চট্টগ্রামে পুলিশ ছাড়া অন্য কোনো বাহিনী থাকবে না: সিএমপি কমিশনার

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীতে পুলিশ ছাড়া অন্য কোনো বাহিনী বা সন্ত্রাসী গ্রুপ থাকতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার ও অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ।
বৃহস্পতিবার ১৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের কর্ণফুলী হলে সিএমপি কমিশনারের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


তিনি বলেছেন- সাজ্জাদ বাহিনী, লাল্টু বাহিনী, পল্টু বাহিনী এই সমস্ত বাহিনীকে নির্মূল করতে হবে। চট্টগ্রাম মহানগরীতে পুলিশ বাহিনী ছাড়া অন্য কোনো বাহিনী থাকতে পারবে না। এব্যাপারে প্রয়োজনে চরম পন্থা অবলম্বন করতেও আমি বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করব না।


তিনি বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে সাঁড়াশি অভিযান চলমান রয়েছে। এই অভিযানটা আমরা আরো তিন-চার মাস আগেই শুরু করেছি। নির্বাচন সংক্রান্ত নানা রকমের চ্যালেঞ্জ আছে, চ্যালেঞ্জগুলো কিন্তু এখন মোটামুটি দৃশ্যমান। আমরা বুঝতে পারছি কোন কোন জায়গা থেকে কি কি ধরনের ঝুঁকি আমাদের উপর আসতে পারে। ঝুঁকির বিষয়টি ঢাকায় দেখলাম, চট্টগ্রামে দেখলাম, খুলনায় দেখছি। বিতাড়িত স্বৈরাচারের যারা কুচক্রী এবং দুর্বৃত্ত, যারা দোসর এবং তাদের যে বিদেশী প্রভু, তারা চেষ্টা করছে কিন্তু এখানে অনেক রকমের সহিংস ঘটনা ঘটিয়ে বাংলাদেশে যে নির্বাচনটা হতে না দেওয়া এবং একটা পর্যায়ে বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা। বিতাড়িত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ এবং তাদের বিদেশী প্রভু যারা আছে, তাদের এই প্রচেষ্টাকে আমাদেরকে নস্যাৎ করতে হবে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, যেকোনো রাষ্ট্র তিনটা পিলারের ওপরে দাঁড়িয়ে থাকে। একটি নির্বাহী বিভাগ, একটি বিচার বিভাগ আরেকটি হচ্ছে সার্বভৌম সংসদ। এই তিনটা বিভাগের মধ্যে একটি ভারসাম্যমূলক অবস্থান তৈরি করে এবং এই ভারসাম্যমূলক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে একটি রাষ্ট্র টিকে থাকে। পরবর্তীকালে বলা হলো, এর বাইরেও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ, সেটা হচ্ছে মিডিয়া।

এই যে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গগুলো আছে, এগুলো যদি একটা অ্যালাইনমেন্টে থাকে, পরস্পর পরস্পরের সাথে এক হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রব্যবস্থার যে কতখানি বিপর্যয় হয় সেটা কিন্তু গত ১৭ বছরে দেখেছি। সাধারণ প্রশাসন, বিচারালয়, পুলিশ, সাংবাদিক, সব একটা অ্যালাইনমেন্টে চলে আসছিল। একটা অ্যালাইনমেন্টে তাদেরকে নিয়ে আসা হয়েছিল, রুলিং পার্টি নিয়ে এসেছিল আওয়ামী লীগ। তার ফলে রাষ্ট্র ব্যবস্থাটা একটা বিপর্যয়ের মুখে পড়লো। আওয়ামীপন্থী প্রশাসন, আওয়ামীপন্থী বিচারক, আওয়ামীপন্থী পুলিশ, আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক সব এক অ্যালাইনমেন্টে। কি হলো? শেষমেশ একটা ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম হলো।
পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে সিএমপি কমিশনার জানান, লুণ্ঠিত অস্ত্রের ৮০ শতাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ২০ শতাংশ অস্ত্র পাহাড়ি এলাকার বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপের হাতে চলে গেছে বলে তথ্য রয়েছে। তবে নির্বাচনের আগে এসব অস্ত্র উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে।

মতবিনিময় সভায় সম্মানীত অতিথি হিসেবে একুশে পদকপ্রাপ্ত ও দৈনিক আজাদী পত্রিকার সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, জনগণের একটা ভীতি থাকে, এই যে পুলিশ ভীতি যেটা, সেটাকে আমাদের মন থেকে দূর করে আমরা যাতে তাদের কাছে গিয়ে সমাজকে কিছু দিতে পারি এবং ভীতিটা দূর করে সমাজে যে সমস্ত রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে সমস্ত অপকর্ম হচ্ছে, সেগুলির ইনফরমেশনটা দিতে পারেন। ইনফরমেশনটা দিলেই কিন্তু পুলিশ গিয়ে সেখানে দেখবে এবং সেখানে তার প্রতিকার করার যে ব্যবস্থা সেটা ওনারা করতে পারেন। কারণ সব জায়গায় গিয়ে, পুরো শহরে আসলে ওনাদের পক্ষে গিয়ে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। আমার মনে হয় এইদিকে আমাদের আরেকটু মনোযোগী হওয়া উচিত।


চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মিয়া মো. আরিফ। চ্যানেল ওয়ানের ব্যুরো প্রধান মো. শাহনেওয়াজ রিটনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডেইলি পিপলস ভিউ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. হুমায়ুন কবির, প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম, ক্লাবের কার্যকরী সদস্য ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান ও রফিকুল ইসলাম সেলিম।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সংস্কারবঞ্চিত সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের আওতায় আনা হচ্ছে: চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর উন্নয়নকাজে গতি আনতে সরেজমিনে তদারকি অব্যাহত রেখেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়কের চলমান কার্পেটিং কাজ পরিদর্শন করেছেন তিনি।

পরিদর্শনকালে মেয়র সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং কার্পেটিং কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজে গুণগত মান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

দীর্ঘদিন সংস্কারের অপেক্ষায় থাকা অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়কের উন্নয়নকাজ এগিয়ে যাওয়ায় এ পথে চলাচলকারী নগরবাসীর দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। কার্পেটিং কাজ শেষ হলে সড়কটি দিয়ে চলাচল আরও স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করাই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘদিন সংস্কারবঞ্চিত সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের আওতায় আনা হচ্ছে। কাজের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকবে। নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে আমরা মাঠে থেকে কাজের অগ্রগতি তদারকি করছি।

কার্পেটিং কাজ শেষ হলে অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়ক ব্যবহারকারী বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াতে স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ার পাশাপাশি নগরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা, অস্বস্তিতে ক্রেতারা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্রগ্রামে নিত্যপণ্যের বাজারে চলছে অস্থিরতা। চাল-ডাল-তেলসহ সব ধরনের শাক-সবজির বাজারে এখনও স্বস্তি ফেরেনি। বাজারে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠেছে সীমিত আয়ের মানুষের।নগরীর কর্ণফুলী মার্কেট, রিয়াজ উদ্দিন বাজার, কাজির দেউড়ি, চকবাজার ও ২ নম্বর গেইট কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বরবটির দাম গত সপ্তাহের ৮০ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ১২০ টাকা হয়েছে, কেজিতে ৪০ টাকা বেড়েছে। বেগুন গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ১৪০ টাকা, অর্থাৎ ২০ টাকা বেড়েছে। শিমের কেজি ২০০ থেকে ২১০; যা কিছুদিন আগেও ১৮০ থেকে ২০০ ছিল। কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। গত সপ্তাহে শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৮০ টাকা। কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। গাজর গত সপ্তাহের মতোই ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ঝিঙে ও করলার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পটলের দামও গত সপ্তাহের সর্বনিম্ন দামের তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
রিয়াজউদ্দিন বাজারের সবজি বিক্রেতা শামসুল আলম বলেন, সবজির দাম প্রতিদিন একরকম থাকে না। পাহাড়তলী আড়তে সরবরাহ ও কেনা দামের ওপর নির্ভর করে খুচরা বাজারে দাম কিছুটা ওঠানামা করে।
বহদ্দারহাট বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, বাজারে সবজির দাম এখনও পুরোপুরি সহনীয় পর্যায়ে আসেনি। একসঙ্গে কয়েক ধরনের সবজি কিনতে গেলে মোট খরচ বেশ বেড়ে যাচ্ছে।

এদিকে পাঙাশ প্রতি কেজি ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে চিংড়ির কেজি ৮০০ থেকে ৯০০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
রিয়াজউদ্দিন বাজারের মাছ বিক্রেতা জুয়েল শেখ বলেন, আড়তে মাছের দাম বেশি থাকায় আমাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পরিবহন ও অন্যান্য খরচও রয়েছে। তাই খুচরা বাজারে মাছের দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে বাজারে অনেকটা চড়া দামে ফার্মের মুরগি ও ডিম বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিমের দাম ১৫০ টাকা।

চকবাজারের ডিম বিক্রেতারা জানান, ডিমের দাম কয়েকদিন ধরে প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে। পাইকারি বাজারে দাম খুব একটা কমছে না। গত পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও গরমে অনেক খামারে ডিম পাড়া ও ব্রয়লার মুরগির সংখ্যা কমেছে। এতে সার্বিকভাবে সরবরাহে ঘাটতি থাকায় ডিম-মুরগির দাম কমছে না।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ