আজঃ শুক্রবার ৬ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামে ৯ শতাধিক রোভার স্কাউটস সদস্যের মিলনমেলা।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম জেলা রোভার মুট শুরু শনিবার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৯তম চট্টগ্রাম জেলা রোভার মুট। আগামী ২০-২৪ ডিসেম্বর রোভার মুটে চট্টগ্রাম ও আশপাশের জেলার ৯ শতাধিক রোভার স্কাউটস সদস্য, শতাধিক কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবকসহ প্রায় সহস্রাধিক মানুষের মিলনমেলা বসবে। এবার মুটের থিম নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘দক্ষতার দীক্ষা নিয়ে, রোভার চলে নির্ভয়ে। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম কলেজের রেড বিল্ডিংয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মুট চিফ প্রফেসর মো. ফজলুল কাদের চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন, বোরহান উদ্দিন, ওমর ফারুক, নইম উদ্দিন হাসান, সাংবাদিক আরিচ আহমদ শাহ, মোরশেদ তালুকদার প্রমুখ।

প্রফেসর মো. ফজলুল কাদের চৌধুরী জানান, রোভার মুট মূলত রোভার স্কাউটদের মিলন মেলা। এ মিলন মেলায় কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাদ্রাসার রোভার স্কাউটস ও গার্ল-ইন রোভার সদস্যরা একে অপরের সাথে পারস্পরিক সহমর্মিতা, সৌহার্দ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করবে। রোভার স্কাউটরা প্রকৃতির সান্নিধ্যে থেকে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, আত্মনির্ভরতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার শিক্ষা গ্রহণ করবে। এটি তারুণ্যের শক্তি, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের এক বিশাল মিলনমেলা।

তিনি বলেন, স্কাউটিংয়ের মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিশু, কিশোর ও যুবাদের শারীরিক, মানসিক, নৈতিক, বুদ্ধিভিত্তিক এবং সামাজিক গুণাবলি উন্নয়নের মাধ্যমে পরিবার, সমাজ, দেশ তথা বিশ্বের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। স্কাউট কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো হাতে কলমে শেখা। ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে তারা জীবন-দক্ষতা-ভিত্তিক কার্যক্রম আনন্দ চিত্তে শেখার সুযোগ পায়। শিশু, কিশোর ও যুব বয়সী ছেলে মেয়েদের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দায়িত্বশীল সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি সহ-শিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে স্কাউটিং বিশ্বব্যাপি সর্বজন স্বীকৃত একটি শিক্ষামূলক আন্দোলন।

আজকের তরুণ প্রজন্ম প্রযুক্তি নির্ভর জীবনে অভ্যন্ত কিন্তু বাস্তব জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজন মানসিক দৃঢ়তা, সহনশীলতা ও মানবিক সংযোগ, যা কেবল ভার্চুয়াল জগত দিয়ে অর্জন সম্ভব নয়। রোভার মুটে অবস্থানকালে তরুণ-তরুণীরা বিরূপ পরিবেশ ও সীমিত সম্পদের মধ্যেও টিকে থাকার কৌশল আয়ত্ত করে, দলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করবে এবং ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে ওঠে বৃহত্তর কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা অর্জন করে বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

তিনি বলেন, রোভার মুটে সকল কার্যক্রম সাব-ক্যাম্প ভিত্তিক অনুষ্ঠিত হবে। চারটি সাব-ক্যাম্পে নিম্নোক্ত ১৫ টি টার্গেটের মাধ্যমে মুট প্রোগ্রামকে সাজানো হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – সানরাইজ স্ট্রাইডসক্যাম্প, ক্রাফট অ্যান্ড কেয়ার, ইয়ুথ ভয়েস, এ্যাক্সপ্লোরার্স ট্রেইল, ফান ফেস্ট, সার্ভাইভার স্কিল সামিট, ক্যারিয়ার কম্পাস, ডিজাস্টার অ্যান্ড রেসকিউ, স্পিরিচুয়াল নাইট, ফ্লেমস অফ ফেস্টিভিটি, নবান্ন উৎসব, তথ্য চিত্রে গণঅভ্যুত্থান, ইনোভেটর্স অ্যারিনা, স্ট্রং স্টেপস ও হিউম্যানিটি মার্চ। থাকবে কাওয়ালি, পুঁথিপাঠ, কবিগান ও গণ-জাগরণী সন্ধ্যা, উডব্যাজ রি-ইউনিয়ন ও লিডার্স নাইট, টপ অ্যাচিভার্স (পিআরএস, পিএস, শাপলা কাব), সিনিয়র রোভার মেট, প্রাক্তন রোভার রি-ইউনিয়ন ও ভলান্টিয়ার্স নাইট।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট : বৃহৎ দুই সার কারখানা সিইউএফএল ও কাফকো’’র উৎপাদন বন্ধ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সরকারি নির্দেশনার প্রেক্ষিতে গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দুটি বৃহৎ সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)’র উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর ফলে সার কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে যায়।

পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় সরকারি নির্দেশনায় উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, সিইউএফএল স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করে। অন্যদিকে কাফকোর দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৭২৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় বর্তমানে এই বিপুল পরিমাণ উৎপাদন স্থগিত রয়েছে।

কারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা জানান, সার উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে গ্যাসনির্ভর। পর্যাপ্ত চাপ ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ ছাড়া উৎপাদন চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। কম চাপের গ্যাসে উৎপাদন অব্যাহত রাখলে যন্ত্রপাতির ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে কারখানাগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
হঠাৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সার সরবরাহ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলেই দ্রুত উৎপাদন পুনরায় চালু করে বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে দুই কারখানার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত বছরের ১ নভেম্বর দীর্ঘ সাড়ে ছয় মাস বন্ধ থাকার পর বহুল আলোচিত রাষ্ট্রায়ত্ত সিইউএফএল পুনরায় চালু করা হলেও তা ১২ ঘণ্টাও উৎপাদন সচল রাখতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এরপর কয়েক দফায় যান্ত্রিক ত্রুটি, গ্যাস সংকটসহ নানা কারণ দেখিয়ে কারখানাটি চালু ও বন্ধের মধ্যে ছিল। সবশেষ আবারও গ্যাস সংকটে বন্ধ হলো কারখানাটি।অন্যদিকে কাফকোও গত বছরের অক্টোবর মাসে অভ্যন্তরীণ সমস্যাজনিত কারণে প্রায় ১৫ দিন উৎপাদন বন্ধ রেখেছিল। এরপর সবশেষ গতকাল গ্যাস সংকটের কারণে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।

জিইসি’র ইফতার বাজারে অগনিত তেলাপোকা, ভোক্তা অধিদপ্তরের তালা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর জিইসি মোড়স্থ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইফতার বাজারে অভিযান চালিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালায় সংস্থাটি।এসময় প্রতিষ্ঠানের ভিতরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, তেলাপোকা আর ইঁদুরের বিষ্টা থাকায় দইফতার বাজার’কে সাময়িক সিলগালা করা হয়। পাশাপাশি এক লাখ টাকা অর্থদন্ড করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

এ ব্যাপারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালক ফয়েজ উল্যাহ বলেন, আমরা ইফতার বাজারে অভিযান চালিয়ে অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশ পেয়েছি। এখানে যে পরিমাণ তেলাপোকা দেখা গেছে তা আমি আর কোন প্রতিষ্ঠানে দেখিনাই। তাছাড়া ভিতরে ইঁদুরের বিষ্টা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ এখানে শুধু তেলাপোকা নয়, ইঁদুরও রয়েছে। তাছাড়া জিলাপি তৈরির খামিরে ক্ষতিকর হাইড্রোজ মিশানো হয়েছে কিনা তা দেখেছি। তবে হাইড্রোজ পাওয়া যায়নি। ভেজালের বিরুদ্ধে, নোংরা পরিবেশের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দল থেকে প্রতিনিধি নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন- জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার ২ মার্চ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি জানান, রাজনৈতিক ঐকমত্যকে গুরুত্ব দিয়ে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের জন্য একটি নাম প্রস্তাব করতে অনুরোধ করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে মৌখিক ও সরাসরি যোগাযোগও করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্পিকার নির্বাচনের দিনই ডেপুটি স্পিকার পদেও নির্বাচন সম্পন্ন করা যেতে পারে। এতে সংসদ পরিচালনায় ভারসাম্য ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়- জাতীয় সনদের আলোকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, সেটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ