আজঃ মঙ্গলবার ৫ মে, ২০২৬

উন্নয়ন কার্যক্রমে শৃঙ্খলা আনতে প্রয়োজন নগর সরকার : মেয়র ডা. শাহাদাত।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন বন্দরনগরী চট্টগ্রামের উন্নয়ন কার্যক্রম, আইন-শৃঙ্খলা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশসহ সার্বিক নগর সেবা সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের জন্য নগর সরকার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন। মঙ্গলবার টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে আমেরিকান দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি মন্তব্য করেন। প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কাউন্সেলর ইরিক গিলান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফিরোজ আহমেদ।

মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়ন সেবা নিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থা বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। ফলে নগরের সার্বিক উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। একটি সংস্থা সড়ক করে, কিছুদিন পর আরেকটি সংস্থা এসে সেটি কেটে ফেলে। আবার একই প্রকৃতির প্রকল্প বিভিন্ন সংস্থা আলাদাভাবে বাস্তবায়ন করছে। এখানে যে বড় সমস্যা, তা হলো সমন্বয়হীনতা। এই সমন্বয়হীনতা কাটাতে হলে নগর সরকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া বিকল্প নেই।

তিনি জানান, নগর সরকার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি প্রধান উপদেষ্টা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অবহিত করেছেন। মেয়র বলেন, “নগর সরকার প্রতিষ্ঠা হলে মেয়রকে কিছু আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা দিলে এতে মেয়র এককভাবে সব সংস্থাকে সমন্বয় করে নগরের উন্নয়নকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে পারবেন।”

মতবিনিময়কালে প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করছি।”
তিনি জানান, চট্টগ্রামকে একটি নিরাপদ শহরে গড়ে তুলতে পুরো নগরজুড়ে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনার একটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে প্রধান সড়কগুলো এবং পরে লেন-বাইলেনগুলো পর্যায়ক্রমে সিসিটিভির আওতায় আনা হবে।

মেয়র আরও বলেন, “চট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রিন, হেলদি এবং সেফ সিটিতে পরিণত করতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে। এই লক্ষ্য সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের জন্য হেলথ কার্ড চালু, নারীদের সুবিধার্থে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ব্রেস্টফিডিং সেন্টার স্থাপন, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে পণ্য কেনার স্মার্ট কার্ড বিতরণ এবং শিশুদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে নগরজুড়ে খেলার মাঠ নির্মাণের কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জনগণের ভোটে রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত না হলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পুরোপুরি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে না। একটি নির্বাচিত সরকারই স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সাব্বির রহমান সানি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কলমাকান্দায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাতজনিত পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল এলাকা পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান।৫ মে (মঙ্গলবার) দুপুরে তিনি উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের চিকন মাটিয়া, তেলেঙ্গা ও মেদি বিলসহ দমদমা খাল এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, খারনৈ ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান, সমাজসেবক মজিবুর রহমান এবং প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইতোমধ্যে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা আরও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, “আমরা শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পাশে আছি। ভারী বৃষ্টিপাত শুরুর দিন থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনাসহ ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জিআর ক্যাশ ও চাল বিতরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আজ থেকেই এসব সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খালের পুনর্বাসন এবং কৃষকদের সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

পূর্বধলায় বকেয়া বিলের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের দেওটুকোন বাজারে বকেয়া বিল আদায়ের লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সোমবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ১১ টায় এ অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাসনীম জাহান।

পূর্বধলা জোনাল অফিসের ডিজিয়েম মোঃ শাহিনুর আলম জানান, মোট ১২ জনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর মধ্যে চারজন তাৎক্ষণিকভাবে বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার ২০ টাকা পরিশোধ করেন। বাকি আটজনের কাছে প্রায় এক লক্ষ ৪৩ হাজার ৮০২ টাকা বকেয়া ছিল।

তিনি আরও জানান, জারিয়া, ধলামুলগাঁ ও ঘাগড়া ইউনিয়নের আওতায় মোট ১৩৭টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এতে প্রায় ৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকার বেশি বকেয়া বিল আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ