আজঃ মঙ্গলবার ৫ মে, ২০২৬

স্মার্ট সড়ক বাতির আওতায় আসবে মহানগরের ৪১টি ওয়ার্ডের সড়কগুলো

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের ৪১টি ওয়ার্ডের প্রধান সড়কগুলো স্মার্ট সড়ক বাতির আওতায় আসছে।মহানগরীকে স্মার্ট ও নিরাপদ নগরে রূপান্তর করতে ৪১ ওয়ার্ডে স্মার্ট সড়ক বাতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

এ জন্য ‘ইমপ্লিমেন্টেশন অফ স্মার্ট লাইটিং (সোলার/নন-সোলার) উইথ এআই বেইসড সিসিটিভি সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম ইন চট্টগ্রাম সিটি এরিয়া ফর এনশিউরিং স্মার্ট অ্যান্ড সেফ সিটি’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সংস্থাটি।চসিক সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির লক্ষ্য হচ্ছে নগরজুড়ে আধুনিক স্মার্ট লাইটিং ব্যবস্থা স্থাপন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা নেটওয়ার্ক স্থাপন করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শহরের প্রধান সড়ক, মোড়, সেতু, জনবহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সোলার ও নন-সোলার প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট লাইট স্থাপনের পাশাপাশি উন্নতমানের নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর ফলে অপরাধ দমন, যান চলাচল পর্যবেক্ষণ, দুর্ঘটনা ব্যবস্থাপনা এবং নগর নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) প্রণয়নের উদ্দেশ্যে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ১৯ নভেম্বর চসিকের সচিব মো. আশরাফুল আমিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই কমিটি গঠন করা হয়।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে- চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আর চসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম ও সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. সরওয়ার আলম খান কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. শাফকাত বিন আমিন সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে- প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করা, প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নীতিমালার জন্য সুপারিশ করা, সংগৃহীত তথ্য ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে খসড়া ডিপিপি প্রস্তুত করা, কমিটিকে আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে মেয়র বরাবরে প্রতিবেদন দাখিল করা।

এ বিষয়ে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আমার প্রতিশ্রুতির মধ্যে অন্যতম ছিল পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ নগর করা। ৪১ ওয়ার্ডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হলে নগরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন ঘটবে। অন্যদিকে, পরিবেশবান্ধব সোলার সড়কবাতি স্থাপন করা হলে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে অন্যদিকে পরিবেশ দূষণ কমাবে।

চসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান সোহেল বলেন, সড়ক বাতির জন্য ইন্ডিয়ান এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে আমাদের একটি প্রজেক্ট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে প্রকল্পটি আর আলোর মুখ দেখেনি। আমরা নতুন করে একটি ডিপিপি প্রস্তুতের জন্য কাজ করছি। এর আওতায় নগরের ৪১টি ওয়ার্ডের প্রধান সড়কগুলো থাকবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোও সিসিটিভি ও লাইটের আওতায় আসবে।

কমিটির সদস্য সচিব ও নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. শাফকাত বিন আমিন বলেন, সিটিটিভি ও লাইট বসানোর জন্য আমরা রোডের তালিকা প্রস্তুতের কাজ করছি। ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ তালিকা সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে নগরের ৪১ ওয়ার্ড কাভার করা। অর্থাৎ ৪১ ওয়ার্ডের প্রধান প্রধান সড়ক থাকবে। এরপর আমরা লেন ও বাইলেন কাভার করবো।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কলমাকান্দায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাতজনিত পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল এলাকা পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান।৫ মে (মঙ্গলবার) দুপুরে তিনি উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের চিকন মাটিয়া, তেলেঙ্গা ও মেদি বিলসহ দমদমা খাল এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, খারনৈ ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান, সমাজসেবক মজিবুর রহমান এবং প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইতোমধ্যে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা আরও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, “আমরা শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পাশে আছি। ভারী বৃষ্টিপাত শুরুর দিন থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনাসহ ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জিআর ক্যাশ ও চাল বিতরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আজ থেকেই এসব সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খালের পুনর্বাসন এবং কৃষকদের সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

পূর্বধলায় বকেয়া বিলের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের দেওটুকোন বাজারে বকেয়া বিল আদায়ের লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সোমবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ১১ টায় এ অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাসনীম জাহান।

পূর্বধলা জোনাল অফিসের ডিজিয়েম মোঃ শাহিনুর আলম জানান, মোট ১২ জনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর মধ্যে চারজন তাৎক্ষণিকভাবে বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার ২০ টাকা পরিশোধ করেন। বাকি আটজনের কাছে প্রায় এক লক্ষ ৪৩ হাজার ৮০২ টাকা বকেয়া ছিল।

তিনি আরও জানান, জারিয়া, ধলামুলগাঁ ও ঘাগড়া ইউনিয়নের আওতায় মোট ১৩৭টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এতে প্রায় ৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকার বেশি বকেয়া বিল আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ