আজঃ সোমবার ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

যানজট নিরসনে পরিবহন ব্যবস্থা আধুনিকায়নে চসিকের নতুন প্রকল্প।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

চট্টগ্রামে নিত্য যানজটে নাভিশ্বাস নগরবাসীর। যানজটের কারণে বিদেশগামী যাত্রী, অ্যাম্বুলেন্সের রোগী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন, সড়ক দখল করে গাড়ি পার্কিং, উন্নয়ন কাজের জন্য যত্রতত্র খোঁড়াখুঁড়ি, লক্ষাধিক অবৈধ রিকশার দাপট, ফুটপাত দখল করে হকার বাণিজ্য এবং সড়কের ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি যানবাহন চলাচল করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে চকবাজার, আগ্রাবাদ, দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের আশপাশসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক গুণ বেশি থাকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আধুনিক নগর পরিবহন ব্যবস্থা চালু হলে নগরীর যাটজটের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।

এদিকে নগরীর যানজট নিরসন ও আধুনিক নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প নিতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) তৈরি করতে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার চসিকের সচিব মো. আশরাফুল আমিনের স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়।

চসিক সূত্রে জানা যায়, নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে সড়ক নিরাপত্তা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, নজরদারি ও যান চলাচলের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম উন্নয়ন জরুরি হয়ে উঠেছে। এরই আলোকে প্রকল্পটির ডিপিপি প্রণয়নে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, প্রস্তাব তৈরিসহ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করতে এ কমিটি দায়িত্ব পালন করবে।

যানজট নিরসন ও আধুনিক নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একটি ডিপিপি প্রস্তুতের কাজ শুরু হবে বলে জানান চসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান সোহেল। তিনি বলেন, এখানে দুটো বিষয় রয়েছে। একটি হচ্ছে সড়কে নিরাপত্তার বিষয়; অন্যটি হচ্ছে যানজট নিরসন। আমাদের এই প্রকল্পের মাধ্যমে উভয় সমস্যা সমাধান হবে।

ওই অফিস আদেশে বলা হয়, চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিরসন ও আধুনিক নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘ডেভেলপমেন্ট অব স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম ফর ডিফারেন্ট এরিয়াস অব চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন’ শীর্ষক প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি করতে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সদ্যগঠিত চার সদস্যের ওই কমিটিতে সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন চসিকের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব এবং সদস্যসচিব নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. শাফকাত বিন আমিন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার জাহান, সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) ফখরুল ইসলাম।

কমিটির সদস্যসচিব ও নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. শাফকাত বিন আমিন বলেন, আধুনিক নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আগে একটি কনসালটেন্ট ফার্মকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে এটার আর অগ্রগতি হয়নি। এখন নতুন করে ওই ফার্মের সাথে কথা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পাইলট বেসিসে কিছু জায়গা নির্ধারণ করে তারা শীঘ্রই কাজ শুরু করবে। তারা নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি এবং ড্রয়িং-ডিজাইনের কাজ করবে।

চসিকের ওই অফিস আদেশে কমিটির জন্য ছয় দফা কার্যপরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ, বাস্তবায়ন নীতিমালা প্রণয়নে সুপারিশ তৈরি, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে খসড়া ডিপিপি তৈরি এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম সম্পাদন। এছাড়া, কমিটিকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে মেয়র বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটি প্রয়োজনে নতুন সদস্য নিতে পারবে।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ট্রাফিক সিস্টেম সুন্দরভাবে সাজানোর জন্য কাজ শুরু করেছি। আমরা একটা সিস্টেম দাঁড় করাবো। কিন্তু এটার তদারকি করতে হবে ট্রাফিক বিভাগকে। যানজট নিরসন ও আধুনিক নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সিগন্যাল লাইটের কোন বিকল্প নেই। আমরা পুরো নগরীকে আধুনিক সিগন্যাল লাইটের আওতায় নিয়ে আসবো।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

অংশ নিয়েছে প্রায় ৬০০ প্রতিযোগী চট্টগ্রামে এনআইটি উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায়

বিজ্ঞানমনষ্ক শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের যথাযথ প্রয়োগের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের মুরাদপুরস্থ’ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এনআইটি)’র উদ্যোগে ১১তম বারের মতো “এনআইটি উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা-২০২৫” এনআইটি’র অডিটোরিয়ামে শনিবার অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ কারীগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্কভিউ হসপিটাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. এটি. এম. রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট অধ্যক্ষ মো কামাল হোসেন। সভাপতিত্ব করেন এনআইটি’র চেয়ারম্যান আহসান হাবিব।

প্রতিযোগিতায় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ২৬৪টি বিভিন্ন ধরনের উদ্ভাবনীমূলক প্রকল্প প্রর্দশিত হয়। এতে প্রায় ৬০০ প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন বলেন, আজকের এই প্রতিযোগিতা শুধুমাত্র একটি বিজয়ীর খোঁজ নয়, বরং এটি আমাদের সবার জন্য একটি শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সকলেই নতুন কিছু শিখেছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় উদ্ভাবন নিয়ে আসার অনুপ্রাণিত হয়েছে। প্রতিযোগীতায় শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছে, আমাদের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অসীম সম্ভাবনা রয়েছে। প্রত্যেকটি প্রকল্পই আলাদা এবং একেকটি নতুন চিন্তার প্রতিফলন। উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা শুধু একটি ইভেন্ট নয়; এটি হলো কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির সবচাইতে কার্যকর মঞ্চ।

ড. এটি. এম. রেজাউল করিম বলেন,দক্ষতা একজন মানুষকে কর্মবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং তাকে স্বনির্ভর করতে সাহায্য করবে। উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের সেই দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং কার্যকরী সমস্যা সমাধানের রুপরেখা তৈরী করে। অধ্যক্ষ মো কামাল হোসেন বলেন, এই প্রতিযোগিতায় উত্থাপিত সাশ্রয়ী ও টেকসই সমাধানগুলো কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম। আমাদের তরুণরা প্রমাণ করেছেন যে তাদের মেধা ও সৃজনশীলতাই দেশকে ‘আধুনিক বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের মূল চালিকাশক্তি।


ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির চেয়ারম্যান আহসান হাবিব বলেন, উদ্ভাবন শুধু প্রযুক্তির খেলনা নয়, উদ্ভাবন হল মানুষের জীবনকে সহজ ও অর্থপূর্ণ করার হাতিয়ার। আজকের এই ছোট ছোট ধারণাগুলোই আগামী দিনের বড় বড় শিল্প ও সামাজিক পরিবর্তনের বীজ বপন করছে।প্রতিযোগীতায় মোট ২৬৪ টি প্রজেক্ট অংশ নেয়। প্রজেক্ট সমুহকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে বিভিন্ন মানদন্ডে বিচার বিশ্লেষণ করার জন্য মূল্যায়ন দলে ছিলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. এ. কে. এম. মাঈনুল হক মিয়াজী, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এর পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. এইচ.এম

. এ আর মারুফ,চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের পদার্থবিদ্যা বিভাগের এসোসিয়েট প্রফেসর ও বিভাগীয় প্রধান মো. দিদারুল আলম মজুমদার। চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এর সিভিল ডিপার্টমেন্ট প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী মো জাহাঙ্গীর আলম, কম্পিউটার বিভাগের চীফ ইন্সট্রাক্টর প্রকৌশলী মেহেদী, ইলেকট্রিক্যাল বিভাগ চীফ ইন্সট্রাক্টর প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাস, মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্ট এর চীফ ইন্সট্রাক্টর প্রকৌশলী নুরুননবী।

বিচারক প্যানেল প্রজেক্ট সমুহ মূল্যায়ন সম্পন্ন করেন। মূল্যায়নে প্রাপ্ত নাম্বারের ভিত্তিতে টপ টেন নির্ধারণ করে পুরস্কার হিসেবে ১ম,২য় ও ৩য় স্থান অর্জন কারীর মধ্যে যথাক্রমে ৫০ হাজার, ৩০ হাজার ও ২০ হাজার নগদ অর্থ ও ক্রেস্ট পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়া ইমার্জিং প্রজেক্ট হিসেবে চতুর্থ থেকে ১০ম স্থান অর্জনকারীদেরও ৫ হাজার নগদ অর্থ ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সমাপনী পর্বে সকল অংশগ্রহণকারীকে সনদ বিতরণ করা হয়।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে লাগেজে মিলল ৯০ লাখ টাকার সিগারেট

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মালিকানাহীন ছয়টি লাগেজ থেকে ৮০০ কার্টন মন্ড ব্র্যান্ডের সিগারেট জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। শনিবার সকাল ১১টার দিকে বিমানবন্দরের এরাইভাল হলের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড কর্নারের পাশ থেকে এসব লাগেজ উদ্ধার করা হয়। জব্দ হওয়া সিগারেট প্রতি কার্টন ১১ হাজার ২৫০ টাকা মূল্য ধরে মোট ৯০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, লাগেজগুলোর সঙ্গে কোনো যাত্রীর নাম, ট্যাগ বা মালিকানার কাগজপত্র ছিল না। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কেউ লাগেজের দাবি না করায় সেগুলোকে কাস্টমস আইন অনুযায়ী পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরে লাগেজ খুলে ৮০০ কার্টন সিগারেট পাওয়া যায় এবং তা জব্দ করা হয়।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, লাগেজগুলো দীর্ঘ সময় ধরে মালিকবিহীন অবস্থায় ছিল। কেউ দায়িত্ব না নেওয়ায় সেগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করে জব্দ করা হয়েছে। বিমানবন্দরে চোরাচালান ঠেকাতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং অভিযান চলমান থাকবে বলে তিনি জানান।

আলোচিত খবর

আরব আমিরাতে ভিসা সংকটে বড় হুমকির মুখে বাংলাদেশি শ্রমবাজার।

মধ্যপ্রাচ্যের  অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা জটিলতায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। নতুন ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকা এবং অভ্যন্তরীণ ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও কবে ভিসা উন্মুক্ত হবে— সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারছে না বাংলাদেশ মিশন। বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আমিরাত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

ভিসা জটিলতা শ্রমবাজারের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রভাব পড়ছে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান, আয়-রোজগার এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে বসবাস, লিঙ্গ পরিবর্তন, সনদ জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ ওঠায় ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি করেছে আমিরাত সরকার। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশিরা।

এদিকে দুবাইয়ে স্কিল ভিসা চালু থাকলেও সেখানেও কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। গ্র্যাজুয়েশন সনদ ছাড়া বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। সনদকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন, পরে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের যাচাই এবং শেষে আমিরাতের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ ও জটিল এ প্রক্রিয়ায় হতাশ কর্মপ্রত্যাশীরা।

বাংলাদেশ মিশনের তথ্যানুসারে, স্কিল ভিসায় সনদ জালিয়াতি ঠেকাতে তিন মাস আগে চালু করা হয়েছিল বারকোড ব্যবস্থা। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটিও জাল করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ইউএই সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযোগ আসছে। রাষ্ট্রদূতের মতে, বাংলাদেশিদের মানসিকতা না বদলালে ভিসা সংকট নিরসন সম্ভব নয়।

আবুধাবি বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বলেন, “গত সাত মাস ধরে ভিসা ইস্যুতে চেষ্টা চালিয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি।কবে হবে সেটিও অনিশ্চিত। আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, তবে বিষয়টি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ”

 

জনশক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা পরিবর্তনের জটিলতা দ্রুত সমাধান না হলে অনেক বাংলাদেশি কর্মীকে দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। অনেকেই জানেন না, ভিসা বাতিল হলে কী পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে প্রবাসীদের মানসিক চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে বর্তমানে যারা আমিরাতে অবস্থান করছেন, তারা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।

বাংলাদেশি প্রবাসী সংগঠকরা মনে করেন, এ অচলাবস্থা কাটাতে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসীদেরও ভিসা নীতিমালা মেনে চলা জরুরি। নইলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজারে বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ