আজঃ বুধবার ৪ মার্চ, ২০২৬

কর্নফুলী নদীর পাড়ে এলএনজি আমদানির পরিবর্তে সৌরবিদ্যুতের দাবিতে যুব পদযাত্রা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রতি বছর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি আমদানি করতে হয়, আর এর একটা বড় অংশ চলে যায় এলএনজি আমদানিতে। চালু থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের ঘাটতি থাকার পরও বিগত চার বছরে সরকার ১১টি এলএনজি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দিয়েছে। এর চারটি নির্মাণাধীন ও সাতটি নির্মাণকাজ শুরু করার অপেক্ষায় আছে। গ্যাসের ঘাটতি পূরণের জন্য সরকার ২০১৮ সাল থেকে তরলীকৃত গ্যাস (এলএনজি) আমদানি শুরু করে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুটি বেসরকারি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করা হয় যার সার্ভিস চার্জ বাবদ প্রতিদিন সাড়ে চার লাখ ডলার দিতে হচ্ছে। এছাড়া, প্রতি ঘনমিটার এলএনজি আমদানিতে ৭৯.৩৩ টাকা ব্যয় হলেও বিদ্যুৎখাতে বিক্রি করা হচ্ছে ১৪.৭৫ টাকায়। ফলে প্রতি ঘনমিটারে লোকসান হচ্ছে ৬৪.৫৮ টাকা। এলএনজি সরবরাহ না করতে পারলে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো অলস বসে থাকবে। বিদ্যুৎ না পেলেও সরকারকে ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হবে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদেরকে ১৭ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়েছে। অলস বিদ্যুৎকেন্দ্র বৃদ্ধি পাবার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাপাসিটি চার্জও হু হু করে বাড়ছে। এ অবস্থায় নতুন করে এলএনজি আমদানির পরিবর্তে সৌর ও বায়ু বিদ্যুতে বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবিতে ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ইং যুব পদ্রযাত্রা অনুষ্টিত হয় চট্টগ্রামের কর্নফুলী নদীর পাশে ব্রীজঘাটা এলাকায়। জেটনেটবিডির সহযোগিতায় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আইএসডিই-বাংলাদেশ এ পদযাত্রার আয়োজন করেন।

সমাবেশে বক্তরা বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হবার পর এলএনজি ও পেট্রোলিয়ামের সরবরাহ ক্রমশ ঝুঁকিতে পড়ছে। এ অবস্থায় নতুন এলএনজি টার্মিনাল ও এলএনজি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করলে তা দেশের অর্থনীতির গলার কাঁটা হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি, প্রতি বছর প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার জ্বালানি আমদানির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপরেও অসহনীয় চাপ তৈরি হচ্ছে। জাতীয় বাজেটের উপর জ্বালানি আমদানি ও ক্যাপাসিটি চার্জের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষি, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও শিক্ষার মতো অতি জরুরি খাতে বরাদ্দ কমছে যা সামগ্রিকভাবে জনকল্যাণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

বক্তারা আরও বলেন, গত ঘুর্নীঝড় মোখার কারনে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্থ হলে চট্টগ্রামসহ পুরো দেশ ৩ দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। মানুষের জীবন জীবিকা ও শিল্প কলকারখানা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। একদিকে বিপুল বৈদশিক মুদ্রা খরচ করে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। আবার এলএনজি দেশের জ্বীবাশ্ম জ্বালানী খাতে চরম পরিবেশ বিপর্যয় ডেকে নিয়ে আসছে। যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে যাচ্ছে। বক্তারা অবিলম্বে এলএনজি আমদানি বাতিল করে সমপরিমাণ অর্থ সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের জন্য বরাদ্দ করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।

যুব পদযাত্রায় সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, ক্যাব কেন্দ্রিয় ভাইস প্রেসডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, সিআরসিডির নির্বাহী পরিচালক ও ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, জেলা সামাজিক উদ্যোক্তাপরিষদের যুগ্ন সস্পাদক মোঃ জানে আলম, আইএসডিই এর কর্মসূচি কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম, ইন্টার্ন মো: সাইমন ইসলাম, ক্যাব যুব গ্রুপ কর্ণফুলী উপজেলার সভাপতি মো: আরেফীন, যুগ্ন সম্পাদক ইমরান হোসেন তারা ও ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য সিদরাতুল মুনতাহা প্রমুখ

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আমেনা হত্যার বিচার চাই: নরসিংদী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের পর আমেনা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বাদ জুম্মা নরসিংদী প্রেসক্লাবের সামনে নরসিংদী জেলা জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাধবদীতে সংঘটিত ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ড সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। এ ধরনের বর্বরোচিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তারা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।

বক্তারা আরও বলেন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা নিহত আমেনার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

৩৬ কোটি হাতকে উন্নয়নের হাতে রূপান্তর করতে হবে : এরশাদ উল্লাহ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের ৩৬ কোটি হাতকে উন্নয়নের হাতে রূপান্তর করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। মঙ্গলবার সকালে বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।তিনি বলেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি হাতকে উন্নয়নের হাতে রূপান্তর করতে হবে। অতীতের দিকে ফিরে তাকাতে চাই না, আমরা নতুন বাংলাদেশ করতে চাই।এ সময় তিনি অর্থনৈতিক সম্বৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে সকলে মিলেমিশে কাজ করার আহবান জানান।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক। বক্তব্য রাখেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.জাফরিন জাহেদ জিতি, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.রুমন তালুকদার, উপজেলা প্রকৌশলী রনি সাহা, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল হক চেয়ারম্যান, সদস্য শওকত আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. ইসহাক চৌধুরী, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুন্নবী চৌধুরী, সাবেক সদস্য সচিব হামিদুল হক মান্নান, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শহীদুল্লাহ চৌধুরী, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মহসিন খান তরুণ প্রমুখ।

আলোচিত খবর

জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দল থেকে প্রতিনিধি নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন- জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার ২ মার্চ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি জানান, রাজনৈতিক ঐকমত্যকে গুরুত্ব দিয়ে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের জন্য একটি নাম প্রস্তাব করতে অনুরোধ করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে মৌখিক ও সরাসরি যোগাযোগও করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্পিকার নির্বাচনের দিনই ডেপুটি স্পিকার পদেও নির্বাচন সম্পন্ন করা যেতে পারে। এতে সংসদ পরিচালনায় ভারসাম্য ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়- জাতীয় সনদের আলোকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, সেটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ