আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রগতির পথে,জীবনের গান , সকল অশুভ শক্তির হবে অবসান

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

এই আহবানে উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের ৫৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ----

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে প্রতিহত করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে এবং প্রগতির লড়াইকে দৃঢ় করার দৃপ্ত শপথের মধ্য দিয়ে উদীচীর ৫৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। বুধবার, সন্ধ্যা ৭ টায়,উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গনে জাতীয় সংগীত ও সংগটন সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর বর্তমান এবং সাবেক শিল্পীকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের অংশগ্রহণে এক আনন্দময় পরিবেশের সৃষ্টি হয় জেলা শিল্পকলা একাডেমির গ্যালারী প্রাঙ্গন।

কথামালায় অংশ নিয়ে অতিথি এবং শিল্পীকর্মীরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় প্রতিবাদী উচ্চারণ করেন,এবং গানের সুরে, কবিতার ছন্দে ও কথনে ব্যক্ত করেন সাংস্কৃতিক শক্তি দিয়ে অশুভ শক্তিকে রুখে দেওয়ার প্রত্যয়। প্রগতির পথে জীবনের জয়গান গেয়ে সকল শোষিত নিপীড়িত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইকে বেগবান করার দৃপ্ত ধ্বনি উচ্চারিত হয়। আলোচনা হতে।

কথামালায় সভাপতিত্ব করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক ও, প্রাবন্ধিক জসীম চৌধুরী সবুজ। উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সহ সাধারন সম্পাদক জয়তী ঘোষের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট অসীম বিকাশ দাশ।আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট নাট্যকার লেখক ও কবি অভীক ওসমান,, প্রবীন নারীনেত্রী নুরজাহান খান, দৃষ্টি’র উপদেষ্টা বৃজেট,ডায়েস, জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার সৈয়দ আয়াজ মাবুদ,

আবৃতি সংগঠন প্রমার সভাপতি রাশেদ হাসান, কবি ও প্রকাশক মুহাম্মদ নুরুল আবসার, খেলাঘর সংগঠক ওসমান গনি চৌধুরী বাবুল, গ্রুপ থিয়েটার ফোরাম এর সভাপতি সুচরিত দাশ খোকন, গ্রুপ থিয়েটার ফোরাম সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগরী কমিটির সাধারন সম্পাদক মোরশেদুল আলম,স্বরলিপি সাংস্কৃতিক ফোরামের সভাপতি মানস শেখর,উদীচী বোয়ালখালী উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় দাশ প্রমুখ।


সাংস্কৃতিক পর্বে একক, এবং দলীয়ভাবে সংগীত পরিবেশন করেন উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের শিল্পীকর্মীরা।আমন্ত্রিত সংঘটন হিসেবে সংগীত ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন স্বরলিপি সাংস্কৃতিক ফোরাম ও প্রমা আবৃত্তি সংগঠন।


আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন,সত্য ও সুন্দরের আকাঙ্খাকে ধারণ করে ১৯৬৮ সালের ২৯ অক্টোবর উদীচীর যাত্রা শুরু হয়। এরপর সংস্কৃতির সেই জাগরিত শক্তি দিয়ে অব্যাহত রয়েছে মুক্ত মানুষের মুক্ত পৃথিবী গড়ার সংগ্রাম। কালের পরিক্রমায় সংগ্রামী সেই সাংস্কৃতিক অভিযাত্রার ৫৬ বছর পূর্ণ করলো ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। দীর্ঘ পথচলার আনন্দে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সংগঠনের কর্মীদের মাঝে বয়ে যায় প্রাণের উচ্ছ্বাস।
সেই উচ্ছ্বাসের সঙ্গে ছিল অপশক্তির বিরুদ্ধে জ্বলে ওঠার সংগ্রামী প্রকাশ।

বক্তারা বলেন,- মুক্তমত ও সংস্কৃতিচর্চার অবাধ পরিবেশ নিশ্চিত করে বাহাত্তরের সংবিধানের মূলনীতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করতে হবে। সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধসম্পন্ন সাংস্কৃতিক বলয় কেন্দ্র  গড়ে তুলতে হবে। উন্নয়নের নামে প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংসকারী সকল প্রকল্প বাতিল ও উচ্ছেদ বন্ধ করতে হবে, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিল্পকলাবিষয়ক কর্মকান্ড বৃদ্ধি করতে হবে। সাম্প্রদায়িকীকরণ বন্ধ এবং বিভেদ, বিদ্বেষ ও ঘৃণা সৃষ্টিকারী লেখা ও উপাদান পাঠ্যপুস্তক থেকে তুলে নিতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, সাম্য, স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং মানবিক সমাজ নির্মাণে উৎসর্গিত লাখো লাখো মানুষের রক্তস্নাত এই দেশের মানুষের লড়াই এখনও বিদ্যমান।

উদীচীর লক্ষ্য মেহনতি মানুষের শোষণ-বঞ্চনা, দুঃখ-দুর্দশা এবং অধিকার সম্পর্কে গণসংগীতের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা। উদীচী মূলত গণসংগীতের সংগঠন হিসেবেই পরিচিত। এসব গানে থাকে শোষণের স্বরূপ উদ্ঘাটন, শোষকের স্বরূপ ও শোষণমুক্তির আন্দোলনের প্রেরণা। কৃষকের প্রয়োজনীয় উপকরণ আর পণ্যের ন্যায্যমূল্য, শ্রমিকের মজুরি, নিরন্ন মানুষের ভাতের দাবি সুরে-শব্দে উঠে এসেছে উদীচীর গানে, শিল্পীদের প্রতিবাদী কণ্ঠে। অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নিপীড়িতকে উজ্জীবিত ও সংঘবদ্ধ করেছে উদীচী তার গণসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে।


এই গণসংগীতের বাণী যেন সাধারণ জনতার জন্য সহজবোধ্য হয়, সে বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হয়ে থাকে। গণ-মানুষের অধিকার আদায়ের গান তাঁদের প্রাণ স্পর্শ করতে পারলেই তা সার্থক হবে।

বাংলার চিরায়ত সুর আজ রুদ্ধ। ধর্মান্ধতার মাস্তানীর কাছে গুমরে কাঁদছে সম্প্রীতির বাংলাদেশ। সাংস্কৃতিক শক্তি দিয়েই পরাভূত করতে হবে এই অপশক্তিকে। রুখে দিতে হবে অপশক্তির অপতৎপরতা। বিনির্মাণ করতে হবে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সম্প্রীতির বাংলাদেশ।
বার্তা প্রেরক
ভাস্কর ধর।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

বোয়ালখালীতে অবৈধ ব্রিজ নির্মাণ বন্ধ করলেন ইউএনও।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কসকবাজার আরকান সড়কের বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী ফুলতলার দক্ষিণ পাশে রায়খালী খালের ওপর অবৈধভাবে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালের ওপর অনুমোদনহীনভাবে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার ও ভয়াবহ বন্যা সহ জলাবদ্ধতার ঝুঁকি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে একই সাথে চাষবাদ ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি মধ্যে রয়েছে ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) অবৈধ ব্রিজ নির্মাণের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শনে করেন ।

পরিদর্শনকালে তারা খালের ওপর অবৈধভাবে ব্রিজ নির্মাণের সত্যতা পান। এ সময় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নির্মাণকাজের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের নিজ দায়িত্বে সোমবারের মধ্যে নির্মাণাধীন ব্রিজটি অপসারণ বা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন প্রশাসন ।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা প্রতিপালন না করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ