রাউজানে সরকারি রাস্তার ওপর ভবন নির্মাণের অভিযোগ: প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি স্থানীয়দের

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম গুজরা এলাকায় সরকারি রাস্তার ওপর অনুমোদনবিহীন নকশায় বহির্ভূত ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক পরিবারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, জাল কাগজপত্র তৈরি করে সরকারি রাস্তার ওপর ভবন নির্মাণ করে স্থানীয় জনসাধারণের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় জনসাধারণ ভবনটি ভেঙে রাস্তা উন্মুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাফর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন। জেলা প্রশাসক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাউজানের নোয়াপাড়া পশ্চিম গুজরার আহমদুর রহমানের বাড়ির আলাউদ্দিনের পুত্র নুরুল ইসলাম ও তার পুত্ররা— মো. জাহেদুল ইসলাম, মো. শাহেদুল ইসলাম, নিজামুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম— যৌথভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারি রাস্তা বন্দোবস্তে নিয়ে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করে আসছেন।

তবে সরকারি নথি অনুযায়ী, উক্ত জায়গাটি পশ্চিম গুজরা এলাকার মৃত আছদ আলীর পুত্র হাজী আকাম উদ্দিন বন্দোবস্ত মামলা মূলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বৈধভাবে বন্দোবস্তে নিয়েছিলেন। এটি মূলত সরকার ঘোষিত জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা হওয়ায় তিনি জীবদ্দশায় রাস্তা দখল না করে সাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রেখেছিলেন।

১৯৯৭ সালের ২ মার্চ আকাম উদ্দিন নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে জায়গাটির কোনো ওয়ারিশ না থাকায় তা স্থানীয় জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত সরকারি রাস্তা হিসেবেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

অভিযোগ রয়েছে, দুই বছর আগে নুরুল ইসলাম নিজেকে মৃত আকাম উদ্দিনের পালকপুত্র দাবি করে উক্ত জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ শুরু করেন। স্থানীয়রা রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নির্মাণ বন্ধের অনুরোধ করলেও তিনি তা অগ্রাহ্য করে জোরপূর্বক দুই তলা ভবন নির্মাণ করেন এবং এখনও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় মো. জাফর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (উত্তর), চট্টগ্রামে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৭ ধারায় মামলা (নং-৭২/২০২৫, রাউজান) দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী এস.এম. ছানাউল করিম তদন্ত পরিচালনা করে ২৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উক্ত তফসীলোক্ত জায়গাটি সত্যিই আকাম উদ্দিন বন্দোবস্তে নিয়েছিলেন, তবে নুরুল ইসলাম তার কোনো ওয়ারিশ নন। আর.এস. ও পি.এস. রেকর্ড অনুযায়ী জায়গাটি “রাস্তা” শ্রেণিভুক্ত সরকারি সম্পত্তি। সুতরাং ব্যক্তিগত মালিকানা দাবি করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ আইনত অপরাধ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, “তফসীলোক্ত জায়গাটি আর.এস. ও পি.এস. জরিপ অনুযায়ী সরকারিকৃত রাস্তা হিসেবে চিহ্নিত। উক্ত জায়গায় নির্মাণাধীন ভবন আইনগতভাবে অননুমোদিত, যা চলাচল ব্যাহত করছে। অতএব, বন্দোবস্ত বাতিল করে ভবন উচ্ছেদপূর্বক জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভবন নির্মাণের কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী, মসজিদ ও মাদরাসামুখী মুসল্লি এবং সাধারণ পথচারীরা বাধ্য হচ্ছেন বিকল্প পথে চলাচল করতে।

এ প্রসঙ্গে এলাকার সচেতন মহল বলছেন, “রাস্তাঘাটের ওপর ব্যক্তিগত দখল বন্ধ করতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। রাস্তা জনগণের সম্পদ— একে কেউ ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে না।”

তারা আরও বলেন, “প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপে উক্ত রাস্তা দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। সকলের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাস্তা যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে না থাকে, সে বিষয়ে স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।”

সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, সরকারি রাস্তার ওপর কোনো স্থাপনা নির্মাণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন— দ্রুত তদন্ত সমাপ্ত করে ভবনটি উচ্ছেদ, রাস্তা দখলমুক্ত করা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

চলাচলের জন্য উন্মুক্ত সরকারি রাস্তা সকলের মৌলিক অধিকার— এই অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এখন প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছে রাউজানবাসী।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আগামী মাসে যুক্ত হচ্ছে আরও ১টি আন্তঃনগর ট্রেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম: ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেনে যাতায়াতের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এ কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই রুটে আগামী মাসে আরও একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করা মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মাসের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে নতুন রুটে ট্রেনটি চলাচল শুরু করতে পারে। বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে দুই জোড়া এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে দুই জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছে।

এদিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেনগুলোর মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বর্তমানে দুই জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করলেও একটি মাত্র রেক দিয়ে চারটি ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে প্রায়ই সময়সূচিতে বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সুজিত বিশ্বাস বলেন, কক্সবাজার রুটে বিপুল যাত্রীর চাহিদা রয়েছে। এ কারণে মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত চালানোর প্রস্তুতি চলছে। এতে যাত্রীরা আরও স্বস্তি ও নিরাপদে পর্যটন শহরে যাতায়াত করতে পারবেন। একই সঙ্গে রেলওয়ের আয়ও বাড়বে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকার কমলাপুর থেকে রাত সাড়ে ৮টায় ছেড়ে সকাল ৬টার দিকে কক্সবাজার পৌঁছাতে পারে। ফিরতি ট্রেনটি সকাল ৯টায় কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। একদিকে যেতে সময় লাগতে পারে প্রায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা। বর্তমানে মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকার কমলাপুর থেকে রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। পথে বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী ও কুমিরাসহ বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতি রয়েছে। কক্সবাজার পর্যন্ত রুট বাড়ানো হলে এসব এলাকার যাত্রীরাও সরাসরি পর্যটন নগরীতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।তবে রুট সম্প্রসারণের আগে কক্সবাজারে ট্রেনটির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নতুন রুটে চলাচলের সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতাগুলো পর্যালোচনা করছে রেলওয়ে।

ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা চুক্তি বন্ধসহ চার দাবিতে আলটিমেটাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চার দাবিতে দুই দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এসব দাবির মধ্যে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা দেওয়ার চুক্তির সব কার্যক্রম বন্ধের দাবি রয়েছে।

দাবি না মানলে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল তিনটায় নিমতলা বিশ্বরোড থেকে ওয়ানস্টপ পর্যন্ত মানববন্ধন এবং রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল তিনটায় ফকির হাট ৩ নম্বর গেট থেকে ওয়ানস্টপ পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল বের করা হবে বলে জানানো হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর ঘোষিত অন্য দাবিগুলো হচ্ছে- বিগত আন্দোলনে চট্টগ্রাম বন্দরের নেতৃবৃন্দসহ ১৫ কর্মচারীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা

প্রত্যাহার, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় থেকে এখনো পর্যন্ত বন্দরে কর্মরত যে সব কর্মকর্তা এনসিটিকে বহুজাতিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তি প্রক্রিয়ার জড়িতদের অপসারণ এবং পরিকল্পিতভাকে দীর্ঘদিন ধরে জনবল নিয়োগ বন্ধ রেখে বন্দরের চলমান অপারেশনাল কার্যক্রম স্থবির করে বে-সরকারিকরণ প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে সব শূন্যপদে জনবল নিযোগ করে অপারেশন কার্যক্রম গতিশীল করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে চট্টগ্রাম কন্দরকে আধুনিক বন্দরে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্কপের নেতা ইফতেখার কামাল, হুমায়ুন কবির (নিমতলা), মোজাহের হোসেন শওকত, মার্চেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হারুনুর রশীদ, ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, স্টাফ ইউনিয়নের মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ, উইন্সম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন খোকন প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে যুগ্ম সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ২০১৭ সাল থেকে দেশের স্বার্থ বিবেচনা না করে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেয়ার পাঁয়তারা করে আসছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ছাত্র জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিজমের পতন হলে ড. ইউনূসের অন্তবর্তীকালীন সরকার এই কার্যক্রমকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে।দেশের মানুষ মনে করেছিল শত শত ছাত্র জনতার রক্তের সিঁড়ি বেয়ে গঠিত ড. ইউনূসের অন্তবর্তীকালীন সরকার দেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থের কথা চিন্তা করে এই চুক্তি না করে উক্ত কার্যক্রমের যবনিকা টানবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে

তৎকালীন অন্তবর্তীকালীন সরকারের ২/১ জন উপদেষ্টা নিজেদের স্বার্থ বিবেচনায় দেশ এবং দেশের সার্বভৌমত্বের বিষয়টি চিন্তা না করে বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চুক্তির প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন করেই ফেলেছিল।
ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার ও অন্তবর্তীকালীন সরকারের দেশের স্বার্থ বিরোধী এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে তৎকালীন সময়ে আমরা চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের নেতৃত্বাধীন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ, সর্বদলীয় শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) সহ সারা বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী, ছাত্র সংগঠন, পেশাজীবী ও শ্রমজীবি মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলে তৎকালীন আন্তবর্তী কালীন সরকার উল্লেখিত চুক্তি থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়।

অতি সম্প্রতি চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে বলেছেন, যে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিকে বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে পরিচালনার সুযোগ না দিলে অবুধাবিতে কর্মরত ২৩ লাখ শ্রমিককে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেবে, তার এই বক্তব্য একদিকে যেমন বিদেশিদের এ কাজে উৎসাহিত করবে অন্যদিকে তার বক্তব্য রাষ্ট্রবিরোধী কাজ মনে করি। আমরা তার এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

তিনি আরও বলেছেন, এনসিটির যন্ত্রপাতি অকেজো। ইকুইপমেন্ট এভেইলেবেলিটি আন্তর্জাতিক মান দন্ডের নিচে অর্থাৎ ৭০ শতাংশে নেমে এসেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের আভ্যন্তরীণ নথিপত্র, ক্রেন ক্রয়ের বিবরণী এবং সামুদ্রিক লজিস্টিক বিশেষজ্ঞদের নিখুঁত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই দাবি সম্পূর্ণ কাল্পনিক, উদ্দেশ্য প্রণোদিত, এবং বহুজাতিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ড এর হাতে এনসিটিকে তুলে দেওয়ার অতি উৎসাহী আচরণ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বহুজাতিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হলে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের আধিপত্য আমাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশে কখনো রাজনৈতিক আস্থিরতা সৃষ্টি হলে সে সময় দেশের একমাত্র আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে অর্থনীতিসহ সাপ্লাই চেইন বাধাগ্রস্ত করে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

আমরা বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীরা মনে করি বহুজাতিক কোম্পানী ডিপি ওয়ার্ল্ড এর সঙ্গে কনসেশন চুক্তি করা হলে দেশ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে। দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এনসিটি হতে অর্জিত টাকা বিদেশে চলে যাবে, দেশ অর্থনৈতিক মুদ্রার সংকটের মুখে পড়বে। চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মচারীরা কর্ম হারাবে এবং কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে। দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে দেশের একমাত্র সমুদ্র বন্দর রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হবে। বিগত ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি এর মাধ্যমে অর্জিত আয় ৪৫০০ কোটি টাকা এবং নিট আয় ২৫০০ কোটি টাকা। এই আয় থেকে সরকার ২৫ শতাংশ কর্পোরেট ট্যাক্স বাবদ পেয়েছে ৬৫০ কোটি টাকা এবং ভ্যাট পেয়েছে ৬৫০ কোটি টাকা প্রায়। বহুজাতিক

কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দিলে সরকার উক্ত আয় থেকে বঞ্চিত হবে, দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাচার হয়ে যাবে এবং কনসেশন চুক্তির কারণে এনসিটিতে বিপজ্জনক পণ্য খালাসেরও আশংকা রয়েছে।নাগরিক ঐক্যের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক স্বপন মজুমদার বলেন, এনসিটি বন্দরের লাভজনক স্থাপনা। এটি ইজারা দেওয়ার দরকার নেই। বিগত সরকারের আমলের একটি আন্তর্জাতিক চক্র কাজ করছে ইজারা দিতে। শুধু মুনাফা উন্নয়ন নয়।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ