চাকসু নির্বাচনে ভোটার ২৭ হাজার ৬৩৭ জন, মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

জয়ে কোমর বেঁধে নামছে শিবির, দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছাত্রদল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রম চলবে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। রোববার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে চাকসু ভবনে মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হয়, যা চলে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। নির্বাচনে মোট ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন ২৭ হাজার ৬৩৭ জন ছাত্র-ছাত্রী। রোববার সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে চাকসু নির্বাচন কমিশন।

এদিকে ডাকসু এবং জাকসু নির্বাচনের সাফল্যে উজ্জীবিত ইসলামী ছাত্রশিবির এবার কোমর বেঁধে নামছে চাকসু জয়ের জন্য। ৪৫ বছর পর আরেকবার চাকসুতে পূর্ণ প্যানেলে জয়ের আশা করছে সংগঠনটি। অন্যদিকে ডাকসু নির্বাচনে পরাজয় ও জাকসু নির্বাচন বর্জনের পর চাকসু নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা, তা নিয়ে দ্বিধায় আছেন ছাত্রদল নেতারা। তাদের মত হচ্ছে, প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি না করলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অর্থহীন।

জানা গেছে, ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য হল সংসদের মনোনয়ন ফি রাখা হয়েছে ২০০ টাকা এবং কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩০০ টাকা। মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় প্রার্থীরা ডোপ টেস্টের কার্ড পাবেন। পরে চবি মেডিক্যালে ৩৫০ টাকা ফি জমা দিয়ে নমুনা দিতে হবে।

চাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। গত ২৮ আগস্ট ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে। ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত তালিকা। ভোটগ্রহণ হবে ১২ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

ডাকসু এবং জাকসু নির্বাচনের সাফল্যে উজ্জীবিত ইসলামী ছাত্রশিবির এবার কোমর বেঁধে মাঠে নামলেও নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা, তা নিয়ে দ্বিধায় আছেন ছাত্রদল নেতারা। তাদের মত হচ্ছে, প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি না করলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অর্থহীন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৮টি পদের মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদকসহ (জিএস) ২৩টি পদে জয় পায় ছাত্রশিবির। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রথম কোনো নির্বাচনে বিশাল এ বিজয় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চিত্র দৃশ্যমান হয়েছে।

এর পর গত বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (জাকসু) নির্বাচন হয়। দু’দিন পর ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, ছাত্রশিবির সাধারণ সম্পাদকসহ (জিএস) ১৯টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ১৫টিতে জয় পেয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির আগে কখনো কোনো নির্বাচনে জয়ের মুখ দেখেনি।

প্রথমবারের মতো এ সাফল্য ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মনোবল আরও অটুট করেছে, এমনটাই বলছেন সংগঠনটির নেতারা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ডাকসুতে ইসলামী ছাত্রশিবির বিশাল জয় পেয়েছে। জাহাঙ্গীরনগরেও আমাদের অধিকাংশ প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর আস্থা রাখছেন। এটা অবশ্যই আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমাদের নেতাকর্মীরা উজ্জীবীত হচ্ছেন, খুবই স্বাভাবিক।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। গত বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) আচরণবিধি নিয়ে মতবিনিময় সভায় নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সভা বর্জন করে বেরিয়ে যান ছাত্রদলের নেতারা। এর পর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বিদ্যমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন।
ফেসবুকের পোস্টে আব্দুল্লাহ আল নোমান লিখেছেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দলকানা প্রশাসনের অধীনে কতটুকু লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় থেকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে আমরা যথেষ্ট সন্দিহান। এই দলকানা প্রশাসনের অধীনে আমরা নির্বাচনে যাব কিনা তা এখন ভেবে দেখার বিষয়।
জানতে চাইলে চবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, আমরা নির্বাচন করতে চাই। কিন্তু আমাদের কিছু দাবি-দাওয়া আছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন একপেশে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তাদের দলকানা মনোভাব এরই মধ্যে পরিষ্কার হয়েছে। আমাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থেকে নির্বাচনের সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে হবে। নির্বাচন কমিশন সংস্কার করতে হবে। আমাদের আপত্তির জায়গাগুলো শুনতে হবে। অন্যথায় আমরা নির্বাচনে যাব কিনা, সেটা আমাদের ভেবে দেখতে হবে।
চাকসু নির্বাচন কমিশন নিয়ে আপত্তি তুলেছিল ছাত্রশিবিরও। তবে ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে জয়ের পর তাদের আপত্তি আর জোরালো অবস্থায় নেই বলে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
চবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী আরো বলেন, আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। কাজ অনেকটাই গুছিয়ে এনেছি। এর মধ্যে গ্রামবাসীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেছে। সেজন্য আমাদের প্রস্তুতি কিছুটা স্তিমিত হয়ে গিয়েছিল। এখন আবার কার্যক্রম জোরালো করেছি। আমাদের প্রার্থীদের রেডি করছি। তবে কৌশলগত কারণে আমরা কারও নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছি না।
ডাকসু-জাকসু’র মতো সাধারণ শিক্ষার্থীরা চাকসুতেও শিবিরের ওপর আস্থা রাখবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা ৫ আগস্ট স্বৈরাচারের পতনের পর থেকে গত একবছর ধরে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীবান্ধব অনেক কার্যক্রম করেছি। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের একটা আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ৪৫ বছর আগে ১৯৮১ সালে শিবির একবার চাকসুতে পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী হয়েছিল। এবারও আমরা আরেকবার সেই বিজয় দেখব বলে আশাবাদী।

জানা গেছে, ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। এরপর মোট ছয়টি চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭০ সালে চাকসুর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৭২, ১৯৭৪, ১৯৭৯, ১৯৮১ সালে এবং ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ চাকসুর নির্বাচন হয়। ১৯৮১ সালে ভিপি পদে জসীম উদ্দিন সরকার ও জিএস পদে আব্দুল গাফফারসহ ছাত্রশিবিরের পূর্ণ প্যানেল জয়ী হয়।

এরপর ১৯৯০ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে তৎকালীন জাতীয় ছাত্রলীগের নেতা নাজিম উদ্দিন (ভিপি), আজিম উদ্দিন (জিএস) ও ছাত্রদলের মাহবুবের রহমান শামীম (এজিএস) নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের নেতা ফারুকুজ্জামান নিহত হলে চাকসুর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর গত ৩৫ বছরে আর চাকসুতে নির্বাচন হয়নি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভালকান অ্যাসপায়ার লিমিটেড ও ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামের মধ্যে সমঝোতা স্বাক্ষর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভালকান অ্যাসপায়ার লিমিটেড ও ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামের মধ্যে সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছে। এ উপলক্ষে ভালকান অ্যাসপায়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান এসএম সাফাত ইশতিয়াক এবং ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির এক্সটার্নাল এনগেজমেন্টের পরিচালক ও সিপিডিসি এর পরিচালক ড. রওনক আফরোজ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই সমঝোতার মাধ্যমে ভালকান অ্যাসপায়ার লিমিটেড ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রাম ক্যাম্পাসের Career Excellence Partner হিসেবে যাত্রা শুরু করল।

চুক্তি অনুযায়ী ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির বর্তমান শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাই ভালকান অ্যাসপায়ার পরিচালিত সকল Corporate Soft Skill Training -এর বেসিক কোর্সসমূহ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার সুযোগ পাবেন। এছাড়াও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ভালকান অ্যাসপায়ার শিক্ষার্থীদের জন্য চাকরীর সুযোগ সৃষ্টি, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং এবং পেশাগত উন্নয়নমূলক সেবা প্রদান করবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, ভালকান অ্যাসপায়ারের সঙ্গে এই অংশীদারিত্বে আমরা আনন্দিত। আমাদের লক্ষ্য অভিন্ন এবং আমি আশা করি, তারা তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ দিয়ে ইডিইউর শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার উন্নয়নে কাজ করবে।

ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির এক্সটার্নাল এনগেজমেন্টের পরিচালক ও সিপিডিসি এর পরিচালক ড. রওনক আফরোজ বলেন, আমরা সবসময় আমাদের শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে নতুন নতুন সুযোগ তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ভালকান অ্যাসপায়ারের সে এই অংশীদারিত্ব আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ভালকান অ্যাসপায়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান এস এম সাফাত ইশিতয়াক বলেন, চট্টগ্রাম ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির সন্মানিত কতৃপক্ষের আন্তরিক অভ্যর্থনায় অত্যন্ত আনন্দিত। এই অংশীদারিত্ব এখানকার শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও ক্যারিয়ার উন্নয়নকে আরও শক্তিশালী করবে। আমি আশ্বস্ত করছি, ভালকান অ্যাসপায়ার শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ মানের প্রশিক্ষণ ও সেবা প্রদানে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

চারটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না করলে কোনো প্রকল্পই অনুমোদন দেওয়া হবে না : অর্থমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সরকারি অর্থের অপচয় মেনে নেওয়া হবে না বলে। তিনি বলেছেন, যেকোনো সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে করদাতার টাকার সঠিক ব্যবহার ও প্রতিদান নিশ্চিত করতে হবে।

চারটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না করলে কোনো প্রকল্পই অনুমোদন দেওয়া হবে না মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) আয়োজিত ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সরকারি অর্থে নেওয়া প্রতিটি বিনিয়োগ প্রকল্পে মূল্যমান নিশ্চিত করা, বিনিয়োগের বিপরীতে প্রাপ্তি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত প্রভাবকে গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিতে হলে সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে নিয়মিত বেঞ্চমার্কিং করতে হবে।একই সঙ্গে নিজেদের গবেষণা, ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রমের পিয়ার রিভিউ নিশ্চিত করতে হবে। নিজেদের কাজের মূল্যায়ন নিজেরা করলে চলবে না, অন্যদের মূল্যায়নের মাধ্যমে দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা সংশোধন করতে হবে।

গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে নিতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিকল্প নেই। শুধু ভালো কাজ করলেই হবে না, সেই কাজকে বিশ্বব্যাপী দৃশ্যমানও করতে হবে।তাছাড়া শুধু ভবন নির্মাণে বিনিয়োগ করলে হবে না। অবকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষ জনবল, গবেষণা সুবিধা, ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, সরকারি অর্থে নেওয়া প্রতিটি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মূল্যমান, বিনিয়োগের বিপরীতে প্রাপ্তি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। জনগণের করের টাকা ব্যয় করে নির্মিত অবকাঠামো থেকে কী ফল পাওয়া যাচ্ছে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী।

চুয়েটের আইটি ইনকিউবেটর প্রসঙ্গে আমির খসরু আরো বলেন, এটি কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। তিনি ঢাকায় ফিরে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

শিল্পখাতের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের উন্নত প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের কেন্দ্রগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিল্পখাতের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতা রয়েছে। বাংলাদেশেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা সক্ষমতা শিল্পখাতের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, দেশের অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো চুয়েটের গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকেও যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও গবেষণায় অর্থের অভাবে সম্ভাবনাময় উদ্যোগ যেন থেমে না যায়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।তিনি আরও বলেন, শুধু লেখাপড়ায় নয়, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, বিতর্ক ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুয়েটের সহযোগিতা জোরদার করে নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এলাকার সন্তান হিসেবে চুয়েটের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সবসময় পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা, শিক্ষকদের দক্ষতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে চুয়েটকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিং উন্নয়নে বিদেশি অধ্যাপক নিয়োগ, অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও গবেষণা কার্যক্রম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুয়েটের সংযোগ জোরদার এবং মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ