আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় বিআইডব্লিউটিএ- চট্টগ্রাম বন্দর সমঝোতা স্মারক।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকাস্থ বিআইডব্লিউটিএ এর সম্মেলন কক্ষে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল এককভাবে পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ এর সাথে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। উক্ত স্বাক্ষরের মাধ্যমে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল ও তৎসংলগ্ন ৪৮.২৪ একর জায়গা বিআইডব্লিউটিএ হতে প্রচলিত পদ্ধতিতে লিজ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এককভাবে পরিচালনা করবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ ও চবক এর মধ্যে অনুষ্ঠিত ত্রিপাক্ষিক সভার সিদ্ধান্ত এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এ চুক্তিটি সম্পাদন হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে
আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে ২০৩৫ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএ বাৎসরিক নবায়নের ভিত্তিতে ১০(দশ) বছর মেয়াদে লাইসেন্স প্রদান করবে। তবে চুক্তির মেয়াদ মোট ৩০ (ত্রিশ) বছর বলবৎ থাকবে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় ৯৫ শতাংশ মালামাল সড়ক পথে পরিবাহিত হয়ে থাকে ।

এতে সড়কের উপর অত্যাধিক চাপসহ পরিবহন খাতে প্রচুর ব্যয় হয়। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী মূল্যে নদীপথে পণ্য পরিবহনকে উৎসাহিত ও ব্যবসাবান্ধব করার লক্ষ্যে পানগাঁও আইসিটিকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে আলোচ্য চুক্তিটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বিআইডব্লিউটিএ থেকে দীর্ঘ মেয়াদি সময়ের জন্য জায়গা লিজের মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে । এছাড়াও বন্দর কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় পানগাঁও আইসিটিতে একটি ফ্রি কটন জোন গড়ে তোলা হবে যা দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারের ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

বিআইডব্লিউটিএ এর সভা কক্ষে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এর “পশ্চাদ সুবিধাসহ হেভি লিফ্ট কার্গো জেটি নির্মাণ প্রকল্প” বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাথে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। উল্লেখ্য বিষয়োক্ত প্রকল্পটি “অর্পিত ক্রয়কার্য হিসেবে” বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়নের বিষয় সরকারি সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে উক্ত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে । প্রকল্পটি লালদিয়া-২ অঞ্চলে বাস্তবায়িত হবে এবং এর দৈর্ঘ্য ২৪০ মিটার ধরা হয়েছে।

দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর হওয়া সত্ত্বেও ইতোপূর্বে এ বন্দরে ভারী কার্গো হ্যান্ডলিং এর জন্য বিশেষায়িত/ডেটিকেইটেড কোন জেটি ও সুবিধাদি নির্মাণ করা হয়নি। এনসিটি বার্থ নং-৫ ভারী কার্গো হ্যান্ডলিং এর জন্য ব্যবহার করা হলেও এটি মূলত কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল । তবে বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রিয়াল কার্গো বেশি পরিমাণে আমদানী করায় একটি হেভি লিফ্ট কার্গো জেটি নিমার্ণ অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়ে। আলোচ্য প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্দর ব্যবহারকারী/ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবী পুরন হবে । হেভি লিফ্ট জেটিটি প্রতি বর্গমিটারে ৫ টন ভার বহন করতে সক্ষম হবে। ইতোপূর্বে ভারী কার্গো হ্যান্ডলিং এর জন্য ব্যবহৃত এনসিটি বার্থ নং-৫ এর সক্ষমতা ছিল প্রতি বর্গমিটারে মাত্র ৩ টন। উল্লেখ্য, কাজের গুণগতমান বজায় রাখার স্বার্থে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে উক্ত প্রকল্পটি নির্মাণে নিযুক্ত করা হয়েছে।
উক্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, নৌপম এর সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, বিআইডব্লিউটি এর চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা, নৌবাহিনীর পক্ষে রিয়ার এডমিরাল (অবঃ) আনোয়ার হোসেন এবং চবক এর পক্ষে চবক এর সদস্য (প্রকৌশল) কমডোর কাওছার রশীদ ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক ও উপ-প্রকল্প পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়ও আরো উপস্থিত ছিলেন নৌপম, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, চবক ও বিআইডব্লিউটিএ এর উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমী ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমীতে উৎসব মূখর পরিবেশে ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া, নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ-২০২৬ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুজ্জামান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এমন আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আলহাজ্ব মোঃ হেদায়েতুল তিনি অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।আরো উপস্থিত ছিলেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল ছাত্র-ছাত্রী,অভিভাবক এবং শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ