আজঃ রবিবার ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (চবিসাস) ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সত্যের দীপ্ত সাহসে, চবিসাস তিন দশকে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় চাকসু ভবন থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক পর্ব শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি শহীদ মিনার ও প্রশাসনিক ভবন প্রদক্ষিণ করে মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউটে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্যবৃন্দ, চাকসুর প্রতিনিধি, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও ক্লাবের নেতৃবৃন্দ এবং চবিসাসের সদস্যরা। এরপর বেলা ১০টায় মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে চবিসাসের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ শুভ্রের সঞ্চালনায় ও চবিসাস সভাপতি জানে আলমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন।এতে ‘গণমুখী সাংবাদিকতার প্রত্যাশা: রাষ্ট্র, সমাজ ও সাংবাদিকের দায়-দায়িত্ব’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চবির যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোরশেদুল ইসলাম।
উপাচার্য ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকাডেমিক পরিবেশ সুন্দরভাবে বিরাজ করছে। সাংবাদিকরা যেন বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে কাজ করেন। চবিসাসের সাংবাদিকরা জাতীয় পর্যায়েও ভালোভাবে কাজ করছে। চবিসাস একটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের মতো; এখান থেকে বেরিয়ে অনেক সাংবাদিক ভালোভাবে কাজ করছে।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন বলেন, রাষ্ট্রকে সঠিক পথে রাখার জন্য সাংবাদিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিগত সময়ে দেশকে ধ্বংস করার জন্য কিছু ফ্যাসিবাদী সাংবাদিকও জড়িত ছিল। প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে; সত্য অনুসন্ধান করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে হবে।
অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, চবিসাসের ভূমিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গভর্ন্যান্সে অনন্য। চবিসাসের সদস্যরা বাংলাদেশের মিডিয়া জগতে পরিবর্তনের জন্য ব্যাপকভাবে কাজ করছে। প্রশাসন ও সাংবাদিকের বক্তব্য যখন মিলে যায়, তখন সেটিকে সাংবাদিকতা বলা যায় না। সাংবাদিকদের শুধু নেতিবাচক নয়, ইতিবাচক খবরও করতে হবে।

চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সাংবাদিকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সংগঠন ও ক্লাবকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। নিরপেক্ষতা বজায় রেখে পেশাদারিত্ব রক্ষা করতে হবে। বিগত সময়ে চবিসাস যেভাবে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হয়েছে, আগামীতেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে।
চবিসাস সভাপতি জানে আলম বলেন, বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পেরিয়ে চবিসাস আজ তিন দশকে পদার্পণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর গৌরবময় শুভেচ্ছা। বিভিন্ন সমস্যা ও অসংগতির তথ্য দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করবেন। চবিসাস সদস্যদের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকলেও তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চবির

সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী, চবিসাসের সাবেক সভাপতি ও যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাহাব উদ্দিন নিপু, একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী, ছাত্র উপদেষ্টা আনোয়ার হোসেন এবং অতীশ দীপঙ্কর হলের প্রভোস্ট এজিএম নিয়াজ উদ্দিন প্রমুখ।এছাড়া উপস্থিত ছিলেন চাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ক্রীড়ার জন্য বাংলাদেশ বিশ্বে পরিচিত : চবি উপাচার্য।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বুধবার সকাল ১০টায় চবি কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে উদ্বোধন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও চবি কেন্দ্রীয় ক্রীড়া কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন।উদ্বোধনকালে চবি উপাচার্য শিক্ষার্থীদের মোবাইলে আসক্ত না হয়ে খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সহ-শিক্ষা কার্যক্রমকে আমরা সব সময় উৎসাহিত করি। খেলাধুলা এর মধ্যে অন্যতম। খেলাধুলা করলে মন-মানসিকতা ভালো থাকবে। তিনি বলেন, ক্রীড়ার জন্য বাংলাদেশ বিশ্বে পরিচিত।

এজন্য শুধু আজকের দিনে নয়, সব সময় শরীরচর্চা, খেলাধুলায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের নিয়োজিত রাখবে প্রত্যাশা করি।আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন চবি ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী ও আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মু. জাফর উল্লাহ তালুকদার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চবি সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মান্নান। অনুষ্ঠানে চবি শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাবিবুর রহমান জালাল উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীতের সুরের মূর্ছনায় উপাচার্য জাতীয় পতাকা, উপ-উপাচার্যদ্বয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা, ব্যবসায় প্রশাসন ও আইন অনুষদের ডিন ও শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অলিম্পিক পতাকা এবং সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট হল পতাকা উত্তোলন করেন। মশাল হাতে মাঠ প্রদক্ষিণ করেন হলের কৃতী ক্রীড়াবিদ রাকিব হাসান রাজু। বিচারকদের পক্ষে প্রফেসর ড. আবু নছর মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ এবং ক্রীড়াবিদদের পক্ষে হলের কৃতী ক্রীড়াবিদ কবির হাসান শুভকে উপাচার্য শপথ বাক্য পাঠ করান।

সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষক ড. মো. আবুল বাশারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় ক্রীড়াবিদদের মার্চপাস্ট। হলের পতাকা বহন করেন হলের কৃতী ক্রীড়াবিদ মো. নুরুন্নবী সোহান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সোহরাওয়ার্দী হল সংসদের ভিপি নেয়ামত উল্লাহ ফারাবী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাকিব আহমেদ ও সোনিয়া পারভীন লাকি । প্রথম ইভেন্ট ১০০ মিটার স্প্রিন্ট প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যদ্বয় পুরষ্কার বিতরণ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে চবি বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, বিভিন্ন হলের প্রভোস্টবৃন্দ, প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, চবি ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা কেন্দ্রের পরিচালক, সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষকবৃন্দ, চাকসুর প্রতিনিধিবৃন্দ, সোহরাওয়ার্দী হল সংসদের ভিপি, জিএসসহ অন্যান্য প্রতিনিধিবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের সভাপতি, ইনস্টিটিউট ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালকবৃন্দ, অফিস প্রধানবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, ক্রীড়ামোদী শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং সূধীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে (ইউএপি) নিকাব পরা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার জেরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে দুই শিক্ষককে বহিষ্কার করার পর এবার অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের সই করা একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানাচ্ছে যে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য অনুকূল নয়।

আলোচিত খবর

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার রায় পেয়েছে বাংলাদেশ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার রায় পেয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত কানাডাভিত্তিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাইকোকে বাংলাদেশ সরকারকে ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিডি/ICSID)-এর ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।


জ্বালানি সচিব বলেন, বাংলাদেশ এই মামলায় প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। প্রাপ্ত অর্থ সেই দাবির তুলনায় অনেক কম। রায়ের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালের ১৬ অক্টোবর টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে খনন ও উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব পায় কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকো।

পরবর্তীতে নাইকোর পরিচালনাধীন অবস্থায় টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি এবং একই বছরের ২৪ জুন গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দুটি মারাত্মক বিস্ফোরণ হয়। এসব বিস্ফোরণের ফলে বিপুল পরিমাণ মজুদ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের অবকাঠামো, পরিবেশ ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র কার্যত অচল হয়ে পড়ে, যা দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ