আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপি ও ওয়ার্ডের নবগঠিত কমিটি নিয়ে বিতর্ক, ত্যাগী নেতাদের ক্ষোভে উত্তপ্ত ভাঙ্গুড়া।

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার পাবনা প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপি’র নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ও ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

অভিযোগ দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ ও পারিবারিক আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে রাতের আঁধারে কমিটি গঠন করা হয়েছে।এতে ইউনিয়ন বিএনপি’র ভেতরে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওয়ার্ড কমিটি তৈরিতে ইউনিয়ন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নানের স্বাক্ষর পাওয়ার থাকলেও তার স্বাক্ষর ছাড়াই আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক মোজাম ও সদস্য সচিব ওয়াজ উদ্দিন ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ড কমিটির তালিকা রাতের আঁধারে প্রস্তুত করে উপজেলা বিএনপি’র কাছে জমা দেন। স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ বা আলোচনা না করে গোপনে এই কমিটি গঠন করা হয়।

এতে দীর্ঘদিনের সংগ্রামী নেতারা নিজেদের অবহেলিত মনে করছেন। তারা দ্রুত এই ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন করে ত্যাগীদের দিয়ে কমিটি গঠনের দাবিতে চলতি বছরের ২৬ আগস্ট শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন করে ইউনিয়নের ১৯টি গ্রাম ঘুরে নেতাকর্মীদের মতামত নেন এবং বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরদিন ২৭ আগস্ট আবারো নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতারা অষ্টমনিষা বাজারে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন। সেখানে উপস্থিত নেতারা ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, যদি বিতর্কিত ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক, সদস্য সচিব ও যুগ্ম আহ্বায়কদের বহিষ্কার করে কমিটি সংস্কার না করা হয়, তবে তারা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

এরপর ৩০ আগস্ট সংবাদ সম্মেলন করে তারা তাদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা ত্যাগী নেতারা অভিযুক্তদের আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে তোলা বিভিন্ন ছবি ও পোস্টার প্রদর্শন করেন। এগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। সাধারণ নেতাকর্মীরাও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

অষ্টমনিষা ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব যদি আরও বাড়ে তবে ইউনিয়নে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ব্যবসায়ী মহল বলছে, এর ফলে বাজার-ঘাটের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হবে। অনেকেই মনে করছেন, ত্যাগী নেতাদের বাদ দিলে তরুণ প্রজন্মও রাজনীতি থেকে বিমুখ হয়ে পড়বে।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি’র ভেতরে দীর্ঘদিনের সংগ্রামীদের অবমূল্যায়ন করে যদি বিতর্কিত কমিটি বহাল থাকে তবে তা শুধু ইউনিয়ন নয়, উপজেলা ও জেলা পর্যায়েও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর ফলে ভাঙ্গুড়ার রাজনীতি নতুন সংঘাতের দিকে যেতে পারে।

৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো: আলেপ আলী বলেন, “অভিযুক্তদের আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে তোলা ছবি আছে, সেসব প্রমাণ সবার সামনে এসেছে। অথচ তাদেরই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা ত্যাগী নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়বো এবং সংগঠন ভাঙনের মুখে পড়বে।”

৬ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমরা রাজপথে লড়েছি, মামলা-মোকদ্দমা খেয়েছি, জেল খেটেছি। অথচ আমাদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগপন্থীদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।”

২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, “আমি জেল খেটেছি। যাদেরকে দিয়ে কমিটি করা হয়েছে তারা কোনো দিন বিএনপি’র আন্দোলনে ছিল না।”

১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো: আব্দুস সামাদ খান, ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো: জহুরুল ইসলাম ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ উদ্দিন বলেন, আমরা কত জেল জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কতরাত বাড়ি থেকে পালিয়ে থেকেছি। অথচ কমিটিতে নেতারা আমাদের মূল্যায়ন করছে না। মূল্যায়ন পাচ্ছে আওয়ামী লীগের লোকজন ও আত্মীয়-স্বজন। এভাবে চলতে থাকলে একসময় বিএনপি’র রাজনীতি হারিয়ে যাবে।

ইউনিয়ন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক আব্দুল মান্নান বলেন, উপজেলা বিএনপি’র নেতারা অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপি’র যাকে আহবায়ক দিয়েছেন তিনি সাবেক জামাত নেতা এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিল করে চলেছেন। এবং যাকে সদস্য সচিব করেছেন তিনি ২০১২ সালে যুবদলের সেক্রেটারি ছিলেন। এর পরবর্তীতে ছাত্রলীগের সভাপতি কে ব্যবসায়িক পার্টনার বানিয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রোগ্রামে উপস্থিত থেকেছে। কিন্তু বিএনপি’র কোন দলীয় কোন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেননি। অথচ তাকেই সদস্য সচিব মনোনীত করা হয়েছে।তিনি আরো বলেন, বর্তমান বিএনপি’র রাজনীতি পরিবেশ নোংরা ও ঘোলাটে হয়েছে এবং অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপি’র মধ্যে যে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এর থেকে যদি কোন সাংঘর্ষকের রূপ নেয় তাহলে আমি মনে করব যে এর জন্য দায়ী উপজেলা বিএনপি।

সদস্য সচিব ওয়াজ উদ্দিন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। আমি সবসময় দলের সঙ্গেই ছিলাম, ভিন্ন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না। কেউ যদি আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ততা প্রমাণ দিতে পারে আমি স্বইচ্ছায় আমার সদস্য সচিব পদ থেকে সরে দাঁড়াবো।”

সকল অভিযোগ অস্বীকার করে অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক মোজাম বলেন, “আমি কখনোই জামাতের সাথে জড়িত ছিলাম না। মূলত আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে প্রতিপক্ষ এ ধরনের কথাবার্তা বলছে। এবং আমি নিয়ম অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক বলেন, এই বিষয়গুলো নিয়ে মৌখিক এবং লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়গুলো নিয়ে আমরা সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছি।

উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক নূর মুজাহিদ স্বপন বলেন, অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপি’র ওয়ার্ড কমিটি কিছু আওয়ামী লীগের লোকজন দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে এমন একটা অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতু জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিবের বাড়ি এই ইউনিয়নে তাই তাকে সঙ্গে নিয়েই আমরা এই বিষয়টা নিষ্পত্তি করবো।

এদিকে অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপি ও ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। ত্যাগী নেতারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তারা কোনোভাবেই বিতর্কিত কমিটি মেনে নেবেন না। অন্যদিকে অভিযুক্ত নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করছেন। এখন দেখার বিষয় উপজেলা ও জেলা বিএনপি কী পদক্ষেপ নেয় এবং এ সংঘাত কীভাবে নিরসন করা হয়।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিএনপি প্রতিশ্রুতি পূরণের রাজনীতি করে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেছেন-বিএনপি প্রতিশ্রুতি পূরণের রাজনীতি করে। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া যতবারই দেশ পরিচালনা করেছে ততবারই দেশের মানুষ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের দেখা পেয়েছে। জিয়া পরিবারের সুুযোগ্য উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জনগণের প্রতিশ্রুতি পূরণে দিনরাত পরিশ্রম করছেন।

 

মানুষের যে মৌলিক চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিটি মৌলিক চাহিদা পূরণ করে; দল-মত, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ যাতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে, সে লক্ষ্যেই তিনি কাজ করছেন। নির্বাচনের পূর্বে জনগণকে তিনি যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছেন তা ধীরে ধীরে বাস্তবে রুপ নিচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, ই হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ডের মত কল্যাণমুখী কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন ও নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) ৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ডে মরহুম আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত “ঈদবস্ত্র বিতরণ” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ১৫০০ মানুষের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি জনগণের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল। জনগণের জন্য কাজ করা, জনগণের সেবা করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছে, জনগণের কাছে আমরা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই।

বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের এমপি-কাউন্সিলররা জনগণের পাশে ছিলনা। জনগণের ভাগ্যন্নোয়নের কথা বলে তারা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। মেগা প্রকল্পের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। সে পাচারের টাকায় আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রী ও নেতাকর্মীরা এখন বিদেশে বিলাসী জীবনযাপন করছে।

৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো. আবু তালেব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও ৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আলহাজ্ব মো. ইসমাঈল বালি, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজ সেবক বাবু দিলীপ মজুমদার, পাথরঘাটা ওয়ার্ড বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মো. শহিদুল হক, আশরাফুল ইসলাম মামুন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শফিকুল আলম, মোহাম্মদ হামিদ, জিয়া সাইবার ফোর্স বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী বাহাউদ্দিন ফারুক মুন্না, কোতোয়ালি থানা তাঁতি দলের যুগ্ম আহবায়ক মো. শেখ আলী মিঠু , প্রবাল কৃষ্ণ, মোহাম্মদ সেলিম, যুবদলের মো. সাইফুল ইসলাম, মো. নাদিম, রিয়াজ, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ তুহিন,  সদস্য সচিব মো. জসিম, কোতোয়ালী থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মারুফ,  কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. হোসেন মোহাম্মদ নাসির প্রমুখ।

নারীদের শক্তিশালী জনসম্পদে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য : প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি বলেছেন, আমাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিক কর্মসূচীর মধ্যে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন অন্যতম। দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদেরকে স্বনির্ভর, আত্মপ্রত্যয় এবং শক্তিশালী জনসম্পদে পরিণত করা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালীন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করে মেয়েদের জন্য এইচ.এস.সি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। এছাড়া নারীদের সার্বিক কল্যাণে তিনি অনেকগুলো কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেছিলেন। তাঁরই সুযোগ্য পুত্র বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্সমতায় আসার পর নারীদের ক্ষমতায়নে কাজ করছেন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও বেগবান করতে প্রত্যেক নারীকে উদ্যেক্তা হিসেবে গড়ে উঠার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা কাজও শুরু করেছেন।


সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত বিভাগীয় পর্যায়ের অদম্য নারী পুরস্কার-২০২৫ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় পর্যায়ে ৩ ক্যাটাগরিতে ৪ জন অদম্য নারীকে ফুল, ক্রেস্ট ও সনদপত্রসহ সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি। সম্মাননাপ্রাপ্ত সফল নারীরা হচ্ছেন-শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আবদুল হালিমের মেয়ে আসমা আকতার রুনা, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের শামসুল ইসলামের মেয়ে শমলা বেগম, সফল জননী নারী ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার চরমজলিশপুর গ্রামের আমিন আহমদ ভূঁঞার স্ত্রী বেগম তাজকেরা চৌধুরী ও সফল জননী নারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার চান্দনপুর পাখাচং গ্রামের আবদুল কাদেরের মেয়ে বিলকিছ বেগম। অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত সফল নারীরা তাদের জীবন-সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করেন।

অদম্য নারী পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বৈরী পরিস্থিতিতে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সাথে কথা বলে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা মেরামতের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে বিএনপি ৩১ দফা ঘোষনা করেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই মাসে জাতির সামনে প্রকাশ করা হয়েছিল। বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারে ৩১ দফার ৮টি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে কাজ শুরু করেছে। তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-ফ্যামিলি কার্ড। এটি পাবেন পরিবারের প্রধান নারী। কোন রাজনৈতিক বিবেচনা বা জনপ্রতিনিদিদের মাধ্যমে নয়, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এডমিন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ তালিকার মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে, যাতে পরবর্তীতে কোন সরকার এটি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে। পাইলট প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৪টি জেলার ১৪টি ওয়ার্ড/উপজেলার মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের পতেঙ্গা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্চারামপুর ও বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের সবক’টি পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে।

পুরস্কারপ্রাপ্ত অদম্য নারীদের বক্তব্যের আলোকে তিনি বলেন, আজকের অদম্য নারীদের মধ্যে এ পুরস্কার সীমাবদ্ধ নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে-ইউনিয়নে-পৌরসভা-উপজেলা-থানা-নগর ও জেলা পর্যায়ে এটি ছড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের প্রতিটি নারী সম্মানের হকদার। বাংলাদেশে যত নারী আছেন তারা কোন না কোন জায়গায় অদম্যতার পরিচয়ে ঠিকে আছেন। অদম্য নারীদের জীবন-যুদ্ধে হার না মানার কাহিনীর ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা দরকার এবং সমাজের অন্যান্য নারীদেরকে এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আমরা বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে চাই, চট্টগ্রামের জন্য অনেক কিছু করতে চাই, এজন্য সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আরও বলেন, সংবিধানে সকলের সমান অধিকার। ১৯ কোটি মানুষের দেশে ৪ কোটি মানুষও যদি কর্মক্ষম বা অর্থনীতির বাইরে থাকে তাহলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা কাঙ্খিত উন্নয়ন কোনভাবে সম্ভব নয়। পুরুষের পাশাপাশি নারীরা উদ্যেক্তা হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসলে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে এবং উন্নত সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারবো।
তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশকে যদি সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, সমতা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, তাহলে আমাদের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদেরকে সাথে নিয়ে পথ চলতে হবে। উন্নত সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়তে নারী-পুরুষের সমতা আনায়ন অত্যন্ত জরুরী।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো.জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অদম্য নারী পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ নাজিমুল হক, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অদম্য নারী পুরস্কার কর্মসূচীর অতিরিক্ত পরিচালক ও কর্মসূচী পরিচাল মোঃ মনির হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত বিভাগীয় পরিচালক (উন্নয়ন) নুসরাত সুলতানা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আতিয়া চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত অদম্য নারীগণ, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীন বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ