আজঃ বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

শোরুমে হামলার অভিযোগ কামরুন্নাহাট- নোমান দম্পতির বিরুদ্ধে।

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

 

 

রাজধানীর কুড়িলে হ্যালো কারস নামে একটি শোরুমে সংঘবদ্ধ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ২৮ আগস্ট সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে পরিকল্পিতভাবে শোরুমে প্রবেশ করে হামলা চালান একদল দুর্বৃত্ত। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়—প্রথমে তারা ক্রেতা সেজে প্রবেশ করে, কর্মীরা আপ্যায়ন করতে ব্যস্ত। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই বেরিয়ে আসে তাদের আসল রূপ। চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর থেকে শুরু করে অরাজকতা সৃষ্টি করে পুরো শোরুম তছনছ করে দেয় তারা।

সিসি ক্যামেরার ফুটেছে দেখা যায়, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক কামরুন নাহার মুখে মাস্ক পড়ে লোকজন নিয়ে শোরুমে প্রবেশ করছেন, সঙ্গে ছিলেন তার স্বামী এ এস এম নোমান আলমও।

উল্লেখ্য, এই শোরুমটি তাদের মালিকানাধীন জায়গায় ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ বছরের জন্য ভাড়া নেয় হ্যালো কারস কর্তৃপক্ষ। চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে।

শোরুম ম্যানেজার মোজাইদুল ইসলাম তামিম অভিযোগ করে বলেন— “এতদিনে কোনো ভাড়া বা অন্য কোনো কারণে ঝামেলা হয়নি। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে জায়গার মালিক অগ্রিম দেয়া এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা করেন।

 

 

হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে ট্রিপল নাইনে ফোন করা হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় নেয় দুই ঘণ্টারও বেশি সময়। অথচ ঘটনাস্থল ভাটারা থানার কাছেই প্রগতি সরণিতে অবস্থিত। আরও অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা করতে চাইলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ রাকিবুল হাসান সাংবাদিকদের মুঠোফোনে বলেন, উনি আনসারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। উনি মনে হয়-আদালত থেকে মিসগাইড হয়েছেন। উনি তার জায়গা দখলে যাওয়ার জন্য আদালত থেকে কোন কাগজ পাওয়ার পরে দখলে গেছেন। আর এ ব্যাপারে আমি কোন এজহার পাইনি।

থানায় মামলা নিতে গড়িমসি করায় ভুক্তভোগীরা সরাসরি আদালতে মামলা করেন। মামলায় আসামী করা হয়—নোমান আলম, তার স্ত্রী কামরুন নাহারসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ জনকে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর আসামিরা আদালতে হাজির হলে, কামরুন নাহার জামিন পান। তবে তার স্বামী নোমান আলমের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে কামরুন নাহার ব্যস্ততার অজুহাত দেন। পরবর্তীতে আর কোনো জবাব দেননি।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগীদের দাবি—মূল আসামী ছাড়া বাকিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় তারা এখনো নিরাপত্তা শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। পাশাপাশি, আকস্মিক এ ঘটনায় তাদের ব্যবসায়িক সুনাম ও আর্থিক ক্ষতিও মারাত্মকভাবে বেড়েছে।

এমন একটি ঘটনায় রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা একজন উচ্চপদস্থ আনসার কর্মকর্তার নাম জড়িয়ে পড়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। ভুক্তভোগীরা এখন ন্যায়বিচারের আশায় দিন গুনছেন।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রাজশাহীতে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহীর চারঘাটে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে উপজেলার সরদহ রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আজ বুধবার চারঘাট মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন এই দম্পতি। পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, নাটোর সদর উপজেলার ওই দম্পতি প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার বিকেলে ট্রেনে পপকর্ন বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে বের হন।

ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি শেষে রাত প্রায় ১টার দিকে তারা সরদহ স্টেশনে নামেন। পরে স্টেশনসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে বিস্কুট খাচ্ছিলেন তারা। এ সময় এক ব্যক্তি লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারী প্রথমে স্বামীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে এবং তাকে একটি পরিত্যক্ত দোকানের পাশে বেঁধে রাখে। এরপর তার স্ত্রীকে স্টেশনসংলগ্ন জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় তাদের পপকর্ন বিক্রির টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

ভুক্তভোগী স্বামী জানান, তিনি চিৎকার করলে প্রায় ৪৫ মিনিট পর আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে তিনি জঙ্গল থেকে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে অভিযুক্তের নাম আশরাফুল ইসলাম বলে জানতে পারেন। আশরাফুল চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছী জাগিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

চট্টগ্রামের বাংলাবাজারে রেলের বগিতে আগুন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের মাঝিরঘাট বাংলাবাজার এলাকায় রেলের কয়েকটি বগিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের একজন কর্মকর্তা বলেন, বারিকবিল্ডিং এলাকার পাশে এসআরবি স্টেশনে রেলের পুরাতন বগিতে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আগুন নির্বাপণে কাজ করছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ