আজঃ বুধবার ৪ মার্চ, ২০২৬

যুব ক্যাব চট্টগ্রামের মানববন্ধনে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা চারগুণ বাড়লেও ব্যয় ১১ গুণ বৃদ্ধি

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দায়মুক্তি আইনের সুযোগ নিয়ে বিগত পনেরো বছরে একের পর এক বিতর্কিত চুক্তি করে জনগণের অর্থের বিপুল অপচয় ও হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। এই নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে অযৌক্তিক সুবিধা ও মুনাফা প্রদানের জন্য দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে এবং ক্যাপাসিটি চার্জের নামে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। দায়মুক্তি আইন বহাল থাকায় এসব চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। যা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সুশাসনের বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দায়মুক্তি আইনের আওতায় সম্পাদিত সব বিনিয়োগ ও ক্রয় চুক্তি বাতিল এবং জ্বালানি অপরাধীদের বিচার এবং এখাতের লুটকারীদের থেকে আদায়কৃত ক্ষতিপূরণের অর্থে ‘ঊহবৎমু চৎরপব ঝঃধনরষরুবফ ঋঁহফ’ গঠিনের দাবি জানিয়েছেন কনজ্যুমার আসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব)।

শনিবার সকালে চট্টগ্রামের জামালখাণ প্রেসক্লাব চত্ত্বরে ক্যাব চট্টগ্রাম ও যুব ক্যাব চট্টগ্রামের আয়োজনে এ মানববন্ধনে বিভিন্ন বক্তারা উপরোক্ত দাবি জানান।
ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটি ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত মানববন্ধনে যুব ক্যাব চট্টগ্রামের সমন্বয়কারী রাইসুল ইসলাম ও ক্যাব বিভাগীয় সংগঠক রাসেল উদ্দীনের সঞ্চালানায় সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন পলিসি ইনফ্লুয়েন্স গ্রুপ চট্টগ্রামের সভাপতি কলামিস্ট মুসা খান, ক্যাব চট্টগ্রাম মহাগর সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, ক্যাব চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সাধারন সম্পাদক শাহাদত হোসেন, ক্যাব মহানগরের যুগ্ন সম্পাদক সেলিম জাহাঙ্গীর, সবুজের যাত্রার নির্বাহী পরিচালক সায়েরা বেগম, জেলা সামাজিক উদ্যোক্তা পরিষদের যুগ্ন সম্পাদক মোঃ জানে আলম, ক্যাব পশ্চিম ষোল শহর ওয়ার্ড সভাপতি এবিএম হুমায়ুন কবির, যুব ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আবু হানিফ নোমান, যুব ক্যাব সদস্য সিদরাতুল মুনতাহা, করিমুল ইসলাম, কয়েছ হক, মোঃ সাইমন ইসলাম, সাংবাদিক মুজিব উল্লাহ, মনির আহমদ ফাউন্ডেশনের মনির আহমদ ফাউন্ডেশনের একিউএম মোসলেহ উদ্দীন প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার বিদ্যুত ও জ্বালানী খাতে শৃংখলা বিধান, নানা অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাতিলসহ নানা উদ্যোগ নিলেও বিগত সরকারের আমলে জারিকৃত ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন’ নামে দায়মুক্তির আইনের মাধ্যমে গত দেড় দশকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুণ্ঠন সংঘটিত হয়েছে তা বাতিল করে নাই। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই একতরফা চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। যার কারণে প্রতিবছর বিদ্যুত ও জ্বালানী খাতে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্প ও কলকারখানায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। যা মরার ওপর খারার ঘা হিসাবে আর্বিভুত হয়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ ভোক্তার ওপর।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা চারগুণ বাড়লেও ব্যয় ১১ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদন না করেও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ভাড়াভিত্তিক অর্থ প্রদান, এলএনজি আমদানিতে অতিমূল্যায়ন এবং অস্বচ্ছ বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী জ্বালানি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। এসব অপরাধ রাষ্ট্রীয় নীতির আড়ালে সংঘটিত হওয়ায় বিচার থেকে দায়ীদের রক্ষা করা হয়েছে।

মানববন্ধনে অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দায়মুক্তি আইনের আওতায় সম্পাদিত সব চুক্তি বাতিল, জ্বালানি অপরাধীদের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ, দোষীদের বিচার নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে জনস্বার্থভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক জ্বালানি নীতি প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।

বক্তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, ২০২৪- ২৫ অর্থবছরে বিদ্যুত খাতে ভর্তুকি ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং গ্যাস খাতে প্রস্তাবিত ভর্তুকি ৭ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে। এই ভর্তুকির সুবিধায় সাধারণ ভোক্তা নয়—বরং অলিগার্ক ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী লাভবান হচ্ছে। বাংলাদেশের জ্বালানি খাত আজ ভয়াবহ দুর্নীতি, অদক্ষতা ও একচেটিয়াত্বে নিমজ্জিত। জনগণ তাদের সাংবিধানিক জ্বালানি অধিকার থেকে বঞ্চিত।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আমেনা হত্যার বিচার চাই: নরসিংদী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের পর আমেনা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বাদ জুম্মা নরসিংদী প্রেসক্লাবের সামনে নরসিংদী জেলা জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাধবদীতে সংঘটিত ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ড সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। এ ধরনের বর্বরোচিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তারা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।

বক্তারা আরও বলেন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা নিহত আমেনার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

৩৬ কোটি হাতকে উন্নয়নের হাতে রূপান্তর করতে হবে : এরশাদ উল্লাহ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের ৩৬ কোটি হাতকে উন্নয়নের হাতে রূপান্তর করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। মঙ্গলবার সকালে বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।তিনি বলেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি হাতকে উন্নয়নের হাতে রূপান্তর করতে হবে। অতীতের দিকে ফিরে তাকাতে চাই না, আমরা নতুন বাংলাদেশ করতে চাই।এ সময় তিনি অর্থনৈতিক সম্বৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে সকলে মিলেমিশে কাজ করার আহবান জানান।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক। বক্তব্য রাখেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.জাফরিন জাহেদ জিতি, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.রুমন তালুকদার, উপজেলা প্রকৌশলী রনি সাহা, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল হক চেয়ারম্যান, সদস্য শওকত আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. ইসহাক চৌধুরী, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুন্নবী চৌধুরী, সাবেক সদস্য সচিব হামিদুল হক মান্নান, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শহীদুল্লাহ চৌধুরী, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মহসিন খান তরুণ প্রমুখ।

আলোচিত খবর

জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দল থেকে প্রতিনিধি নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন- জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার ২ মার্চ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি জানান, রাজনৈতিক ঐকমত্যকে গুরুত্ব দিয়ে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের জন্য একটি নাম প্রস্তাব করতে অনুরোধ করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে মৌখিক ও সরাসরি যোগাযোগও করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্পিকার নির্বাচনের দিনই ডেপুটি স্পিকার পদেও নির্বাচন সম্পন্ন করা যেতে পারে। এতে সংসদ পরিচালনায় ভারসাম্য ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়- জাতীয় সনদের আলোকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, সেটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ