আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবে না জেনে জামায়াত প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

পাঠানটুলী ওয়ার্ডে গণসংযোগ পূর্ববর্তী পথসভায় আবুল হাশেম বক্কর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার সামান্যতম সম্ভাবনাও না থাকায় জামায়াত এখন প্রকাশ্যে প্রশাসনকে অধীনস্থ করার হুমকি দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।

জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটাই জামায়াতের আসল চরিত্র। শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যে গণতন্ত্র, নির্বাচন ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে। এটি সরাসরি রাষ্ট্রযন্ত্র নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা। এমন বক্তব্য দিয়ে তারা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এই বক্তব্য শোনার জন্য জুলাই আন্দোলনে ছাত্র জনতা রক্ত দেয় নাই।

এটি গণতন্ত্রকে উপহাস করা ছাড়া আর কিছুই নয়। স্কুল কলেজের শিক্ষক, প্রশাসন, ওসি, পুলিশসহ সরকারি বেসরকারি সব স্তরের মানুষকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা, এটি রাজনৈতিক গুণ্ডামিরই প্রকাশ। মুলত জনগনের ভোটে নির্বাচিত হবেনা জেনে জামায়াত প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রন নিতে চায়। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জামায়াতকে প্রশাসন নিয়ে কথা বলতে লজ্জা পাওয়া উচিত।

তিনি সোমবার (২৪ নভেম্বর) বিকেলে নগরীর ধনিওয়ালা পাড়া বায়তুশ শরফ জামে মসজিদের সামনে চট্টগ্রাম ৯ সংসদীয় আসনের ভোটারদের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রদানে উৎসাহিত করে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নে জনমত গঠনের লক্ষ্যে পাঠানটুলী ওয়ার্ড এলাকায় গনসংযোগ পূর্ববর্তী পথসভায় এসব কথা বলেন।

তিনি নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে বায়তুশ শরফ জামে মসজিদের সামনে থেকে শুরু করে ডিটি রোড়, শেখ মজিব রোড়, চৌমহনী, পাঠানটুলী রোড় ও কদমতলী দস্তগীর চত্তর এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরন ও গণসংযোগ করেন।

তিনি বলেন, অতীতেও জামায়াত বিভিন্ন স্বৈরাচারী শক্তির হাত ধরে প্রশাসনের সুবিধা পেয়েছে। স্বৈরাচার এরশাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে জামায়াতই ছিল প্রধান রাজনৈতিক সহযোগী। সেই জামায়াত আজ গণতন্ত্রের কথা বলে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। জনগণের ভোটে জামায়াত কখনোই শক্ত অবস্থানে নেই। তাই তারা প্রশাসনকে ‘আন্ডারে নেওয়ার’ ঘোষণা দিয়ে ভোটকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা করছে। এটা স্পষ্ট, জনগণের রায় নিয়ে নয়, তারা ক্ষমতায় যেতে চায় ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। জামায়াত গণতন্ত্র চায় না, তারা শুধু শর্টকাট ক্ষমতা চায়। জনগণের ভোটের মাধ্যমে নয়, প্রশাসনকে ভয় দেখিয়ে ও প্রভাবিত করে ক্ষমতায় যাওয়া তাদের পুরনো কৌশল।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ভোটাররা এখন সচেতন। ১৯৭১-এর ইতিহাস যারা অস্বীকার করে, যারা বারবার দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে, তাদের কথা জনগণ বিশ্বাস করে না। জামায়াতের মুখোশ উন্মোচনে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

২৩ নং পাঠানটুলী ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক আবদুর হালিমের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব এম এ হাসনাতের পরিচালনায়এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নিয়াজ মোহাম্মদ খাঁন, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা। উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক সহ ক্রীড়া সম্পাদক মোস্তাফিজুর রজমান বুলু, ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক আহবায়ক হাজী মো. মহসিন,

ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সুলতান মাহমুদ খান সুমন, যুগ্ম আহবায়ক আকবর কবির ডিউক, সিরাজুল ইসলাম, সিরাজুল মোস্তফা, আব্বাস উদ্দিন, মো. আজাদ, আবু তাহের, মো আলী, সদস্য মো. শাহজাহান, মো. আজাদ, আনু মিয়া বাবুল, মো. হাসান, মো. নাছির উদ্দীন, আমির উদ্দিন বাবুল, মো. আজিম, অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মজিবুর রহমান মজিব, মো. ইদ্রিস, মো. নূর মো. রুবেল, আকরাম খাঁন, মো. জনি খান, মো. খোকন, মো. ফরুক, মো. ফরিদ, মো. কাশেম, আনোয়ার হোসেন আনু, মো. আলমগীর, মো. জাহেদ, দেলোয়ার হোসেন, মো. আরিফ, মো. নবী, মো. আরফান প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ