আজঃ রবিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

নেত্রকোণায় ব্রি ধান১১০-এর বাম্পার ফলন

মোঃ নূর উদ্দিন মন্ডল দুলাল নেত্রকোণা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোণার কলমান্দায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) কর্তৃক উদ্ভাবিত ধানের নতুন জাত ব্রি ধান১১০-এর শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (০১ নভেম্বর ২০২৫) সকালে নতুন ০৬ টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি) প্রকল্পের অর্থায়নে ও ব্রি, আঞ্চলিক কার্যালয়, নেত্রকোণার আয়োজনে উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের কেবলপুর গ্রামে কৃষক মোখশেদ আলীর আঙিনায় উক্ত মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।

ব্রি, নেত্রকোণার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং প্রধান মোঃ খালিদ হাসান তারেক-এর সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের প্রণয়ণকারী ও পরিচালক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন। সভার সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, নেত্রকোণার উপপরিচালক মোঃ আমিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম, এলএসটিডি প্রকল্পের বিজ্ঞানী মোঃ খালিদ হাসান সৌরভ, মোঃ রবিন ইসলাম সহ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভুঁইয়া প্রমুখ। এছাড়াও ব্রি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় শতাধিক কৃষক-কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে উপস্থিত অতিথি ও কৃষক-কৃষাণীদের নিয়ে শস্য কর্তন অনুষ্ঠিত হয়। পরে তা মাড়াই করে উপস্থিতির সামনে পরিমাপ করে বিঘাপ্রতি ২২-২২.৫ মণ ফলন পাওয়া যায়। ফলনে ব্যাপক উচ্ছাস প্রকাশ করেন কৃষকগণ।

উল্লেখ্য, ব্রি ধান১১০ ও ব্রি ধান৫১ আকস্মিক বন্যা সহিষ্ণু জাত। উক্ত অঞ্চল সীমান্তবর্তী হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে আকস্মিক বন্যায় কৃষকগণ যখন নতুন জাতের প্রত্যাশায় ছিলেন, তখন ব্রি, নেত্রকোণার প্রধান মোঃ খালিদ হাসান তারেক এই অঞ্চলে বন্যা সহিষ্ণু জাতসমূহের প্রাযোগিক পরীক্ষণ স্থাপন করেন। মূলত দ্বিফসলি উক্ত ফসলের মাঠকে ত্রিফসলিতে রুপান্তর করতে স্বল্পমেয়য়াদি িএ জাত স্থাপন করেন তিনি। পরে স্বল্প মেয়াদি সরিষা চাষের পর পুণরায় বোরো ধান রোপণে উপযোগী করতেই ব্রি, নেত্রকোণার এ প্রয়াস।
উপকারভোগী কৃষক মোখশেদ জানিয়েছেন, আমি ধান গবেষণার প্রতি কৃতজ্ঞ। বন্যায় আমার জমি ১০ দিন ডুবে থাকার পরও কাঠা প্রতি (৮ শতাংশ) ৫.৫ মণ ফলন পেয়েছি, যা বোরো মৌসুমেও সাধারণত পাওয়া যায়না। আমি উক্ত জমির সকল ধান বীজ ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করব। স্থানীয় কৃষকরা যাতে আর আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেজন্য বীজ তাদেরকে সরবরাহ করব।

বিজ্ঞানী ড. আনোয়ার হোসেন জানান, এলএসটিডি প্রকল্পের উদ্দেশ্যই হলো স্থানীয় আবহাওয়া, মাটির ধরণ ও জলবায়ুর সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং তা মাঠ পর্যায়ে এর প্রচলন করা। এরই ধারাবাহিকতায় এবারই প্রথম আমন মৌসুমে কলমান্দার মতো সীমান্ত অঞ্চলে এমন নতুন একটি জাতের প্রযুক্তি স্থাপন করা হয়েছে। কৃষকের সাফল্যে আমরা বিজ্ঞানীরাও আনন্দিত।
পরে বিকেলে প্রকল্প অফিস পরিদর্শন শেষে জেলা শহরের ছোটগাড়ায় ব্রি ধান৮৭ জাতের একটি মাঠ দিবস ও শস্য কর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেন পিডি ড. আনোয়ার হোসেন। কার্যালয়ের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি এবং এ ধারা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাবনাবাসী শিমুল বিশ্বাস কে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাবনা জেলা সদর থেকে কাউ কে মন্ত্রী করা হয়নি। মন্ত্রী করা হয়েছে জেলা সদরের বাইরে। এবার পাবনা সদর-৫ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। মন্ত্রী হওয়ার সব যোগ্যতাই তার আছে। তিনি সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী এবং বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান ছিলেন। এসব দায়িত্ব পালন কালে সততা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। স্বাধীনতার পর থেকে লাভের মুখ না দেখা বিআইডব্লিউটিসিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত করেছিলেন।

মন্ত্রী, এমপি না হয়েও পাবনার উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। এবি ট্রাস্ট গঠন করে অসংখ্য মসজিদ, হাফেজ মাদ্রাসা, উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করে দিয়েছেন। বেকারদের চাকরীর ব্যবস্থা করেছেন। মহৎ মনের এই মানুষটি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।সাবেক এমপি মোঃ ওয়াজ উদ্দিন খান এবং শাজাহান খানের অবর্তমানে তিনিই এখন এই সংগঠনটির মু্খ্য দায়িত্ব পালন করেন। এমন একজন ব্যক্তি বিএনপি সরকারের মন্ত্রী পরিষদে থাকলে শ্রমিক আন্দোলনের সময় কাজে লাগতে পারে বলে মনে করেন বিজ্ঞ জনেরা। তাই পাবনা জেলাবাসী শিমুল বিশ্বাসকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান।

চট্টগ্রামে বোধনের বসন্ত বন্দনা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শীতকে আনুষ্ঠানিক বিদায় দিয়ে ভালোবাসার দিনে ফাল্গুনী সমীরণ, পাতাঝরা পলাশ আর শিমুলের ডালে ডালে যে রঙ লেগেছে, তাকে বরণ করতে দেশের পুরোধা সংগঠন বোধন আবৃত্তি পরিষদ, চট্টগ্রাম আয়োজন করেছে বসন্ত উৎসব- ১৪৩২। শনিবার পহেলা ফাল্গুন নগরের পাহাড়তলীর শহীদ ওয়াসিম পার্কে উৎসবের আঙিনায় ছিল সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, ঢোলবাদন, কথামালা, শোভাযাত্রা, যন্ত্রসংগীতসহ নানা আয়োজন।

সকাল ৯টায় ভায়োলিনিস্ট চিটাগাং এর যন্ত্রসংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বসন্ত উৎসবের আয়োজন। বসন্তের হাওয়ায় দলীয় নৃত্যে অংশ নেন নৃত্যরূপ, সুরাঙ্গন বিদ্যাপীঠ, দ্যা স্কুল অব ক্লাসিক্যাল অ্যান্ড ফোক ডান্স, নৃত্য নিকেতন, মাধুরী ডান্স একাডেমির শিল্পীরা।গানে গানে দলীয় সংগীতে বসন্তকে স্বাগত জানান সুর পঞ্চম, আর কে মিউজিক, বাগেশ্বরী। একক গান পরিবেশন করেন কেশব জীপসী, ঋষু তালুকদার, চন্দ্রিমা ভৌমিক রাত্রি, কান্তা দে, সুমিতা সরকার, রিনা দাশ, মনি আচার্য্য। তবলা লহড়ায় ছিলেন উঠান সংগীত বিদ্যালয়। একক আবৃত্তি করেন কংকন দাশ, মিশফাক রাসেল, দেবাশীষ রুদ্র।ঢোলবাদনে ছিলেন দীপক ও তার দল।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যভাগে হয় বসন্তকথন পর্ব। এতে অংশ নেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বোধনের সহ-সভাপতি সুবর্ণা চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল সোহেল, অর্থ সম্পাদক অনুপম শীল।

মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও শোষণহীন সমাজ গঠনের জন্য বাঙালির এসব উৎসব-পার্বণগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, সারা বছরের নানান বঞ্চনা, নানান টানাপোড়েনের গ্লানি মুছে যায় এই বসন্তে।এই ফাগুনেই রক্তে রঞ্জিত হয়েছে বাংলার রাজপথ। বুকের রক্তে বাঙালি রক্ষা করেছে মাতৃভাষার মর্যাদা। পরে একক ও দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করেন বোধন আবৃত্তি পরিষদের আবৃত্তিশিল্পীরা। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন গৌতম চৌধুরী, পলি ঘোষ, শ্রেয়সী স্রোতস্বীনি, ঋত্বিকা নন্দী, পল্লব গুপ্ত। অনুষ্ঠান শেষে বসন্ত বরণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।

আলোচিত খবর

নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারত, চীন, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে চীনের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ভারত-পাকিস্তানসহ ১৩ দেশকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিতে যাচ্ছে নতুন সরকার।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ