আজঃ বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ, ২০২৬

শ্রমিক মেহনতি মানুষের প্রত্যাশিত দেশ গঠনে জামায়াতে ইসলামী বদ্ধপরিকর : অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চট্টগ্রাম ১০ আসনের প্রার্থী ও মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক কাউন্সিলর অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী বলেছেন, ৩৬ শে জুলাই বিপ্লবে শ্রমজীবী মানুষরা সর্বাত্মক ভাবে অংশ নিয়ে বিপ্লবকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ দিয়েছে। শ্রমজীবী মানুষ এদেশের সামাজিক রাষ্ট্রীয় শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। তাদের উপর চলা জুলুম নির্যাতন অবসান করে একটি শোষণমুক্ত দেশ গঠনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বদ্ধপরিকর।

তিনি গতকাল রাতে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন খুলশী থানার সেগুনবাগান হালকা মোটরযান সেক্টরের উদ্যোগে নির্বাচনী শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সেক্টর সভাপতি নাসির উদ্দিন-এর সভাপতিত্বে এতে প্রধান বক্তা ছিলেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও নগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান।

অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী বলেন, শ্রমিকের দুঃখ দুর্দশা দূরীকরণের জন্য প্রচলিত শ্রমনীতি পরিবর্তন করতে হবে। অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন করতে হবে। ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়িত হলে শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্যের চাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয়ে যাবে। ইসলাম একটি আদর্শিক জীবন ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় সমাজের সকল শ্রেণি পেশার মানুষের প্রতি সুবিচার করা হয়েছে। কারো প্রতি জুলুম নির্যাতন বা অন্যায় চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। সুতরাং ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়িত হলে মালিক বা অন্যকোনো পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বরং সবাই লাভবান হবে।

তিনি বলেন, শ্রমিকরা এদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। ঠিক একইভাবে তাদের ভোটে দেশের রাষ্ট্রক্ষমতা নির্ধারিত হয়। শ্রমজীবী মানুষরা যদি তাদের রায় সৎ ও যোগ্য মানুষের পক্ষে দেন তাহলে এদেশে এক নতুন বিপ্লবের সূচনা ঘটবে। আমরা প্রত্যাশা করছি এবারের বিপ্লব হবে শ্রমিকদের প্রত্যাশিত বিপ্লব। শ্রমিকরা তাদের সুচিন্তিত রায় মার্কা দেখে নয় প্রার্থী দেখে প্রদান করবেন। ইনশাআল্লাহ শ্রমিকদের রায় নিয়েই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামী রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে যাবে।

এস এম লুৎফর রহমান বলেন, শ্রমিকদের মজুরি ও অধিকার হারিয়ে যায় দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে। সীমাহীন অবাধ দুর্নীতি শুধু দেশকে ডুবায় না বরং কোটি কোটি শ্রমিক জনতাকে অনাহারে অর্ধাহারের দিকে ঠেলে দেয়। শ্রমিকদের জীবনে সুখ শান্তি কেড়ে নেয়। শ্রমিকরা বঞ্চিত হয় তাদের নাগরিক ও মৌলিক অধিকার থেকে। কিন্তু এখন সময় এসেছে সকল প্রকার অন্যায় দুর্নীতি ও লুটপাট রুখে দেওয়ার। আজকে শ্রমিকদের কণ্ঠস্বর উঁচু করতে হবে সকল ধরনের টেম্পু ও বাস স্ট্যান্ড দখলের বিরুদ্ধে। কথা বলতে হবে পথে-ঘাটে অবৈধ চাঁদার বিরুদ্ধে। যারা চাঁদাবাজি করে টেন্ডারবাজি করে তাদেরকে জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন করা। সমৃদ্ধ দেশ গঠনের পূর্ব শর্ত হচ্ছে দুর্নীতি ও লুটপাট বন্ধ করা। যাদের জীবনের সকাল শুরু হয় চাঁদা বাজি করে তাদের দিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব না। এক্ষেত্রে আমাদেরকে সেইসব প্রার্থীদের বিজয় করতে হবে যারা ব্যক্তিগত জীবনে সৎ ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্বের অধিকারী। যারা তাদের সততা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে ইতিমধ্যে সমাজ রাষ্ট্রে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন তাদেরকে বিজয় করতে হবে। ইনশাআল্লাহ আগামী নির্বাচনে কোন পেশী শক্তি অথবা দুষ্কৃতিকারীরা যোগ্য প্রার্থীদের বিজয় ঠেকাতে পারবে না। শ্রমজীবী মানুষরা প্রতিটা ভোটকেন্দ্রে প্রহরীর ভূমিকা পালন করে যোগ্য প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করবে।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সহ সভাপতি মকবুল আহমদ ভুঁইয়া, বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়ীজ লীগের কার্যকরী সভাপতি সেলিম পাটোয়ারী, ফেডারেশন মহানগর ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, হালকা মোটরযান সেক্টরের সভাপতি কামাল উদ্দিন, সিএনজি সেক্টর উত্তরের সভাপতি মোঃ বশির, শ্রমিক নেতা জাহাঙ্গীর, মাসুদ রানা ও রতন মিয়া প্রমুখ ‌

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে শেষ সময়ে ঘরমুখো মানুষের স্রোত, রেল ষ্টেশন-টার্মিনালে উপচেপড়া ভিড়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঈদের সাতদিনের ছুটিকে কেন্দ্র পরিবার পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ বাগাভাগি করতে বন্দরনগরী ছেড়ে যাচ্ছে মানুষ। মহানগরের বাস টার্মিনালগুলো ও রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখ পড়ার মতো। বুধবার ভোর থেকেই চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। যথাসময়ে ছেড়ে যাচ্ছে একের পর এক ট্রেন। এছাড়া ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে বাস টার্মিনালেও ভিড় করেন যাত্রীরা।

পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারছেন বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এদিকে চট্টগ্রাম অনেকটা ফাঁকা হতে শুরু করেছে। নগরের বিভিন্ন ব্যস্ত রাস্তায় নেই আগের চিরচেনা যানজটের দৃশ্য। যানজটহীন স্বস্তিতে গাড়ি নিয়ে ঘুরছেন নগরবাসী।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) শেখ মো. সেলিম বলেন, এখানে নিরাপত্তার কোনও শঙ্কা নেই। পুলিশের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রার জন্য। প্রয়োজনীয় যা যা ব্যবস্থা করা দরকার তা নেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনেও পুলিশ কাজ করছে। যাত্রীদের ভাড়ার বিষয়েও আমরা তদারকি করছি।

বুধবার মহানগরের কদমতলী, বহদ্দারহাট ও নতুন ব্রিজ জিইসি বাস কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীর চাপ বেশি। টিকিট পাচ্ছেন না অনেকে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা পর সকালে ছেড়ে যাওয়া ফিরতি গাড়ি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন কেউ কেউ। যাত্রীর চাপের তুলনায় বাস টার্মিনালে গাড়ির সংকট দেখা গেছে। তবে কাউন্টার বসে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, যে গাড়িগুলো গেছে সেগুলো ফিরে এলেই এই টিকিটের সংকট থাকবে না। যাত্রীর তুলনায় গাড়ি কম।
চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে যাত্রীরা বলছেন, কোনও ভোগান্তি নেই। তারা নির্বিঘ্নে যথাসময়ে ট্রেনে উঠছেন এবং ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। এছাড়াও কিছু কিছু ট্রেনে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে যাত্রীরা যেতে পারছেন। সকালে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন। অন্য ট্রেনগুলোও যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। তাই স্টেশনে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। দূরপাল্লার যানবাহনের পাশাপাশি মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও খোলা ট্রাকে কম ভাড়ায় গন্তব্যে যাচ্ছে লোকজন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে বিআরটিএ’র সতর্ক সংকেত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে সতর্ক সংকেত হিসেবে লাল পতাকা স্থাপন করেছে। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি বাঁকে উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে এসব পতাকা বসানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরে এসব বাঁকে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গত বছরের ঈদুল ফিতরের দিন সকালে লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কয়েকজন নিহত হন। এরপর থেকেই বাঁকগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি ওঠে।

মহাসড়কে চলাচলকারী কয়েকজন বাস চালক জানান, রাতে বা কুয়াশার সময় হঠাৎ বাঁক সামনে চলে আসায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। নতুন করে লাল পতাকা বসানোয় আগেভাগেই সতর্ক হওয়া সহজ হবে।তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অস্থায়ী পতাকা নয়-স্থায়ী সাইনবোর্ড, গতিসীমা নির্দেশনা, রিফ্লেক্টর ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিআরটিএর তালিকা অনুযায়ী, যেসব স্থানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে লোহাগাড়ার চুনতির শেষ সীমানায় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সংলগ্ন বাঁক, লোহাগাড়া–চুনতির জাঙ্গালিয়া বাঁক, চুনতির ডেপুটি বাজারের আগে ও পরের বাঁক, চুনতি ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকা, লোহাগাড়া রাজাঘাটা, সাতকানিয়ার মিঠা দীঘি, চন্দনাইশের খানহাট পুকুর এবং পটিয়ার পাইরুল মাজারসংলগ্ন বাঁক।

বিআরটিএ চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথুয়াইনু চৌধুরী বলেন, ঈদের সময় এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে আগাম সতর্কতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিআরটিএর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি বাঁকের উভয় পাশে পাঁচটি করে মোট ১০টি লাল পতাকা বসানো হয়েছে। ফলে দূর থেকেই চালকেরা বিপজ্জনক বাঁক সম্পর্কে সতর্ক হতে পারবেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ