আজঃ বৃহস্পতিবার ১৪ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামে এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগে গুলি : সন্ত্রাসী বাবলা নিহত

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশে এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগে গুলির ঘটনায় সারোয়ার হোসেন বাবলা নামে একজন নিহত হয়েছেন। বুধবার পাঁচলাইশ চালিতাতলী বাজার এলাকায় গণসংযোগের সময় এরশাদ উল্লাহর ওপর দুর্বৃত্তরা গুলিবর্ষণ করে। এতে এরশাদ উল্লাহর পায়ে ও সরোয়ার হোসেন বাবলা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতদের নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসক সরোয়ার হোসেন বাবলাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বিএনপি জানায়, চট্টগ্রাম-৮ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বুধবার চট্টগ্রামের হামজারবাগ এলাকায় গণসংযোগ চলাকালে দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায় এবং পায়ে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এরশাদ উল্লাহ বায়েজিদ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। এই সময় দুর্বৃত্তরা এসে গুলি করেছেন। এতে এরশাদ উল্লাহসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে কেন এই ঘটনা ঘটছে তা জানি না। এরশাদ উল্লাহকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এরশাদ উল্লাহ নির্বাচনী প্রচারণা করছিলেন বাযেজিদ বোস্তামী এলাকায়। এই সময় সরওয়ার বাবলা নামের একজনকে লক্ষ্য করে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এতে এরশাদ উল্লাহ, সরওয়ার বাবলাসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
এর আগে গত ৩০ মার্চ ভোর রাতে বাকলিয়া এক্সেস রোড চকবাজার থানার চন্দনপুরার মুখে প্রাইভেট কারে সারোয়ার বাবলাকে মর্ডারের উদ্দেশ্যে গুলি করা হলে এতে বখতেয়ার হোসেন মানিক ও মো. আব্দুল্লাহ নামে দুইজন নিহত হন। সেসময় ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পান সরোয়ার হোসেন বাবলা।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই রাতে নগরের অনন্যা আবাসিক এলাকা থেকে সহযোগী বাবুলসহ সারোয়ারকে গ্রেপ্তার করে চান্দগাঁও থানা পুলিশ। ২৮ জুলাই পুলিশ তার সাত দিনের রিমান্ড চাইলে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তার বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদা ও অস্ত্রবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় ১৯টি মামলা রয়েছে।

কে এই সরোয়ার : সরোয়ার ছিলেন চট্টগ্রামে আট ছাত্রলীগ নেতা খুনের অন্যতম আসামি সাজ্জাদ হোসেনের অন্যতম সহযোগী। পরে বিভিন্ন সময়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে আলাদা দল গড়েন সরোয়ার। তখন সাজ্জাদের ডান হাত হয়ে ওঠেন ছোট সাজ্জাদ ওরফে বুড়ির নাতি সাজ্জাদ। চট্টগ্রামে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে প্রায় দেড় দশক আগে আলোচনায় আসে সরোয়ার হোসন বাবলা ও তার বন্ধু নুরুন্নবী ম্যাক্সনের নাম। সে সময় তারা পরিচিত ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে। সাজ্জাদ চট্টগ্রামের আট খুনের মামলায় মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে বিদেশে পালিয়ে আছেন।২০১১ সালের জুলাইয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিঙ্গারবিল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন ম্যাক্সন। তার দেওয়া তথ্যে চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকা থেকে সরোয়ারকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তখন সরোয়ার-ম্যাক্সনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি একে-৪৭ রাইফেল, দুটি পিস্তল, একটি এলজি, একে-৪৭ রাইফেলের দুটি ম্যাগাজিন ও গুলি।২০১৭ সালে কারাগার থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে কাতারে চলে গিয়েছিলেন সরোয়ার ও ম্যাক্সন। সেখানে বসেই তারা দেশে চাঁদাবাজি চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ ছিল।

প্রায় তিন বছর কাতারে ছিলেন সরোয়ার। সেখানে মারামারির এক ঘটনায় পুলিশ তাকে আটক করে এক মাসের সাজা দেয়। সাজা শেষে সরোয়ারকে তারা দেশে পাঠিয়ে দিলে ২০২০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিমানবন্দরে পুলিশ তাকে আটক করে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের জানাজায় মানুষের ঢল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের জানাজা হয়েছে। নগরের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।পরে জয় বাংলা স্লোগানে তাকে বিদায় জানান দলীয় সমর্থক ও নেতাকর্মীরা।জানাজায় অংশ নেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সাবেক মেয়র ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, প্রয়াতের বড় ছেলে সাবেদুর রহমান সমুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি পেশার মানুষ। এর আগে মরদেহ জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে পৌঁছালে বর্ষীয়ান রাজনীতিককে একনজর দেখতে ও শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় কফিন।সাবেক এই মন্ত্রীর রাজনৈতিক জীবন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করে বক্তব্য দেন বিভিন্ন দলের নেতারা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, ‘সাবেক মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নে তিনি অনেক অবদান রেখেছেন। মিরসরাইয়ের সন্তান হলেও বৃহত্তর চট্টগ্রামের জন্য কাজ করে গেছেন।চট্টগ্রামের উন্নয়নে তাঁর অবদানের জন্য মানুষ তাঁকে স্মরণ করবেন।


উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান বলেন, ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা চিরদিন মনে রাখতে হবে। তিনি আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছেন। সারাজীবন তার সঙ্গে রাজনীতি করেছি।’সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘পাকিস্তান আমল থেকে উনার সাথে আমার স্মৃতি। চট্টগ্রামের উন্নয়নে অনেক উদ্যাোগ নিয়েছেন। তিনি কথা শুনতেন। চট্টগ্রামের ইতিহাসে মোশাররফ হোসেন এক অবিস্মরণীয় নাম হয়ে থাকবে।’

মোশাররফ হোসেনের সন্তান সাবেদুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন আইসিইউতে থাকার পর তিনি চলে গেছেন। উনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশের উন্নয়নে উনি কাজ করেছেন। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।’শ্রদ্ধা জানান সিপিবি নেতা মোহাম্মদ শাহ আলম, ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন গেরিলা বাহিনী, মীরসরাই অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।জানাজা অংশ নেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, সিপিবিসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা।

পরে মরদেহের কফিন অ্যাম্বুলেন্সে ওঠানোর পর হাজারো সহযোদ্ধা, রাজনৈতিক সহচর ও অনুসারীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। এ সময় ‘বীর চট্টলার মোশাররফ ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান শোনা যায়।নেতাকর্মীরা মরদেহবাহী গাড়ির সঙ্গে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠ থেকে বের হয়ে আসেন। এসময় পুলিশ সদস্যরা মাঠের মূল ফটকে দাঁড়িয়ে ছিল। অ্যাম্বুলেন্সটি মীরসরাইয়ের ধুম গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে বাদ আসর ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তৃতীয় নামাজের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

মোশাররফ হোসেনের জন্ম ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে। বাবা এস রহমান ষাটের দশকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন। দেশভাগের পর তিনি কলকাতা থেকে চট্টগ্রামে চলে আসেন এবং ‘ওরিয়েন্ট বিল্ডার্স কর্পোরেশন’ নামে একটি কোম্পানি খুলে ব্যবসা শুরু করেন।

মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট শেষ করেন। এরপর লাহোরে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় ছয় দফা আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন। সে সময় তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।লাহোর থেকে দেশে ফিরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন এবং ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এই মুক্তিযোদ্ধা ১ নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। যুদ্ধের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনের নেতৃত্ব দেন তিনি।

১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রামের মীরসরাই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ছয়বার এমপি হন। আমৃত্যু তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য।আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের সরকারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। পরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে ২০১৪-২০১৯ মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারেও তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর ২৭ অক্টোবর রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে মোশাররফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।

পরের বছর ২০২৫ সালের ৫ অগাস্ট রাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কারাগারের হাসপাতাল থেকে তাকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে গত ১৪ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার ছেলে মাহবুব রহমান রুহেল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে চট্টগ্রাম ১ আসন থেকে এমপি হয়েছিলেন।

চট্টগ্রামে ফ্লাইওভারের রেলিংয়ে ঝুলছিল যুবকের মরদেহ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের সাগরিকা এলাকায় ফ্লাইওভারের রেলিং থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গভীর রাতে বিএসআরএম ডিপোসংলগ্ন ফ্লাইওভার থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তির নাম কাউসার আহমেদ বলে জানিয়েছে পুলিশ।ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে একে পরিকল্পিত হত্যা এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার ঘটনা বলে দাবি করা হয়। তবে পুলিশ এসব তথ্যকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে।

পুলিশ বলছে, নিহত ব্যক্তি বিএসআরএমে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ওই যুবক মাদকাসক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করছে পুলিশ।
পাহাড়তলী থানা-পুলিশ জানায়, স্থানীয় লোকজনের খবরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পাহাড়তলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদুর রহমান বলেন, মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পরে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দাবি, কাউসার আহমেদ আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক। তাদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এছাড়া থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত একটি শোকবার্তায় তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

চট্টগ্রাম কাস্টমসে নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেয়া ২২০ কন্টেইনার পণ্য বিক্রি হবে নিলামে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া ২২০ টি কন্টেইনার নিলামে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের জট নিরসনে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। সর্বমোট ১৩৭টি লটে ২২০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে। বিশেষ করে আমদানির পর নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া এসব কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে।এই নিলাম প্রক্রিয়া অনলাইনে (ই-অকশন) সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, পুরো মে মাস জুড়ে দরদাতাদের জন্য সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ দরদাতাদের পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ এর শর্তাবলী মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরকে কন্টেইনার জটমুক্ত করতে এবং ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নিলাম কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, আমদানিকৃত এসব পণ্য মাসের পর মাস বন্দরে পড়ে থাকায় একদিকে যেমন বন্দরের জায়গা দখল হয়ে আছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আটকে রয়েছে। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সক্ষমতা কমছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে মে মাসে দুই ধাপে এই ই-অকশন অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ আদেশ অনুসারে ‘ই-অকশন-৪/২০২৬’-এর আওতায় ১২০টি লটে ১৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে।
এই তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল, মেশিনারিজ, কাগজ, কাপড় (ফেব্রিক্স), গৃহস্থালির সামগ্রী এবং এসি পার্টস। বিশেষ বিষয় হলো, এই পণ্যগুলোর নিলামে কোনো সংরক্ষিত মূল্য থাকছে না। এই ধাপের দরপত্র আগামী ৯ জুন সকাল ১১টায় খোলা হবে। অন্যদিকে, স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী ‘ই-অকশন-৫/২০২৬’-এর আওতায় ১৭টি লটে আরও ৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে।

এর মধ্যে রয়েছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, প্যাসেঞ্জার এলিভেটর, স্টিল স্ক্র্যাপ, গাড়ি এবং লবণ। এই ধাপের দরপত্র আগামী ১৪ মে দুপুর ৩টায় উন্মুক্ত করা হবে। নিলাম প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে। আগ্রহী ক্রেতারা ঘরে বসেই বাংলাদেশ কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে দরপত্র দাখিল করতে পারবে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ