবং খেটে খাওয়া শ্রমজীবীদের পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে চট্টগ্রামে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী এই বৃষ্টিতেই নগরীর চকবাজার, কাতালগঞ্জসহ আশপাশের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়।

এসব এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সকালের মাত্র আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতেই চকবাজার ও কাতালগঞ্জ এলাকার সড়কগুলো দ্রুত পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটু সমান পানি জমে যাওয়ায় যানবাহনগুলো মাঝপথেই আটকে যাচ্ছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া সাধারণ মানুষের গন্তব্যে পৌঁছাতে যেমন দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে, তেমনি চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাস্তায় জমে থাকা হাঁটু সমান পানি মাড়িয়েই পথচারীদের কষ্ট করে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

তবে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার জন্য চিরচেনা এলাকা প্রবর্তক মোড়ে অবশ্য এবার কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। মেগা প্রকল্পের আওতায় সেখানকার হিজড়া খালের মুখে বাঁধ দিয়ে চলমান কাজের সুবাদে প্রবর্তক মোড়ে আগের মতো পানি জমেনি। তবে প্রবর্তক মোড় রক্ষা পেলেও এর আশপাশের নিচু এলাকা ও সংযোগ সড়কগুলো ঠিকই পানিতে ডুবে ছিল। ফলে সামগ্রিক ভোগান্তি খুব একটা কমেনি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের বিএফও মাহবুবুল আলম বলেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে মাত্র ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে মেঘের ঘনত্বের কারণে অল্প সময়ে তীব্র বৃষ্টি হওয়ায় নিচু এলাকায় পানি জমেছে। দিনভর আকাশ মেঘলা থাকবে এবং থেমে থেমে আরও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সঠিক তদারকি ও খালগুলোর সংস্কার কাজ সময়মতো শেষ না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই চট্টগ্রামকে এখনো ডুবতে হচ্ছে।

কাতালগঞ্জের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, বহু বছর ধরে আমরা একটু বৃষ্টি হলেই পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছি। একের পর এক মেগা প্রকল্প আসে, কিন্তু আমাদের কষ্টের কোনো শেষ নেই। আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতে যদি এই অবস্থা হয়, সামনের দিনগুলোতে কী হবে?
ভোগান্তিতে পড়া রিকশাচালক মো. জলিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বহুদিন ধরে আমরা এ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। ছুটির দিন হলেও আমাদের তো আয়ের আশায় বের হতে হবে। কিন্তু রাস্তায় পানি উঠে যাওয়ায় রিকশা চালানো যাচ্ছে না। আমাদের এই কষ্ট দেখার কেউ নেই।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ