আজঃ শুক্রবার ১৩ মার্চ, ২০২৬

রায়পুরায় নির্বাচনপূর্ব শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় চরাঞ্চলে কেন্দ্র পরিদর্শক!

সাদ্দাম উদ্দিন রাজ নরসিংদী জেলা--

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে প্রশাসনের নজরদারি ও তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের একটি টিম মেঘনা নদীপথে স্পিডবোটযোগে উপজেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন-বাশগাড়ী, মির্জারচর ও চরমধুয়া এলাকায় আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা।তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুরা সার্কেল) বায়েজিদ বিন মুনসুর, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আদিল মাহমুদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনমুন পাল এবং উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা।

অভিযানকালে তারা মির্জাচর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম পরিদর্শন, চরাঞ্চলের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘুরে দেখা ও স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় চরমধুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে কেন্দ্রের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন। একই দিন মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের সতর্ক করা হয় এবং ভবিষ্যতে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইউএনও মো. মাসুদ রানা। তিনি বলেন, “মেঘনা নদীর রায়পুরা অংশে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে আমরা আজ অভিযান পরিচালনা করেছি। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে চরাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”

সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুরা সার্কেল) বায়েজিদ বিন মুনসুর বলেন, “নির্বাচনকালীন সহিংসতা রোধে প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে। থানার ওসি, তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক চলছে। অস্ত্র উদ্ধার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এই অভিযান চরাঞ্চলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছিল। প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে এখন স্বস্তি ও নিরাপত্তাবোধ ফিরে এসেছে।

উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে ও চলাকালীন সময়ে চরাঞ্চলের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিশেষ টহল ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। যে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি রোধে প্রশাসন থাকবে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

টাকা আত্মসাৎ করে হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার চট্টগ্রামে সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে এই চার্জগঠন করা হয়। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। এর আগে গত ৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিলেন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন বলেন, ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুদকের মামলায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আগামী ৫ এপ্রিল মামলা সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। ৮ জন আসামি হাজির ছিলেন।মামলার আসামিরা হলেন- সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ (৫৬), তার স্ত্রী ইউসিবিএল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান (৪৬), সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী (৪৬) ও রোকসানা জামান চৌধুরী (৫৬)।সাবেক পরিচালকদের মধ্যে আরও আছেন- বশির আহমেদ (৫৫), আফরোজা জামান (৪৮), সৈয়দ কামরুজ্জামান (৬১), মো. শাহ আলম (৬২), মো. জোনাইদ শফিক (৬৪), অপরূপ চৌধুরী (৬৫), তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান (৬৬), ইউনুছ আহমদ (৭৯), হাজী আবু কালাম (৭৯), নুরুল ইসলাম চৌধুরী (৬২) এবং সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর (৭৭) ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরী (৬৪)।ব্যাংকটির সাবেক

কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন- মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ (৫১), আবদুল হামিদ চৌধুরী (৫০), আবদুর রউফ চৌধুরী, জিয়াউল করিম খান (৪৬), মীর মেসবাহ উদ্দীন হোসাইন (৬২) ও বজল আহমেদ বাবুল (৫৬)। জাবেদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা হলেন- মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরী (৫১), মোহাম্মদ মিছবাহুল আলম (৫০), আব্দুল আজিজ (৩৯), মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (৫৪), মোহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী (৪৮), ইয়াছিনুর রহমান (৪৩), ইউছুফ চৌধুরী (৪৫) ও সাইফুল ইসলাম (৪৫),আরামিট গ্রুপের এজিএম উৎপল পাল (৫১), প্রদীপ কুমার বিশ্বাস (৫১), মো. জাহিদ (৪৫), মো. শহীদ (৪৯), মো. সুমন (৩৯), ইলিয়াস তালুকদার (৫০) ও ওসমান তালুকদার (৪৮)।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে নামসর্বস্ব ভিশন ট্রেডিং নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিয়ে ইউসিবিএল থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরবর্তীতে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ তার কর্মচারীদের মাধ্যমে সেই টাকা উত্তোলন করে হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে সম্পত্তি কিনে নেন। ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ৪(২) ও ৪ (৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন মর্মে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন। ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি করেছিলেন। মামলার ৩১ আসামির মধ্যে ২ জন মারা যাওয়ায় তাদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে সুপারিশ করেছেন।এরা হলেন- ইউসিবিএল’র সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল ও কাজী মোহাম্মদ দিলদার আলম নামে জাবেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী। বাকি ২৯ জনের সঙ্গে তদন্তে পাওয়া ৭ জনসহ মোট ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল দুদক। অভিযোগপত্রে ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

ভাঙ্গুড়ার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা অভিযান: জনস্বাস্থ্যে অগ্রণী ভূমিকা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ উন্নয়ন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেছেন পাবনা-০৩ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আলী আছগার। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও রোগী বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ উদ্দ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কেবল সৌন্দর্যের বিষয় নয়; এটি রোগ প্রতিরোধ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করার অন্যতম পূর্বশর্ত। জনগণের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আরও নিরাপদ, কার্যকর ও আস্থার জায়গায় পরিণত করতে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চালু রাখা প্রয়োজন।

এ সময় তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোছা. হালিমা খানমের সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম, চিকিৎসাসেবার মান, অবকাঠামোগত সুবিধা ও প্রয়োজনীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। সেবার মান আরও বাড়াতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও প্রদান করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গুরা উপজেলা আমীর বাংলাদেশ জামায়তে ইসলামী মাওলানা মহির উদ্দিন, নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান, ভাঙ্গুর ইউনিয়ন সভাপতি মাজহার নূর, যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি মো. আব্দুস সাদিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ কৌশিক, পৌর ৫ নম্বর ওয়ার্ড সেক্রেটারি আলহাজ মো. আবু বক্কর সিদ্দিক এবং যুব ও ক্রীড়া বিভাগের পৌর সহ-সভাপতি ডাঃ মোহাম্মদ বাকী বিল্লাহ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, টেকসই ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও জন প্রতিনিধিদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।

উল্লেখ্য, স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যসেবা আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ধারাবাহিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের ফলে রোগী ও তাদের স্বজনরা একটি স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসাসেবা পাবেন।

 

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ