আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

ডাকসু নির্বাচনে চট্টগ্রামের জয়জয়কার।

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচনে শিবির সমর্থিত প্রার্থীরা অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। এবারের নির্বাচনে মোট ২৮টি পদে ভোট হয়। এর মধ্যে ভিপি, জিএস ও এজিএসসহ শীর্ষ তিনটি পদ, ১২টি সম্পাদকীয় পদ এবং ১৩টি কার্যকরী সদস্য পদ রয়েছে। সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার আরও কয়েকজন বিভিন্ন হলে শীর্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

ফলাফলে দেখা গেছে, সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার অন্তত ১২ জন প্রার্থী জয় পেয়েছেন। ডাকসুর ২৮টি আসনের মধ্যে ১১টি পদেই জিতেছেন এই এক আসনের প্রার্থীরা। তারা সবাই শিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের অংশ। এর বাইরে বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের একজন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে দুইজন নির্বাচিত হয়েছেন। প্রায় ৬ বছর পর আয়োজিত এ নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিল ৩৯ হাজার ৮৭৪। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার ২০ হাজার ৯১৫ এবং ছাত্রী ভোটার ১৮ হাজার ৯৫৯। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে টানটান উত্তেজনার মধ্যে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি কেন্দ্রে মোট ৮১০টি বুথে ভোট হয়।

সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৪৫ জন এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সব মিলিয়ে প্রতিটি ভোটারকে ৪১টি করে ভোট দিতে হয়েছে। ভোট নেওয়া হয় ওএমআর ফরমে, ৬ পাতার ব্যালটে। ভোট গণনা হয়েছে ১৪টি গণনা মেশিনে।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় ডাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ডাকসুর পূর্ণাঙ্গ ২৮টি পদে প্রার্থী ছিলেন ৪৭১ জন। এর মধ্যে শিবির সমর্থিত প্রার্থীরা ২০টির বেশি পদে জয় পেয়েছে। শুধু সাতকানিয়া-লোহাগাড়া থেকেই জয়ী হয়েছেন ১২ জন। শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে হলভিত্তিক পদ সব জায়গায়ই প্রভাব বিস্তার করেছে এই অঞ্চলের প্রার্থীরা।

সহসভাপতি (ভিপি) হয়েছেন সাতকানিয়ার আবু সাদিক কায়েম। তিনি ১৪ হাজার ৪২ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয় পান। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) হয়েছেন লোহাগাড়ার চুনতির এস এম ফরহাদ, যিনি ১০ হাজার ৭৯৪ ভোট পান। পরিবারের ব্যবসাসূত্রে দুজনের পরিবার যথাক্রমে পরে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে স্থায়ী হয়।

সম্পাদকীয় পদে স্বামী-স্ত্রীর জয় কমন রুম রিডিং রুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক হয়েছেন উম্মে ছালমা। তিনি সাতকানিয়ার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের মির্জাখীল গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী রায়হান উদ্দীনও জিতেছেন কার্যকরী সদস্য পদে। তিনি সাতকানিয়ার ছদাহার বাসিন্দা। স্বামী-স্ত্রীর যুগল জয় এবারের নির্বাচনে অনন্য ঘটনা হিসেবে দেখা হয়েছে। শিবির সমর্থিত প্যানেল সম্পাদকীয় পদে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। ১২টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ৯টিতে জয়ী হয়েছে তারা। বাকিতিনটিতে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

সাদিক কায়েম খাগড়াছড়ি বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া আদর্শ মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং পরে চট্টগ্রামের বায়তুশ শরফ থেকে আলিম পাস করেন। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে। এসএম ফরহাদ রাঙামাটি জেলার মাইনী গাথাছড়া বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার থেকে দাখিল পাস করেন। এরপর চট্টগ্রামের বায়তুশ শরফ মাদ্রাসা থেকে আলিম পাস করেন। দুজনেই বায়তুশ শরফের শিক্ষার্থী হলেও ছিলেন ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষাবর্ষের।

সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার আরও কয়েকজন বিভিন্ন হলে শীর্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এরা হলেন স্যার এএফ রহমান হলের ভিপি রফিকুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ভিপি মুসলিমুর রহমান, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের ভিপি ওসমান গণি ও এজিএস আবদুল মজিদ, মাস্টারদা সূর্যসেন হলের পাঠকক্ষ সম্পাদক মো. ইমরান, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের কার্যকরী সদস্য শাহেদ ইমন এবং কবি জসীম উদ্‌দীন হলের কার্যকরী সদস্য রোকন উদ্দীন।

অন্যদিকে বিভিন্ন হলে বাঁশখালীর বাসিন্দা যারা শীর্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন বিজয় একাত্তর হলের ভিপি শেখেরখীলের হাসানুল বান্না আরাফাত, সূ্র্যসেন হলের জিএস আজিজুল হক, জসিম উদ্দীন হলের জিএস মাসুম আব্দুল্লাহ, শেখ মুজিবুর রহমান হলের সমাজসেবা সম্পাদক আজিজুর রহমান মানিক, জহুরুল হক হলের সদস্য ইমরুল ফয়েজ রাফসান বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের বহিরাঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন সন্দ্বীপের মেয়ে কানিজ ফাতেমা।

মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন মহেশখালীর ফাতেমা তাসনিম জুমা। কার্যকরী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন সর্ব মিত্র চাকমা (শিবির সমর্থিত) ও হেমা চাকমা (সাত বামপন্থী সংগঠনের প্রতিরোধ পর্ষদ প্যানেল থেকে)।

ডাকসু ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মেয়ে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী উমামা ফাতেমা, সাতকানিয়ার বাসিন্দা বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় আহবায়ক আবদুল ওয়াহেদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বোয়ালখালী পৌরসভার বাসিন্দা আবু তৈয়ব হাবিলদার।

এছাড়া স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী ছিলেন কক্সবাজারের পেকুয়ার বাসিন্দা জালাল আহমদ জালাল। রুমমেটকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়ের করা এক হত্যাচেষ্টা মামলায় জালালকে পরে কারাগারে পাঠানো হয়। সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার বাসিন্দা স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের জাহেদ আহমদ ও চকরিয়ার বাসিন্দা আরমানুল হক।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

যশোরের চাড়াভিটায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


যশোরে বাঘারপাড়ার চাড়াভিটা ও তার পার্শ্বতি এলাকায়  হঠাৎ নেমে আসে কালবৈশাখী ঝড়। আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেলা ২টার দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘে ডেকে   মেঘা আচ্ছন্ন হয়ে ঝড় বাতাসের সাথে বজ্র বূষ্টি শুরু হয়ে

টানা আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় চলে এই ঝড়।চাড়াভিটা বাজারে পাশেই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটলে ও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি উপ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঝড়ের কারণে দুপুরের পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।, গত কয়েক দিন ধরে যশোর অঞ্চলে  তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল। বিশেষ করে খেটেখাওয়া মানুষ গরমে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। দুপুরের পর আকাশ কালো মেঘে গুমোট আকার ধারণ করে শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়। সেই সঙ্গে বজ্রপাত।

বাঘারপাড়া  উপজেলার বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের চাড়াভিটা বাজার সহ কয়েকটি  এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে তীব্র আঘাত হানে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেকের ঘরের চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন গাছ ভেঙ্গে আঁচড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির উপরে।যে কারণে  বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় কয়েকটি এলাকায় ভূতুড়ে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে এবং অসংখ্য স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।এলাকাবাসী জানান, এ ধরনের ঝড় অনেক দিন দেখা যায়নি।। একই সঙ্গে এলাকার কৃষকদের আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ভাঙ্গুড়ায় ন্যায্য মূল্যে কৃষকের ধান সংগ্রহের সময় শেষ, সরকারি মূল্য পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি খাদ্যগুদামের ধান সংগ্রহ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ পেয়ে উপজেলার কৃষকদের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জন করেছে খাদ্য বিভাগ।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো/২০২৬ মৌসুমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় কর্তৃক তালিকাভুক্ত কৃষকদের মধ্য থেকে আগে আসলে আগে বিক্রয় ভিত্তিতে ধান ক্রয় করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষি বিভাগের নিবন্ধিত কৃষকরা কৃষি কার্ড ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পান। সংগ্রহ নীতিমালা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে ধান গ্রহণের পর মূল্য সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পরিশোধ করা হয়েছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমেছে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেয়েছেন।
উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৭০০ নিবন্ধিত কৃষকের কৃষি কার্ড ও কৃষক হিসাব রয়েছে। ধান বিক্রি করা অনেক কৃষক জানান, বাজারমূল্যের তুলনায় সরকারি মূল্য বেশি হওয়ায় তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। উৎপাদন খরচ মিটিয়ে অতিরিক্ত আয় করতে পারায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ জানায়, ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। কৃষকদের পরিচয়, কৃষি কার্ড এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পরই ধান গ্রহণ করা হয়েছে। সব অর্থ সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে পরিশোধ করা হয়েছে।ভাঙ্গুড়া খাদ্যগুদামের উপ-পরিদর্শক নিরঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। সব ধরনের কাগজপত্র যাচাই করে ধান গ্রহণ করা হয়েছে এবং কৃষকদের নিজস্ব হিসাবেই অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

ভাঙ্গুড়া এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম জানান, সরকার চলতি বোরো/২০২৬ মৌসুমে গত ৩ মে থেকে সারাদেশে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ শুরু করে। ভাঙ্গুড়া উপজেলায় নির্ধারিত ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান ইতোমধ্যে সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে ধানের দাম কিছুটা কম থাকায় কৃষকরা প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে সরকারি গুদামে ধান দিতে আগ্রহী হয়েছেন। ফলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্নভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়েছে।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা কৃষ্ণপদ বর্ম্মন বলেন, ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের কৃষি কার্ড ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের পরই বিল অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারি মূল্য পাওয়ায় কৃষকরা উপকৃত হয়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের আশা, আগামী মৌসুমেও সরকার একইভাবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ অব্যাহত রাখবে। এতে কৃষকরা উৎপাদনে আরও উৎসাহিত হবেন এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্যশস্য সংগ্রহ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ