আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

বোয়ালখালীতে আহল্লা দরবার শরীফ ৩ দিন ব্যাপী ওরশ আজ শুরু

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী আহলা দরবার শরীফের প্রাণসত্তা, হাযত রওয়া মুশকিল ক্বোশা, সুলতানুল মোনাজেরীন হযরতুল আল্লামা শাহসূফি গাজী আবুল মোকারেম মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম আল কাদেরী, আল চিশতি প্রকাশ নুরী বাবা (রহ.)’র ৪৯ তম উরশ শরীফ আহলা দরবার শরীফে মহা সমারোহ ১২ ডিসেম্বর ২৭ অগ্রহায়ণ ৩ দিন ব্যাপী ওরশ আজ শুক্রবার থেকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ।

ওরশ শরীফ পরিচালনা করবেন পীরে কামেল হযরতুল আল্লামা শাহসুফি মাওলানা আলহাজ্ব সৈয়দ এ, জেড, এম সেহাবউদ্দীন খালেদ আল কাদেরী আল চিশতী (রহ)র সাহেবজাদা আহলা দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, রাহবারে তরিকত শাহসূফি সৈয়দ আবরার ইবনে সেহাব আল কাদেরী, আল চিশতি (মা,জ্বি,আ) সাহেব কেবলা।

ইতিমধ্যে ওরশের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতি বছরই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থী, ভক্ত মুরিদানের ব্যাপক সমাগম হয়। তথ্য মতে, সৈয়দ আবুল মোকাররম মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম (নূরী বাবা) আল-কাদেরী আল্-আলচিশতি (রহ:) মাইজভান্ডার শরীফের গোড়া পত্তনকারী গাউসুল আজম হযরত শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক) প্রকাশ হযরত কেবলার আধ্যাত্মিক শিষ্য আহলা দরবার শরীফের প্রাণ পুরুষ কুতুবে জমান হযরত শাহসূফি মাওলানা কাজী আজাদ আলী (ক) এর জৈষ্ঠ্য পৌত্র।

তিনি আধ্যাত্মিক দরবারে ভক্ত মুরীদের নিকট আল্লাহও বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত, জগতকুূলের জন্য মহানস্রষ্টার সর্বশ্রেষ্ঠ করুনা সৃষ্টিকুলে শিরোমণি, পাপী-তাপির ত্রাণকর্তা ,নবীকুলে শ্রেষ্ঠ প্রিয় হাবিব রাসূল পাক হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেম আদর্শ শিক্ষা দিয়ে যান। তিনি আল্লাহর দ্বীন ও তরিকতের খেদমতে নিজের পূর্ণ জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। অলি- ইল্লাহ ও মুরশিদের প্রতি ভক্তদেরকে পুনঃ পুনঃ,আদব শিক্ষা দিয়ে গেছেন।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের শেষ দিকে একবার তীব্র খরা দেখা দেয় এবং অনাবৃষ্টির কারণে গ্রামে দুর্দশা চরমে পৌঁছে। পানির অভাবে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। খাল-বিল, নদী-নালা ও পুকুর শুকিয়ে যায় এবং ক্ষেত-খামারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই যুগে গ্রামীণ এলাকায় টিউবওয়েলের ব্যবহার ছিল না, আর তাই খাল-বিল- নদী- নালা-পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় মানুষের জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়ে। কেননা, বহুল প্রচলিত একটি প্রবাদে বলা হয়েছে “পানির অপর নাম জীবন।” ঠিক এমনি এক সংকটকালে একদিন হযরত নূরী বাবা (রহ:) কধুরখীল গ্রামের এক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের জন্যে সেখানে যান। গ্রামের লোকজন হযরত নূরী বাবা (রহ:)-কে কাছে পেয়ে তাঁকে মহান স্রষ্টার প্রিয় বন্ধু জেনে তাঁর খেদমতে তাঁদের এই দুর্দশার কথা আর্জি হিসেবে পেশ করেন এবং পরম করুণাময় আল্লাহ্তা’লার দরবারে এই দুর্দশা লাঘবের জন্যে তাঁকে অসিলা করেন। হযরত নূরী বাবা (রহ:) গ্রামের জনগণকে এই বলে বোঝান যে সবই আল্লাহ্ পাকের ইচ্ছা; তিনিই মুশকিল তথা সংকট দিতে পারেন, আবার তিনিই তা আসান তথা লাঘব করতে পারেন। কেননা, সবই তাঁর ইচ্ছাধীন।

হযরত নূরী বাবা (রহ:) আরও বলেন, “একদিকে আপনারা যেমন বৃষ্টির জন্যে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করছেন, অন্যদিকে ইটের ভাটার মালিকরা অনাবৃষ্টির জন্যে খোদার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। এ বড়ই পরস্পর বিরোধী অবস্থান, পরস্পর বিরোধী স্বার্থের বিষয়।” কিন্তু ওয়াজ মাহফিলে উপস্থিত উলামায়ে কেরাম ও সমবেত শ্রোতামন্ডলীর বারংবার বিনীত অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে হযরত নূরী বাবা (রহ:) তাঁর সারগর্ভ বয়ানসমৃদ্ধ ওয়াজ শেষে মোনাজাতের সময় হযরত রসূলে করীম (দঃ) ও বুযুর্গানে দ্বীনের অসিলায় ওই অঞ্চলে বৃষ্টির জন্যে পরম করুণাময় আল্লাহতা’লার দরবারে কাতরভাবে ফরিয়াদ করেন।

আর অমনি মোনাজাত শেষ না হতেই ঝুপ ঝুপ করে মুষল ধারে বৃষ্টি নেমে এলো। উপস্থিত সবাই প্রার্থনারত অবস্থায় তাঁদের প্রাণের আকুতি পূরণ হতে দেখে চরম বিস্ময়ে বৃষ্টিতে ভিজে যাবার কথা বিস্মৃত হলেন এবং ভাবাবেগে আপ্লুত হলেন। অতঃপর মোনাজাত শেষে হযরত নূরী বাবা (রহ:) সাহেবে দাওয়াত, অর্থাৎ, যিনি তাঁকে এখানে আনার এন্তেজাম করেছিলেন, তাঁর বাড়িতে তাশরিফ নিলে ওয়াজ মাহফিলে উপস্থিত সবাই কৃতজ্ঞ চিত্তে এই মহান ওলির কাছে বায়াত হন। ইমাম যুরকানী মালেকী (রহ:) তাঁর প্রণীত বিখ্যাত আল্ মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া গ্রন্থে অসংখ্য হাদীস উদ্ধৃত করেছেন, যেগুলোতে আমরা জানতে পারি যে গাউস, আবদাল, আকতাব, নুজাবা, নুকাবা প্রমুখ ওলি-আউলিয়ার মাধ্যমে
আল্লাহ্তা’লা একটি আধ্যাত্মিক প্রশাসন জারি রেখেছেন। এই ওলি-আউলিয়ার মাধ্যমেই দুনিয়াতে বৃষ্টিপাত হয়, ফলে ফসলে মাঠ-প্রান্তর ভরে যায়, উট হৃষ্টপুষ্ট হয়, মাছ হৃষ্টপুষ্ট হয় এবং দুনিয়া থেকে বালা মসীবত দূর হয়। হযরত নূরী বাবা (রহ:)-এর এই কারামত মহানবী (দ:) এর ওই শাশ্বত বাণীর এক বাস্তব রূপ, জ্বলন্ত নজির।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গাউসিয়া হক কমিটি সূর্যগিরি আশ্রম শাখার উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নাজিরহাট প্রতিনিধি: মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ সূর্যগিরি আশ্রমের উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বিকালে উপজেলা সদরে সূর্যগিরি আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ লায়ন ডা. বরুণ কুমার আচার্য বলাইয়ের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ফটিকছড়ি থেকে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সরোয়ার আলমগীর।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, সাবেক চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন কাঞ্চন, মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুল আলম চৌধুরী, নাজিম উদ্দিন শাহীন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মো. জালাল উদ্দিন চৌধুরী, মোজাহারুল ইকবাল লাভলু, এন এম রহমত উল্লাহ, সংগঠনের সভাপতি ধীমান দাশ, সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ বৈদ্য, উপদেষ্টা ড. তরুণ কুমার আচার্য্য, কেন্দ্রীয় পর্ষদের সভাপতি বিপ্লব চৌধুরী কাঞ্চন, সাধারণ সম্পাদক টিটু চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুবেল শীল, আহমেদ এরশাদ খোকন, সাংবাদিক জিপন উদ্দিন, শিমুল পাল, বিজন শীল, ঝুমুর সর্দ্দার, মিন্টু দাশ গুপ্ত, সুল্বভ দত্ত, কৃপাঞ্জন আচার্য, সোনা রাম আচার্য, উপদেষ্টা নারায়ন আচার্য। সংগঠনের দুই সদস্যকে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।

মাভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি চাতুয়া শাখার ইফতার মাহফিল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ দুবাই চাতুয়া শাখা (প্রস্তাবিত) হক কমিটির এর উদ্যোগে সোমবার ৯ মার্চ বাদ-এ আছর দুবাইয়ের চাতুয়ায় কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে পবিত্র ইফতার ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ বদিউল আলম বদির সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দীন অনিকের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মুহাম্মদ হাসান রেজা আল কাদেরী (মা.জি.আ.)।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব মওলানা মুহাম্মদ দিদারুল আলম কেন্দ্রীয় সদস্য, মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেলিম উদ্দিন উপদেষ্টা আজমান শাখা ও উপদেষ্টা কাজী ফয়জুল ইসলাম করিম দুবাই হামরিয়া শাখা ও ব্যবসায়ী আবদুর রহিম।

এতে শত শত আশেকে রাসুল (সাঃ) ও আশেকে মাইজভান্ডারীর উপস্হিতিতে বক্তারা বলেন, ইহকালের শান্তি ও পরকালের মুক্তির জন্য যুগে যুগে আল্লাহর অলিদের আগমন ঘটে পরিশেষে মহান মালিক হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভান্ডারীর যে মিশন হুক্কুল লা হুক্কুল ইবাদত ধারণ করে মানবতার কল্যাণে নিয়োজিত রাখার আহবান জানান।

অত্র কমিটির সিনিয়র সভাপতি এরশাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজান, প্রচার সম্পাদক রাশেদ, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক কামরুল সহ চাতুয়াপার্কিংয়ে কর্মরত প্রবাসী ভাইদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রধান আলোচকের আখেরী মুনাজাত ও ইফতার ও তরারুক বিতরণের মধ্য দিয়ে মাহফিলের সমাপ্তি ঘটে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ