আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

এসএসসি ’৯১ চট্টগ্রাম ক্লাব লিমিটেড’র দ্বিতীয় বর্ষপূতি।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


দীর্ঘ ৩৪ বছর পর আবার একসঙ্গে। চুলে পাক ধরা, বয়সের ভার কাঁধে, তবুও চোখে সেই স্কুলজীবনের চেনা উ”ছ¡াস। বন্ধুত্ব যে সময়ের কাছে হার মানে না, তারই জীবন্ত প্রমাণ হয়ে থাকল এসএসসি ’৯১ চট্টগ্রাম ক্লাব লিমিটেড–এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন। চট্টগ্রামের বন্ধুদের সম্মিলিত উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই ক্লাবের দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন গত শনিবার ঐতিহ্যবাহী চিটাগাং ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়।

বর্তমানে বিপুল সংখ্যক সদস্য নিয়ে এগিয়ে চলা এই সংগঠনটি কেবল একটি ক্লাব নয় এটি ৩৪ বছরের স্মৃতি, আবেগ আর নির্ভেজাল বন্ধুত্বের এক দৃঢ় বন্ধন। অনেকের বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি, কেউ কেউ পঞ্চাশ পেরিয়েছেন, তবু একে অপরকে দেখে সবাই ফিরেগেলেন কৈশোরের সেই দিনগুলোতে। ১২ ঘন্টার অনুষ্ঠানে ফুটে উঠে ৩৪ বছরের পুরোনো স্মৃতি।

সকাল ৯টায় সদস্যদের আগমন, গিফট ও কূপন সংগ্রহের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের প্র¯‘তি শুরু হয়। সকাল ১০টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, পবিত্র গীতা পাঠ ও ত্রিপিটক পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। মিলনমেলায় সম্প্রীতি ও মানবিকতার এক অনন্য বার্তা বহন করে। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ হয় দেশপ্রেমের আবহ।

এরপর প্রয়াত বন্ধুদের স্মরণে শোক প্রস্তব উপ¯’াপন, মোনাজাত ও নিরবতা পালন করা হয়। এই মুহূর্তে অনেকের চোখ ছলছল করে ওঠে কারণ বন্ধুত্বের পথচলায় কেউ কেউ আর ফিরে আসেননি।

এর পর স্বে”ছাসেবক প্যানেল ও উপদেষ্টা পরিষদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। আহবায়ক ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আলো শুভে”ছা বক্তব্য রাখেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বন্ধুত্বের শক্তি, সময়ের মূল্য এবং সবাইকে একত্রে রাখার প্রত্যয়।

তার বক্তব্যের পর শুরু হয় বন্ধুদের স্মৃতিচারণ পর্ব। বহুদিন পর একে অপরের সামনে দাঁড়িয়ে কেউ হারিয়ে যাওয়া স্কুলজীবনের গল্পে ফিরে যান, কেউ আবার নীরবে চোখের কোণে জমে ওঠা অশ্রু লুকিয়ে রাখেন। ছবি তোলা, কাঁধে হাত রেখে আড্ডা আর প্রাণখোলা হাসিতে পুরো মিলনমেলা মুহূর্তেই হয়ে ওঠে স্মৃতির এক জীবন্ত অ্যালবাম যেখানে সময়ের সব দূরত্ব মুছে যায়।

এরপর শুরু হয় দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক আয়োজন। প্রথম পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন পারভেজ, বিশ্বজিৎ, শেখ মো. শহিদুজ্জামান ও লিংকন। বন্ধু সুজন দেবের কন্যা অনন্যা দেব প্রাচীরের একক নৃত্য পরিবেশনা উপ¯ি’ত সবাইকে মুগ্ধ করে। বান্ধবীদের সংগীত পরিবেশন করেন ফাতেমা জোহরা, ফেন্সি, মৌসুমী ও নিপু।

মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর বিকেলজুড়ে শুরু হয় একের পর এক মনোজ্ঞ পরিবেশনা। রতœার বিশেষ পারফরম্যান্স, বন্ধু ওসমানের একক গান, অতিথি বন্ধু হাসান ফারুক (জিপিডি)-এর বক্তব্য। ঢাকা থেকে আগত এসএসসি ’৯১ ব্যাচের খ্যাতিমান শিল্পীরা উত্তম, হিমেল, সুজন, আসাদ, লিটনসহ অনেকেই তাঁদের কণ্ঠে গানের মায়াজাল ছড়ান। জুনি চাকমার ডুয়েট পারফরম্যান্স ছিল চোখ ধাঁধানো।বিকেলে পাহাড়ি নৃত্য, একক সংগীত ও বান্ধবীদের বিশেষ পরিবেশনায় পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে বৈচিত্রময়য় ও প্রাণবন্ত। ঢাকার বন্ধু সোনিয়া ববির পারফরম্যান্স, অতিথি শিল্পী সুইটি ও পপির মনমাতানো গানের আসর মিলনমেলার আবেগকে আরও গভীর করে তোলে।

এই বর্ষপূর্তি আয়োজনে সারা বাংলাদেশ থেকে সাড়ে ৮শত বন্ধু রেজিস্ট্রেশন করেন, প্রায় সকলে উপ¯ি’ত ছিলেন। সবচেয়ে বেশি বন্ধু উপ¯ি’ত ছিলেন চন্দনাইশ, রাঙ্গুনিয়া, মিরশ্বরাই ও পটিয়া থেকে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রণকারী সবাইকে টি-শার্ট, আকর্ষণীয় ব্যাগ, চার রঙের স্মরণীয় স্যুভেনির, কলম ও ব্যাজ উপহার দেওয়া হয়।

পুরো অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেন সাখাওয়াত হোসেন সাজ্জাদুল ইসলাম চৌধুরী, তত্ত্বাবধানে ছিলো গোফরান উদ্দিন, নুরউদ্দিন, মোহাম্মদ ইকবাল শহীদুল ইসলাম, মঈনুল ইসলাম, ইদ্রিস মিয়া, জাহানারা বেবী, সুজন দেব, শামসুন্নাহার, সাখাওয়াত সাজিদ, শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ, রাশেদ মীর, মোহাম্মদ নুরুল আবছার, সৈয়দ মোহাম্মদ খালেদ, রাজেশ চক্রবর্তী, মোহাম্মদ আনোয়ার, মঈনুল আহসান আলী, আহসান জামান, শারমিন সুলতানা, তানজিনা তৃষা, রোজিনা রোজী, এড. দিলরুবা লিজা, এড. কানিজ কাউসার রীমা, শিমু চৌধুরী, মোহাম্মদ ফারুক, নোমান সোহেল, মফিজ উল্লাহ,পলাশ বড়ুয়া, আরিফ উল ইসলা,ডাঃ মঈনুদ্দীন ইলিয়াস। ব্যারিষ্টার এস এম কফিল উদ্দিন ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কাকলি।

রাতে র‌্যাফেল ড্র এবং প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেনের সমাপ্তি বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।এই আয়োজন প্রমাাণ করেছে বয়স বাড়ে, সময় বদলায়, কিš‘ বন্ধুত্ব কখনো পুরোনো হয় না। ৩৪ বছর পর আবার একসঙ্গে বসে হাসি, গল্প করা আর স্মৃতিতে ডুবে যাওয়া এসএসসি ’৯১ চট্টগ্রাম ক্লাব লিমিটেডের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি হয়ে থাকল জীবনের পাতায় লেখা এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ