বোয়ালখালীতে আহল্লা দরবার শরীফ ৩ দিন ব্যাপী ওরশ আজ শুরু

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী আহলা দরবার শরীফের প্রাণসত্তা, হাযত রওয়া মুশকিল ক্বোশা, সুলতানুল মোনাজেরীন হযরতুল আল্লামা শাহসূফি গাজী আবুল মোকারেম মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম আল কাদেরী, আল চিশতি প্রকাশ নুরী বাবা (রহ.)’র ৪৯ তম উরশ শরীফ আহলা দরবার শরীফে মহা সমারোহ ১২ ডিসেম্বর ২৭ অগ্রহায়ণ ৩ দিন ব্যাপী ওরশ আজ শুক্রবার থেকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ।

ওরশ শরীফ পরিচালনা করবেন পীরে কামেল হযরতুল আল্লামা শাহসুফি মাওলানা আলহাজ্ব সৈয়দ এ, জেড, এম সেহাবউদ্দীন খালেদ আল কাদেরী আল চিশতী (রহ)র সাহেবজাদা আহলা দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, রাহবারে তরিকত শাহসূফি সৈয়দ আবরার ইবনে সেহাব আল কাদেরী, আল চিশতি (মা,জ্বি,আ) সাহেব কেবলা।

ইতিমধ্যে ওরশের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতি বছরই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থী, ভক্ত মুরিদানের ব্যাপক সমাগম হয়। তথ্য মতে, সৈয়দ আবুল মোকাররম মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম (নূরী বাবা) আল-কাদেরী আল্-আলচিশতি (রহ:) মাইজভান্ডার শরীফের গোড়া পত্তনকারী গাউসুল আজম হযরত শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক) প্রকাশ হযরত কেবলার আধ্যাত্মিক শিষ্য আহলা দরবার শরীফের প্রাণ পুরুষ কুতুবে জমান হযরত শাহসূফি মাওলানা কাজী আজাদ আলী (ক) এর জৈষ্ঠ্য পৌত্র।

তিনি আধ্যাত্মিক দরবারে ভক্ত মুরীদের নিকট আল্লাহও বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত, জগতকুূলের জন্য মহানস্রষ্টার সর্বশ্রেষ্ঠ করুনা সৃষ্টিকুলে শিরোমণি, পাপী-তাপির ত্রাণকর্তা ,নবীকুলে শ্রেষ্ঠ প্রিয় হাবিব রাসূল পাক হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেম আদর্শ শিক্ষা দিয়ে যান। তিনি আল্লাহর দ্বীন ও তরিকতের খেদমতে নিজের পূর্ণ জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। অলি- ইল্লাহ ও মুরশিদের প্রতি ভক্তদেরকে পুনঃ পুনঃ,আদব শিক্ষা দিয়ে গেছেন।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের শেষ দিকে একবার তীব্র খরা দেখা দেয় এবং অনাবৃষ্টির কারণে গ্রামে দুর্দশা চরমে পৌঁছে। পানির অভাবে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। খাল-বিল, নদী-নালা ও পুকুর শুকিয়ে যায় এবং ক্ষেত-খামারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই যুগে গ্রামীণ এলাকায় টিউবওয়েলের ব্যবহার ছিল না, আর তাই খাল-বিল- নদী- নালা-পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় মানুষের জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়ে। কেননা, বহুল প্রচলিত একটি প্রবাদে বলা হয়েছে “পানির অপর নাম জীবন।” ঠিক এমনি এক সংকটকালে একদিন হযরত নূরী বাবা (রহ:) কধুরখীল গ্রামের এক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের জন্যে সেখানে যান। গ্রামের লোকজন হযরত নূরী বাবা (রহ:)-কে কাছে পেয়ে তাঁকে মহান স্রষ্টার প্রিয় বন্ধু জেনে তাঁর খেদমতে তাঁদের এই দুর্দশার কথা আর্জি হিসেবে পেশ করেন এবং পরম করুণাময় আল্লাহ্তা’লার দরবারে এই দুর্দশা লাঘবের জন্যে তাঁকে অসিলা করেন। হযরত নূরী বাবা (রহ:) গ্রামের জনগণকে এই বলে বোঝান যে সবই আল্লাহ্ পাকের ইচ্ছা; তিনিই মুশকিল তথা সংকট দিতে পারেন, আবার তিনিই তা আসান তথা লাঘব করতে পারেন। কেননা, সবই তাঁর ইচ্ছাধীন।

হযরত নূরী বাবা (রহ:) আরও বলেন, “একদিকে আপনারা যেমন বৃষ্টির জন্যে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করছেন, অন্যদিকে ইটের ভাটার মালিকরা অনাবৃষ্টির জন্যে খোদার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। এ বড়ই পরস্পর বিরোধী অবস্থান, পরস্পর বিরোধী স্বার্থের বিষয়।” কিন্তু ওয়াজ মাহফিলে উপস্থিত উলামায়ে কেরাম ও সমবেত শ্রোতামন্ডলীর বারংবার বিনীত অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে হযরত নূরী বাবা (রহ:) তাঁর সারগর্ভ বয়ানসমৃদ্ধ ওয়াজ শেষে মোনাজাতের সময় হযরত রসূলে করীম (দঃ) ও বুযুর্গানে দ্বীনের অসিলায় ওই অঞ্চলে বৃষ্টির জন্যে পরম করুণাময় আল্লাহতা’লার দরবারে কাতরভাবে ফরিয়াদ করেন।

আর অমনি মোনাজাত শেষ না হতেই ঝুপ ঝুপ করে মুষল ধারে বৃষ্টি নেমে এলো। উপস্থিত সবাই প্রার্থনারত অবস্থায় তাঁদের প্রাণের আকুতি পূরণ হতে দেখে চরম বিস্ময়ে বৃষ্টিতে ভিজে যাবার কথা বিস্মৃত হলেন এবং ভাবাবেগে আপ্লুত হলেন। অতঃপর মোনাজাত শেষে হযরত নূরী বাবা (রহ:) সাহেবে দাওয়াত, অর্থাৎ, যিনি তাঁকে এখানে আনার এন্তেজাম করেছিলেন, তাঁর বাড়িতে তাশরিফ নিলে ওয়াজ মাহফিলে উপস্থিত সবাই কৃতজ্ঞ চিত্তে এই মহান ওলির কাছে বায়াত হন। ইমাম যুরকানী মালেকী (রহ:) তাঁর প্রণীত বিখ্যাত আল্ মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া গ্রন্থে অসংখ্য হাদীস উদ্ধৃত করেছেন, যেগুলোতে আমরা জানতে পারি যে গাউস, আবদাল, আকতাব, নুজাবা, নুকাবা প্রমুখ ওলি-আউলিয়ার মাধ্যমে
আল্লাহ্তা’লা একটি আধ্যাত্মিক প্রশাসন জারি রেখেছেন। এই ওলি-আউলিয়ার মাধ্যমেই দুনিয়াতে বৃষ্টিপাত হয়, ফলে ফসলে মাঠ-প্রান্তর ভরে যায়, উট হৃষ্টপুষ্ট হয়, মাছ হৃষ্টপুষ্ট হয় এবং দুনিয়া থেকে বালা মসীবত দূর হয়। হযরত নূরী বাবা (রহ:)-এর এই কারামত মহানবী (দ:) এর ওই শাশ্বত বাণীর এক বাস্তব রূপ, জ্বলন্ত নজির।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নাঙ্গলমোড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নাঙ্গলমোড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ফাতেহা শরীফ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি লায়ন আলহাজ্ব সালাউদ্দিন আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নাঙ্গলমোড়া শামছুল উলুম ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব ছালেহ আহম্মদ আনসারী। প্রধান বক্তা ছিলেন হাটহাজারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে নাঙ্গলমোড়া শামছুল উলুম ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ জসিমউদ্দিন আল-কাদেরী, মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, নাঙ্গলমোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি সেলিম হাসান, অভিভাবক সদস্য তাজুল ইসলাম হৃদয় ও নেজামুল হকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া নাঙ্গলমোড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সত্যজিত বড়ুয়া, সিনিয়র শিক্ষক নুরুল আবছার, ইব্রাহিম ও হারুন রশিদসহ শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সভাপতির বক্তব্যে লায়ন আলহাজ্ব সালাউদ্দিন আলী বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ। তাঁর জীবন ছিল সত্য, ন্যায়, ইনসাফ, মানবতা, ক্ষমা, সহনশীলতা ও মহানুভবতার অনন্য দৃষ্টান্ত।তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শ ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সমাজজীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। অসহায়, দরিদ্র, বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই মহানবী (সা.)-এর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন থেকে সততা, ধৈর্য, আত্মত্যাগ, পরমতসহিষ্ণুতা, দয়া ও ক্ষমার শিক্ষা নিয়ে নতুন প্রজন্মকে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে হবে।আলোচনা সভায় বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন, কর্ম ও আদর্শের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা সমাজ থেকে অন্যায়, অবিচার, মাদক, হিংসা ও বিভেদ দূর করে মহানবী (সা.)-এর আদর্শে শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের আহ্বান জানান।


আলোচনা শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে উপস্থিত সবার মাঝে তবারক বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

মাইজভাণ্ডারী গাউছিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পর্ষদ ঘোষিত “সাংগঠনিক সংলাপ ২০২৬” অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মাইজভাণ্ডারী গাউছিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পর্ষদ ঘোষিত “সাংগঠনিক সংলাপ ২০২৬” কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর খ জোনের সাংগঠনিক সংলাপ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অত্র জোনের আওতাধীন বিভিন্ন শাখা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও দায়িত্বশীলদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সংলাপ ছিল প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ। চট্টগ্রাম মহানগর ‘খ’ জোনের সাংগঠনিক সমন্বয়কারী এডভোকেট কুতুবউদ্দিন আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পর্ষদের সভাপতি আলহাজ্ব রেজাউল আলী জসিম চৌধুরী।

উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার এবং কেন্দ্রীয় সম্মানিত সদস্য যথাক্রমে মো. আলী, মীর শফিউল আলম নিজাম, কাজী নিজাম উদ্দিন, মাকসুদুর রহমান হাসনু, আশরাফুজ্জান আশরাফ, ফজলুর হক ফজু ও নাসির উদ্দীন সহ চট্টগ্রাম মহানগরের সাংগঠনিক সমন্বয়কারী মেজবাহ উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম, শামশুল ইসলাম, বদিউর রহমান, ওমর ফারুক, আক্তার মিঞা, ফোরকান, মোকসুদুল আলম, সাজ্জাদ হোসেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, নাতে রাসুল (সা.) ও মাইজভাণ্ডারী কালাম পরিবেশন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন খ জোনের সাংগঠনিক সমন্বয়কারী মোঃ সাজ্জাদ।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ