চট্টগ্রাম ও চাঁদপুরে অভিযানে তিনমাসে ২৬২১টি কচ্ছপ উদ্ধার

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

পাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট চট্টগ্রাম মহানগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ছবি-১
চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম থেকে একের পর এক পাচার হচ্ছে ‘প্রকৃতির ঝাড়ুদার’ কচ্ছপ। চট্টগ্রাম মহানগরের রিয়াজউদ্দিন বাজার কচ্ছপ পাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট। বিশেষ করে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে কচ্ছপের মাংস ও স্যুপ জনপ্রিয় এবং বিলাসবহুল খাবার হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। কচ্ছপের মাংসের চড়া দাম থাকায় পাচারকারীরা আর্থিক লাভের আশায় বাংলাদেশ থেকে কচ্ছপ সংগ্রহ করে। বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া কচ্ছপের গন্তব্য চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, হংকং এবং সিঙ্গাপুর। সবচেয়ে বড় বাজার চীনে।

খাবার ছাড়াও চীনে কচ্ছপের মাংস ও খোলস দিয়ে বিভিন্ন ধরনের টনিক বা ওষুধ তৈরি করা হয় বলে সূত্রে জানা গেছে। এদিকে গত তিনমাসে ২৬২১টি বিভিন্ন প্রজাতির কচ্ছপ উদ্ধার করেছে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। এরমধ্যে নভেম্বর মাসে ৫৭২, অক্টোবরে ৪০৯ ও সেপ্টেম্বরে ১৬৪০টি।জানা গেছে, ‘বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২’ অনুযায়ী কচ্ছপ শিকার, হত্যা, বিক্রি ও পাচার দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধে জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে। পাচারকারী চক্র বিপন্ন করে তুলছে কচ্ছপের জীবনচক্র।

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, গত তিনমাসে চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৬২১টি কচ্ছপ উদ্ধার করেছে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। এরমধ্যে গত ২৫ নভেম্বর মিরসরাই বড় তাকিয়া বাজার এলাকা থেকে ১৭ কেজি, মিরসরাই বাজার থেকে ২২টি, বড় তাকিয়া বাজার থেকে ২৯ কেজি, মিরসরাই হাদি ফকিরহাট থেকে ৫২টি, ২৬ নভেম্বর মিরসরাই মিঠাছড়া বাজার থেকে ১৯ কেজি, নয় দুয়ারিয়া বাজার থেকে ২১ কেজি, বাঁশখালীর বাণীগ্রাম থেকে ৩৪টি, ১৯ নভেম্বর চাঁদপুরের দোয়াভাঙ্গা এলাকা থেকে ২৫কেজি, শাহরাস্তি সূচিপাড়া থেকে ৫০ কেজি, ১৮ নভেম্বর মিরসরাই হাদী ফকির হাট থেকে ২ কেজি, বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ২০ কেজি, চাঁদপুর সদর বড় মসজিদ এলাকা থেকে ৪২টি, চট্টগ্রাম থেকে নেয়ার পথে কুমিল্লা এলাকা বাস থেকে ৪০ কেজি, ২১ অক্টোবর চাঁদপুর সদর বড় মসজিদ এলাকা থেকে ৪২টি, ১৪ অক্টোবর চাঁদপুরের শাহরাস্তির শিতোশী এলাকা থেকে ২০ কেজি, ১৫ অক্টোবর চাঁদপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে ১০০ কেজি, ১৩ অক্টোবর নোয়াখালীর সূবর্ণচর এলাকা থেকে ৩০ কেজি, ৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা থেকে পাচার করার সময় যাত্রাবাড়ি ও ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকায় বাস থেকে ১২ কেজি কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা কচ্ছপের মধ্যে সুন্ধি প্রজাতির কচ্ছপের সংখ্যা বেশি। ধুম ও কড়ি প্রজাতির কচ্ছপের সংখ্যাও রয়েছে। এর আগে পাচারের সময় গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক যাত্রীর লাগেজ থেকে ৯২৫টি কচ্ছপ উদ্ধার করে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। কচ্ছপগুলো মালেয়েশিয়া নেয়া হচ্ছিল।

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট কর্মকর্তারা জানান, দেশের সীমানা পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, হংকং এবং সিঙ্গাপুর যাচ্ছে কচ্ছপের চালান। দেশে খাল-বিল ও হাওড়ে প্রচুর পরিমাণ মিঠাপানির কচ্ছপ দেখা যায়। এর মধ্যে ‘সুন্ধি’ কচ্ছপ অন্যতম। অবাধ শিকার ও আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রের কারণে প্রাণীটি বিপন্ন হয়ে পড়েছে। কচ্ছপকে বলা হয় ‘প্রকৃতির ঝাড়ুদার’। এরা মরা মাছ ও পচা আবর্জনা খেয়ে পানি পরিষ্কার রাখে। কচ্ছপ হারিয়ে গেলে জলজ বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়বে এবং পানির গুণাগুণ নষ্ট হবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে কচ্ছপের চালান প্রথমে অবৈধভাবে ভারতে পাচার হয়। বিশেষ করে যাশোর (বেনাপোল), সাতক্ষীরা(ভোমরা) আগরতলা এবং সিলেটের সীমান্ত এলাকা দিয়ে পাচার হয়। ভারতে পৌঁছানোর পর সেখান থেকে আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে মিয়ানমার বা নেপাল হয়ে কচ্ছপগুলো চীন ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে পাঠানো হয়। বাংলাদেশে প্রায় ২৫-৩০ প্রজাতির কচ্ছপ ও কাছিম রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাচার হয় সুন্ধি কচ্ছপ। এটি আকারে ছোট এবং সহজলভ্য হওয়ায় এর পাচার হয় সবচেয়ে বেশি। খোলসের চাহিদার কারণে কড়ি কচ্ছপ ও মাংসের জন্য পাচার হয় ধুম কচ্ছপ। চট্টগ্রামে যেসব এলাকা থেকে কচ্ছপ পাচার করা হয় তা হলো, বান্দরবান ও রাঙামাটি সীমান্তবর্তী এলাকা, ফটিকছড়ি, বাঁশখালী এবং মিরসরাই।

নগরীর রিয়াজ উদ্দিনবাজার কচ্ছপ পাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসাবে ব্যবহার হয়।বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক জানান, অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত কচ্ছপ পাচারের মৌসুম। ডোবা, পুকুর কিংবা নদীতে এ সময় পানি কম থাকায় পাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠে। চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার কচ্ছপ পাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট। দেশে ২৫ থেকে ৩০ ধরনের কচ্ছপ রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি পাচার হয় সুন্ধি কচ্ছপ। কড়ি ও ধুম কচ্ছপও মাঝে মাঝে পাচার হয়। অসীম মল্লিক আরো জানান, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে আমরা বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়েছি। ঢাকা থেকে গিয়ে অভিযান চালানো অনেকটা সময় সাপেক্ষ। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি বন্যপ্রাণী রক্ষা করতে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলে এমডি. আকতার হোসেন শাহিন নামে কোনো সহ-সভাপতি নেই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল চট্টগ্রাম মহানগর’র পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকে এই মর্মে অবহিত করা যাচ্ছে যে, মহানগর যুবদলে এমডি. আকতার হোসেন শাহিন নামে কোন সহ-সভাপতি নেই। এমডি. আকতার হোসেন শাহিন নামে জনৈক ব্যক্তি ভিজিটিং কার্ডে যুবদলের ভূয়া পদবী ব্যবহার করে নানা ধরনের তদবির, অবৈধ প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। যা মহানগর যুবদলের নজড়ে এসেছে।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ সংশ্লিষ্ট সকল কে এ ধরনের প্রতারক থেকে সর্তক থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, জাতীয়তাবাদী যুবদল যুব-ঐক্য-প্রগতির মূল মন্ত্রে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর আর্দশের সংগঠন। যুবদলের নাম ভাঙিয়ে যারা নানা ধরনের অপরাধে লিপ্ত তাদের বিষয়ে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করেন।

 

বাইসালের বৈঠার ছন্দে মাতোয়ারা নৌকা প্রেমী দর্শক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় গুমানি নদীর বুকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক সরদার পানশী নৌকা বাইচ উৎসব-২০২৬; সিজন-১’। তিন দিন ব্যাপি ১০,১১ ও ১৩ অক্টোবর ভাঙ্গুড়া উপজেলার নৌবাড়িয়া এলাকায় আয়োজিত এ উৎসব কে ঘিরে গুমানি নদীর দুই পাড়ে লাখো মানুষের ঢল। ঢাক ঢোলের বাদ্য, বাইসালের বৈঠার ছন্দে গুমানির নদীর পানির ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, মাঝির হালের বৈহারিক চাপ, চরনদারের হুংকার, ঝাঁজের সতর্কবাণী আর দর্শকের মুহুর মুহুর করতালিতে পানশী নৌকা প্রতিযোগীদের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে উৎসব মুখর হয়ে ওঠে পুরো গুমানি নদীর দুই পাড় এলাকা।

শনিবার,রবিবার ও মঙ্গলবার এই তিন দিন ব্যাপী এই আয়োজনে দূরদূরান্ত থেকে বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থীরা ভীড় করেন। গুমানি নদীর বুকে সারিবদ্ধ পানশী নৌকার প্রতিযোগিতা দেখতে নদীর দুই তীরে অবস্থান নেন অসংখ্য নৌকা বাইচ প্রেমী সাধারণ দর্শক। পানশী নৌকার গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের উল্লাস ও করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে গুমানি নদীর দুইপাড়। স্থানীয়দের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নৌকা বাইচ প্রেমীদের উপস্থিতিতে নৌবাড়িয়া পরিণত হয় এক মহা মিলন মেলায়।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়- প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক পানশী নৌকা বাইচ উৎসব ২০২৬; সিজন-১’ এর প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। উদ্বোধন করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক নুর মুজাহিদ স্বপন। উক্ত প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক পানশী নৌকা বাইচ উৎসব-২০২৬, সিজন-১’ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল মতিন রাজু।
সার্বিক আয়োজনে ছিলেন উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মোঃ আখিরুজ্জামান মাসুম।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ, ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাকিউল আজম, ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক সরদার, ভাঙ্গুড়া পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম কমিশনার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান, সাবেক আহ্বায়ক রাজিউল হাসান বাবু প্রমূখ।
এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বরাত, আবু হেনা মুস্তফা কামাল রেজা,আলতাব হোসেন খান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইদুল ইসলাম বুরুজ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল ইসলাম,যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ শাহিনুর রহমান শাহীন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এস এম হুমায়ুন কবির,উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হুমায়ুন আহমেদ মুন ও সদস্য সচিব মোঃ লিখন সরকার, সরকারি হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক বায়েজিদ হোসাইন, সদস্য সচিব নিহাজ অভি ডাবলু, ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ শামসুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ আহমেদ, খানমরিচ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ আবুল কালাম আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ খোকন, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মোহাম্মদ আল-আমিন হোসেন, উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মালেক, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুব রহমান সরদার, দিলপাশার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ লিয়াকত হোসেন লিটন, আসন্ন নির্বাচনে দিলপাশার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ হুমায়ুন কবির সহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। পুরস্কার ঘিরে প্রতিযোগীদের বাড়তি উৎসাহে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা কে আকর্ষণীয় করে তুলতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় নগদ অর্থ সহ বিভিন্ন পুরস্কার। ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, প্রথম স্থান অধিকারী পানশী নৌকার জন্য এক লাখ, দ্বিতীয় স্থানের জন্য ৬০ হাজার, তৃতীয় স্থানের জন্য ৩০ হাজার ও চতুর্থ স্থানের জন্য ২০ হাজার টাকা পুরস্কার নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী পানশী নৌকার জন্য রাখা হয় আকর্ষণীয় উপহার বক্স।
আয়োজকদের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, দুপুর ২ টা থেকে নৌকা বাইচের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ১৩ অক্টোবর ফাইনাল নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হবে।।

প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের জন্য রেজিষ্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল দুই হাজার টাকা। রেজিষ্ট্রেশনের শেষ সময় ছিলো ৮ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত।
রেজিষ্ট্রেশনের দায়িত্বে ছিলেন বিডি নৌকা বাইচ গ্রুপের সভাপতি জিএম শান্ত মন্ডল, উপদেষ্টা প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার ও প্রধান সমন্বয়ক মোঃ শফিকুল ইসলাম।

ঐতিহ্য রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগে নৌকা বাইচ বাংলার নদীমাতৃক জনপদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এক সময় বর্ষা মৌসুমে গ্রাম বাংলার নদী-নালা ও জলাশয়ে নৌকা বাইচ ছিল মানুষের অন্যতম প্রধান বিনোদন। সময়ের পরিবর্তনে আধুনিক বিনোদনের বিস্তারে অনেক এলাকায় এ ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। এমন পরিস্থিতিতে নৌবাড়িয়ার গুমানি নদীতে প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক পানশী নৌকা বাইচের আয়োজন স্থানীয় সংস্কৃতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
উৎসবে আসা দর্শনার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; বরং বর্তমানে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। নিয়মিত নৌকা বাইচ উৎসব আয়োজন করা হলে স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।
সব মিলিয়ে, পাবনার ভাঙ্গুড়ার নৌবাড়িয়া এলাকায় গুমানি নদীর বুকে আয়োজিত” প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক পানশী নৌকা বাইচ উৎসব–২০২৬; সিজন-১’ হয়ে ওঠে ঐতিহ্য, আনন্দ ও সম্প্রীতির এক বর্ণিল আয়োজন। গুমানি নদীর ঢেউয়ে বৈঠার ছন্দ আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় গ্রাম বাংলার চিরচেনা নৌকা বাইচের ঐতিহ্য।

প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক পানশী নৌকা বাইচ উৎসব-২০২৬; সিজন-১’ এর বাঁশি বাজিয়ে নৌকা বাইচ পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার ও মোঃ খাইরুল ইসলাম সরদার। সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় ছিলেন বিডি নৌকা বাইচ গ্রুপ।

 

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ