আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপি ও ওয়ার্ডের নবগঠিত কমিটি নিয়ে বিতর্ক, ত্যাগী নেতাদের ক্ষোভে উত্তপ্ত ভাঙ্গুড়া।

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার পাবনা প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপি’র নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ও ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

অভিযোগ দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ ও পারিবারিক আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে রাতের আঁধারে কমিটি গঠন করা হয়েছে।এতে ইউনিয়ন বিএনপি’র ভেতরে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওয়ার্ড কমিটি তৈরিতে ইউনিয়ন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নানের স্বাক্ষর পাওয়ার থাকলেও তার স্বাক্ষর ছাড়াই আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক মোজাম ও সদস্য সচিব ওয়াজ উদ্দিন ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ড কমিটির তালিকা রাতের আঁধারে প্রস্তুত করে উপজেলা বিএনপি’র কাছে জমা দেন। স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ বা আলোচনা না করে গোপনে এই কমিটি গঠন করা হয়।

এতে দীর্ঘদিনের সংগ্রামী নেতারা নিজেদের অবহেলিত মনে করছেন। তারা দ্রুত এই ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন করে ত্যাগীদের দিয়ে কমিটি গঠনের দাবিতে চলতি বছরের ২৬ আগস্ট শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন করে ইউনিয়নের ১৯টি গ্রাম ঘুরে নেতাকর্মীদের মতামত নেন এবং বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরদিন ২৭ আগস্ট আবারো নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতারা অষ্টমনিষা বাজারে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন। সেখানে উপস্থিত নেতারা ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, যদি বিতর্কিত ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক, সদস্য সচিব ও যুগ্ম আহ্বায়কদের বহিষ্কার করে কমিটি সংস্কার না করা হয়, তবে তারা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

এরপর ৩০ আগস্ট সংবাদ সম্মেলন করে তারা তাদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা ত্যাগী নেতারা অভিযুক্তদের আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে তোলা বিভিন্ন ছবি ও পোস্টার প্রদর্শন করেন। এগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। সাধারণ নেতাকর্মীরাও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

অষ্টমনিষা ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব যদি আরও বাড়ে তবে ইউনিয়নে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ব্যবসায়ী মহল বলছে, এর ফলে বাজার-ঘাটের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হবে। অনেকেই মনে করছেন, ত্যাগী নেতাদের বাদ দিলে তরুণ প্রজন্মও রাজনীতি থেকে বিমুখ হয়ে পড়বে।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি’র ভেতরে দীর্ঘদিনের সংগ্রামীদের অবমূল্যায়ন করে যদি বিতর্কিত কমিটি বহাল থাকে তবে তা শুধু ইউনিয়ন নয়, উপজেলা ও জেলা পর্যায়েও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর ফলে ভাঙ্গুড়ার রাজনীতি নতুন সংঘাতের দিকে যেতে পারে।

৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো: আলেপ আলী বলেন, “অভিযুক্তদের আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে তোলা ছবি আছে, সেসব প্রমাণ সবার সামনে এসেছে। অথচ তাদেরই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা ত্যাগী নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়বো এবং সংগঠন ভাঙনের মুখে পড়বে।”

৬ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমরা রাজপথে লড়েছি, মামলা-মোকদ্দমা খেয়েছি, জেল খেটেছি। অথচ আমাদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগপন্থীদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।”

২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, “আমি জেল খেটেছি। যাদেরকে দিয়ে কমিটি করা হয়েছে তারা কোনো দিন বিএনপি’র আন্দোলনে ছিল না।”

১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো: আব্দুস সামাদ খান, ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো: জহুরুল ইসলাম ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ উদ্দিন বলেন, আমরা কত জেল জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কতরাত বাড়ি থেকে পালিয়ে থেকেছি। অথচ কমিটিতে নেতারা আমাদের মূল্যায়ন করছে না। মূল্যায়ন পাচ্ছে আওয়ামী লীগের লোকজন ও আত্মীয়-স্বজন। এভাবে চলতে থাকলে একসময় বিএনপি’র রাজনীতি হারিয়ে যাবে।

ইউনিয়ন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক আব্দুল মান্নান বলেন, উপজেলা বিএনপি’র নেতারা অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপি’র যাকে আহবায়ক দিয়েছেন তিনি সাবেক জামাত নেতা এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিল করে চলেছেন। এবং যাকে সদস্য সচিব করেছেন তিনি ২০১২ সালে যুবদলের সেক্রেটারি ছিলেন। এর পরবর্তীতে ছাত্রলীগের সভাপতি কে ব্যবসায়িক পার্টনার বানিয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রোগ্রামে উপস্থিত থেকেছে। কিন্তু বিএনপি’র কোন দলীয় কোন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেননি। অথচ তাকেই সদস্য সচিব মনোনীত করা হয়েছে।তিনি আরো বলেন, বর্তমান বিএনপি’র রাজনীতি পরিবেশ নোংরা ও ঘোলাটে হয়েছে এবং অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপি’র মধ্যে যে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এর থেকে যদি কোন সাংঘর্ষকের রূপ নেয় তাহলে আমি মনে করব যে এর জন্য দায়ী উপজেলা বিএনপি।

সদস্য সচিব ওয়াজ উদ্দিন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। আমি সবসময় দলের সঙ্গেই ছিলাম, ভিন্ন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না। কেউ যদি আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ততা প্রমাণ দিতে পারে আমি স্বইচ্ছায় আমার সদস্য সচিব পদ থেকে সরে দাঁড়াবো।”

সকল অভিযোগ অস্বীকার করে অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক মোজাম বলেন, “আমি কখনোই জামাতের সাথে জড়িত ছিলাম না। মূলত আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে প্রতিপক্ষ এ ধরনের কথাবার্তা বলছে। এবং আমি নিয়ম অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক বলেন, এই বিষয়গুলো নিয়ে মৌখিক এবং লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়গুলো নিয়ে আমরা সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছি।

উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক নূর মুজাহিদ স্বপন বলেন, অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপি’র ওয়ার্ড কমিটি কিছু আওয়ামী লীগের লোকজন দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে এমন একটা অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতু জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিবের বাড়ি এই ইউনিয়নে তাই তাকে সঙ্গে নিয়েই আমরা এই বিষয়টা নিষ্পত্তি করবো।

এদিকে অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপি ও ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। ত্যাগী নেতারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তারা কোনোভাবেই বিতর্কিত কমিটি মেনে নেবেন না। অন্যদিকে অভিযুক্ত নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করছেন। এখন দেখার বিষয় উপজেলা ও জেলা বিএনপি কী পদক্ষেপ নেয় এবং এ সংঘাত কীভাবে নিরসন করা হয়।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিএনপি সরকারের ঘোষিত নতুন বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কার হবে না: নাহিদ ইসলাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি সরকারের ঘোষিত নতুন বাজেটে (প্রস্তাবিত) দেশের অর্থনৈতিক কোনো সংস্কার হবে না। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা মূলত বাস্তবতাবিবর্জিত। কারণ, বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনোই এত রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমান যে কর বা রাজস্ব আদায়ের কাঠামো রয়েছে, তার মধ্য দিয়ে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের এই বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক বলেন, আমরা আশা করেছিলাম এই বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংস্কার আসবে; কিন্তু বর্তমান বাজেটের যে রূপরেখা, তাতে কোনো অর্থনৈতিক সংস্কার সম্ভব হবে না।

বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা কিছু সৃজনশীল জায়গা দেখিয়েছে। কিছু পণ্যের কর কমানো হয়েছে; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এগুলো ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও শেষ পর্যন্ত তা কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে— তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।
সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এত কম সময়ের ব্যবধানে আগে কখনো এভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি, তার লাগাম টেনে ধরতেই আমরা প্রতিটি বিভাগে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কর্মসূচি পালন করছি।

বাজেটে সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতির ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বাজেট কীভাবে দুর্নীতি বন্ধ করবে— তার কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। বড় বাজেট মানেই তা নিয়ে বড় ধরনের দুর্নীতি করারও সুযোগ তৈরি হওয়া। এই যে বিভিন্ন কার্ড বিতরণ কিংবা খাল খনন কর্মসূচির কথা বলা হচ্ছে; সেখানে ক্ষমতাসীন দলের এমপিরা বরাদ্দ পাচ্ছেন, কিন্তু বিরোধীদলীয় এমপিরা পাচ্ছেন না— তারা সেটি কীভাবে করছেন? অর্থাৎ কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই। বাজেটে দুর্নীতি ও ঋণখেলাপিদের রুখতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপের কথা বলা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের আনন্দ মিছিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জাতীয়বাদী যুবদল কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটি পূর্ণাঙ্গ ঘোষিত হওয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন এর নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আজ শনিবার (৬ জুন) সকালে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে শহরের বহরদ্দার হাট বাস টার্মিনাল থেকে শুরু হয়ে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুরাদপুর চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক দীপংকর ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ন সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন, এতে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সহ দপ্তর সম্পাদক মোঃ শাহেদুল ইসলাম, সহ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম আজাদ, সদস্য শাখাওয়াত হোসেন টিপু, চান্দগাও থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আলী আজম মাসুম, আরিফ মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ এরশাদ, মোহাম্মদ ফরহাদ, আলী আসমান, মোহাম্মদ ছাবের, ইমতিয়াজ নিশান, সহাব উদ্দিন শিহাব, মোহাম্মদ মোরশেদ, অহিদুল ইসলাম ওয়াহিদ, মো: খোরশেদ আলম, মো: মিনহাজ, জয়নাল আবেদীন মানিক, মোহাম্মদ আরিফ, আবদুর রহমান, আবদুল্লাহ আল মামুন, ওমর ফারুক, মোহাম্মদ দুলাল, মোহাম্মদ নুর নবী, আবদুল আজিজ, সহ চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল,থানা ও ওয়ার্ড যুবদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মোশাররফ হোসাইন নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, যুবদল দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ভবিষ্যতেও সংগঠনের আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পুরো কর্মসূচি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সফলতা কামনা করে এবং সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা বা দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর মতো চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলও প্রায়ই আনন্দ মিছিল ও স্বাগত কর্মসূচি পালন করেছে।
কেন্দ্রীয় যুবদলের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে স্বাগত জানাতে এবং দলীয় প্রধানকে অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রামের রাজপথে সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল সহকারে এই আনন্দ আয়োজনে অংশ নেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ