আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরী তারেক রহমান।

-সৈয়দ মোস্তফা আলম মাসুম,লেখক- সাবেক ছাত্রদল নেতা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠক ১/১১ তে বিএনপির প্রেস উইং এর দায়িত্ব পালনকারী বিএনপি নেতা, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভ করেছে। সে যুদ্ধের কনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা শিশু তারেক রহমান। বাবা তৎকালীন সেনা ব্যারেক থেকে দেশের প্রতি অঘাড় প্রেমে “বিদ্রোহ” ঘোষণার মাধ্যমের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে মেজর জিয়াউর রহমান যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মুক্তিে যাদ্ধা মেজর জিয়ার স্বপরিবার কারাবন্দী ছিল। সে হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের শিশু বন্দী তারেক রহমানকে নিয়েই আমার অভিজ্ঞতায় ও দর্শনে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা।

তারেক রহমান এর সাথে আমার প্রথম স্বাক্ষাত ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পরবর্তীতে চট্টগ্রামে এনেসল ম্যানশন মাঠে। বর্তমান কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ সভাপতি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী, মেয়র ও রাষ্ট্রদূত মীর মোঃ নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ইফতার মাহফিলের আলোচনা সভায়। আমি সে সময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এর রাজনীতি শেষ করে হাটহাজারী থানা জাসাসের সভাপতির দায়িত্বে এবং হাটহাজারী থানা বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির নির্বাচিত সাংগঠনিক সচিব এর দায়িত্ব পালন করছিলাম। ইফতার মাহফিলে আজকের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আলোচনা সভায় ১৭ মিনিট অত্যন্ত বিনয়ী বক্তব্য রেখেছেন যা অনেকাংশে আবেগঘন ছিল। দোয়া ও মুনাজাত শেষে মাগরিবের আযান হল। আমি খুব নিকটেই ছিলাম। আগত প্রচুর নেতাকর্মীরা বসে-দাঁড়িয়ে আছেন। আমি লক্ষ্য করলাম তারেক রহমান ইফতার রত অবস্থায় নিজে ২টি খেজুর ও পানি পান করেই আগত নেতাকর্মীদের ইফতারের খবর নিতে নিজ আসন ছেড়ে সকলের মাঝে ঢুকে পড়ে।

উনার পাশে নেতৃবৃন্দ বিষয়টা প্রথমে কেউ খেয়ালই করলেন না। “ভোরের সূর্য উদয় হলে বুঝা যায় দিন কেমন যাবে” এ কথাটিই আসলেই যথার্থ। এটাই দেশপ্রেমিক ও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি একজন আদর্শ নেতার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। ১৯৯৬-২০০১ সালের বিএনপির রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো সাংগঠনিক কর্মকান্ড তিনি সুচিন্তিতভাবে রপ্ত করেছেন। তাই তো সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে ২০০১ সালের বিএনপির ভূমিধস বিজয় কেউ ঠেকাতে পারে নি। মূলত: এ ভূমিধস বিজয়ই আজকের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র পর্যায়ক্রমে শুরু হতে থাকে। এখানে উল্লেখ্য যে, আমাদের দলের মধ্যেও অন্য দলের ও দেশের এজেন্ডা বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্র তৈরী করে ফেলেছেন। যার ফলে ১/১১ সৃষ্টি হয়েছে। ২০০৭-২০০৮ সালের এ অবৈধ সরকারের রোষানলে শহীদ জিয়াউর রহমান এর পরিবারকে শেষ করার মিশন শুরু হয়েছিল।

যার জন্য আমাদের দলের চেয়ারপার্সন জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করা হয়। বাদ পড়েনি রাজনীতির সাথে সক্রিয় না থাকা আরাফাত রহমান কোকো পর্যন্তও। তৎকালীন ১/১১ সরকারের আমলে সবচেয়ে নির্যাতনের স্বীকার তারেক রহমান। যে নির্যাতন করা হয়েছে তা আজীবনের জন্য পঙ্গুঁ করে দিয়েছিলেন। “রাখে আল্লাহ মারে কে”- আমাদের রব বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক জনগণের জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রেখে যাওয়া অসমাপ্ত “ দেশের কল্যাণে ১৯ দফা কর্মসূচী এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভিশন ২০৩০ এর কাজ আরো যুগ-উপযোগী করার লক্ষ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সকল গণতন্ত্রকামী দল, দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের পরামর্শের ভিত্তিতে “রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা” রূপরেখা বাস্তবায়নের জন্য ২০২৩ সালেই বিএনপি’র পক্ষে ঘোষণা করেছেন।

যা একটি স্বাধীন দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, কৃষি-শিক্ষা বিপ্লব, স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্প উন্নয়ন সহ বিভিন্ন বিষয়ের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম তুলে ধরা হয়েছে। এবার আসা যাক ২০০৮ সালের নির্বাচন থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিপ্লব পর্যন্ত। তারেক রহমানের প্রতি পতিত সরকারের আক্রমণমূলক কর্মকান্ডের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। ১/১১ সংস্কারের সাজানো সকল মামলায় সাজা দিয়ে তারেক রহমান কে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।

দেশের সকল গণমাধ্যমে তাঁর সংবাদ প্রচারে বাধা দেওয়া হয়েছে। পতিত সরকার ও বিদেশী অপশক্তি গুলো ধরে নিয়েছিল বিএনপিকে শেষ করলেই তারাই দেশের মালিক এবং তারাই ক্ষমতাই। বাংলাদেশে জনগণ ঐতিহাসিক ভাবেই গণতন্ত্রপ্রিয় এবং প্রকৃত স্বাধীনতাই বিশ্বাসী। তাই সকল অশুভ শক্তিকে, বুলেটকে ভয় না করেই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সর্বস্তরের জনগণ ঐতিহাসিক অধ্যায়ে সূচিত হয়েছে “জুলাই বিপ্লব”। সূদুঢ় প্রবাস থেকে বাংলাদেশের আন্দোলন রত জনগণকে তারেক রহমান রাত দিন সাহস যুগিয়েছেন। দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন স্থান ভিত্তিক আন্দোলনের পরিকল্পনা। বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের দায়িত্বশীলদের সজাগ দৃষ্টি রেখে আন্দোলন তীব্র করার এবং আন্দোলনরত অপরাপর বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীসহ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার নির্দেশনাই জুলাই-বিপ্লব সফল হয়েছিল।

জুলাই বিপ্লব পরবর্তী দশদিনেই দেশের জনগণের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের যে বার্তা “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনেক কঠিন নির্বাচন হবে” -এ উক্তিটিই তাঁর রাজনৈতিক বিচক্ষণতার পরিচয়কে অনেকাংশে সামনে নিয়ে আসছে। দলের নেতাকর্মীদেরকে সর্তক করেছেন ও সাহসিকতার সাথে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও জনগণ এখনও হতাশায় নিমজ্জিত। অনেক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে আসবেন ঘোষণা দেয়ার পূর্ব মুহুর্তেই দেশে ভয়-ভীতি সৃষ্টির লক্ষ্যে জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের সমন্বয়ক ওসমান হাদিকে হামলা করলো এবং পরে শহীদ হল। এটিও ষড়যন্ত্রকারীদের পক্ষ থেকে একটি বার্তা।
এ বার্তাটাই আমাদের দলের এবং অপরাপর সকল গণতান্ত্রিক দলের কর্মকান্ডে প্রতিফলন ঘটাতে হবে এবং সকলকেই সর্তক থাকতে হবে। ১৭ বছর পর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন আগামী দিনের বিএনপির কর্ণধার শহীদ জিয়া ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সমগ্র দেশের জন্য আনন্দের এবং এই আনন্দ দেশপ্রেমিক জনগণের। তারেক রহমান শুধু দলের সম্পদ নয়, তারেক রহমান সমগ্র বাংলাদেশের সম্পদে পরিণত হয়েছে। যার জন্যই ষড়যন্ত্র আরো তীব্র হচ্ছে।

বিএনপি ১৯৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের সিপাহী বিপ্লব, ১৯৯০ সালের গণ আন্দোলন এবং ২০২৪ এর জুলাই বিপ্লবকে ধারণ করে বাংলাদেশে রাজনীতি করেছে, করছে এবং করবে। শহীদ জিয়ার বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে আপোষহীন নেত্রী হিসেবে দেশের প্রথম জনপ্রিয় মহিলা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বপালন এই ধারাবাহিকতায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আধুনিক রাষ্ট্র বির্নিমাণে আগামী দিনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক, বাক-স্বাধীনতা, গণ-মাধ্যমের স্বাধীনতা, বন্ধুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি, সুনির্দিষ্ট প্রকৃত শিক্ষানীতি, উন্নত চিকিৎসা সেবা। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত, সকল ধর্মের বর্ণের সহ অবস্থান নিশ্চিত সহ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও মানবাধিকার রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরী তারেক রহমান। এটাই স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী দেশবাসীর আশা ও প্রত্যাশ্যা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

যশোরের চাড়াভিটায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


যশোরে বাঘারপাড়ার চাড়াভিটা ও তার পার্শ্বতি এলাকায়  হঠাৎ নেমে আসে কালবৈশাখী ঝড়। আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেলা ২টার দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘে ডেকে   মেঘা আচ্ছন্ন হয়ে ঝড় বাতাসের সাথে বজ্র বূষ্টি শুরু হয়ে

টানা আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় চলে এই ঝড়।চাড়াভিটা বাজারে পাশেই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটলে ও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি উপ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঝড়ের কারণে দুপুরের পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।, গত কয়েক দিন ধরে যশোর অঞ্চলে  তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল। বিশেষ করে খেটেখাওয়া মানুষ গরমে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। দুপুরের পর আকাশ কালো মেঘে গুমোট আকার ধারণ করে শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়। সেই সঙ্গে বজ্রপাত।

বাঘারপাড়া  উপজেলার বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের চাড়াভিটা বাজার সহ কয়েকটি  এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে তীব্র আঘাত হানে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেকের ঘরের চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন গাছ ভেঙ্গে আঁচড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির উপরে।যে কারণে  বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় কয়েকটি এলাকায় ভূতুড়ে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে এবং অসংখ্য স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।এলাকাবাসী জানান, এ ধরনের ঝড় অনেক দিন দেখা যায়নি।। একই সঙ্গে এলাকার কৃষকদের আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ