আজঃ রবিবার ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬

বোয়ালখালীতে আহল্লা দরবার শরীফ ৩ দিন ব্যাপী ওরশ আজ শুরু

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী আহলা দরবার শরীফের প্রাণসত্তা, হাযত রওয়া মুশকিল ক্বোশা, সুলতানুল মোনাজেরীন হযরতুল আল্লামা শাহসূফি গাজী আবুল মোকারেম মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম আল কাদেরী, আল চিশতি প্রকাশ নুরী বাবা (রহ.)’র ৪৯ তম উরশ শরীফ আহলা দরবার শরীফে মহা সমারোহ ১২ ডিসেম্বর ২৭ অগ্রহায়ণ ৩ দিন ব্যাপী ওরশ আজ শুক্রবার থেকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ।

ওরশ শরীফ পরিচালনা করবেন পীরে কামেল হযরতুল আল্লামা শাহসুফি মাওলানা আলহাজ্ব সৈয়দ এ, জেড, এম সেহাবউদ্দীন খালেদ আল কাদেরী আল চিশতী (রহ)র সাহেবজাদা আহলা দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, রাহবারে তরিকত শাহসূফি সৈয়দ আবরার ইবনে সেহাব আল কাদেরী, আল চিশতি (মা,জ্বি,আ) সাহেব কেবলা।

ইতিমধ্যে ওরশের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতি বছরই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থী, ভক্ত মুরিদানের ব্যাপক সমাগম হয়। তথ্য মতে, সৈয়দ আবুল মোকাররম মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম (নূরী বাবা) আল-কাদেরী আল্-আলচিশতি (রহ:) মাইজভান্ডার শরীফের গোড়া পত্তনকারী গাউসুল আজম হযরত শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক) প্রকাশ হযরত কেবলার আধ্যাত্মিক শিষ্য আহলা দরবার শরীফের প্রাণ পুরুষ কুতুবে জমান হযরত শাহসূফি মাওলানা কাজী আজাদ আলী (ক) এর জৈষ্ঠ্য পৌত্র।

তিনি আধ্যাত্মিক দরবারে ভক্ত মুরীদের নিকট আল্লাহও বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত, জগতকুূলের জন্য মহানস্রষ্টার সর্বশ্রেষ্ঠ করুনা সৃষ্টিকুলে শিরোমণি, পাপী-তাপির ত্রাণকর্তা ,নবীকুলে শ্রেষ্ঠ প্রিয় হাবিব রাসূল পাক হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেম আদর্শ শিক্ষা দিয়ে যান। তিনি আল্লাহর দ্বীন ও তরিকতের খেদমতে নিজের পূর্ণ জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। অলি- ইল্লাহ ও মুরশিদের প্রতি ভক্তদেরকে পুনঃ পুনঃ,আদব শিক্ষা দিয়ে গেছেন।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের শেষ দিকে একবার তীব্র খরা দেখা দেয় এবং অনাবৃষ্টির কারণে গ্রামে দুর্দশা চরমে পৌঁছে। পানির অভাবে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। খাল-বিল, নদী-নালা ও পুকুর শুকিয়ে যায় এবং ক্ষেত-খামারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই যুগে গ্রামীণ এলাকায় টিউবওয়েলের ব্যবহার ছিল না, আর তাই খাল-বিল- নদী- নালা-পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় মানুষের জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়ে। কেননা, বহুল প্রচলিত একটি প্রবাদে বলা হয়েছে “পানির অপর নাম জীবন।” ঠিক এমনি এক সংকটকালে একদিন হযরত নূরী বাবা (রহ:) কধুরখীল গ্রামের এক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের জন্যে সেখানে যান। গ্রামের লোকজন হযরত নূরী বাবা (রহ:)-কে কাছে পেয়ে তাঁকে মহান স্রষ্টার প্রিয় বন্ধু জেনে তাঁর খেদমতে তাঁদের এই দুর্দশার কথা আর্জি হিসেবে পেশ করেন এবং পরম করুণাময় আল্লাহ্তা’লার দরবারে এই দুর্দশা লাঘবের জন্যে তাঁকে অসিলা করেন। হযরত নূরী বাবা (রহ:) গ্রামের জনগণকে এই বলে বোঝান যে সবই আল্লাহ্ পাকের ইচ্ছা; তিনিই মুশকিল তথা সংকট দিতে পারেন, আবার তিনিই তা আসান তথা লাঘব করতে পারেন। কেননা, সবই তাঁর ইচ্ছাধীন।

হযরত নূরী বাবা (রহ:) আরও বলেন, “একদিকে আপনারা যেমন বৃষ্টির জন্যে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করছেন, অন্যদিকে ইটের ভাটার মালিকরা অনাবৃষ্টির জন্যে খোদার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। এ বড়ই পরস্পর বিরোধী অবস্থান, পরস্পর বিরোধী স্বার্থের বিষয়।” কিন্তু ওয়াজ মাহফিলে উপস্থিত উলামায়ে কেরাম ও সমবেত শ্রোতামন্ডলীর বারংবার বিনীত অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে হযরত নূরী বাবা (রহ:) তাঁর সারগর্ভ বয়ানসমৃদ্ধ ওয়াজ শেষে মোনাজাতের সময় হযরত রসূলে করীম (দঃ) ও বুযুর্গানে দ্বীনের অসিলায় ওই অঞ্চলে বৃষ্টির জন্যে পরম করুণাময় আল্লাহতা’লার দরবারে কাতরভাবে ফরিয়াদ করেন।

আর অমনি মোনাজাত শেষ না হতেই ঝুপ ঝুপ করে মুষল ধারে বৃষ্টি নেমে এলো। উপস্থিত সবাই প্রার্থনারত অবস্থায় তাঁদের প্রাণের আকুতি পূরণ হতে দেখে চরম বিস্ময়ে বৃষ্টিতে ভিজে যাবার কথা বিস্মৃত হলেন এবং ভাবাবেগে আপ্লুত হলেন। অতঃপর মোনাজাত শেষে হযরত নূরী বাবা (রহ:) সাহেবে দাওয়াত, অর্থাৎ, যিনি তাঁকে এখানে আনার এন্তেজাম করেছিলেন, তাঁর বাড়িতে তাশরিফ নিলে ওয়াজ মাহফিলে উপস্থিত সবাই কৃতজ্ঞ চিত্তে এই মহান ওলির কাছে বায়াত হন। ইমাম যুরকানী মালেকী (রহ:) তাঁর প্রণীত বিখ্যাত আল্ মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া গ্রন্থে অসংখ্য হাদীস উদ্ধৃত করেছেন, যেগুলোতে আমরা জানতে পারি যে গাউস, আবদাল, আকতাব, নুজাবা, নুকাবা প্রমুখ ওলি-আউলিয়ার মাধ্যমে
আল্লাহ্তা’লা একটি আধ্যাত্মিক প্রশাসন জারি রেখেছেন। এই ওলি-আউলিয়ার মাধ্যমেই দুনিয়াতে বৃষ্টিপাত হয়, ফলে ফসলে মাঠ-প্রান্তর ভরে যায়, উট হৃষ্টপুষ্ট হয়, মাছ হৃষ্টপুষ্ট হয় এবং দুনিয়া থেকে বালা মসীবত দূর হয়। হযরত নূরী বাবা (রহ:)-এর এই কারামত মহানবী (দ:) এর ওই শাশ্বত বাণীর এক বাস্তব রূপ, জ্বলন্ত নজির।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

‎মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফে ‎তাযকেরা-এ-চেরাগে উম্মতে আহমদী (দঃ) মাহফিল ২০২৬ সম্পন্ন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

‎গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী প্রবর্তিত ত্বরিকার আদর্শের কিংবদন্তী পরিচর্যাকেন্দ্র জাতি-ধর্ম নির্বশেষে খোদা তালাশী বান্দাগণের মমতাময় আশ্রয় কেন্দ্র গাউসিয়া হক মঞ্জিল।‎সপ্তম “তাযকেরা-এ-চেরাগে উম্মতে আহমদী (দঃ) মাহফিল-২০২৬” এ সভাপতির বক্তব্যে মাইজভাণ্ডার শরিফ দরবারে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক মঞ্জিল’র সাজ্জাদানশীন ও ‘শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্টের ম্যানেজিং ট্রাস্টি শাহ্ সুফি সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (মা.জি.আ.) এ গুরুত্বপূর্ণ অভিমত ব্যক্ত করেন।

‎বাংলার জমিনে প্রবর্তিত একমাত্র ত্বরিকা, বিশ্বসমাদৃত ত্বরিকা “ত্বরিকা-ই-মাইজভাণ্ডারীয়া”র প্রবর্তক খাতেমুল আউলিয়া গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.)’র দ্বিশততম জস্মবার্ষিক ও ১২০তম ‘মহান ১০ মাঘ উরস শরিফ’ উপলক্ষে মাইজভাণ্ডার শরিফ ‘দরবার-ই গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী’র গাউসিয়া হক মঞ্জিল-এর ব্যবস্থাপনায় ‘মাইজভাণ্ডার শরিফ শাহি ময়দান’-এ সপ্তম “তাযকেরা-এ-চেরাগে উম্মতে আহমদী (দঃ) মাহফিল-২০২৬” গত ১৭ জানুয়ারি রোজ শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎মাওলানা মুহাম্মদ মুজিবুল হক মাইজভাণ্ডারী ও মাওলানা মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা কাযী আব্দুল আলীম রেজভী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাওলানা মোহাম্মদ জাফর উল্লাহ, মাদ্রাসা-এ-গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী’র অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ আবুল কাছেম। উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ মঈনুদ্দিন। মাইজভাণ্ডার শাহি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুহাম্মদ বশিরুল আলম মাইজভাণ্ডারী ও সাবেক খতিব আলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম ফোরকানী।

‎মাহফিলে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পর্ষদের সম্মানিত সভাপতি আলহাজ্ব রেজাউল আলী জসীম চৌধুরী, তাজকিয়ার কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আবু নাসের অন্তুু, নারায়নহাট ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আ.ও.ম. ফারুক হোসাইন, ফটিকছড়ি জামেউল উলুম ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ হুমায়ন কবির মজুমদার, মুনিরুল উলুম বারীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার আধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ফখরুদ্দীন, মহি উসুন্নাহ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আলী আজম হাশেমী, সমিতিরহাট ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস খান, নানুপুর মহিলা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আহমদ উল্লাহ, আশেকানে আউলিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রিদুয়ানুল হক।
‎‎
‎এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলার বিভিন্ন দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সহ-প্রধান, মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, মাদ্রাসা-এ-গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী এবং উম্মুল আশেকীন
‎মুনাওয়ারা বেগম এতিমখানা ও হেফজখানার শিক্ষকমণ্ডলী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ।

‎মিলাদ-কিয়াম ও তাওয়াল্লোদে গাউসিয়া পরিচালনা করেন বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) রওজা শরীফের খাদেম মাওলানা হাবিবুল্লাহ।

সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.)’র ১২০তম উরস শরিফ উপলক্ষে তাযকেরা-এ-চেরাগে উম্মতে আহমদী (দ.) মাহফিল ১৭ জানুয়ারি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলার জমিনে প্রবর্তিত একমাত্র ত্বরিকা, বিশ্ব সমাদৃত ‘ত্বরিকা-ই-মাইজভাণ্ডারীয়া’র প্রবর্তক ইমামুল আউলিয়া, খাতেমুল আউলিয়া, গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.)’র ১২০তম ‘মহান ১০ মাঘ উরস শরিফ’ উপলক্ষে তাযকেরা-এ-চেরাগে উম্মতে আহমদী (দ.) মাহফিল মাইজভাণ্ডার শরিফ শাহী ময়দানে আগামী ১৭ জানুয়ারি ২০২৬খ্রি. শনিার বা’দ আসর অনুষ্ঠিত হবে।

গাউসিয়া হক মন্জিলের ব্যবস্থাপনায় সদারত করবেন গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারীর পবিত্র রক্ত ও ত্বরিকতের উত্তরাধিকার সূত্রে এবং অছিয়ে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারীর প্রদত্ত দলিলমূলে, গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারীর রওজা শরিফের খেদমতের হকদার, তাঁর স্মৃতি বিজড়িত অনুষ্ঠান-প্রতিষ্ঠান ও শাহী ময়দান ব্যবস্থাপনার হকদার রাহ্বারে আলম হযরত শাহ্সুফি সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (মা.জি.আ.), সাজ্জাদানশীন, গাউসিয়া হক মন্জিল, দরবারে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী, মাইজভাণ্ডার শরিফ। উক্ত অনুষ্ঠানে সকলের উপস্থিতি কামনা করা হয়।

আলোচিত খবর

নির্বাচনে নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ আইজিপির।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল পুলিশ সদস্যকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাহারুল আলম। একই সঙ্গে জনবান্ধব পুলিশিং আরও শক্তিশালী করে জনগণের জান-মাল রক্ষায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।শনিবার (২৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন্সের সিভিক সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পুলিশ অফিসার ও ফোর্স সদস্যদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ প্রাক-নির্বাচনি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইজিপি।

আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় বডি-ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যা পুলিশি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করবে।তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে যে কোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও পেশাদার আচরণ বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং জনগণের প্রত্যাশিত পুলিশি সেবা সহজ ও কার্যকরভাবে দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।

এ সময় আইজিপির দিকনির্দেশনার আলোকে সকল ইউনিটকে শৃঙ্খলা, দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়। সভায় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা নির্বাচনকালীন চ্যালেঞ্জ, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং কল্যাণমূলক বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— দ্বীপ থানাসমূহের জন্য স্পিডবোট সরবরাহ, মোটরসাইকেল ক্রয়ে ঋণ সুবিধা, দ্বীপ ভাতা চালু ও বৃদ্ধি এবং নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সরকারি সুবিধা বৃদ্ধি।সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ।

সমাপনী বক্তব্য দেন অতিরিক্ত আইজিপি ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান। সভায় চট্টগ্রাম রেঞ্জ কার্যালয়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশসহ চট্টগ্রাম বিভাগের আওতাধীন ২৯টি ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন পদবীর মোট ৪৫৮ জন অফিসার ও ফোর্স সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ