আজঃ বৃহস্পতিবার ১৪ মে, ২০২৬

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দাবিদাওয়ার ঝড়, কিন্তু নীরব প্রবাসীরা

মোহাম্মদ আরমান চৌধুরী আরব আমিরাত প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশের রাজপথ দাবিদাওয়ার ঝড়ে সরব। সরকারি কর্মকর্তা থেকে শিক্ষক, চিকিৎসক থেকে শ্রমিক—সবাই নিজ নিজ দাবি তুলে ধরছেন সরকারের কাছে।

তবে এই আন্দোলনের স্রোতের বাইরে রয়েছেন দেশের এক বিশাল জনগোষ্ঠী—প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হয়েও তারা এখন পর্যন্ত কোনো দাবি আদায়ে রাস্তায় নামেননি, কিংবা বিদেশে থেকেও কোনো সংগঠিত প্রতিবাদ জানাননি।

দেশে প্রতিদিনই নতুন নতুন দাবির ব্যানারে মিছিল-মিটিং দেখা যাচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবীরা বেতন সমন্বয়ের দাবি তুলেছেন। শিক্ষার্থীরা নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা চাচ্ছেন। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষকরা বেতন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর আহ্বান সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ প্রতিনিয়ত দাবি জানাচ্ছেন। কিন্তু প্রবাসীদের মধ্যে তেমন কোনো সাড়া নেই। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা, কিংবা পূর্ব এশিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে দাবি আদায়ের আন্দোলন বা সংগঠিত বক্তব্য এখনও অনুপস্থিত।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই নীরবতার পেছনে রয়েছে একাধিক বাস্তব কারণ।

১. ভৌগোলিক দূরত্ব ও আইনি বাধা:
বিদেশের মাটিতে অবস্থানরত শ্রমিক বা চাকরিজীবীরা স্থানীয় আইনের কারণে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারেন না।
২. অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা:

অনেকে আশঙ্কা করেন, কোনো প্রকার রাজনৈতিক বক্তব্য বা প্রতিবাদ তাদের চাকরি বা ভিসার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৩. সংগঠনের সীমাবদ্ধতা: যেসব প্রবাসী সংগঠন আছে, তাদের বেশিরভাগই সামাজিক বা কল্যাণমূলক কাজে সীমাবদ্ধ—দাবি আদায়ে তাদের ভূমিকা দুর্বল।

৪. দেশীয় রাজনীতিতে আস্থাহীনতা: প্রবাসীদের একটি বড় অংশ মনে করেন, সরকার বদলায় কিন্তু নীতি বদলায় না—তাই আন্দোলনে অংশ নেওয়াকে তারা সময়ের অপচয় ভাবেন।

তবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দীর্ঘদিন থেকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে বিমান টিকিটের মূল্যহ্রাস, রেমিট্যান্স পাঠানোর পদ্ধতি নিরাপদ ও সহজিকরণ, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সেবার মানোন্নয়ন, দেশে বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে কর-ছাড় ও প্রণোদনা, কর্মস্থলে দুর্ঘটনা বা মৃত্যুর পর ক্ষতিপূরণের কার্যকর ব্যবস্থা, বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের কর্মসংস্থান ব্যবস্থা ও পেনশন সুবিধার আওতায় আনা, দেশে প্রবাসী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তায় বিশেষ আইনের ব্যবস্থা করা এবং এয়ারপোর্টে হয়রানি বন্ধ সহ বিভিন্ন দাবিদাওয়া জানিয়ে আসছেন। তবে এসব এখনো আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ; কোনো বাস্তব রূপ নেয়নি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দ্বায়িত্ব নেয়ার পর একজন উপদেষ্টা বলেন, “প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির প্রাণ। তাদের সমস্যা ও দাবি নিয়ে আলাদা একটি টাস্কফোর্স গঠনের চিন্তা চলছে। তবে প্রবাসী সমাজ মনে করে, আগেও অনেক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তা ফলপ্রসূ হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। এই বিপুল অঙ্কের রেমিট্যান্সই দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভকে টিকিয়ে রেখেছে।

বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবাসীরা যদি সংগঠিতভাবে তাদের নীতিগত দাবি তুলে ধরতে পারতেন, তবে শুধু তাদের কল্যাণ নয়, দেশের অর্থনীতিও আরও সুসংহত হতে পারত। দেশের রাজনীতিতে যখন নতুন রূপান্তরের সময় চলছে, তখন প্রবাসী সমাজের এই নীরবতাই একদিন নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। তারা হয়তো এখন আন্দোলনে নেই, কিন্তু তাদের রেমিট্যান্সই প্রতিদিন দেশের চাকা ঘোরাচ্ছে—নীরবে, নিয়মিতভাবে, অবিরাম। এটা ভূলে গেলে চলবেনা। প্রবাসীদের সমস্যা সম্ভাবনা নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের অবশ্যই ভেবে দেখা উচিৎ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করলেন বোয়ালখালীর কৃতি সন্তান খাদিজা তুন সুহা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কৃতি সন্তান ও মেধাবী শিক্ষার্থী খাদিজা তুন সুহা যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য Michigan Technological University থেকে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ২৪ এপ্রিল ২০২৬ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে এ ডিগ্রি তুলে দেওয়া হয়।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুহার এই গৌরবময় মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে সুদূর দুবাই থেকে তার পিতা-মাতা উপস্থিত ছিলেন। মেয়ের এমন সাফল্যে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।

খাদিজা তুন সুহা দুবাই প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মাল্টিনেট ট্রাস্ট এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. খোরশেদুল আলম এবং আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক রোখসানা বেগমের কন্যা।
জানা যায়, খাদিজা তুন সুহার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব গোমদন্ডী এলাকার মীরপাড়া বাসির মুন্সির বাড়িতে। তিনি বোয়ালখালী থানা বিএনপি নেতা শওকত আলমের ভাতিজি।

মেয়ের এ অসাধারণ অর্জনে ড. খোরশেদুল আলম ও রোখসানা বেগম মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং সকলের কাছে তাদের মেয়ের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও আরও সাফল্যের জন্য দোয়া কামনা করেছেন।

ভারতীয় নৌ জাহাজ ‘আইওএস সাগর’ পৌঁছেছে চট্টগ্রাম বন্দরে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ ‘আইওএস সাগর’ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে। শুক্রবার সামুদ্রিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক সমন্বয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায় জাহাজটি। বহুজাতিক নৌ মোতায়েন কর্মসূচি ‘আইওএস সাগর ২০২৬’-এর অংশ হিসেবে এই সফরকে ভারতীয় নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর জাহাজটিকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বিএনএস আলী হায়দার (এফ১৭)’ অভ্যর্থনা জানিয়ে বন্দরে নিয়ে আসে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার, নৌবহর কমান্ডার এবং ডকইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন আইওএস সাগরের অধিনায়ক। এসব বৈঠকের মাধ্যমে দুই নৌবাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সফরসূচির অংশ হিসেবে নানা ধরনের কর্মসূচি রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ একটি আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার আয়োজন করবে।পাশাপাশি আইওএস সাগরের পক্ষ থেকেও একটি ডেক রিসেপশনের আয়োজন করা হবে, যেখানে দুই দেশের নৌ সদস্যরা অংশ নেবেন।

স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানাতে চট্টগ্রামের কমনওয়েলথ ওয়ার সেমেট্রিতে একটি পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এতে যৌথ ইতিহাস ও আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানানো হবে। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকে সামুদ্রিক লজিস্টিকস ও বন্দর নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা হবে।পরবর্তীতে উভয় পক্ষের নৌ সদস্যদের মধ্যে পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় ও জাহাজ পরিদর্শন কর্মসূচিও থাকবে।প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে আইওএস সাগরের নৌ সদস্যরা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও নৌ একাডেমি পরিদর্শন করবেন। এতে দুই দেশের নৌ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার পারস্পরিক ধারণা আরো গভীর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সফরের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে উভয় নৌবাহিনীর মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের কথাও রয়েছে, যা দুই বাহিনীর মধ্যে সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে। চট্টগ্রাম সফরকে ভারত সরকারের ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ নীতির অংশ এবং আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা জোরদারের একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আলোচিত খবর

চট্টগ্রাম কাস্টমসে নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেয়া ২২০ কন্টেইনার পণ্য বিক্রি হবে নিলামে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া ২২০ টি কন্টেইনার নিলামে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের জট নিরসনে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। সর্বমোট ১৩৭টি লটে ২২০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে। বিশেষ করে আমদানির পর নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া এসব কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে।এই নিলাম প্রক্রিয়া অনলাইনে (ই-অকশন) সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, পুরো মে মাস জুড়ে দরদাতাদের জন্য সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ দরদাতাদের পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ এর শর্তাবলী মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরকে কন্টেইনার জটমুক্ত করতে এবং ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নিলাম কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, আমদানিকৃত এসব পণ্য মাসের পর মাস বন্দরে পড়ে থাকায় একদিকে যেমন বন্দরের জায়গা দখল হয়ে আছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আটকে রয়েছে। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সক্ষমতা কমছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে মে মাসে দুই ধাপে এই ই-অকশন অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ আদেশ অনুসারে ‘ই-অকশন-৪/২০২৬’-এর আওতায় ১২০টি লটে ১৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে।
এই তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল, মেশিনারিজ, কাগজ, কাপড় (ফেব্রিক্স), গৃহস্থালির সামগ্রী এবং এসি পার্টস। বিশেষ বিষয় হলো, এই পণ্যগুলোর নিলামে কোনো সংরক্ষিত মূল্য থাকছে না। এই ধাপের দরপত্র আগামী ৯ জুন সকাল ১১টায় খোলা হবে। অন্যদিকে, স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী ‘ই-অকশন-৫/২০২৬’-এর আওতায় ১৭টি লটে আরও ৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে।

এর মধ্যে রয়েছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, প্যাসেঞ্জার এলিভেটর, স্টিল স্ক্র্যাপ, গাড়ি এবং লবণ। এই ধাপের দরপত্র আগামী ১৪ মে দুপুর ৩টায় উন্মুক্ত করা হবে। নিলাম প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে। আগ্রহী ক্রেতারা ঘরে বসেই বাংলাদেশ কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে দরপত্র দাখিল করতে পারবে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ