
উপকূলে বাড়ছে বজ্রপাতের তাণ্ডব: জীবন রক্ষায় চাই বিশেষ সতর্কতা ও সচেতনতা

দক্ষিণাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত খুলনা জেলার পাইকগাছাসহ উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে এখন বোরো ধান কাটার মহোৎসব চলছে। তবে এই উৎসবের আমেজকে বিষাদে রূপ দিচ্ছে আকাশের ‘অগ্নিঝলক’ বা বজ্রপাত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চলে বজ্রপাতের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রধান শিকার হচ্ছেন খোলা মাঠে কর্মরত কৃষকরা।

পাইকগাছার বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ এবং লোনা পানির ঘের সংলগ্ন এলাকায় কোনো বড় গাছপালা বা উঁচু স্থাপনা নেই। ফলে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে থাকা কৃষকরাই সরাসরি এর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা গরম ও আর্দ্র বাতাসের সাথে উত্তরের ঠান্ডা বাতাসের সংঘর্ষে এই উপকূলীয় অঞ্চলে মেঘের ঘর্ষণ বেশি হয়, যার ফলে বজ্রপাতের তীব্রতা ও সংখ্যা দুই-ই বাড়ছে।
সাধারণত চৈত্র-বৈশাখ মাসে খুলনা অঞ্চলে দুপুরের পর থেকেই কালবৈশাখী ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। ঠিক এই সময়েই কৃষকরা ধান কাটা ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত থাকেন। পাইকগাছার অনেক কৃষকের মতে, হঠাত মেঘ জমলে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আগেই বজ্রপাত শুরু হয়ে যায়। কাছাকাছি কোনো পাকা দালান বা উঁচু গাছ না থাকায় তারা চরম জীবনের ঝুঁকিতে থাকেন।

বজ্রপাত থেকে বাঁচতে উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য বিশেষ কিছু পরামর্শ , আকাশে ঘন কালো মেঘ বা বিদ্যুৎ চমকানো শুরু করলে দ্রুত পাকা দালান বা টিনের চালের নিচে আশ্রয় নিন, বজ্রপাতের সময় মাছের ঘের, নদী বা খোলা ধানখেত থেকে দ্রুত সরে আসতে হবে, বড় গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে দাঁড়ানো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ,ছাতা বা কাস্তের মতো ধাতব হাতলযুক্ত কোনো কিছু এ সময় ব্যবহার করবেন না, .কাজ করার সময় রাবারের জুতো বা গামবুট ব্যবহার করলে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব, বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।
বজ্রপাতকে বর্তমানে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে তালগাছ রোপণের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। পাইকগাছাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের জীবন সুরক্ষায় মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।









