আজঃ বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

এগোতে পারেনি পুলিশের বাধায় চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে স্কপের লাল পতাকা গণমিছিল

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং, কনটেইনার টার্মিনালসহ (এনসিটি) বিভিন্ন স্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে ‘লাল পতাকা গণমিছিল’ করেছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। বন্দর ভবন অভিমুখে শ্রমিকরা মিছিল নিয়ে যাবার চেষ্টা করলেও পুলিশের বাধায় তারা এগোতে পারেনি। বুধবার সকাল ১১টায় নগরীর দেওয়ানহাট মোড়ে চট্টগ্রাম জেলা স্কপের পক্ষ থেকে গণজমায়েত ও সমাবেশ শুরু হয়। এতে একাত্মতা প্রকাশ করে বাম গণতান্ত্রিক জোটভুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। সমাবেশ শেষে বেলা ১২টার দিকে বন্দর ভবন অভিমুখে মিছিল শুরু হয়। এতে স্কপের বিভিন্ন সংগঠনের কয়েক হাজার শ্রমিক-কর্মচারী অংশ নেন।

লাল পতাকা মিছিলের আগে আয়োজিত সমাবেশে স্কপভুক্ত সংগঠন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য তপন দত্ত বলেন, স্কপ ধারাবাহিকভাবে স্মারকলিপি, সংবাদ সম্মেলন, বিক্ষোভ, গণঅনশন, অবরোধ ও মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে এবং এতে জনগণের সমর্থন ক্রমেই বাড়ছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগমুহূর্তে সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ন্যূনতম অধিকার নেই। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনির্বাচিত অন্তবর্তী সরকারের এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নৈতিক বা আইনগত ভিত্তি নেই।বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ‘ইজারা’ দিলে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক ও বন্দর সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, নৌ পরিহবন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা দৈনিক আড়াই কোটি টাকা ‘ঘুষ বাণিজ্য’ হয় বলে অভিযোগ করেছেন। গত দেড় বছর আপনারা ক্ষমতায় ছিলেন, এই সময় কীভাবে ঘুষ-দুর্নীতি হয় তার জবাব জনগণকে দিতে হবে।

টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি খোরশেদুল আলম, বিএফটিইউসি চট্টগ্রাম বিভাগের যুগ্ম সম্পাদক ইজওয়ানুর রহমান খান, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের হেলাল উদ্দিন কবির।
স্কপের সংগঠক ফজলুল কবীর মিন্টু জানান, মিছিল আগ্রাবাদ বাদামতল মোড় পৌঁছার পর পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে তারা সেখানে আরেকদফা সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে কর্মসূচি শেষ করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রাজশাহীতে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহীর চারঘাটে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে উপজেলার সরদহ রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আজ বুধবার চারঘাট মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন এই দম্পতি। পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, নাটোর সদর উপজেলার ওই দম্পতি প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার বিকেলে ট্রেনে পপকর্ন বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে বের হন।

ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি শেষে রাত প্রায় ১টার দিকে তারা সরদহ স্টেশনে নামেন। পরে স্টেশনসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে বিস্কুট খাচ্ছিলেন তারা। এ সময় এক ব্যক্তি লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারী প্রথমে স্বামীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে এবং তাকে একটি পরিত্যক্ত দোকানের পাশে বেঁধে রাখে। এরপর তার স্ত্রীকে স্টেশনসংলগ্ন জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় তাদের পপকর্ন বিক্রির টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

ভুক্তভোগী স্বামী জানান, তিনি চিৎকার করলে প্রায় ৪৫ মিনিট পর আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে তিনি জঙ্গল থেকে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে অভিযুক্তের নাম আশরাফুল ইসলাম বলে জানতে পারেন। আশরাফুল চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছী জাগিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

চট্টগ্রামের বাংলাবাজারে রেলের বগিতে আগুন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের মাঝিরঘাট বাংলাবাজার এলাকায় রেলের কয়েকটি বগিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের একজন কর্মকর্তা বলেন, বারিকবিল্ডিং এলাকার পাশে এসআরবি স্টেশনে রেলের পুরাতন বগিতে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আগুন নির্বাপণে কাজ করছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ