আজঃ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬

সত্যিকারের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্টায় সকলের অংশগ্রহন নিশ্চিত করা দরকার

প্রেস রিলিজ

চকরিয়াতে আইএসডিই‘র উদ্যোগে ইনক্লোসিভ ভোটার এডুকেশন এন্ড এওয়ারন্যান্স প্রকল্পর প্রকল্প পরিচিতি সভায় বক্তাগন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গনতন্ত্রকে সংখ্যাগরিষ্টের শাসন বলা হলেও দলমত, ধর্ম, বর্ন, গোষ্টি ও পেশার মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহন না হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম ও টেকসই হয় না। যার কারণে ভোটে নির্বাচিত হয়েও অনেকেই স্বৈরচারী, বেপরোয়া ও জনমতকে উপেক্ষা করার ঘটনা বেড়ে যায়। একজন নাগরিক রাস্ট্রের যে কোন সিদ্ধান্তের সাথে দ্বিমতপোষন করতেই পারেন। কিন্তু অর্থ এই নয় যে, সে রাস্ট্রের বিরোধীতা করছে। তবে তার মতামত প্রকাশ করার স্বাধীনতা থাকতে হবে। যারা ভোট প্রদান করেন, তাদের সকলের প্রার্থী উ্ত্তীর্ন না ও হতে পারে। কিন্তু ভোটারের মত প্রকাশ করা, ও পছন্দসই প্রার্থীকে ভোট দেয়ার মাধ্যমে তার নাগরিক অধিকার ও গনতন্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহন জরুরি। সে জন্য সমাজের কোন অংশকে বাদ দিয়ে যে কোন উন্নয়ন ও প্রক্রিয়া যেরকম পরিপুর্নতা লাভ করে না সেরকম সমাজের কোন গোষ্ঠি বা অংশকে বাদ দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াও শক্তিশালী হবে। তাই আগামি ২০২৬ সালের মহান জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশেষ করে উপকূলীয় মৎস্যজীবী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, নতুন ভোটারদেরকে ভোটদানের পদ্ধতি, ভোটের গুরুত্ব এবং ভোটার হিসেবে করণীয় বিষয়ে সচেতন করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আনতে নির্বাচনের সকল স্টেকহোল্ডারদের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।

সোমবার ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখ সকাল ১১টায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা পরিষদ হল রুম- সুগন্দায় আইএসডিই বাংলাদেশ এর উদ্যোগে ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেকটোরাল সিস্টেমস (আইএফইএস)-এর সহযোগিতায় ইনক্লোসিভ ভোটার এডুকেশন এন্ড এওয়ারন্যান্স প্রকল্পর প্রকল্প পরিচিতি সভায় বিভিন্ন বক্তাগন উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিই নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হেসাইন এর সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন চকরিয়া-পেকুয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(এএসপি) অভিজিত দাশ, আইএফইএস এর ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর রোমেনা আমিন আর্চি। আইএসডিই মনিটরিং অফিসার সুপম বডুয়ার সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ তৌহিদুল আনোয়ার, আইএফইএস এর সিনিয়র কর্মসুচি ব্যবস্থাপক কানিজ ফাতেমা, আইএসডিই কর্মসুচি সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর আলম, দৈনিক পূর্বকোণের স্টাপ রিপোর্টার সংবাদিক জাহেদ চৌধুরী, দৈনিক সমকালের স্টাপ রিপোর্টার এমআর মাহমুদ, সমাজ কর্মী সো্য়াইবুল ইসলাম সবুজ, আশরাফ আলী প্রমুখ।

বক্তাগন একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের যে রকম দায়িত্ব ঠিক একই ভাবে সকল ভোটারদেরকে নির্বাচনীয় প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহন যে রকম জরুরি। জনগন স্বতঃসপুর্ত অংশগ্রহন করলে কোন অপশক্তি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধও করতে সাহস পাবে না অথবা বাধাগ্রস্থ করতে পারবে না। তাই আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল দলমত ও ধর্ম সম্প্রদায়ের সকলকে সংবিধান প্রদত্ত ভোটাধিকার প্রয়োগে উদ্ধুদ্ধ করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা, স্বাধীনভাবে নিজ নিজ এলাকার প্রতিনিধি নির্বাচনে অংশগ্রহনের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস ও নাগরিক মর্যাদা প্রয়োগ করার আহবান জানান।


উল্লেখ্য বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আইএসডিই আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন সংস্থা আইএফইএস এর সহযোগিতায় আসন্ন ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সকল নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে “ইনক্লোসিভ ভোটার এডুকেশন এন্ড এওয়ারনেস প্রকল্পটি চকরিয়া, পেকুয়া এবং মহেশখালী উপজেলায় বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের আওতায় উপকূলীয় মৎস্যজীবী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, যুব ভোটারসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ভোটদানের পদ্ধতি, ভোটের গুরুত্ব এবং ভোটার হিসেবে করণীয় বিষয়ে সচেতন করার জন্য ওঠান বৈঠক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়, মাইকং, প্রচারপত্র বিলি, মগ ভোটিং সেশন পরিচালনাসহ নানা প্রচারণা কর্মসুচির আয়োজন করা হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ফেব্রুয়ারি ৪৪৮ দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জন নিহত—যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আজ ০৬ মার্চ ২০২৬, শুক্রবার :বিদায়ী ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের গণমাধ্যমে ৪৪৮ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জন নিহত, ১১৮১ জন আহতের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এই সময়ে রেলপথে ৩৪ টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত, ১১ জন আহত, নৌ পথে ০৬ টি দুর্ঘটনায় নিহত ০৪ জন ও আহত ০৫ জন হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৪৮৮ টি দুর্ঘটনায় ৪৭৭ জন নিহত এবং ১১৯৭ জন আহত হয়েছে। এই সময়ে ১৫১ টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৬৭ জন নিহত, ১৩৭ জন আহত হয়েছে। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৩.৭০ শতাংশ, নিহতের ৩৭.৩৬ শতাংশ ও আহতের ১১.৬০ শতাংশ। এই মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে ঢাকা বিভাগে ১১৩ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১১৫ জন নিহত ও ৩৮৭ জন আহত হয়েছে, সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে বরিশাল বিভাগে ২২ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৮৫ জন আহত হয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

সংগঠনের মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবেদন তুলে ধরে সংগঠনটি। দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌ পথের দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ৫৬ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৯৩ জন চালক, ৭৬ জন পথচারী, ২০ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৮ জন শিক্ষার্থী, ০৪ জন শিক্ষক, ৬৩ জন নারী, ৫৫ জন শিশু, ০২ জন সাংবাদিক, ০২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ০৬ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে। এদের মধ্যে নিহত হয়েছে- ০৩ জন পুলিশ সদস্য, ০৩ জন সেনা সদস্য, ০১ জন ফায়ার সার্ভিস সদস্য, ০২ জন আনসার সদস্য, ০২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ৮৫ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৭২ জন পথচারী, ৪৩ জন নারী, ৪১ জন শিশু, ৪৭ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন পরিবহন শ্রমিক, ০৪ জন শিক্ষক ও ০৫ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

এই সময় সড়ক দুর্ঘটনায় সংগঠিত ৬৮৭ টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। এতে দেখা যায়, ২৬.৩৪ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৩.৭২ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৫.২৮ শতাংশ বাস, ১৪.২৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও ইজিবাইক, ৪.৮০ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, ৮.৮৭ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৬.৪৭ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৪১.৭৪ শতাংশ গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা, ৩৩.২৫ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৭.১৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৬.৪৭ শতাংশ বিবিধ কারনে, ০.২২ চাকায় ওড়না পেছিয়ে এবং ১.১১ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই মাসে সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৪২.৬৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৫.৪৪ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৭ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়াও সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩.৩৪ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৪৪ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ১.১১ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ মতে, ফেব্রুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণসমূহ :
১. সড়ক পরিবহন সেক্টর পরিচালনায় অনভিজ্ঞতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, নীতি ও কৌশলগত দুর্বলতা।
২. সারাদেশে নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা, মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিক্সা ও নসিমন-করিমন সড়ক-মহাসড়কে অবাধে চলাচল।
৩. জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং, সড়কবাতি না থাকায় হঠাৎ ফিডার রোড থেকে যানবাহন উঠে আসা।
৪. সড়কে মিডিয়ান বা রোড ডিভাইডার না থাকা, সড়কে গাছপালায় অন্ধবাঁেকর সৃষ্টি।
৫. মহাসড়কের নির্মাণ ক্রটি, যানবাহনের ক্রটি, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা।
৬. উল্টোপথে যানবাহন, সড়কে চাদাঁবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন।
৭. অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রীবহন।
৮. বেপরোয়া যানবাহন চালানো এবং বিরামহীন ও বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানো।

দুর্ঘটনার প্রতিরোধে সুপারিশসমূহ :
১. সড়ক পরিবহন সেক্টর পরিচালনায় উন্নত বিশ্বের নীতি ও কৌশল অনুসরন করা।
২. দক্ষ চালক তৈরির জন্য চালকদের ইনক্লুসিভ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা।
৩. সিসি ক্যামরা পদ্ধতিতে ট্রাফিক আইনের প্রসিকিউশন পদ্ধতি চালু করা।
৪. গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে ফুটপাতসহ সার্ভিস লেইনের ব্যবস্থা করা।
৫. সড়কে চাদাঁবাজি বন্ধ করা, চালকের বেতন ও কর্মঘন্টা সুনিশ্চিত করা।
৬. মহাসড়কে ফুটপাত ও পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা রাখা, রোড সাইন, রোড মার্কিং স্থাপন করা।
৭. সড়ক পরিবহন আইন উন্নত বিশ্বের আদলে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে প্রয়োগ করা।
৮. সারাদেশে উন্নতমানের আধুনিক বাস নেটওর্য়াক গড়ে তোলা, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
৯. মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত সুনিশ্চিত করা, নিয়মিত রোড সেইফটি অডিট করা।
১০. মেয়াদোর্ত্তীন গণপরিবহন ও দীর্ঘদিন যাবত ফিটনেসহীন যানবাহন স্ক্যাপ করার উদ্যোগ নেওয়া।
১১. মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিক্সা আমদানী ও নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ করা ।
১২. বিআরটিএ ও ট্রাফিক বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
১৩. রাজধানীসহ দেশের সকল নগরীতে করিডোর ভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালু করা।
১৪. সড়ক পরিবহন সেক্টর পরিচালনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশী-বিদেশী দক্ষ ও অভিজ্ঞ, বিশেষজ্ঞ লোকজনদের সমন্ময়ে একটি বিশেষজ্ঞ টাস্কফোর্স গঠন করা।

চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট : বৃহৎ দুই সার কারখানা সিইউএফএল ও কাফকো’’র উৎপাদন বন্ধ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সরকারি নির্দেশনার প্রেক্ষিতে গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দুটি বৃহৎ সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)’র উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর ফলে সার কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে যায়।

পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় সরকারি নির্দেশনায় উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, সিইউএফএল স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করে। অন্যদিকে কাফকোর দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৭২৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় বর্তমানে এই বিপুল পরিমাণ উৎপাদন স্থগিত রয়েছে।

কারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা জানান, সার উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে গ্যাসনির্ভর। পর্যাপ্ত চাপ ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ ছাড়া উৎপাদন চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। কম চাপের গ্যাসে উৎপাদন অব্যাহত রাখলে যন্ত্রপাতির ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে কারখানাগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
হঠাৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সার সরবরাহ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলেই দ্রুত উৎপাদন পুনরায় চালু করে বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে দুই কারখানার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত বছরের ১ নভেম্বর দীর্ঘ সাড়ে ছয় মাস বন্ধ থাকার পর বহুল আলোচিত রাষ্ট্রায়ত্ত সিইউএফএল পুনরায় চালু করা হলেও তা ১২ ঘণ্টাও উৎপাদন সচল রাখতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এরপর কয়েক দফায় যান্ত্রিক ত্রুটি, গ্যাস সংকটসহ নানা কারণ দেখিয়ে কারখানাটি চালু ও বন্ধের মধ্যে ছিল। সবশেষ আবারও গ্যাস সংকটে বন্ধ হলো কারখানাটি।অন্যদিকে কাফকোও গত বছরের অক্টোবর মাসে অভ্যন্তরীণ সমস্যাজনিত কারণে প্রায় ১৫ দিন উৎপাদন বন্ধ রেখেছিল। এরপর সবশেষ গতকাল গ্যাস সংকটের কারণে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ